Today 24 Jan 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমরা করব জয় একদিন

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৯/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 863বার পড়া হয়েছে।

proje

ষষ্ঠ পর্ব

আজকের আকাশটা একটু পর পর পরিবর্তিত হচ্ছে।সৌরজগতের সব গ্রহ গুলিকে রঙধনুর বিভিন্ন রঙে দেখতে সমর্থ হয় নোয়া তার এই সর্বাধুনিক সিলিকন কোটেড টেলিস্কোপ দিয়ে।তার এই উদ্ভাবন টি জ্যোতির্বিদ্যায় এক যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ আনতে সমর্থ হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর এর আবহাওয়ার নির্ভূল তথ্য পরিবেশনা এবং জ্যোতিষীদের গননাকার্য কে আরও সঠিক নির্ভূল ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে নোয়ার এই টেলিস্কাপটির মাধ্যমে। ভবিষ্যতকে দেখতে পাওয়া জ্যোতির্বিদরা এই আশা করছে অদূর ভবিষ্যতে মানুষ নিজে তার ভাগ্য গননা করতে পারবে দেখতে পারবে পরিবর্তন ও করতে পারবে গ্রহনক্ষত্রের গতিপথকে পরিবর্তীত করতে সমর্থ হবে মানুষ গ্রহমন্ডলীয় গবেষনাদপ্তর এর এই অভিমত।

নোয়ার টেলিষ্কোপে আজ ধরা পড়ল এক অভাবনীয় দৃশ্য ফ্লাইং সসারে উড়ন্ত মানব।আগ্রহ কৌতুহলে সে ঝুকে এল মেশিনটির আরও কাছে।

শূন্যে উড্ডয়নরত অবস্থায় এখন ও আরিয়ান।তাকে ধাওয়া করে আসছে মঙ্গলগ্রহের সবচেয়ে নিষ্ঠুর সাইবর্গ সাইকোসিস এর কিলার কমান্ডো গ্রপ।নোয়ার মেশিনে দুইপক্ষের প্রতিটি গতিবিধি নিখূতভাবে মূভির মত দৃশ্যমান হচ্ছে।তার মেশিনে মেসেজ ট্রান্সমিট হচ্ছে এইভাবে

সেভ দা হেল্পলেস। ইস ইন ডেনজার।

মনে মনে বলতে থাকে এ আমার প্রথম এক্সপেরিমেন্ট।দেখা যাক এর নক্ষত্র বা ভাগ্যাকাশের গতি পরিবর্তন করা যায় কিনা?মেশিন আর নক্ষত্রের গতিবিধিতে দেখা যাচ্ছে সামনে ব্যাক্তিটির জীবনকাল আছে আর মাত্র পয়তাল্লিশ মিনিট।দেখা যাক এই মেশিন এই হতভাগ্যের দূর্ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে কিনা।তার সামনে মনিটরে একের পর এক পৃ্ঠায় এই লোকটির পূর্ণ বায়োডাটা জীবনবৃত্তান্ত স্লাইডে দেখা যাচ্ছে।স্লো মোশনে এই লোকটির আদ্যোপান্ত জীবন দেখে নিল মাত্র পাচ মিনিটে।সে একাত্মতা অনুভব করল এই উড়ন্ত মানবটির প্রতি।ভিতরে বেশ ব্যাকূলতা অনুভব করল মানবটিকে বাচানোর জন্য।

এই টেলিষ্কাপটির একপ্রকোষ্ঠ থেকে আলোকের বিচ্ছুরন করতে পারে আাকাশের সপ্তম স্তর পর্যন্ত। মানবটির পিছনে ধাবমান মেশিনগুলির বায়োগ্রাফীতে জানতে পারল তাদের মিশন এবং তার কারন ।সামনের মানবটিকে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত তারা এভাবে পশ্চাতে ধাওয়া করতে থাকবে।প্রয়োজন মনে করলে এই মানবটিকে ধ্বংস করতে তারা পুরো সৌরমন্ডলী নিশ্চিহ্ন করে দিবে এই ভাবে তারা আদেশ প্রাপ্ত।

তাৎক্ষনিকভাবে নোয়া প্রবল আলোর বিচ্ছুরন ঘটাল তার টেলিষ্কোপ থেকে এই কমান্ডো কিলারদের মহাশূন্যযানের সামনে।পলকে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে গেল।তারা মনে করল আরিয়ান তাদের দিকভ্রান্ত করে অন্যপথে পালাচ্ছে।তারা যানের গতি পরিবর্তন করে সম্পূর্ন উল্টাপথে আলোর বিচ্ছুরনকে অনুসরন করে চলতে লাগল।এক পর্যায়ে আরিয়ান সম্পূর্নভাবে কিলার কমান্ডোদের দৃষ্টিসীমার আড়ালে চলে গেল।

নীচে পৃথিবীতে খুশীতে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল নোয়া ।

আমি সফল হয়েছি।একমানবের জীবন রক্ষা করেছি।তার ভাগ্য নুতুন করে লিখতে সমর্থ হয়েছি।

আরিয়ান তার টাইম মেশিন অন করে দিল।মেশিনটির ডানা দুইটিকে পাখীর ডানার মত। তার ফ্লাইং মেশিনে সংযোজন করে দিল।সে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে বহু যুগ আগে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীতে।আস্তে আস্তে স্ক্রীনে ভেসে উঠল এক মানব মানবীর মুখ ।তারা পরস্পর পরস্পরকে দেখছে আবেগে।শেষ মানবসভ্যতার শেষ মানব মানবী।আমার যন্ত্রে আর কোন তথ্য কেন নাই।সে ব্যকূল হয়ে ফরোয়ার্ড কি তে চাপতে লাগল।মনে হচ্ছে এটাই শেষ স্লাইড।

মনে মনে বলতে লাগল এই দুইজন মানব মানবী কে? আমার জানতে হবে এরা এখন কোথায় আছে?

তখনই তার স্ক্রীনে একঅদ্ভুত মেসেজ দেখা গেল।

কেও একজন তাকে মেসেজ দিয়ে যাচ্ছে

হাই আই অ্যাম নোয়া ফ্রম আর্থ তুমি এখন বিপদমূক্ত ।নীচে নেমে আসতে পার আমার কাছে ।তোমার ডিভাইসে প্রেস করলে আমার লোকেশন পাবে।

আরিয়ান উত্তেজিত হয়ে পড়ল এই ভেবে কেও একজন তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছে পৃথিবী থেকে এবং সে একজন মানুষ।তাহলে পৃথিবী এখনও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি।

ডিভাইসের ঠিকানায় সে নেমে আসল নোয়ার কাছে।

দুইজনে দুইজনের দিকে অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইল।এ যেন একে অপরের প্রতিবিম্ব।দুইজন দেখতে হুবহু একরকম।এমনকি দুইজন ভাবছে একইভাবে।দুইজন দুইজনের মনের ভিতরটা দেখতে পেল একইভাবে।

(চলবে)

৯৬৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আপা এত কঠিন জিনিস মাথায় আসে কিভাবে। আমারও লিখতে মন চায়।
    ভাল লাগল লেখা

    • আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

      কঠিন জিনিসতো মাথায় আসেনা।আমি তো ইজিভাবে লিখি।তবে তূলনামূলকভাবে অন্য লেখার তুলনায় বিজ্ঞান কাহিনী লেখাটা কঠিন ।কেন না বিজ্ঞানকাহিনী লেখার জন্য বিজ্ঞান আবহ তৈয়ারী করতে হয় বিজ্ঞান কাহিনী হতে হবে তথ্যভিত্তিক বিজ্ঞানের টার্মের থাকতে হবে নিখূত বর্ননা।সেই হিসাবে ধরতে গেলে আমার কাহিনীটা প্রপার হচ্ছেনা ।কেননা পড়াশোনার সাথে সম্পর্ক চুকে গেছে।সব বিজ্ঞান ভূলে গিয়েছি।তবু চেষ্টা করে যাচ্ছি।আপনারা পড়লে পছন্দ করলে তো আমি খুশী মনে করব স্বার্থক।
      আপনি চেষ্টা করুন আমার মত।হয়ে যাবে একদিন।মানুষের অসাধ্য কি কিছু আছে?আমদের বিজ্ঞান তো তাই বলে।
      ধন্যবাদ এই মেঘ এই রৌদুর আপা ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।ভাল থাকবেন কেমন।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমরা করব জয় একদিন—– ভাল লাগল।

  3. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।ভাল থাকবেন।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    বিজ্ঞান কল্প কাহিনী লিখতে বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার । তাই এই বিষয়ে লেখা লেখি করার দুস্বাহস করি না । লেখা খুব ভাল লাগছে । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  5. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    দুঃসাহসের কিছু নাই।সাহস করে শুরু করে দিলে হয়ে যায়।ধন্যবাদ আমার লিখা পড়ার জন্য।শুভ কামনা ।আপনিও ভাল থাকুন ।

  6. কে এইচ মাহবুব মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ লাগলো আপু , কেমন আছো ?

  7. সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখাতে পরিপক্কতা আসা শুরু করেছে। আপনি বেশ কিছু বিজ্ঞান ঢুকিয়েছেন বলে বলছি না। গল্পের বিন্যাসের জন্য বলছি। ভাল হয়েছে। তবে আমার মনে হচ্ছিল আপনি তাড়াহুড়া করছেন। তাই মাঝে মাঝে ফ্রেমের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর একটা কথা, আমার মনে হচ্ছে আপনি লেখার আগে প্ল্যান করেন নাই। আমারও কিছু লেখার সময় প্ল্যান থাকে না। আমি ভাসিয়ে দেই। কাহিনী যেখানে গিয়ে দাঁড়ায়! এ ক্ষেত্রে একটা সেট করা লক্ষ্য থাকে। কাহিনী সেদিকেই এগিয়ে যায়। আপনারও সেরকম কিছু লক্ষ্য আছে, আমরা তার অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকুন।

  8. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনি ঠিক বুজেছেন আমি পরিকল্পনা বিহীন চলি।গল্পের কাহিনীগুলিকে ভাসিয়ে দেই আবগে।
    লিখার আগে ও জানা থাকেনা কি লিখব।.আমি উদ্দ্যেশ্যবিহীন অগোছলো মানুষ।
    অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আপনার লেখা কিন্তু গোছানো এবং আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ আপনার কমেন্টস তাই বলে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top