Today 09 Aug 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আঁখিজলে গাঁথা মালা (ছোট গল্প)

লিখেছেন: সহিদুল ইসলাম | তারিখ: ১৫/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1373বার পড়া হয়েছে।

 
 
“যতখানি আমার করার, করেছি।বাকিটা ঈশ্বর।”
– বললেন ডাক্তারবাবু।।
– লেইজেলঃ একি বলছেন, ডাক্তারবাবু! তবে কি আমার রোডেনগো …
– ডাক্তারঃলেইজেল, ধৈর্য্য ধরুন, আমি প্রাণপণপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এটা অবশ্যই মনে রাখবেন, জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এসবই বিধাতাকে দিয়ে।
 
– লেইজেলঃ ডাক্তারবাবু, আমি এতকিছু বুঝিনা। আমি আমার রোডেন গো কে সুস্থ দেখতে চাই।(কাঁদতে কাঁদতে) আমি আমার রোডেন গো কে হারানোর কোন কথাই ভাবতে পারিনা। বিখ্যাতঔপন্যাসিক পাবলো কোয়েলহো বলেছেন, ‘যখন তুমি কোনো কিছু মন থেকে চাইবে, সেটা অর্জনের জন্যসারা দুনিয়া তোমার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।’ পাবলো কোয়েলহোর বানী বুঝি আজ মিথ্যে প্রমাণ হবে?
 
– ডাক্তারঃ লেইজেল, আমি জেনেছি আপনি ওকে খুব ভালবাসেন। আমি জেনেছি রোডেন গো কে নিয়ে আপনি অনেক স্বপ্ন দেখেছেন। ওকে বিয়ে করে সুখের স্বর্গ রচনা করতে চেয়েছেন। বিয়ের দিনটাইএকজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে  সুখের দিন। দুজন মানুষ একে অপরকে ভালবেসে কাছে আসে। সারাজীবন একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করে যতদিন না মৃত্যু তাদেরকে আলাদা করে দেয়।
  
– লেইজেলঃ রোডেন গো (ফিলিপাইনের নাগরিক) এমন একটা দিনই তার জীবনে পেতে চেয়েছিল।আগামী ৮ জুলাই রোডেনের ৩০তম জন্মদিনে আমরা বিয়ে করব বলে ঠিক করেছি, কিন্তু  একি হলো? ভাগ্যের একি নির্মম  পরিহাস! তার আগেই আমাকে শুনতে হলো রোডেনের চতুর্থ স্তরেরযকৃতের ক্যান্সারের কথা। ও বিধি তুমি আমাকে যেন ওর আগেই মৃত্যু দিও। আমি ওর শেষ বিদায়ের দৃশ্য দেখতে পারবনা।
 
হ্যাসেট গোঃ (রোডেনের ভাই) পার্থিব এই জগৎ সংসারের অকৃতিম মায়া, মমতা, ভালোবাসা কে বাছেড়ে যেতে যায়! তবুও আমরা তো মানুষ, চলে তো যেতেই হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। হ্যাসেটগোর যেন মনে পরে গেল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার সেই দু’টি কথা “কীগভীর দুঃখে মগ্ন সমস্ত আকাশ, সমস্ত পৃথিবী। চলিতেছি যতদূর, শুনিতেছি একমাত্র মর্মান্তিক সুর, ‘যেতেআমি দিব না তোমায়। ধরণীর প্রান্ত হতে নীলাভ্রের সর্বপ্রান্ততীর ধ্বনিতেছে চিরকাল অনাদ্যন্ত রবে, যেতেনাহি দিব হায় তবু যেতে দিতে হয় তবু চলে যায়…..”। আমাদের সকলকেই আজ হয়তো কাল এইভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিড়ে চির বিদায় নিতেই হবে। হ্যাসেট গো লেইজেলকে বললেন, লেইজেল আমিরোডেনের শেষ ইচ্ছাটুকু পূরণ করতে চাই। এক মুহূর্ত আগে হলেও রোডেনের সাথে তোমার বিয়ে দিতে চাই। লেইজেল রাজী হলো।
 
পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব, রোডেনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে এগিয়ে আসল। ১২ ঘণ্টার প্রস্তুতির পররোডেনের স্বপ্ন পূরণ হলো।  
 
রোডেনের ভাই হ্যাসেট গো অশ্রুসজল নেত্রে বলতে লাগলেন, ওকে আমরা হাসপাতালের বাইরে নিয়েযেতে পারিনি, তাই চার্চকেই  আমরা তার কাছে নিয়ে এসেছিলাম।
 
কবুল বলার ১০ ঘণ্টা পরই রোডেনকে যখন জীবনের শেষ বিদায় জানাতে হলো, তখন আঁখিজলে গাঁথামালা দিয়ে রোডেনের বিদায় বেলায় লেইজেলর বিষাদসঙ্গীত… 
 
ওগো বিধি আমার জীবনে
একি তুমি করিলে? 
রূপকথার করুন গল্প তুমি 
বাস্তবে ঘটালে।
 
আমার মনের মানুষ তুমি
নিলে ছিনিয়ে,
এখন আমি বাঁচবো বল
কি নিয়ে?
 
নিয়েছ কারিয়া তুমি আমার
প্রাণের প্রিয়া,
তুমিই বল আমায় কেমনে
ধরিব হিয়া?
 
সে যে আমার জীবন-মরণ
বাঁচার অনুরণ,
ওর বিদায়ের আগে আমায়
দিলেনা ক্যান মরণ!
 
 
*** ফিলিপাইনের নাগরিক রোডেন গো এবং লেইজেলর বাস্তব প্রেম কাহিনী আবলম্বনে।
 
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Sahidul_77@yahoo.com

১,৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার পরিচিতিঃ আমি, মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম, পিতাঃ ডাঃ মোঃ সফি উদ্দিন, ১৯৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী, আমার জন্ম-ঢাকা জেলার ধামরাই থানার বেলীশ্বর গ্রামে নানা আলী আজগর মুন্সির বাড়ীতে । পৈত্রিক নিবাস, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার অর্জ্জুন-নালাই গ্রামে, কিন্তু বাবার চাকরী জনিত কারনে আমি ছোটবেলা থেকেই মানিকগঞ্জ জেলার, সাটুরিয়া থানার বরুন্ডী গ্রামে বড় হই। বর্তমানে এই গ্রামেই আমি স্থায়ী ভাবে বসবাস করছি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আমি বাবা-মার প্রথম সন্তান। আমার লেখাপড়া শুরু হয় উমানন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং এই বিদ্যালয় থেকে ৪র্থ শ্রেণী ও বরুন্ডী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করি, পরে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত ধানকোড়া গিরীশ ইনস্টিটিউশন (হাই স্কুল) হতে ১৯৯২ সালে সাফল্যের সহিত এস,এস,সি পরীক্ষা পাশ করি । সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ হতে ১৯৯৪ সালে আই,কম, ১৯৯৬ সালে বি,কম এবং একই কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়_বাংলাদেশের অধীনে ১৯৯৮ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপর এম,কম সমাপ্ত করি। এম,কম শেষ পর্বের পরীক্ষা শেষ করার আগেই আমি ১৯৯৮ সালে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করি এবং চাকুরীরত অবস্থায় এম,কম সমাপনী পর্ব সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করি। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমি বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করি। ২০০৯ সাল হতে আগস্ট/২০১৪ সাল পর্যন্ত জুরং শিপইয়ার্ড_ সিঙ্গাপুরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে এবং সেপ্টেম্বর/২০১৪ হতে অদ্যাবধি প্রজেক্ট সুপারভাইজার হিসেবে _ স্যাম্বক্রপ মেরিন_সিঙ্গাপুরে কাজ করছি। আমি ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করি । মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের আবহমান বাংলা ম্যাগাজিনে প্রথম লেখা শুরু। আমি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ( রাজনৈতিক এবং সমসাময়িক) এবং উপন্যাস লেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আধুনিক বা সাম্প্রতিক পটভূমিকা নিয়ে লেখাই হল আমার অভিগমন। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার মনকে সর্বাধিক ক্ষতবিক্ষত করে। আমার প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম “আবীর”। যৌথভাবে আমার প্রকাশিত বই ১০০ কবির প্রেমের কবিতা ২য় এবং ৩য় খণ্ড। আমি দেশ এবং বিদেশের বেশ কিছু অনলাইন এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়মিত গল্প, কবিতা এবং উপন্যাস লিখছি_ এর মধ্যে রয়েছে _ বাংলারকন্ঠ (সিঙ্গাপুর), দৈনিক সিলেটের আলাপ, আমাদের কিশোরগঞ্জ, বাংলারকন্ঠ(অস্টেলিয়া), সাভার নিউজ ২৪ ডট কম, সংবাদ ২৪ ডট নেট, প্রিয় ডট কম, রাঙ্গুনিয়া ২৪ ডট কম, এবি নিউজ২৪, বিবেকবার্তা ডট কম, বাংলা কবিতা ডট কম, বিডি নিউজ ২৪ ডট কম, গল্প কবিতা ডট কম ইত্যাদি। মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম Sahidul_77@yahoo.com
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৫৩৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-১০-১১ ১৭:০২:১৬ মিনিটে
Visit সহিদুল ইসলাম Website.
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল পড়ে। সুন্দর উপস্থাপনা ।

  2. মনো জগৎ মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি পুরো সরিশার তেলের মতই জাজালো হয়েছে______

    আমি বেশি আবেগ প্রবন..তাই চোখে জল চলে এসেছে_____

    লিখেযান।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। প্রথমে ভাবছিলাম অনুবাদ করেছেন। খুব ভাল লাগা রইল। আরো লিখুন।

  4. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লাগলো ।

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ সুন্দর আবেগ লেখা
    ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top