Today 24 Jan 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমরা করব জয় একদিন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৮/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 610বার পড়া হয়েছে।

সোলার সিষ্টেম

দ্বিতীয় পর্ব

সম্ভবত প্রকৃতিতে এখন সন্ধা নেমে আসছে।চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার তাই বলছে।ইমা এতক্ষনে অন্যভূবনের দরজায় পৌছে গিয়েছে।
অনেকক্ষন বৈরী প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে করতে এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিল প্রায় জেলান।ইমার অবস্থা দেখে সে অস্থির হয়ে পড়েছে।কোনভাবে কোথাও থেকে যদি আগুন পাওয়া যেত।এই অবস্থা চলতে থাকলে বরফের সমুদ্রে সমাধি হয়ে যাবে তাদের।খুব বেশী হলে আর এক দুই ঘন্টা টিকতে পারবে তারা।ইমা অনেকটা অচেতনতা মৃতের অবস্থায় চলে গিয়েছে।সে বারবার ঝাকুনি দিয়ে চেপে ধরে শরীরের উত্তাপ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ইমার।

না না জেলান জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগল।আমাকে কোন রাস্তা দেখাও আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল।তার বাকী কাপড় খুলে ভাল করে ইমাকে ঢেকে বড় পাথর টাতে শুইয়ে দিল।আশেপাশে চারিদিকে দৌড়ে দেখল।আবার চেষ্টা করল পাথরের ঘর্ষনে আগুন তৈয়ারীর। কোন কিছুতে সফলকাম হলনা।

সে নিজে ও অত্যন্ত অবসন্ন বোধ করল ঠান্ডা ক্ষুধা তৃষ্ণায়।নিশ্চয় কোন উপায় আছে যা এই মূহূর্তে ক্লান্তির কারনে চোখে পড়ছেনা। অস্থির হয়ে হাহাকার করতে লাগল।

দৌড়োতে দৌড়াতে এক পর্যায়ে হোচট খেয়ে পড়ে গেল।পানি পেল এতক্ষনে।গর্ত বা ডোবা টাইপের কিছু একটাতে সম্ভবত সে উল্টে পড়েছে।অসম্ভব ঠান্ডা ফিজিং ওয়াটার।দাতে ঠকঠক করে কাপতে কাপতে উঠে দাড়াল। ঠান্ডা হলে ও পানির সন্ধান পাওয়াতে খুশী সে।আগুনের ব্যবস্থা করতে পারলে পানি গরম করতে পারবে।নিশ্ছিদ্র অন্ধকার এখন জায়গাটাতে।অনেকটা হাতড়ে হাতড়ে আন্দাজে স্টেপ গুনে গুনে ইমার কাছে আবার ফিরে আসতে সক্ষম হল।

তাদের অফিস ভৌগলিক সপ্তম প্রকোষ্ঠের কি অবস্থা কে জানে।মঙ্গল বুধ ইউরেনাস শুক্র শনি ইউরেনাস প্লুটো সব অক্ষত আছে তো? প্রতিটি গ্রহের চারিদিকে সাতবার বিভিন্ন যাত্রায় প্রদক্ষিনে তাদের প্রকোষ্ঠে পৌছতে হয় তাই এই নামকরন তাদের কার্য্যালয়ের।

আর অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে সম্ভবত তাদের ব্রেদিং ও থেমে যাবে যদিও এখনও তার থিন্কিং জগত চলছে বিপর্যস্ত প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে।শরীরের বিভিন্ন অংশ আস্তে আস্তে অসাড় হতে শুরু করেছে।

কিন্তু ঠিক শেষ মূহূর্তে ঘটল অলৌকিক ঘটনা।মনে হল পালনকারী প্রভূ এই যাত্রায় বাচিয়ে দিতে চাইছেন এই দুইটি প্রান।

খুব বড় বিজলী চমকের শব্দের মত একটা বিষ্ফোরন যেন হল তাদের কাছে পিঠে।প্রচন্ড একটা আগুনের গোলা এসে আঘাত করল জেলানের সামনে পাথরটার গায়ে।সঙ্গে সঙ্গে বড় পাথরটাতে আগুন ধরে গেল।আশেপাশে কোন কাঠখড় বা দাহ্য পদার্থ না থাকাতে আগুন ছড়িয়ে গেলনা।শুধু পাথরটা জ্বলতে থাকল অনেকটা সৌর চুল্লীর মত।তাদের চারিপাশ সহসাই দিনের মতই আলোকিত হয়ে উঠল।

চিৎকার করে আনন্দে হেসে ফেলল জেলান।তার ইচ্ছে হচ্ছিল সাত আসমানের উপরে গিয়ে পালনকারী প্রভূর পায়ের কাছে বসে(যদি সম্ভব হত) কৃতজ্ঞতা ভালবাসার স্পর্শ করে আসে।

দ্রত ইমাকে কোলে করে আগুনের কাছে এনে বসাল।তার হাত পা ম্যাসাজ করে তাকে সচল করার চেষ্টা করল।আস্তে আস্তে তাদের দুজনের দেহে সাড়া আসতে শুরু হল।রক্ত চলাচল শুরু হল।

আগুনের আলোয় ইমাকে অপার্থিব সুন্দর মনে হচ্ছে জেলানের।

আস্তে আস্তে আইমা চোখ খুলে তাকাল।আগুনের আচ পেয়ে উত্তেজিত হয়ে শোয়া থেকে উঠে বসল।

ওহ জেলান তুমি অসাধারন ।তুমি আমাকে বাচিয়ে রেখেছ।আগুন তৈরী করতে পেরেছ।আমি তোমাকে নিয়ে খুব গ্রেট ফীল করছি জেলান।

আমি না আগুন এসেছে পরম প্রভূর কাছে থেকে হাত ইশারা করে জেলান আকাশের দিকে ঈঙ্গিত করল।

তবে আমি বুঝেছি সুইটহার্ট যে কোন কিছু প্রাপ্তির জন্য তুমি যদি শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা কর তিনি কোনদিন তোমাকে একা যুদ্ধের ময়দানে ফেলে যাবেন না।তিনি প্রথমে দেখতে চান তোমার সর্বোচ্চ এফোর্ট।তারপর যদি তুমি সফলকাম না হও তিনি তোমাকে সফলতার দরজায় পৌছে দিবেন।

দুজন দুজনকে গভীর আবেগে দেখতে লাগল।সেই দৃষ্টি যা অতি প্রাচীন অতি নবীন যা একান্ত মানব মানবীর পরস্পরের ভালবাসার।

৭০৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৭ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    দুজন দুজনকে গভীর আবেগে দেখতে লাগল।সেই দৃষ্টি যা অতি প্রাচীন অতি নবীন যা একান্ত মানব মানবীর পরস্পরের ভালবাসার। ———-অনেক অনেক ভাল লাগল।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আমির ভাই কমেন্টসের জন্য।

  3. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগতে শুরু করলো । ধণ্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য ।

  4. জিয়াউল হক মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পের বুনন দারুন হয়েছে। দেখা যাক পরের পর্বে কি হয়।

  5. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ জিয়া ভাই মন্তব্যের জন্য।

  6. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন হইছে

  7. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভার লাগল গল্পটি ।এক নিশ্বাসে পড়ার মত । শুভ কামনা ।

  8. আলমগীর হোসেন আবীর মন্তব্যে বলেছেন:

    দুজন দুজনকে গভীর আবেগে দেখতে লাগল।সেই দৃষ্টি যা অতি প্রাচীন অতি নবীন যা একান্ত মানব মানবীর পরস্পরের ভালবাসার।

    অসাধারন

  9. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    দুজন দুজনকে গভীর আবেগে দেখতে লাগল।সেই দৃষ্টি যা অতি প্রাচীন অতি নবীন যা একান্ত মানব মানবীর পরস্পরের ভালবাসার।

    ভাল লেগেছে।

  10. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার গল্প প্রিয় আরজু আপা। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম…

  11. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ রব্বানী ভাই মন্তব্যের জন্য।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top