Today 13 Jul 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমার দেখা পৃথিবী

লিখেছেন: আযাহা সুলতান | তারিখ: ০৬/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 841বার পড়া হয়েছে।

॥৫॥

কক্সবাজার বেশ কয়েকবার গিয়েছি। এখানে তার রূপের কথা বর্ণনা করে অযথা সময় নষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা কি? এদেশে এমন কোনো লোক নেই কক্সবাজারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ নয়। বাংলাদেশের প্রায়ই মানুষের কাছে কক্সবাজার মানে এক আকর্ষণীয় স্থান এবং স্বর্গীয়োদ্যান। তাই কক্সবাজারের রূপের কথা আর নতুন করে রূপায়িত করলাম না–

 

সবকিছু ভুলা যায় তবে জীবনের কিছু কিছু স্মৃতি, কিছু কিছু কথা, কিছু কিছু আশা, কিছু কিছু দর্শিত দৃশ্য কখনো ভুলা যায় না; একতরফা ভালবাসা হয়ে আজীবন দোলা দেয় মনের গভীরে। সেবার ইউনানি ঘুরে এসে হিমছড়িপাহাড় দর্শনে নামছি। সঙ্গে ছিল আমার স্ত্রী ও বেশ আত্মীয়। তন্মধ্যে আমার ঘনিষ্ঠ ভাবী–অর্থাৎ খালাত ভাইয়ের বউ অন্যতমা। সব সময় বেচারির সুন্দরের তুলনা করি আমি অস্ট্রেলিয়ার ঘোড়ার সঙ্গে, কারণ যেমন লম্বাচওড়া তেমন শরীরের গঠন। আমাদের মিনিবাসটা এসে নির্দিষ্ট স্থানে থামার মুহূর্তে দেখি আরেকটা মিনিবাস এসে একেবারে আমাদের সম্মুখে হাজির। আমরা গাড়ি থেকে নামছি। দেখি ওগাড়ির যাত্রীরাও হুড়োহুড়ি করে নামছে। অবশেষের যাত্রীকে দেখে শুধু আমি নই সম্ভবত অনেকেই হুঁশহারা। কারণ সৃষ্টিকারক পৃথিবীতে এমন কতক বস্তু সৃষ্টি করেছেন যার রূপবর্ণনা করে কোনো লেখক কোনো কালে শেষ করতে পারবে বলে মনে করতে পারি না। হোক সে পশুপাখি জীবজন্তু মানবমানবী অথবা প্রকৃতপ্রকৃতি। আজকের বস্তুটা আসলে যাত্রী নয়–যাত্রিণী। তিনি একজন বিবাহিতা হিন্দু রমণী। বয়স আনুমানিক পঁচিশ থেকে ত্রিশ। সঙ্গে বুঝা যাচ্ছে স্বামী। তবে সন্তানাদি আছে কিনা জানি না–এমুহূর্তে নিঃসন্তান। অপূর্বার মুখশ্রী ও চোখের চাহনি দিয়ে শুরু করে নিতম্বশ্রী হতে পায়ের অঙ্গুলি পর্যন্ত একেকটি অঙ্গের সৌন্দর্য বর্ণনা করলে একেকটি উপন্যাস। বেশ কয়েকবার চোখচোখি হলে ললনার গোপন হাসি চন্দ্রকে ম্লান করে। নিচের প্রান্তের ঘুরাঘুরি শেষে পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছি। ভাবী আর আমি সকলের পিছে–একটু তফাতে। উঠতে উঠতে ভাবী দেখি একসময় সিঁড়ির মাঝামাঝি এসে ধপ করে বসে পড়ল! আমি পাশে বসে বললাম, কি ভাবী, এটুকুতে ক্লান্ত বুঝি! চল-না একেবারে উপরে গিয়ে বসি।

ভাবী ঠাট্টার ছলে বলল, তুমি কোলে করে উঠাতে পারলে–পারি।

আমি বললাম, ইচ্ছে মন্দ নয়। তবে আমাকে যে আবার জন্ম নিতে হবে।

দুজনার হাসাহাসি খুব হল–ভাবী বলল, তোমার বউ কী মনে করবে?

আমি বললাম, দাদা কী মনে করবে?

ভাবী বলল, তোমার দাদা কিচ্ছু মনে করবে না। দেখছ-না ছেলেমেয়ে দুটোকে নিয়ে কী আনন্দে ঘুরাঘুরি করছে। বউ কোথায় জনাবের কোনো খবর আছে!

আমি হেসে বললাম, তোমার জাও ত সেই প্রকৃতির–জামাইয়ের কোনো খোঁজ নিচ্ছে!

ভাবী বলল, আসলে ভাই, সন্দেহ জিনিসটা খুবই মারাত্মক–কি বল?

আমি বললাম, সত্যি কথা। পৃথিবীতে এ জিনিসটা না থাকলে বোধ হয় গোটা পৃথিবীটাই স্বর্গ হত।

দুজন আবার হাসলাম–বললাম, ভাবী, ছোট্ট একটা কাজ করতে হবে।

ভাবী কতূহলে বলল, কী?

আমি ইঙ্গিতে ললনাকে দেখিয়ে দিয়ে বললাম, ওর সঙ্গে তোমার কথা বলা চাই, নামধাম বাড়ি কোথায় জানতে হবে; সখ্যতা গড়ে হাতের ফোন নম্বারটা নিতে হবে।

ভাবী হেসে বলল, সখ্যতা ত মনে হয় তোমার দাদার ঘরের জিনিস–তোমার বউ জানতে পারলে যেন আমাকে ফাঁসির দড়িতে লটকায়। বাবা রে, মাফ চাই। তোমার ভাইয়ের এক সের কিল যে খেয়েছে সে বুঝে দুনিয়াটা কত রকম। ফন্দি ত ভালই এঁটেছ দেখছি।

আমি বললাম, ভাবীরা দেবরদের কত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয় জানি আর তুমি দেখি শত্রুচেয়েও পর–যাও আড়ি।

ভাবী রসিকতা করে বলল, তোমার বউকে বলতে পার-না, এক মিনিটের মধ্যে ত হয়ে যায়…

আমি হেসে–হৃদয়ের কাঁপন দেখিয়ে বললাম, বোন রে, তুই আমাকে আর দিনে তারা দেখাস না–ক্ষমা দে…

ভাবী যেন অপরাধিনী–অনুতপ্ত হয়ে বলল, ভাই রে, একজন মেয়ে কখনো আরেকজন মেয়ের সংসারে আগুন দিতে চায় না। এমন যদি হয় তা হলে দুটি সংসারই ধ্বংস হবে–আমাকে ক্ষমা করো ভাই।

 

সেটা আমিও খুব বুঝি। তবু ভাবীর সঙ্গে এমন রসিকতা মাঝের মধ্যে করি। ভাবী কখনো নিরুৎসাহ দেখায় না। আজ দেখি একেবারে দূরগগনের যাত্রী। তবে হাঁ, এটাও পরম সত্য–জোয়ারের পানি যেমন কূলে এসে আছড়ে পড়ে আবার ঢেউয়ে মিশে যায়, চলার পথে তেমন অনেকের দেখা মিলে–প্রেমের কামনা আছড়ে পড়ে আবার নিস্তেজ হয়ে যায় কিন্তু ধুলায় মিশে যায় না। ভাবী ওখান থেকে আর উপরে উঠল না। আমি চূড়ায় উঠে দেখি পথের মাঝামাঝি একপাশে দুহাতে র‌্যালিং ধরে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওঁ! স্বামী একটু দূরে দর্শনে মগ্ন। হাওয়ায় উড়ছে তাঁর খোলা চুল। সূর্যের ঝকঝকে আলোতে সুবর্ণদেহের সোনালিপাড়ের শাড়িটা বেশ মানানসই দেখাচ্ছে। আমি সম্মুখে এলে ক্ষীণগলায় জিজ্ঞেস করল, আপনারা কোত্থেকে এসেছেন? আমি হতভম্ব–লজ্জায় ওঁর মুখের দিকে চাইতে পারলাম না আর! নিচের দিকে চেয়ে আস্তে করে বললাম, ‘চট্টগ্রাম’ আর কোনো কথা মুখ দিয়ে বের হল না! বাঁকাচোখে ওঁর টেকো স্বামীর দিকে চাইলাম একবার। আর কিছু বললে ভদ্রলোক যদি শুনে ফেলে, যদি কিছু বড় কথা বলে ফেলে; যদি প্রশ্ন করে, কে তুমি? এসব ভেবে–ললনার ভবিষ্য চিন্তা করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম না, আপনারা কোথা থেকে আসছেন বা কোথায় থাকেন। হৃদয়ের এক অভিনব ভালবাসা অনুভব করতে পারলাম সেদিন। তারপর মনে মনে অনেক খুঁজেছি তাঁরে। অনেক দিনপর তাঁর স্মরণে ‘হঠাৎ দেখা’ নামে একটা কবিতাও লিখেছিলেম। জানি না ভদ্ররমণী কোথায় আছেন, কেমন আছেন; সেদিনকার উপলব্ধি কেমন ছিল…

 

চলবে…

৯৭২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৯ ২২:০৪:১৮ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেকদিন পর আপনার ভ্রমণ কাহিনী পড়লাম। ভালই লাগল।

  2. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার ভ্রমণ কাহিনী আসলে খুব সুন্দর। ভ্রমণ আমার খুব ভাল লাগল। আপনাকে ধন্যবাদ!! আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

  3. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি ভ্রমণ কাহিনী উপহার দেয়ার জন্য।

  4. আনোয়ার জাহান ঐরি মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সহজ সরল উপস্থাপনা। আপনার লেখার হাত ভাল।

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ঠিকই বলেছেন উনার হাত ভাল। কত সুন্দর তার ভ্রমণ কাহিনী। অনেক মজা পাওয়া যায়। খুব ভাল লাগে।

  6. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    কোনো দৃশ্যের প্রতিও যে একতরফা প্রম হতে পারে আপনার গল্প পড়েই জানলাম, অনেক ভালো লাগল।

  7. আযাহা সুলতান মন্তব্যে বলেছেন:

    বন্ধুদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং আন্তরিকতা……

  8. শাহরিয়ার সজিব মন্তব্যে বলেছেন:

    ভ্রমণ নিয়ে লেখা আমার ভালো লাগে। আজও একটা কিছু লিখলে ভালো হয় । ভালো থাকুন , আপনাকে ধন্যবাদ ।

  9. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার গল্প
    চলতে থাক
    অনেক ভাল লাগা
    সাথে আছি……………।

  10. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    লিখতে থাকুন সাথে থাকব ।

  11. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল
    কত কি দেখার আছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top