Today 14 Aug 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

অপ্রকৃতস্থ আমি ও কাকগুলো

লিখেছেন: আলমগীর কবির | তারিখ: ০১/০৯/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 329বার পড়া হয়েছে।

তিন
ট্রেন ছাড়ার দ্বিতীয় স্টেশনে পৌঁছানো মাত্রই প্রচণ্ড ভিড় জমে গেলো। কোন রকম ভাবে সীটে বসে আছি। শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছাতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতে পারে। সাথে The beloved-এর কম্পিউটার প্রিন্টেড কপি আছে, ব্যাগের ভেতর থেকে বের করে পড়তে শুরু করলাম। না বই পড়ার হয়তো সময় পাওয়া যাবে। জানালা দিয়ে ভারতীয় বাংলাদেশ দেখতে থাকলাম, স্টেশনগুলোতে কোথাও কবিগুরুর, কোথাও মহাত্মা গান্ধীর, কোথাও বা স্বামীজীর বড় বড় ছবি টাইলস আঁকা রয়েছে। আর বাকি সব বাংলাদেশের মতই লাগল।
কাক
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে করে শিয়ালদহ স্টেশনে নামলাম, অনেক বড় স্টেশন, প্রচুর লোক সমাগম।
-Execue me দাদা
-বলুন
-দাদা আমি রবীন্দ্র সরণী, নাখুদা বড় মসজিদ কিভাবে যাব?
-আপনার বাড়ী কোথায়? ওনি ওলটা প্রশ্ন করলেন।
-দাদা আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
-সে দাদা কথা শুনে বুঝতে পেরেছি। কাউকে বলেন না বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
-কেনা বলব না। আর তাছাড়া না বললেও তো বুঝে ফেলবে আপনি যে ভাবে বুঝে ফেললেন আমি বাংলাদেশী।
-তাতো বুঝলাম, কিন্তু বাংলাদেশী বললে সমস্যা আছে।
-সরি দাদা যত সমস্যাই হোক না কেন, আমি বাংলাদেশী নই এটি আমি কোন ভাবে বলতে পারব না।
-আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে একটু সাবধানে থাকবেন, ব্যাগ, টাকা পয়সা সাবধানে রাখবেন। সামনে আর একটু হেটে যান, ওখানে বাস পাবেন, ট্যাক্সিও পাবেন, বাসে গেলে দশ টাকা খরচ হবে কিন্তু ট্যাক্সিতে গেলে একশ টাকার মত খরচ হবে। তবে কলকাতায় আপনি যেহেতু নতুন সেহেতু ট্যাক্সিতে যাওয়া উচিৎ।
সামনে যেয়ে উপস্থিতি একজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বাসে উঠে পড়লাম। পনের বিশ মিনিটের মধ্যে সাত টাকা খরচ করে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত জায়গা পৌঁছে গেলাম।
-Execue me দাদা
-জি বলুন
-দাদা এখানে স্ট্যান্ডার্ড হোটেলটি কোন জায়গা বলতে পারেন?
-এখানে যা আছে সব নিম্ন মানের হোটেল, Standard হোটেল পাবেন না।
কথা না বাড়ীয়ে সামনে হাটতে শুরু করলাম। Xenophobia ভালমতো কাজ করতে শুরু করেছে, বিশেষ করে স্টেশন থেকে সাবধান বাণী শোনার পর থেকে। এখন বুঝতে পারছি ওটা কোন ভাবে সাবধান বাণী ছিলনা, ওটা ছিলা ভীতি বাণী।

-Execue me দাদা
-জি বলুন
-দাদা এখানে স্ট্যান্ডার্ড হোটেলটি কোন জায়গা বলতে পারেন?
-না আমার জানা নেই।
আর একটু সামনে গিয়ে একটি দোকান পেলাম। এই এলাকাতে প্রচুর মোসলমানদের দোকান আছে, এখন বুঝতে পারছি যিনি আমাকে হোটেলের ঠিকানাটা দিয়েছেন তিনি আসলে এই কারণেই এই এলাকার ঠিকানা দিয়েছেন। আফটার অল তিনিতো মুসলমান। পকেট থেকে কার্ডটা বের করলাম।

-আসসালামু আলাইকুম
-উ-আলাইকুম আসসালাম।
– কিছু বলবেন? দোকানে বসে থাকা লোকটি হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলেন
আমি যখন একটু দূর থেকে ওনার কথা শুনতে পাচ্ছিলাম তখন ওনি হিন্দি স্টাইলে বাংলায় কথা বলছিলেন, এখন আমার সাথে হিন্দিতে কেন কথা বলছেন সেটা আমার বোধগোম্য হচ্ছে না। হিন্দি কথা শুনে আমি ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলাম-
-How can I get the hotel standard?
-Hotel Standard?
-yes
-আপনি কি বাঙালী?
এই বার বাংলায় জিজ্ঞেস করলেন?
-জি আমি বাঙালী, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি।
-সামনে ঐ মোড় টা পর্যন্ত হেটে যান, ওখানে যেয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করুন দেখিয়ে দেবে। শুদ্ধ বাংলায় বললেন।

-Execue me
-How can I get the hotel standard?
-রাস্তার ঐ পাশে চলে যান, তারপর সামনে একটু হাঁটুন হোটেল পেয়ে যাবেন।
আমার কাছে মনে হল আমি যদি এদের কাছে বাংলায় কিছু জিজ্ঞেস করি এরা তখন হিন্দিতে কথা বলছে কিন্তু ইংরেজিতে বললে ঠিকই বাংলায় কথা বলছে। এরা কি জানে না কবিগুরুর, কবিগুরু হবার প্রায় একশ বছরও কোন হিন্দি ভাষী আজও পর্যন্ত তাঁর ধারে কাছে পৌঁছাতে পারেনি। বুঝতে সময় লাগল না হিন্দি ভাষা এদের মুখোশ কিন্তু বাংলা ভাষাটা মুখশ্রী হতে পারত। হাটতে হাটতে হোটেলে পৌঁছে গেলাম। মোবাইলের চার্জার কেনা দরকার। হোটেলে উঠার আগে চার্জার কিনে নেই, প্রায় চার ঘণ্টা সময় পেরিয়েছে গেছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত মেয়ের সাথে যোগাযোগ হয়নি। যাইহোক চার্জার কেনার সুযোগে আমার হিন্দি সংক্রান্ত ধারনাটাও যাচাই করা হয়ে যাবে।

৩৩০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি আলমগীর কবির , জন্ম 1979 সালের 25 জানুয়ারী , গ্রাম-চাঁদপুর, ডাক-কন্যাদহ, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিসাব বিজ্ঞানে এমকম করার পর একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম-এ এমবিএ করি। বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়েভ ফাউন্ডেশন। যখন কলেজে পড়তাম তখন থেকেই লেখালেখির খুব ইচ্ছা ছিল কিন্তু আত্ম বিশ্বাসের অভাবে হয়ে উঠেনি। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোট গল্প এবং হুমায়ুন আহম্মেদ, সুনীল গঙ্গোপধ্যায়, মানিক বন্দোপধ্যায় সহ বেশ কিছু লেখাকের উপন্যাস পড়তে খুব ভাল লাগে। আগে কবিতা পড়তে ভাল লাগত না তবে এখন ভাল লাগে।
সর্বমোট পোস্ট: ৬১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৪১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-২৭ ০৯:৩৯:৩৮ মিনিটে
banner

১ টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top