Today 12 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আজ বাংলাদেশের চিত্রকলা ও শিল্পকলার অমর কারিগর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

লিখেছেন: ব্যবস্থাপনা সম্পাদক | তারিখ: ২৮/০৫/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 885বার পড়া হয়েছে।

আজ বাংলাদেশের চিত্রকলা ও শিল্পকলার অমর কারিগর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে জাতির এই কৃতি সন্তান ইন্তেকাল করেন।শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলার প্রকৃতি, জীবনাচার, প্রাচুর্য এবং দারিদ্র্যতার রূঢ় রূপ ও রং তুলির সাহায্যে ক্যানভাসে মূর্ত করে তুলেছিলেন।  তার বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে- দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড় এবং আরো অনেক ছবি। ১৯৭০ সালে গ্রাম বাংলার উত্‍সব নিয়ে আঁকেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ তাঁর বিখ্যাক ছবি নবান্ন। ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষে (মন্বন্তর) জর্জরিত বিপন্ন মানুষের নিদারুণ কষ্টকে চিত্রশিল্পের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন।পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহাও তার চিত্রে মূর্ত হয়ে উঠে।শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কালজয়ী শিল্পকর্ম বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে চিত্রিত ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যুতে চিত্রিত হৃদয়স্পর্শী চিত্র মনপুরা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত হয়েছে এবং প্রশংসা লাভ করেছে।

1306661248

 

শিল্পীর শৈশব জীবন:

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিনী। নয় ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়। পড়াশোনার হাতেখড়ি পরিবারের কাছ থেকেই। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকা পছন্দ করতেন। পাখির বাসা, পাখি, মাছ, গরু-ছাগল, ফুল-ফলসহ আরও কত কি এঁকে মা-বাবাকে দেখাতেন। ছেলেবেলা থেকেই শিল্পকলার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র ষোল বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি বন্ধুদের সাথে কলকাতায় গিয়েছিলেন শুধু মাত্র কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য।

 

আর্টস স্কুলে ভর্তি:

 

কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখে আসার পর সাধারণ পড়াশোনায় জয়নুল আবেদিনের মন বসছিল না। তাই ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখার বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন। তাঁর মা জয়নুল আবেদিন আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখন আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। পরবর্তীতে ছেলে জয়নুল আবেদিনও মায়ের সেই ভালবাসার ঋণ শোধ করেছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে। জয়নুল আবেদিন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়েন। ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

তাঁর কর্ম ও জীবন:

 

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ছিলেন এদেশের চিত্রশিল্প আন্দোলনের পুরোধা। যিনি শুধু দুর্ভিক্ষের ছবি নয় গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মা-মাটি এবং মানুষের জীবনের নানা বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর ছবির মাধ্যমে। তার আঁকা জলচিত্রগুলোও পেয়েছে এক অসাধারণ ভিন্নমাত্রা। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে শিল্প আন্দোলনের জয়যাত্রা শুরু হয়। চিত্রশিল্পের ক্ষেত্রে তিনি হলেন এ দেশের শিল্পীদের আচার্য বা শিক্ষক। তিনি ১৯৩৮ সালে শেষবর্ষের ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হলেতিনি পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন। কলকাতা আর্ট স্কুলে তাঁর চাকরিটি ছেড়ে ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত একটি স্কুলে আর্ট শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার শিল্পীখ্যাতি, অসাধারণ সাংগঠনিক মেধা, তৎকালীন শিল্পী সহকর্মী ও বন্ধুদের সহযোগিতা এবং কতিপয় বাঙালি সরকারি কর্মকর্তার সহযোগীতা সবকিছু মিলিয়ে তিনি ১৯৪৮ সালে এদেশের প্রথম আর্ট স্কুল “গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস” প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে ইনস্টিটিউটকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন । মাত্র দুই কক্ষের সেই প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯৫৬ সালে ৮ বৎসরের মাথায় তিনি একটি আধুনিক শিল্পকলা প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করেন। পরবর্তীতে এটি পূর্ব পাকিস্তান “চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়” হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ “চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে” রূপান্তরিত হয়। তারপর মহাবিদ্যালয়টি সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তরিত হয় এবং বর্তমানে এটি “চারুকলা অনুষদ” নামে পরিচয় লাভ করে ।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমীর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে কাজ করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন। একই বছর জয়নুল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। মাত্র ৬২ বছর বয়সেই ১৯৭৬ সালের ২৮শে মে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মৃত্যুবরণ করেন।

 

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা কিছু বিখ্যাত ছবি:

grameen nari

 

গাভীর রাগ।

দুই নারী।

দ্যা স্ট্রাগল

দুর্ভিক্ষ-১৯৪৩

দুর্ভিক্ষ-১৯৭১

দুর্ভিক্ষ-১৯৭১-1

বৃদ্ধ।

সাঁওতাল নারী ছবিটির আধুনিক রুপ।

সাঁওতাল নারী মূলছবি।

 

 

5c9c47d13fd5261ec86563bd2be6ad55

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালাঃ

ময়মনসিংহ শহরের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবহমান পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে একটি দোতলা দালান আশ্রয় করে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে এই সংগ্রহশালাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলা ১৩৮২ সালের ১লা বৈশাখ তারিখে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। সে সময় দেশব্যাপী জয়নুল আবেদিনের বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। আর তাই প্রথম দিকেই শিল্পীর নিজের এলাকা তথা ময়মনসিংহে এই সংগহশালাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনের পর ৭ জুলাই[১] তারিখে সংগ্রহশালার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে সংগ্রহশালাটি নতুন করে সাজানো হয়। নীচতলায় ব্যবস্থাপনা কক্ষসমূহ এবং দোতলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছবির গ্যালারী স্থাপন করা হয়। মূল ভবনের পেছনভাগে ব্যবস্থাপকদের বাসস্থানের সঙ্গে সঙ্গে ৩টি কুটির স্থাপন করা হয়েছে যা শিল্পরসিকদের সাময়িক আবাসনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

একটি দোতলা ভবনবিশিষ্ট যে জমিতে এটি অবস্থিত তার মোট আয়তন হচ্ছে ৩.৬৯ একর। পুরো চত্বরটি গাছগাছালি পরিবেষ্টিত। যে ভবনটিতে সংগ্রহশালা অবস্থিত ইংরেজ আমলে তা ছিল জনৈক ইংরেজ বার্ডেন সাহেবের বাড়ি। তার কাছ থেকে বড়লাটের (ভাইসরয়) কাউন্সিল সদস্য জনৈক নলিনীরঞ্জন সরকার’ বাড়িটি কিনে নেন। নলিনীরঞ্জন ১৯৪৭-এ দেশবিভাগের পর ভারতে চলে যান। এরপর সরকার বাড়িটি অধিগ্রহণ করে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ঊর্ধতন সরকারী কর্মকর্তাদের সরকারী বাসভবন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও কয়েক বছর এটি একইভাবে পড়ে থাকে। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে সরকারী সিদ্ধান্তক্রমে এটিকে সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করা হয়। জয়নুল আবেদিনের মনেও একটি সংগ্রহশালার ধারণা অনেক আগে থেকে বিদ্যমান ছিল। ১৯৫০-এর দশকে তিনি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক দুর্লভ ছবির সংগ্রহের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেদিক দিয়ে বলতে গেলে এই সংগ্রহশালাটির প্রতিষ্ঠা ছিল শিল্পাচার্যের স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন।

 

এই সংগ্রহশালায় প্রথমে ৭০ টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছিল যার বেশিরভাগই ছিল তৈলচিত্র। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে আছে – বিভিন্ন দেশ ভ্রমনকালে শিল্পাচার্যের অঙ্কিত ছবি, গুণটানা, নদী পারাপারের অপেক্ষায় পিতা-পুত্র এবং দুর্ভিক্ষ। এখান ১৭ টি অতি আকর্ষণীয় ছবি ১৯৮২ সালে চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে ১০ টি ছবি ১৯৯৪ সালে আবার উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাই এখানে মোট ৫৩ টি চিত্রকর্ম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে শিল্পাচার্যের ব্যবহৃত জিনিস এবং তার কিছু স্থিরচিত্র। স্থিরচিত্রগুলো ভবনের দোতলার বারান্দায় শোভা পায়। এখানে সংগ্রহশালার সংগ্রহের একটি তালিকা দেয়া হল। গ্যালারি অনুসারে ভাগ করে উল্লেখ করা আছে। চিত্রকর্মগুলোর নাম কমা দ্বারা আলাদা করা হয়েছে।

 

কালোত্তীর্ণ এই শিল্পীর অক্লান্ত পরিশ্রমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।এছাড়াও  তিনি সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ‘জয়নুল সংগ্রহশালা’ প্রতিষ্ঠা করেন।শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

তথ্যসূত্র ও ছবি :- ইন্টারনেট, বিভিন্ন দৈনিক ও উইকিপিডিয়া

 

 

১,১১০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৫৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৪-২০ ০৫:০৫:২৮ মিনিটে
Visit ব্যবস্থাপনা সম্পাদক Website.
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. মোসাদ্দেক মন্তব্যে বলেছেন:

    গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী…

  2. আজিম হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    শ্রদ্ধাঞ্জলী শতবার।

  3. আজিম হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    তাঁর ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী হয়ে উঠুক সবার প্রাণের শোক দিবস।

  4. আহমেদ ইশতিয়াক মন্তব্যে বলেছেন:

    এই গুণী শিল্পীর আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হই বারবার… তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রইল…

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    জয়নুল আবেদীন এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করছি। তার এই আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হলাম।

  6. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি রইল।

  7. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    আল্লাহ তাঁকে শান্তিতে রাখুক ।

  8. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ছবি সম্বলিত পোষ্ট টি।ধন্যবাদ আপনাকে ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top