Today 28 Jan 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমাদের গণতন্ত্রের অতীত ও বর্তমান

লিখেছেন: আমির ইশতিয়াক | তারিখ: ২৬/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 704বার পড়া হয়েছে।

Ganatanta.JPG1.jpg2

১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকচক্রের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে আমাদের এ প্রিয় জন্মভূমি আজকের বাংলাদেশ। অনেক রক্ত আর ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রামের ফলে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণতন্ত্রের সেই নির্ভেজাল রূপ আয়ু পেল না। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এক দল সুবিধাবাদী লোক তখন মরিয়া হয়ে উঠে। আর তখন গণতন্ত্রের সলিল সমাধী রচনা করে তৈরি হয় বাকশাল। জনগণের ইচ্ছার মৃত্যু ঘটিয়ে এক শ্রেণীর কুচক্রী হত্যার রাজনীতি বেছে নেয়। আর তখন একমাত্র শক্তি হয়ে দাঁড়ায় অস্ত্র। জাতি হয়ে পড়ে অসহায়, দুর্বল। গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী নির্বাচন ব্যবস্থা চালু থাকে ঠিকই কিন্তু জনগণ ভোট দেয়ার ভোট দেয়ার অধিকার পুরোপুরি পায়নি। জনগণের পরিবর্তে ভাড়া করা লোক দিয়ে ভোট প্রদান করে গণতন্ত্রের সর্বনাশ করে। সুষ্ঠু নির্বাচন নির্বাসিত হয় বাংলার জমিনে। আর এভাবে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। ফলে মানুষ হারায় তার অধিকার। তখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভোট গ্রহণ করা হয় যা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এভাবে চলতে চলতে ক্ষমতায় একের পর এক চলে আসে স্বৈরাচার। দীর্ঘ ৯ বছর সংগ্রামের পর অবশেষে এদেশের গণতন্ত্র পূর্ণজীবিত হয় ১৯৯১ সালে। বাংলার মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করে ১৯৯১ সালে নির্বাচনে আবার সে অধিকার ফিরে আসে। আর তখন মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে গণতন্ত্রের পুর্ণজাগরণ ঘটিয়েছিল। ১৯৯১ সালে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের সরকার। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ও চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু একদল লোক আবার এ গণতন্ত্রকে মারার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা চায়না দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। ফিরে আসুক জনগণের অধিকার। তারা শুধু ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে সরকারকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হঠানোর চেষ্টায় লিপ্ত। অবশেষে তারা সফল হয়। দেশে চলে আসে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার। জনগণের চাপে এই সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে আবার গণতন্ত্রকে গলাটিপে ধরে। একপর্যায়ে তারা সফলও হয়। গত ৫ জানুয়ারি আবার গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়। জনগণ বঞ্চিত হয় ভোটাধিকার থেকে।

আমাদের দেশ অনুন্নত দেশ। এদেশকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলতে হলে সকলের সদিচ্ছা ও সক্রিয় কর্ম প্রচেষ্টা থাকতে হবে। আর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে তা কোনদিনই সম্ভব নয়। তাই দেশের মঙ্গলের জন্য গণতন্ত্রকে মর্যাদা দেয়া এখনই দরকার। অশুভ শক্তির কালো থাবা থেকে এদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র বার বার রক্তাক্ত হয়েছে। তাই আর নয় রক্তাক্ত। আমরা চাই গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকুক যুগ যুগ ধরে।

৭৬৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমির ইশতিয়াক ১৯৮০ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ধরাভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শরীফ হোসেন এবং মা আনোয়ারা বেগম এর বড় সন্তান তিনি। স্ত্রী ইয়াছমিন আমির। এক সন্তান আফরিন সুলতানা আনিকা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন মায়ের কাছ থেকে। মা-ই তার প্রথম পাঠশালা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করেন মাদ্রাসা থেকে আর শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তিনি লেখালেখির প্রেরণা পেয়েছেন বই পড়ে। তিনি গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তাঁর বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। তাঁর বেশ কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- এ জীবন শুধু তোমার জন্য ও প্রাণের প্রিয়তমা। তাছাড়া বেশ কিছু সম্মিলিত সংকলনেও তাঁর গল্প ছাপা হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গল্প, কবিতা, ছড়া ও কলাম লিখে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্লগে নিজের লেখা শেয়ার করছেন। তিনি লেখালেখি করে বেশ কয়েটি পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি প্রথমে আমির হোসেন নামে লিখতেন। বর্তমানে আমির ইশতিয়াক নামে লিখছেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদীতে ব্যবসা করছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা একজন সফল লেখক হওয়া।
সর্বমোট পোস্ট: ২৪১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৭০৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৫ ০৭:৪৪:৩৯ মিনিটে
Visit আমির ইশতিয়াক Website.
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    বাংলাদেশের গণতন্ত্র বার বার রক্তাক্ত হয়েছে। তাই আর নয় রক্তাক্ত। আমরা চাই গণতন্ত্রের অধিকার নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকুক যুগ যুগ ধরে।
    আমাদের সবার ই একই কামনা।ভাল লাগল লেখাটি।ধন্যবাদ।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আর অধিকার

    সব গুড়ে বালি

  4. কে এইচ মাহবুব মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো পড়ে ।

  5. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আপনাকে

  6. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    একাত্তরের আগে দেশে গনতন্ত্র ছিলনা, তাই গনতন্ত্রকে রক্ষাই মক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল, এটা সঠিক নয় ।
    শুধুমাত্র জনগনের ভোটাধিকার-ই গনতন্ত্র নয় । গনতন্ত্রের,এমনকি আরো অনেক প্রধান উপাদানও রয়েছে ।
    ফকরুদ্দীনের সরকার ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসেনি । দুই দলের মধ্যকার চরমতম সংঘাত তখন এমন অবস্থায় পোঁছেছিল যে, সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ না করলে তখন অনেক মানুষ মারা যেত । তবে ক্ষমতা গ্রহনের পরের অধ্যায় তাদের বিতর্কিত । আসলে সে-সরকার সবকিছুতে হাত দিতে গিয়েছিল সবকিছু সামাল দিতে না পারা সত্ত্বেও ।

  7. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    শুধুমাত্র জনগনের ভোটাধিকার-ই গনতন্ত্র নয় । গনতন্ত্রের,এমনকি আরো অনেক প্রধান উপাদানও রয়েছে ।-

    ভাই গণতন্ত্রের সঠিক সংজ্ঞটা দিলে আমিসহ পাঠকমহল বেশ উপকৃত হতাম।

  8. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    শুরুতেই বলি, গনতন্ত্রের সঠিক সংজ্ঞা দেওয়ার মত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি আমি নই। জনগনের ভোটাধিকার ছাড়া আর প্রধান যে উপাদানগুলি গনতন্ত্রের আওতাধীন, সেগুলি হচ্ছে, পরমতসহিঞ্চুতা, সহনশীলতা, শুধুমাত্র মতের অমিল হওয়ার কারনে কারো উপর সহিংস না হওয়া ইত্যাদি ।

    • আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনি কি মনে করে বর্তমান সরকার এগুলোর কোনটা মানছে। বিরোধীদলের প্রতি কি তাদের কোন সহনশীলতা আছে? শুধুমাত্র মতের অমিল হওয়ার কারণে বিরোধীদল ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।

  9. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    গণতন্ত্রের মৃত্যু, জানাজা, দাফন কাপন, চারদিনা -চল্লিশা
    সবই তো হয়ে গেছে , আর গণতন্ত্রের কথা বলি লাভ কি?

    তবুও শুভ কামনা।

  10. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    জানি ভাই গণতন্ত্রের কথা বলে আর কোন লাভ নেই। তাই বলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকব?

  11. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখায়ও জ্ঞান পেলাম আবার আলোচনায়ও জ্ঞান পেলাম । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top