Today 22 Feb 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

অপার বিস্ময় জায়ান্ট কজওয়ে

লিখেছেন: মোস্তাক চৌধুরী | তারিখ: ০২/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 338বার পড়া হয়েছে।

Causeway-code_poet-4

জায়ান্ট কজওয়ে এক অপার রহস্য। যার বাংলা অর্থ দৈত্যের বাঁধানো পথ।

জায়ান্ট কজওয়ে যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডে অবস্থিত প্রায় ৪০ হাজার হেক্টাগোনাল পাথরের কলামে তৈরী একটি প্রাকৃতিক গুহা। এটি একটি প্রসিদ্ধ পর্যটক এলাকা। বাসমিল শহরের ৪.৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এর অবস্থান। ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৮৭ সালে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৮৬ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ড সরকার এটিকে জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।

সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত এই স্থাপত্য নিদর্শন প্রকৃতির বিচিত্র দৃষ্টান্ত। এর অসমান ষড়ভুজাকৃতি ঘোরবর্ণ আগ্নেয়শিলার স্তম্ভগুলো রাজমিস্ত্রির কাজ বলে মনে হয়। বাঁধানো পথটি ৩২ হাজার ঘনমিটার স্তম্ভের সমষ্টি বলে ধারণা করা হয়। এটা সমুদ্রের মধ্যে প্রায় ১৮৩ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। স্তম্ভগুলো প্রস্থে ১৫ থেকে ২০ ইঞ্চি ব্যাসের এবং উচ্চতায় ৯ মিটার। এদের মধ্যে প্রায় সবই ষড়ভুজাকার, কেবল কিছু পঞ্চ ও সপ্তভুজাকার স্তম্ভ রয়েছে। কোনো স্থানে বাঁধানো পথের প্রস্থ হলো ৪০ ফুট এবং সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে এর উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। ক্লিপগুলোর অর্থাৎ উচ্চ দূরারোহ পার্শ্বগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ক্লিপ হলো প্লিজকিন ক্লিপ, যার স্তম্ভগুলো ৪০০ ফুট উঁচু।

জায়ান্ট কাজওয়ের সৃষ্টি নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত। কারো কারো মতে, দৈত্যদের এক বংশ স্টাফাতে যাওয়ার জন্য চলাচলের পথ হিসেবে এ পথ তৈরি করে। স্টাফাতেও এ রকম একটি বাঁধানো পথ রয়েছে। আবার কারো কারো মতে, দুটি দৈত্যের মধ্যে লড়াইয়ের ফলে স্থানীয় জায়ান্টস গ্রেভ নির্মিত হয়। আবার অনেকে মনে করে, আয়ারল্যান্ডের জায়ান্ট ফিন ম্যাককোল স্কটল্যান্ডের সাথে যুদ্ধ করার জন্য যখন স্কটল্যান্ড যাচ্ছিলেন কখন এই পথটি তৈরি করেন।

জায়ান্টস কজওয়ে নির্মিত হওয়ার কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর আগে অ্যানট্রিম আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের মধ্যভাগে অবস্থিত ছিল। স্কটল্যান্ডের দ্বীপপুঞ্জ, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব-উপকূলও এ আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তরল লাভার পাতলা পাতগুলো এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং শীতল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই তরল লাভা ঘন হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং এ সংকোচনগত ভগ্নাংশগুলো তৈরি হয়। লাভা শীতল হওয়ার মাত্রা একই রকম থাকায় সরলভাবে সংকোচনগত ফাটল সৃষ্টি হয় এবং শীতল হওয়ার মাত্রা যথারীতি চলতে থাকলে অনেক ষড়ভুজাকৃতি স্তম্ভ তৈরি হবে। যেহেতু লাভা শীতল হয়ে গভীরতর দিকে বিস্তৃত হয়। অতএব এই ষড়ভুজাকৃতির ফাটলগুলোও নিচের দিকে বিস্তৃত হয় এবং এভাবেই বিরাট আকারের স্তম্ভের সৃষ্টি হয়।

৪৪১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করতে ভালবাসি। মাঝে মাঝে পত্রপত্রিকাতে কিছু লেখার চেষ্টা করি। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখার ভরসা পাই না। আমার বন্ধুও কম। কিন্তু যারা আছে তাদের জন্য সবকিছু করার মানসিকতা আমার আছে।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১৯ ১২:৫৮:৫৪ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    তথ্য বহুল লেখাটি অবশ্যই ভাল লাগার মত।

  2. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার ভ্রমন অভিচ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লাগা +++++++
    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    তথ্যবহুল ভ্রমণকাহিনী। বেশ হয়েছে। আরো দুয়েকটি ছবি দিলে আরো ভাল হতো।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top