Today 18 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

অপ্রকৃতস্থ আমি ও কাকগুলো

লিখেছেন: আলমগীর কবির | তারিখ: ২৯/০৮/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 389বার পড়া হয়েছে।

দুই
কাক

এক কথায় মেয়েটা শ্যাম সুন্দরী। ভুরু দুইটা সাজানো গোছানো। কাল বড় দু’টো চোখের উপরে ভ্রুগুলো শিল্পী দিয়ে মনে হয় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ইউনিফর্মটা অফিসিয়াল বানানোর পরিবর্তে আরও সুন্দরী বানিয়েছে। উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির মত হবে। অপ্রয়োজনীয় মেদ শরীরের কোন অংশে অহেতুক ভিড় করেনি। শরীরের যে অংশ যেমন হলে মানায় ঠিক সেই অংশটি সেই রকমই আছে।
-হ্যালো দাদা তোমার পাসপোর্টটা দাও আর এই নাও এখানে স্বাক্ষর কর।
পাসপোর্টের গণ্ড-গোলটা আমাকে খোঁচা দিতে লাগল। এই বুঝি সমস্যায় পড়ে যাই। পাসপোর্টটা হাতে দিয়ে স্বাক্ষর করলাম।
-দাদা তুমি এটা কি করলে?
ভয় পেয়ে গেলাম, পাসপোর্টের সমস্যাটা ধরে ফেলল নাকি। ধরলে অনেক যন্ত্রনা হতে পারে। বিশেষত এসব ক্ষেত্রে ছোটখাট সমস্যা থাকলেও বড় ধরনের যন্ত্রনা দেয়, কিছু টাকা পয়সা খরচ করলে আবার ছেড়ে দেয়। একবার মোটর সাইকেল নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলাম। কাগজ দেখার জন্য আমাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আটকালো। নতুন মোটর সাইকেল। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়াদি তখনও পর্যন্ত শেষ হয়নি। কাগজ দেখতে চাইলে নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্রের ফটোকপি দেখালাম। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চাইলে দেখাতে পারলাম না। স্বাভাবিক ভাবেই আটকে রাখল, মামলা করবে বলছে। কর্তৃপক্ষের সমস্যা হচ্ছে তারা মোটরসাইকেল আটকে রাখতে পারেন না যা পারেন তাহলো এইসব ভুলের জন্য মোটর সাইকেলের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রেখে মামলা করতে। ব্যাপারটা আমি পথ চলতে চলতে বুঝে গেছি। কিন্তু কাগজগুলোতো ফটোকপি আটকে কোন লাভও হবে না। আবার যারা গাড়ীগুলো আটকাচ্ছে তাদেরও গাড়ীর কাগজপত্র চেক করার বৈধ ক্ষমতা আছে বলে মনে হলো না। যারা একাজগুলো করতে পারে তাদের সহজেই চেনা যায় কিন্তু আমি চিনতে পারিনা। লক্ষ্য করলাম অন্য আরোহীদের কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকা একশ টাকা যা পাচ্ছে তাই নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। ব্যাপারটা বোঝার পর আমি টাকা দিতে চাইলাম না। বললাম
– মামলা করে দেন আটকে রাখছেন কেন?
একজন পুলিশ সদস্য আলাদা জায়গায় ডেকি নিয়ে বললেন-
-ভাই একশ টাকা দিয়ে দেন ছেড়ে দিবে, অহেতুক ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেন কেন?
-না ভাই আমি ঘুষ দিতে পারবনা, পারলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে দেন।
নানান ধরনের ঝামেলার ভয় দেখালেন কিন্তু কিছু করতে পারছেন না। কিছুক্ষণ পরে কয়েকটা প্র্রশ্ন করে ওপরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দিলেন। আর বলে দিলেন আমি যেন কাউকে কিছু না বলি।
এখানে হয়তো ঝামেলা হলে ভালই হবে। সামলাতে পারবনা, এই সেক্টরে আমার মামা খালু কেউ চাকুরী করেন না ঝামেলা হলে যারা সমাধান করে দিবেন।
-দাদা তুমি কোথায় স্বাক্ষর করলে? দেখছো না এক ঘর ফাঁকা রাখতে হবে। শ্যাম সুন্দরী একটু বিরক্ত হয়ে বললেন।
-সরি, সরি, সরি।
-ঠিক আছে যাও, এই দিক দিয়ে ট্রেন স্টেশনে যাও।
যাক পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যাটা তাহলে ওনার চোখেও ধরা পড়েনি। তবে এখানে আরও দশ মিনিট সময় দেরী হলে সময়ের খুব একটা অপচয় হতো না।
-দিদি এখানে পার্থকে? শ্যাম সুন্দরীকে জিজ্ঞেস করলাম
-স্টেশনে চলে যাও, মানি চেঞ্জারের কেউ হবে।
আর চার/পাঁচ মিনি হাটার পর গেদে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। সব মিলিয়ে এই স্টেশনটি আমার বাসা থেকে সাড়ে তিন থেকে চার কিলোমিটার হবে। কাঁটাতার এই দূরত্বকে অনেক অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের অবিশ্বাসী দৃষ্টি কাটা তারের গ্লাস দিয়ে ঢাকতে চাইছে, বড়ই হাস্যকর।

-Excusme দাদা, এখানে পার্থ কে?
-আপনি আলমগীর? একজন অনুর্দ্ধো ত্রিশ বছর বয়সের এক যুবক এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল।
– জি
-আসুন আমার সাথে আসুন
-দেখি আপনার মোবাইল বের করেন।
-মোবাইল কি করবেন?
-ইন্ডিয়ান সিম নিবেন না।
-হুম,
মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে দিলাম, অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করল কিন্তু আমার স্বল্প মূল্যের স্মার্ট ফোনে কোন ভাবেই ইন্ডিয়ান সিম সাপোর্ট করল না। এনিয়ে একটা ট্রেন মিস করেছি। আরেকটা ট্রেনের ছাড়ায় সময় হয়ে গেলো প্রায়।
-অফিসে চলেন
-একবার তো পাসপোর্ট দেখেছে আবার দেখবে নাকি
-দেখবে না? ওরতো বিএসএফ শুধু আপনার নাম এন্ট্রি করেছে মাত্র। এখানে এরা আপনার পাসপোর্ট স্ক্যান করে নেবে, আপনার ছবিও তুলে নেবে।
একটু ভয় পেয়ে গেলাম। না জানি কি সমস্যায় পড়ে যায়।
-ওখানে পাসপোর্টটা দেন।
-আপনার নাম কি? ভেতর থেকে পাসপোর্ট মেলে ধরে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করলেন।
-আলমগীর কবির
-নাম তো ভুল বললেন
-উমম না ঠিকইতো বললাম।
-পুরো নাম বলেন
-আলমগীর কবির
-আগে কিছু নেই
-মোহাম্মদ আলমগীর কবির।
-হুমম এই বার ঠিক বলেছেন। এই ইনিকি তোমার পরিচিত? পার্থ বাবুকে জিজ্ঞেস করলেন। যান আপনি চলে যান আপনার কাজ শেষে।
একটা নাভিশ্বাস ছাড়লাম। তাহলে এযাত্রাও বেঁচে গেলাম।

-ও আপনার টাকা চেঞ্জ করতে হবে?
-হুমম
-কত টাকা করবেন?
-আপাতত দশ হাজার টাকা করি।
-দশ হাজার টাকা দিলে কত রূপি পাব?
-সাত হাজার নয়শ রূপি।
দ্রুত দশ হাজার টাকা বের করে দিলাম,
-সাত হাজার নয়শ থেকে সিম ও সিমের রিচার্জ বাবদ বাদ দেন দু’শ রুপি এবং ট্রেনের টিকিট বাবদ ত্রিশ রূপি তাহলে আপনি পাচ্ছেন সাত হাজার ছয়শ সত্তর রূপি।
দ্রুত রূপিগুলো কয়েক ভাগে ভাগ করে কয়েকটি পকেটে রেখে দিলাম। আগামী এক সপ্তাহ মেয়ের সাথে যোগাযোগ না করে থাকতে হবে, মনটা প্রচণ্ড খারাপ হতে শুরু করল।
-দাদা আপনার ট্রেন চলে এসেছে, দ্রুত আপনার ভোডাফোনের সিমটা দেন।
-কিন্তু আমি তো ওটার টাকা আপনাকে দিয়ে দিয়েছি এমনকি আমি রি-চার্জও করেছি।
-দাদা দ্রুত দিননা সিমটা, আপনার ট্রেন ছেড়ে দেবে।
কিচ্ছু করার নেই সিমটা ওনার হাতে দিয়ে ট্রেনের দিকে ছুটতে থাকলাম
-আরে যাচ্ছেন কোথায়? দাঁড়ান।
-ট্রেন ছেড়ে দেবেতো।
-আরও চার মিনিট আছে তারপর ছাড়বে।
-টিকি নিতে হবে না?
-আপনার টিকিট তো কাটা হয়েছে গেছে।
দ্রুত একটি বাড়ীর মধ্যে দৌড়ে গেলো, বলল
-দাঁড়ান আমি যাব আর আসব।
প্রায় ত্রিশ চল্লিশ সেকেন্ডের মধ্যে বাড়ীর মধ্যে থেকে ফিরে আসল
-এই নিন এই মোবাইলটা নিন, একটি পুরনো মোবাইল হাতে দিয়ে বলেলন।
-কত টাকা দিতে হবে?
-কোন টাকা দিতে হবে না, আপনার ট্রেন এখনই ছেড়ে দেবে। এই নেন টিকিট টা নেন।
আমি একটু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম, মোবাইল কি ওনি ফেরত নিবেন না, নাকি পরে এসে টাকা দিতে হবে, নাকি ছোট খাট কোন ঝামেলা অপেক্ষা করছে, কিছুই বুঝতে পারছি না। দৌড়ে ট্রেনে উঠে পড়লাম। ভাবতে লাগলাম বাসা থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত চেকপোস্টে আসতে ফুয়েল ফুরিয়েছে বড় জোর পাঁচ টাকার আর ট্রেনের টিকিটের মূল্য ত্রিশ রুপী মোট বাংলাদেশী টাকা চল্লিশ টাকায় আমি কলকাতা যেতে পারব। আমার বাসা থেকে আমার গ্রামের বাড়ীতে বাসে দু ঘণ্টা সময় এবং একশত টাকার মত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই একশত টাকার পথে আমি সপ্তাহে একবার যাতায়াত করি কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া চল্লিশ টাকার পথ অতিক্রম করার সুযোগ আর কখনও দিবে কিনা জানি না।

৩৮৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি আলমগীর কবির , জন্ম 1979 সালের 25 জানুয়ারী , গ্রাম-চাঁদপুর, ডাক-কন্যাদহ, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিসাব বিজ্ঞানে এমকম করার পর একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম-এ এমবিএ করি। বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়েভ ফাউন্ডেশন। যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই লেখালেখির খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু আত্ম বিশ্বাসের অভাবে হয়ে উঠেনি। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোট গল্প এবং হুমায়ুন আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, মানিক বন্দোপধ্যায় সহ বেশ কিছু লেখাকের উপন্যাস পড়তে খুব ভাল লাগে। আগে কবিতা পড়তে ভাল লাগত না তবে এখন ভাল লাগে।
সর্বমোট পোস্ট: ৬১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৪১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-২৭ ০৯:৩৯:৩৮ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর তো

    • আলমগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

      ধন্যবাদ সবুজ ভাই। আশাকরি শেষ পর্ব না পর্যন্ত না পড়লে আমি কি বলতে চাইছি সেটা বোঝাতে পারবনা। এটা নিছক ভ্রমণ কাহিনি না।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল বাস্তব গল্পটি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top