Today 22 Sep 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

অপরূপ সৌন্দর্যের আধার সোনাদিয়া সৈকত

লিখেছেন: মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক খান | তারিখ: ১২/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1175বার পড়া হয়েছে।

sonadia4

 

মহেশখালী উপজেলার অর্ন্তগত হোয়ানক ইউনিয়নে অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপটির আয়তন ৯ বর্গকিলোমিটার। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এ দ্বীপ কক্সবাজার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সাগর গর্ভে অবস্থিত। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমন পিপাসু জনগণকে ব্যাকুল করে তোলে। এটি দেশের প্রধান শুটকি মাছ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকহলীয় বনভূমি, সাগরে গাঢ় নীল পানি, কেয়া বন, লাল কাঁকড়া, হরেক রকমের সামুদ্রিক পাখি পর্যটকদের আকর্ষন করে। এটি মুলত প্যারাদ্বীপ নামে পরিচিতি। কক্সবাজার থেকে সরাসরি সোনাদিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও মহেশখালী হয়েই যাওয়ার উত্তম। যেতে হবে মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গা হয়ে। মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত দূরত্ব ২৪ কিমি। ঘটিভাঙা নেমে খেয়ানৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। ভাটার সময় খালে খুব বেশি পানি থাকেনা। সোনাদিয়া যাওয়ার দুটো উপায় আছে। হেঁটে যাওয়া অথবা জোয়ার এলে নৌকা। প্রতিদিন জোয়ারের সময় পশ্চিম সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে।

sonadia1

সোনাদিয়া যাবার পথে যতদুর পর্যন্ত চোখ যায় পুরোটাই ছবির মত সুন্দর। জীবনের এমন কিছু কিছু দৃশ্য থাকে যা সারা জীবন মনের ফ্রেমে গেঁথে থাকে। এ দৃশ্যটি ঠিক তেমন। সব সময় চোখে ভাসে। এখানকার খালের পানি কাঁচের মত স্বচ্ছ, টলটলে। দেখলেই মন ভাল হয়ে যায়। ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করে । এখানে খালের কয়েকটি শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে পড়েছে অনেক দূর। কোথাও কোথাও থিকথিকে পলিভূমি। কোথাও আবার মাঝারি আকৃতির প্যারাবন। সাদা ও কালো বাইন, কেওড়া, হাড়গোজা, উড়িঘাস—মূলত এরাই এ বনের বাসিন্দা।

sonadia2

এখানে লোকবসতি নেই বললেই চলে। তবে মাঝে মাঝে লবণচাষিদের দেখা গেল বিক্ষিপ্তভাবে। সোনাদিয়া একটি বালুকা দ্বীপ। হাঁটতে গেলে বালিতে পা ডুবে যায়। এখানে অল্প কিছু লোক বসতি আছে। যারা আছে তাদের বেশীর ভাগই জেলে। মাছ ধরাই তাদের মূল পেশা। এখানে কোনো বাজার ঘাট নেই, তবে দু একটি ছোট দোকান দেখা যায়। এখানে চায়ের তেষ্টাটা মিটিয়ে নিতে পারেন অবলিলায়। এখানকার সাধারন মানের চাও আপনার কাছে মনে হবে অসাধারন। আপনারা চাইলে কোন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করে তাদের ঘরে রাত কাটাতে পারেন। খরচের বিনিময়ে খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যেতে পারে। এখানে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি। বিশাল বালুচর, উপরে খোলা আকাশ আর সামনে সীমাহীন সমুদ্র। সত্যিই অসাধারন। এখানকার সূর্যাস্ত আরও অসাধারন। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেন দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ।

sonadia3

দ্বীপের পশ্চিমে শেষপ্রান্ত বেশ খোলামেলা। এখানেই শেষ বসতি। সবুজ ঘাসে মোড়ানো মাঠে বসলে মন ভরে যায়। আছে নির্জনতা আর বিশুদ্ধ বাতাস। একদিকে সমুদ্র আর পবন ঝাউয়ের বীথি, অন্যদিকে খাল আর প্যারাবন। দ্বীপের প্রতিটি পরতে পরতে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে মুগ্ধতা। অসাধারন একটি সৈকত আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এখানে। জনমানবহীন এমন সৌকত কক্সবাজার কিংবা সেন্টমার্টিনে আশাই করা যায় না। মনে হবে যেন কোন এক অজানা দ্বীপে এসে পরেছেন। সারা সৈকত জুড়ে লাল কাকড়ার ছুটাছুটি আর গাংচিলের উড়ে বেড়ানো আপনাকে মুহুর্তের জন্য হলেও কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে। মনে হবে যেন কোন সিনেমার দৃশ্য দেখছেন। বালুকা দ্বীপে মাঝে মাঝেই দেখা যায় তরমুজখেত। বালুতটে ছাগলখুরীর গড়ান লতা। বেগুনি রঙের ফুল ফুটে আছে। স্থানীয় লোকেরা বলে সাগরলতা। এখানে বালির ঢিবিগুলোতে বালি আটকাতে এ লতা কাজে লাগানো হয়।

 

এখানে একটি সামুদ্রিক কচ্ছপের হ্যাচারি রয়েছে। ঘুরে দেখতে পারেন সেটি। কচ্ছপ ডিম পেড়ে গেলে সেগুলো সংগ্রহ করে এখানে রাখা হয়। তারপর ডিম ফুটিয়ে ছানাগুলোকে সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাজটি করছে একটি বেসরকারি সংস্থা।

 

যেভাবে যেতে হবে

ঢাকা থেকে যাবেন কক্সবাজার। কক্সবাজারের কস্তুরিঘাট থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারে চেপে মহেশখালী। মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত যেতে হবে বেবিট্যাক্সিতে। সেখান থেকে ট্রলারে করে যাবেন সোনাদিয়া।

 

আবার কক্সবাজার থেকে সরাসরি স্পিডবোট ভাড়া করেও সোনাদিয়া যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অনেক ভাড়া গুনতে হবে। তবে বেশী ভাড়া গুনলও স্পীড বোটে করে সোনাদিয়া যাবার অভিজ্ঞতাটা একেবারের রোমাঞ্চকর ও ভিন্নস্বাদের।

sonadia5

কোথায় থাকবেন

তবে সোনাদিয়ায় কোনো হোটেল কিংবা বাংলো নেই। থাকতে হবে স্থানীয়দের সঙ্গে।

 

ভাড়া

স্পীডবোটে সরাসরি সোনাদিয়া রিজার্ভঃ ৩০০০ টাকা

ট্রলারে জনপ্রতিঃ ৫০ টাকা

১,২৮২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার জন্ম পিরোজপুরে নানা বাড়িতে। দাদা বাড়িও পিরোজপুরে। পিরোজপুর শহরের সার্কিট হাউজ – ফায়ার সার্ভিস এর মাঝখানে আমাদের বাড়ি। পিরোজপুর আমার কাছে স্বপ্নের শহর। যদিও ক্লাস থ্রী থেকে আমি ঢাকাতে মানুষ। এসএসসি ১৯৯৬ সালে। পড়াশুনা করেছি ফার্মেসিতে, পরে এমবিএ করেছি আন্তর্জাতিক বিপননে। জুলাই ১৫, ২০১১ থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা থেকে অবসর নিয়েছি। বিশেষ ব্যক্তিত্বঃ নবিজী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে ব্যক্তিত্ব আমাকে টানেঃ ডঃ মুহম্মদ ইউনুস প্রিয় লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, হেনরি রাইডার, জুল ভান প্রিয় টিভি সিরিয়ালঃ Spellbinder, Spellbinder 2: Land of the Dragon Lord, The girl from tomorrow, Tomorrows end, Time Trax, MacGyver, Alice in Wonderland, The Chronicles of Narnia প্রিয় টিভি নাটকঃ কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, রুপনগর, বহুব্রিহী, বার রকম মানুষ প্রিয় টিভি শোঃ ইত্যাদি, সিসিমপুর, Pumpkin Patch Show লেখালেখি আমার শুধু শখই না, মনে হয় যেন রক্তের টান। বিশেষ করে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি আমার কাছে রঙ্গিন ঘুড়ির মত। কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যে ছুটে চলে মহাজগতিক পরিমণ্ডলে। এ যেন সময়টাকে স্থির করে দিয়ে এর আদি-অন্ত দেখার মত। তারপরও এ ঘুড়ি যেমন ইচ্ছে তেমন উড়তে পারে না, সুতোয়ে টান পড়ে বলে। এ টান যুক্তির টান। যৌক্তিক কল্পনা বললে ভুল হয় না। তারপরও নিজ ইচ্ছেয়ে সুতোটাকে ছিঁড়ে দিতে ভাল লাগে মাঝে মাঝে। আমি যেমন নিজে স্বপ্ন দেখি তেমনি সবাইকে স্বপ্ন দেখাতে চাই। অঞ্জন দত্তের ভাষায় বলতে হয়, ‘মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যখন-তখন কান্না পায়, তবু স্বপ্ন দেখার এই প্রবল ইচ্ছাটা কিছুতেই মরবার নয়।’ কনফুসিয়াসের এই লাইন টা আমাকে খুব টানে … journey of a thousand miles begins with a single step। আমার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় ১৯৯৬ সালে আধুনালুপ্ত বিজ্ঞান সাপ্তাহিক আহরহ তে। আমার নিজের একটা ব্লগ আছে, mahkbd.blogspot.com। আমার ইমেইল mahkbd@gmail.com।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১১ ০৩:১৪:৫৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. অংকুর মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালো লাগলো!

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি ভাই। চালিয়ে যান।

  3. আজিম হোসেন আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালো লাগলো!

  4. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন তো !
    অসংখ্য অসংখ্য ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top