Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আজটেক সভ্যতা

লিখেছেন: আঃ হাকিম খান | তারিখ: ১৭/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 755বার পড়া হয়েছে।

5

আজটেক সম্যাজ্য ছিল সমসাময়িককালের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও ক্ষমতাধারী শক্তি। আদিবাসি আমেরিকানদের এ সম্যাজ্য পশ্চিমে মেক্সিকো উপত্যকা থেকে পূর্বে মেক্সিকো উপসাগর এবং দক্ষিণে গুয়াতেমালা পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। ১৫২১ সালে স্প্যানিশরা এ অঞ্চল দখল করে নিলে এ সম্যাজ্যের অবসান ঘটে।

2

রাজধানী

ধীরে ধীরে আজটেকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে; ছোট্ট গ্রাম থেকে টেনোচতিৎলান একটি বড় শহরে পরিণত হয়। আজটেকরা শক্তিশালী সেনাবাহিনীও গঠন করে। রাজধানী টেনোচতিৎলানই ছিল এ অঞ্চলের সকল ব্যবসা বানিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। ঔ সময় প্রায় ২০ লক্ষ অধিবাসি নিয়ে টেনোচতিৎলান শহর ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহরগুলোর মধ্যে একটি।

4

ধর্ম

আজটেকরা প্রকৃতি পূজা করত। তারা ভূমি, বৃষ্টি ও সূর্যকে দেবতা মনে করত এবং দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে মানুষ বলি দেয়া অপরিহার্য মনে করত। তারা বিশ্বাস করত সূর্যকে প্রতিদিন সন্তুষ্ট করতে না পারলে পরের দিন আর সূর্য উঠবে না। সাধারণত বলি হিসেবে কয়েদিদের ব্যবহার করা হত এবং আজটেক যাজকরাই একাজ সম্পন্ন করত।

3

কৃষি ও অর্থনীতি

কৃষিকাজ ছিল আজটেক অর্থনীতির প্রধান চালিকা। মেক্সিকো উপত্যকার এ অববাহিকা ছিল পাঁচটি হ্রদের সংযোগস্থলে। তাই অতি উর্বর ও চাষ উপযোগী হলেও যথেষ্ট পরিমাণ জমি এখানে ছিল না। আজটেকরা পাহাড়ের ঢাল কেটে সেখানে চাষাবাদ শুরু করে। জমির সর্বো্চ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা পানিসেচ ও সার দেয়া শুরু করে। তাদের সবচেয়ে বড় কৌশল ছিল ভাসমান কৃত্রিম দ্বীপ। তারা খাগড়া বুঁনে বিশাল আস্তরন তৈরি করে ও তার উপর মাটি স্তূপ করে এ কৃত্রিম দ্বীপ বানাতো। পরে এগুলো তারা হ্রদের পানিতে ছেড়ে দিত। এ কৃত্রিম দ্বীপে তারা শস্য, শাক-সবজি ইত্যাদি চাষ করতে সমর্থ হয়।

আজটেকদের কোন চাকাযুক্ত বাহন কিংবা বহনকারী জন্তু ছিল না, তারা কাঁধে করে বা ডিঙি নৌকায় করে মালপত্র আনানেয়া করত। বিপজ্জনক জায়গাগুলোতে বণিকবহরের সাথে সৈন্যবাহিনী থাকত। সাম্রাজ্যের বাইরে কোন কোন বণিক গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করত।

 

শিল্প-সংস্কৃতি

আজটেকদের শিল্প-সংস্কৃতিতে ধর্মীয় ধ্যান-ধারণার প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। গাছের বাকল ও দেয়ালে তারা চমৎকার রঙের চিত্রকর্মের মাধ্যমে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, দেবতাদের প্রকাশ করত।

6

আজটেক সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে আজটেক দিনপঞ্জি বা আজটেক ক্যালেন্ডার । এ দিনপঞ্জি ছিল একটি সুবিশাল পাথরের উপর খোদাই করা যার ভর ২২ মেট্রিক টন এবং ব্যাস ৩.৭ মিটার (১২ ফুট)। এ দিনপঞ্জি দিয়ে তারা পুরা মহাবিশ্বের প্রতীক হিসেবে চিন্তা করত, যার কেন্দ্রে ছিল সূর্য। সূর্যের চারপাশে বিভিন্ন দিন ও বিভিন্ন স্বর্গ চক্রাকারে সাজানো।

7

আজটেকরা পিকটোগ্রাফ বা চিত্র দ্বারা ভাব প্রকাশ ও বানিজ্য সম্পন্ন করত। তারা চিত্রের মাধ্যমেই গণনা করত; যা ছিল সংখ্যা ‘২০’ কে ভিত্তি করে। একটি পতাকার ছবি দ্বারা কোন কিছুর পরিমাণ ২০টি বোঝানো হত, একটি দেবদারু গাছের ছবি দ্বারা তার ২০ গুন অর্থাৎ ৪০০ বোঝানো হত, একটি থলের ছবি দ্বারা তারও ২০ গুন অর্থাৎ ৮০০০ বোঝানো হত।

 

হাতিয়ার ও সরঞ্জাম

আজটেকরা হিসেবে তারা সাদামাটা হাতে তৈরি হাতিয়ার দিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম করত। মহিলারা তুলা থেকে সূতা এবং সূতা দিয়ে তারা কাপড় বুনতে জানত। তারা কাপড়ে রঙ করে ও সেলাই করে বিভিন্ন নকশা অঙ্কন করত। তারা আগুনে পুড়িয়ে বিভিন্ন ধরণের মাটির পাত্রও তৈরি করতে পারত। পাত্রগুলো সাদা বা লাল রঙের হতো এবং এগুলোতে সাদা-কালো নকশা আঁকা হত।

8

ধাতুবিদ্যা

সমসাময়িক অন্যান্য জাতির লোকেরা লোহা ও ব্রোঞ্জের ব্যবহার জানলেও আজটেকরা এগুলো ব্যবহার জানত না। কোনকিছু কাটার কাজে তারা বিভিন্ন ধরনের ধারালো শিলা ব্যবহার করত।

 

ইতিহাস

আজটেক সম্যাজ্য সূচনা হবার অনেক আগে থেকেই মেক্সিকো উপত্যকা ছিল পূর্নাঙ্গ সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। উর্বর অববাহিকার এই উপত্যকা ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪০০ মি উচ্চতায় এবং পাঁচটি হ্রদের সংযোগস্থলে। ১০০ থেকে ৬০০ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলে টিওটিহুকানরা (Teotihuacán) শাসন করে। টিওটিহুকানদের পতনের পর টলটেক (Toltec) জাতি উত্তরাঞ্চল থেকে এসে মধ্য মেক্সিতোতে বসবাস শুরু করে। এ জাতি দশম ও একাদশ শতাব্দিতে ব্যাপক উন্নতি অর্জন করতে সমর্থ হয়। ত্রয়োদশ শতাব্দিতে নাহুতলভাষি (Nahuatl) মিত্রবাহিনী তাদের আক্রমণ করে এবং মেক্সিকো উপত্যকা দখল করে নেয়। এ মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে ছিল মেক্সিকা জনগোষ্ঠী। নাহুতলভাষি এ জনগোষ্ঠীই পরবর্তীতে আজটেক নামে পরিচিতি পায়।

9

কথিত আছে, আজটেকরা যখন মেক্সিকো উপত্যকায় আগমন করে তখন এক স্থানে এক ক্যাকটাসের উপর ঈগলের নখরবন্দি অবস্থায় একটি সাপ দেখতে পায়। ঔ স্থানেই তারা সভ্যতার সূচনা করে যা পরবর্তীতে টেনোচতিৎলান (Tenochtitlán) শহরে পরিণত হয়। সাপ ও ঈগল এখনও আধুনিক মেক্সিকোর জাতীয় প্রতীক এবং জাতীয় পতাকা ও মুদ্রায় প্রতীকগুলো খুজেঁ পাওয়া যায়।

 

স্প্যানিশ অধিক্রমণ

১৫১৯ সালে ভ্রমণকারি হার্নান কোর্টেস প্রায় ৫০০ জনের এক স্প্যানিশ বাহিনী নিয়ে স্বর্নের সন্ধানে এ অঞ্চলে এসে পৌছায়। কোর্টেস আজটেকদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দী ট্লাক্সালান জাতির সাথে আঁতাত করে টেনোচতিৎলান প্রবেশ করার পরিকল্পনা করে। ট্লাক্সালান জাতির প্রায় ৪০০০ লোক স্প্যানিশ বাহিনীর সাথে যোগ দেয়। আজটেক বাহিনীর তুলনায় এ সংখ্যা ছিল নগণ্য। ৮ই নভেম্বর ১৫১৯ সালে আজটেক সম্রাট দ্বিতীয় মন্টেজুমা স্প্যানিশদের অভিপ্রায় জানার জন্য তাদেরকে আক্রমণ না করে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ দেয়।

10

স্প্যানিশ বিপুল পরিমাণ স্বর্নের খোঁজ পেয়ে এ অঞ্চল থেকে স্পেনে পাঠানো শুরু করে। শান্তিপূর্ণ অবস্থা স্বত্বেও হার্নান কোর্টেস বিশ্বাস করত আজটেকরা এ অঞ্চল থেকে একসময় বিতাড়িত করবে। তাই সাবধানতা হিসেবে তারা আজটেক সম্রাট দ্বিতীয় মন্টেজুমাকে গ্রেফতার করে এবং স্প্যানিশ রাজার বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করে। প্রায় ছয় মাস পর, এক ধর্মীয় সমাবেশে ২০০ জন গুরুত্বপূর্ণ আজটেক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ফলশ্রুতিতে আজটেক সৈন্যবাহিনী স্প্যানিশদের টেনোচতিৎলান শহর থেকে বের করে দেয়ার জন্য লড়াই শুরু করে। তারা শহরের সেতুগুলো ধ্বংস করে ও স্প্যানিশদের বিতাড়িত করে হ্রদের দিকে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত স্বর্ণের ভারে স্প্যানিশ বাহিনীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লোক পানিতে ডুবে মারা যায় ।

11

হার্নান কোর্টেস পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়। হার্নান কোর্টেস এবার তার বিপুল পরিমাণে আদিবাসি আমেরিকানদের আজটেকদের বিরূদ্ধে একত্রিত করে। ধাতব অস্ত্র ও গোলাবারুদে সমৃদ্ধ স্প্যানিশ বাহিনীর সাথে এবার আর পেরে উঠে না আজটেকরা। স্প্যানিশরা পুরো সাম্রাজ্য দখল করে নেয় এবং টেনোচতিৎলান শহরের পতন ঘটে। টেনোচতিৎলান শহরের পতনের ফলে সর্বশেষ আদিবাসি আমেরিকান সভ্যতা হিসেবে আজটেক সভ্যতারও পতন ঘটে|

টেনোচতিৎলান শহরের ধ্বংসাবশেষের উপরে স্প্যানিশরা মেক্সিকো সিটি তৈরি করে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভবন মন্টেজুমার প্রাসাদের উপরই তৈরি হয়েছে।

1

তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

 

৮৩২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১১২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৭ ১০:০৩:১৯ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. শ্যাম পুলক মন্তব্যে বলেছেন:

    ইতিহাস নির্ভর তথ্যবহুল পোষ্ট। অনেক ভাল লাগল আমার কাছে। ইতিহাস ঐতিহ্য আমার অনেক ভাল লাগে।
    অনেক ধন্যবাদ।

  2. তাওসীফ সাদাত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর পোস্ট, অনেক কিছু জানা গেল। ধন্যবাদ !

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ইতিহাস সমন্ধে জানতে পারলাম ।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সভ্যতার ইতিহাস ভাল লাগল।

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    মুগ্ধকর ছবি মুগ্ধই হলাম পড়ে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top