Today 11 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমরা করব জয় একদিন (পর্ব -পনর )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৪/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 803বার পড়া হয়েছে।

তারা দাড়িয়েছে এক বিশাল ধ্বংসস্তুপের উপর। আইমা, আরিয়ান এবং পুত্র নোভা। তাদের ঘিরে আছে নোভার কিছু বন্ধু বান্ধব। বলতে গেলে এই মুহুর্তে পৃথিবী মঙ্গল গ্রহ মহাশুন্যে জীবিত প্রাণী বলতে তারাই। ভয়ংকর এক পারমানবিক যুদ্ধের পর এখন আর তেমন মানবিক পার্থিব জিনিস এর অস্তিত্ব যেন অনেক টা মুছে ই গিয়েছে। তবু যে প্রাণ গুলি বেচে আছে তারা বেশ উত্ফুল্ল। ইতিহাসের এই দিনে নিজেদের এক গর্বিত সম্প্রদায় মনে করছে। অন্তত পক্ষে তাদের মনে এই প্রেরণা কাজ করছে তারা সুযোগ পেয়েছে পৃথিবীকে পুনর্গঠনের। কিছু একটা উপায় তারা অবশ্যই বের করে ফেলবে এই দৃঢ় প্রত্যয় কাজ করছে সবার মনে। পৃথিবীর আদিম মানুষ একদা যখন এসেছিল পৃথিবীতে তখন এই পৃথিবী তে ছিলনা কিছু ই।  আগুন পানি সভ্যতা মানুষ উদ্ভাবন করে নিয়েছে। এই ভাবনায় বিশ্বাসে বলীয়ান মানুষ গুলি তাদের আশে পাশে প্রকৃতি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে কি সম্ভাবনা এখন আছে বসতি স্থাপনের। যদিও এই মুহুর্তে পৃথিবীর আকাশ বাতাস মৃতিকা হতাশা ব্যঞ্জক। ইউরেনিয়াম হিলিয়াম এবং পারমানবিক বিপর্যয় এ পৃথিবী অনেকটাই বিধ্বস্ত। ফসল ফলনের মাটি মনে হয় নাই এই মুহুর্তে। বাতাসে এক বিষাক্ত গ্যাসের আনাগোনা । তাদের সবার পরনে স্পেস স্যুট যদিও তবু তারা অনুমানে বুঝতে পারছে এই বাতাস মানুষের সহ্য ক্ষমতার বাহিরে।

আপাতত এই আশ্রয় টা নিরাপদ মনে হলে ক্ষুধা তৃষ্ণায় সবাই অনেকটা তাড়িত বিপর্যস্ত।

কিছু একটা করতে হবে সহসা বলে উঠে আরিয়ান। খাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে নোভা। নোভা তাতে মাথা নেড়ে সায় দেয়। এইমুহুর্তে তারা আবার এসেছে মঙ্গল গ্রহে তাদের মহাশূন্য যানে শেষবারের মত বিদায় নিতে। আশে পাশে ঘুরে ফিরে দেখছে আর কোন আক্রমনের সম্ভাবনা আছে কিনা। কোন কিছু র অস্তিত্ব না পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট হলো তারা। না ভোজভাজির মত যেন মিলিয়ে গিয়েছে ভয়ংকর ভেঙটেস এবং তার ভয়ংকর রক্ষী বাহিনী। ঘুরে ফিরে কিছু যন্ত্রপাতি পারমানবিক চুল্লী পেল যেগুলি এখন ও অক্ষত। সবাই উল্লাসিত হয়ে গেল। কিছু পেল প্লাস্টিক জেলি ধরনের খাবার। ক্ষিদায় সবাই তা থেকে খেয়ে নিল কিছু। কেও কেও বমি করে ফেলল হজম করতে না পেরে। আরিয়ান শুধু সহজ স্বাভাবিক ভাবে এসব খাওয়ার খেয়ে নিল। একজন মঙ্গল দোআশলা সে এসব খাওয়ায় অভ্যস্ত ছিল। বারবার এদিক সেদিক ঘুরে সে ভেঙক্তেশ কে খুজছিল আসলে। যদিও সত্যি সে মঙ্গল গ্রহের এই জীবন থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছিল মনে প্রাণে। পৃথিবীর জন্য হুহু করছিল গত কিছু বছর ,নোভা আইমা সবার কাছে আসার জন্য ছিল সে ব্যগ্র। এই মুহুর্তে সে বিষন্ন বোধ ভয়ঙ্কর ভেঙ ক্তেশ যে কিনা শেষ কালে তার পিতার মত ই হয়ে উঠেছিল অনেক টা। বেশ কয়েকবার তাকে সাক্ষাত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে বলা যায় আরিয়ান কে সে কিনে নিয়েছিল। সে আরিয়ান অকৃতজ্ঞ এর মত বলা যায় মেরে ফেলেছে এই বৃদ্ধ কে।

এক প্রকোষ্ঠ থেকে আরেক প্রকোষ্ঠ শেষ নিরান্নব্বই তম প্রকোষ্ঠে এসে ও কাওকে পেলনা তারা। সব প্লাস্টিক বিছানা ফোম এত যুদ্ধ স্বত্তেও অক্ষত আছে। এদিক সেদিক ঘুরে এক বিছানায় এসে আরিয়ান শুয়ে পড়ল। সে ঘুমিয়ে পড়ল কিছুক্ষণে অচেতনের মত।

বিরাট গভীর কুয়ার মত দেখছে সে ঘুমের গভীরে। পানির ভিতর থেকে কার ও হাত উঠে আসছে

কেও যেন বলছে আমাকে বাচাও আমাকে বাচাও বাবা ,সে একটু মাথা ঝুকাতে হাত টি তাকে টেনে নিয়ে কুয়ার গভীর তলদেশে।

চমকে তাকিয়ে দেখে বাবা ভেঙক্তেশ। গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরে আরিয়ান
“বাবা তুমি বেচে আছ ” .

লাপ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে বিছানায় আরিয়ান। ভেং টেস এর জন্য ভিতরটা তার হুহু করতে থাকে।

২ ভেং টেস তলিয়ে যাচ্ছে যাচ্ছে মেঝের নিচে প্লাস্টিক জেলি গহ্বরে। সে চিত্কার করে বলছে

হেল্প মি। সম্ভবত এই গ্রহে আর কোনো প্রানের অস্তিত্ব নেই। তার চিত্কার কার ও কানে যাচ্ছেনা। শেষবারের আরিয়ানের সুন্দর মুখ টা মনে করে সান্তনা পেতে চাইল।

আরিয়ান তোমার কথা খুব মনে হচ্ছে বাবা। জেলি গহ্বরে ঢুকে যাওয়ার শেষ মুহুর্তে হাত উচু করে তুলে রাখল সে , হাতে আছে শেষ সময়ে তোলা আরিয়ান এর হাস্যজ্জল ছবি। ছবিটা কে কিছুতে সে গহ্বরে বিলীন হতে দেখতে চায়না। নিজে সে যুদ্ধের পরাজয় বরণ করে আরিয়ান দের বাঁচিয়ে দিয়েছে যা কল্পনা করা সম্ভব ছিলনা ঘুনাক্ষরে নোভা আইমা এমনকি আরিয়ান এর।

শেষ মুহুর্তে শোনা গেল একটি বাক্য তার মুখ থেকে

ভালো থাক বাবা।

আরিয়ান রা পৃথিবীতে ফিরে এলো। ক্রমাগত হাটতে থাকলো দিন ,ঘন্টা , মাস। আসতে আসতে পরিচিত এর পাহাড় থেকে থমকে দাড়ালো।

এই সেই পাহাড় যেখানে প্রথম জেলান আইমা ছিটকে পড়েছিল। আইমা আরিয়ান দুজনে উত্তেজিত হয়ে পড়ল। ছুটে ছুটে তারা সব জায়গা ঘুরে দেখছে। একজায়গা ঢালু মনে হওয়াতে তারা মাটি খুড়তে শুরু করলো। এক মাইল এর মত খোড়ার পর শুনলো তারা জলের কুলকুল ধ্বনি। ছলাত ছলাত শব্দ। একটু পরে তারা পেয়ে গেল বিশাল এক সুড়ঙ্গ। তাতে দেখা যাছে লেক ,হরেক রকমের গাছগাছালি।

অবিশ্বাস্য”

চিত্কার করে উঠলো সবাই আনন্দে খুশিতে।

সবাই বলে উঠলো আর কোন ভয় নেই। জয় করেছি এই পৃথিবী। আমাদের আর নেই কোনো ভয়। এই পৃথিবীকে আবার গঠন করব আমরা। সবাই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে একে অপরের হাত ধরে গভীর আত্মবিশ্বাসে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে।

এইভাবে শুরু হয়েছিল পৃথিবীতে আরেক সভ্যতার।

৯০৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    হঠাত্‍ মাঝখানে পড়ে আগা মাথা বুঝবনা ।
    তাই সময় করে পড়ে নেব ।
    কেমান আছেন ?
    চলন্তিকার একি দশা !

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল। তুমি কেমন আছ? এখন থেকে নিয়মিত লিখবে কেমন। ধন্যবাদ শান্ত। ভালো থাকবে কেমন।

  3. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার এই গল্পটা আমার পড়া হয়নি। সময় করে পড়ে নিব একদিন। পনের পর্ব চলে গেছে দেখছি………………….

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      এ আজকে লিখেছি হামিদ ভাই। অসুবিধা নাই। সময় করে পরে পড়ে নিবেন। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা জানবেন।

  4. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    দুর্দান্ত পোস্ট আপু —- । স্যালুট —– ।।

  5. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    জসিম ভাই এর কমেন্টস দুর্দান্ত। আমার পোস্ট না। ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।শুভেচ্ছা জানবেন। ভালো থাকবেন।

  6. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    কেমন আছেন মুন ? অনেকদিন পর । সিরিজ টা দেখছি এখনো চলছে …

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    বেনু ভাই আপনি কোথায় ? খুব খুশি হয়েছি চলন্তিকায় আপনার লেখা দেখে। আমি যখন চলন্তিকায় আসি কাওকে পাইনা , তখন বের হয়ে যাই।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top