Today 18 Feb 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আজ অন্যরকম একটা দিন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৩/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 873বার পড়া হয়েছে।

ফলস

রোজ দিন তার এক হাঙ্গামার দিন।কাজ শেষে করে বের হতে যাবে কোথা থেকে আর ও কিছু উটকো কাজ এসে জুড়ে যায়।শিডিউল সময়ে কাজ শেষ করে কখন সে বের হতে পারেনা ।আজকে সাতটার মধ্যে বাসায় না পৌছলে স্ত্রীর সাথে বাকযুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনবছর হল তার বিয়ে হয়েছে।তার এক ফুটফুটে একছরের পুত্রসন্তান আছে।

সে এক বহজাতিক কোম্পানীতে কাজ শুরু করেছে কিছুদিন হল। এক্সপোর্ট প্রডাক্ট শিপিং দেখাশোনা করে।সবসময়ে বলা যায় দৌড়ের উপর থাকে।অত্যন্ত ব্যাস্ত মানুষ ।অফিসের কাজ তার জমিসংক্রান্ত আরও কিছু ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করে যখন সে বাসায় ফিরে তখন সত্যি তার সময় শক্তি ইচ্ছা সবকিছুতে ভাটা পড়ে যায় স্ত্রী পুত্র কে নিয়ে বাহিরে যাওয়ার।সে খুব অপরাধবোধে ভোগে স্ত্রী পরিবারকে সময় দিতে না পারার জন্য।স্ত্রীর অভিযোগের জবাবে শুধু এটা বলে নিরুপায়ের মত আমাকে একবছরের সময় দাও।একটু ঘুচিয়ে নেই।এরপরে তোমার ইচ্ছমত সবকিছু হবে।

সে ভূল করে আজ অন্য রুটের বাসে উঠে পড়েছে।এক্সকারশান বাস।বাস যাবে সিতাকুন্ডু পাহাড় দেখতে।মনে মনে সে উৎফুল্ল হয়ে উঠল দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমী থেকে মুক্তিতে।তার মনে রইলনা তার স্ত্রী রেডী হয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে।প্রচন্ড ক্লান্তি ঘুমে তার চোখ ভেঙ্গে আসছে।ফোন অফ করে নিমিষে সে ঘুমিয়ে পড়ল বাসে।

দীর্ঘ জার্নির পর অবশেষে বাস এসে পৌছল পার্বত্য চট্রগ্রামের হালিশহর।ওখানে সব যাত্রীরা যে যার মত ভ্যান টাঙ্গা স্কুটারে করে পাহাড়ের কাছাকাছি এসে পৌছল।পাহাড়ের কাছাকাছি পৌছে অবাক হয়ে গেল।প্রথমে মনে হল একেবারে সে পাহাড়ের কাছে দাড়িয়ে আছে।যতই হাটছে পাহাড়ের কাছে আর পৌছতে পারছেনা।

অদ্ভুত তো মনে মনে সে বলে।

পাহাড়ের কাছে এসে লাফিয়ে অনেকটা উপরে উঠে পড়ে।
আহ মনে মনে ভাবে এখানে পরিবেশ অনেক পিসফুল।টেনশান নাই ।কোন দায়িত্ব যন্ত্রনা হেডেক নাই।

পাখীর পাখা ছড়ানোর মত করে হাত দুইপাশে ছড়িয়ে চোখ বন্ধ করে প্রকৃতির শব্দ শুনতে চেষ্টা করল।

সে স্পষ্ট যেন শুনল পাহাড় বলছে তাকে
তোমাকে আনন্দিত দেখে ভাল লাগছে।
আমার বুকে তোমাকে পেয়ে আনন্দিত হচ্ছি।

তাকিয়ে দেখে আকাশ হাসছে তার দিকে
গাছপালা বাতাস সব যেন তার দিকে তকিয়ে হাসছে।

কিছুক্ষন এভাবে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে তার বুকে চিনচিন করে পিন ফুটানোর বাথা অনুভব করল।শিশুপুত্রটির কথা মনে পড়তে লাগল স্ত্রীর কথা মনে হতে লাগল মা বাবা সবাইকে খুব মিস করতে লাগল।সে ভাবল আমি এভাবে একা স্বার্থপরের মত ঘুরতে চলে আসলাম।আশ্চর্য্য কেন?

আমি কি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি?

আপনজনদের মাঝখানে

জীবন যাপনের জটিলতায়

দায়িত্বের ভারে

যান্ত্রিক জীবনের যন্ত্রনায়

এই সবুজ শ্যামলিমা প্রাকৃতিক পরিবেশে অদ্ভুত ভাল লাগছে।

তার পাশে এক বাউলকে দেখা যাচ্ছে হাছন রাজার গান গাইতে গাইতে হাটছে।

পরের জায়গা পরের জমীন ঘর বানায়া আমি রই।
আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।

হঠাৎ তার পাশে একটা মেয়েকে খিলখিল করে হাসতে দেখে চমকে তাকাল।

সে ভূত দেখার মত চমকে উঠল। ততুমি অবাক হয়ে বলে তুমি এখানে কিভাবে?

সে কি স্বপ্ন দেখছে?এটা কি কোন স্বপ্ন দৃশ্য।বিভ্রমের মত লাগছে।

আমার ও এক প্রশ্ন তুমি এখানে এই সময়ে?হাসতে হাসতে তার স্ত্রী গড়িয়ে পড়ছে।পিছনে মা বাবা মায়ের কোলে তার শিশু পুত্র।

তা তা বাবা আধো আধো ভাবে কথা বলে যাচ্ছে পুত্র।

মা বাবা তোমরা সবাই এখানে কিভাবে?

পাহাড়ের চুড়ায় দেখা যাচ্ছে মেয়েটিকে।গতকয়েকদিন ধরে এই অজানা অচেনা একটা মধুর মেয়েকে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে ।মেয়েটির অবয়ব তার কাছে এখন ও ঠিক পরিস্কার নয়।সবসময় তাকে সাদা সালওয়ার কামিজ ওড়নায় দেখা যায়।ওড়নাটটি ঘোমটা দেওয়ার মত করে পেচিয়ে পরা।

মেয়েটি উপর থেকে বলছে আর উপরে উঠনা।এখানে আগ্নেয়গিরির একটা জ্বালামুখ আছে ।

মা এসে হাত ধরলেন বললেন চল বাবা ঘরে যাই।

সে কি স্বপ্ন দেখছে?এটা কি কোন স্বপ্ন দৃশ্য।বিভ্রমের মত লাগছে।

এইযে এইযে ভাইজান ভাইজান।তাকে ঘিরে আছে তিনচার জন মানুষ।

এতঘুমাইতে পারে মানুষ।ভাইজান আমরা চারজন মিইলা ধাক্কাধাক্কি করি উঠাইছি।বাসের ড্রাইভার বলে।

আপনি কই যাবেন ভাই?জায়গা তো মনে হয় ফালাই আসছেন।

গুড গড স্বপ্ন দেখছিল সে।অনেকদিন পরে সে পরিতৃপ্তির একটা ঘুম দিল ।

ঘড়িতে সময় দেখল ৬:০০ টা এখন সময় আছে।ফোন করে স্ত্রীকে।দায়িত্বশীল স্বামীর মত খোজ খবর নিল বলল

তোমরা রেডী হয়ে থাক।বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে যাব তোমার কাজে এরপর কাজ শেষে মঞ্চ নাটক দেখব।

ওমা স্ত্রী বলে আজকে সূর্য কোনদিকে উঠল?এত সৌভাগ্য।

সৌভাগ্য সে একটু হাসল মনে মনে।আজকে চমৎকার এক অন্যরকম দিনপার করল সে স্বপ্নের জগতে।

৯৬৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লিখেন আপনি। লিখে যান অবিরত । শুভকামনা সবসময় ……………….

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর ছবিতা সহ অন্য রকম দিন
    ভালো লাগলো।

    • আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

      ধন্যবাদ কাশেম ভাই।আমার লেখায় আপনার কমেন্টস না দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়।সবসময় কষ্ট হলে আমার লেখা পড়বেন।এটা সবার প্রতি আমার অনুরোধ।আমি সবার লেখা ভালবাসা নিয়ে পড়ি।হয়তবা কমেন্টস ঠিক হয়না ।আমি সবাইকে ট্রুলী কেয়ার করি এমনকি কমেন্টসের সময়ে।

      ভাল থাকবেন সবসময়।

  3. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    মানুষের স্বপ্নের মত দিনগুলি আসুক খুব তাড়াতাড়ি । ভালো লাগলো লিখা পড়ে । ধণ্যবাদ ।

    • আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

      ধন্যবাদ সাঈদ ভাই।স্বপ্নের দিন আসবে আসতেই হবে এটা মনে করতে হবে সবসময়।স্বপ্নটকে মনে লালন করতে হবে সবসময়।একসময় দেখবেন ঈপ্সিত স্বপ্নের দিন দরজায় কড়া নাড়ছে।অনেক ধন্যবাদ লেখা পড়ার জন্য কমেন্টস করার জন্য।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ছবিটা দারুণ হয়েছে।

  5. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ছবিটা আপনার জন্য।

  6. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখার জন্য ধন্যবাদ। ছবিটা কি আপা চিটাগাং-এর একটি রেঁস্তোরার প্রবেশ পথের ?

  7. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি জানিনা ভাই।এটা ওয়েব পেজ থেকে পেয়েছি।মনে হয়না এটা চিটাগাঙ এর ছবি।আমি সোর্স দেখে জানাচ্ছি আপনাকে।ধন্যবাদ।

  8. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলেই অন্যরকম দিন!

  9. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন
    লিখা ভালো লাগলো
    শুভ কামনা রইল কবি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top