Today 17 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমার দেখা পৃথিবী

লিখেছেন: আযাহা সুলতান | তারিখ: ১৩/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 225বার পড়া হয়েছে।

॥৬॥

আমিরাতে একদিন আমরা তিন বন্ধু মিলে একজায়গায় আড্ডা দিচ্ছি। এমন সময় ধবধবে সাদা পোশাকের কালো চশমা পরিহিতা চ্যাপটা নাসিকার একজন তরুণী এসে আমাদের সম্মুখে দাঁড়াল এবং একধরণের জটিল ভাষায় কি যেন জিজ্ঞেস করল। বন্ধুজন বলল, বাপ রে বাপ এমন বর্ণজটিলভাষা জীবনেও ত শুনি নি! বুঝতে অসুবিধা হল না সুদর্শনা একজন চায়নিজ ললনা। গায়ের রং উজ্জ্বলফর্সা। বাদামিস্নিগ্ধ ঝলমলে চুল। গোলার্ধ মুখমণ্ডল। অবয়বে ফুটে আছে নারীত্বের অসাধারণ রূপ। পৃথিবীর এমন কোনো পুরুষ নেই এ যুবতীর রূপে মুগ্ধ হবে না। বুঝতে পারলাম মনোরমা পথের সন্ধান চাচ্ছে। বুঝা যাচ্ছে চায়নিজ ব্যতিত পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষাতে সামান্যতম অভিজ্ঞতা নেই তার। পড়লাম বিপদে। কী করে যে এ সুদর্শনাকে পথের সন্ধান দিই আমাদের বুদ্ধিতে কুলোয় না। হাতের ইশারায় পূর্বদিকে দেখিয়ে আমিও তার অনুরূপ বললাম। আমার জটিল ভাষার অর্থ সে কি বুঝল জানি না তবে বুঝার কোনো সাধ্য যে নেই সেটা জানি। তার পরেও ভদ্রজনা অপূর্ব হাসি হেসে মাথা নেড়ে বোধ হয় ধন্যবাদ জানিয়ে গেল।

 

প্রবাসের অনেক বন্ধুদের মধ্যে এ বন্ধুদুজন আমার বেশ ঘনিষ্ঠ। একজনের নাম ‘খর্ব’ আরেকজনের নাম ‘সর্ব’। আমাদের অভিভাবকেরা যে সন্তানদের কেমন কেমন নাম রাখে তাই নিয়েও অনেক সময় অনেকের হাসির পাত্র বনতে হয়। খর্ব যে নামমাত্র ‘খর্ব’ সেটা তাকে না দেখা পর্যন্ত কারও বিশ্বাস করা কঠিন। দীর্ঘদেহী সুঠামস্বাস্থ্যের অধিকারী আকর্ষণীয় এক সুদর্শন যুবক। বয়স আনুমানিক পঁচিশ-চাব্বিশ। স্বভাব নম্র বটে কিন্তু চরিত্রবিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞের খাতাকলমের সর্বনাশ যে ঘটবে না এমন কথার গ্যারান্টি দেওয়া যাবে না। কথায় আছে, কানে যা শুনা যায় তা সত্য নয়, চোখে যা দেখা যায় তা সত্যের পরিচয়। সর্বকে বলা যায় ‘খর্বকায়’। স্বভাবচরিত্র অনুন্নত না হলেও তেমন একটা উন্নত বলাও যায় না; শয়তানের কলকাটি নেড়ে ঘোড়াকেও গাধা বানিয়ে ছাড়ে–এ হল তার স্বভাব। চরিত্রের কথা বলা যাবে না, তার যা বয়স ‘বাইশ কিবা তেইশ’ এ বয়সের যুবকেরা এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

সর্ব আর খর্বের মধ্যে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা বিদ্যমান। এক ঘরে থাকাখাওয়া থেকে ভ্রমণে ছুটা পর্যন্ত একে অপরকে বাদ দিতে দেখা যায় না কখনো। তবে আমার বন্ধুত্বটাকে তারা সব সময় সম্পদের ঊর্ধ্বে গণ্য করে! সেটা তাদের কারও কাছে জিজ্ঞেস করেও কখনো সদুত্তর পাই নি। তবে আমি বন্ধুদেরকে কিছু দিতে না পারলেও সদ্বুদ্ধি এবং সদুপদেশ দিতে যথেষ্ট চেষ্টা করি। কারণ আমি যেই সুত্র নিয়ে চলি : সেই সুত্রমতে–অন্যকে ঠকানো বা দুঃখ দেওয়া দূরে থাক, মন্দ বলাও পাপ মনে করি। এটা আমার পিতার আদেশ। খুব ছোটবেলায় খাবার টেবিলে বাবা আমাকে একদিন বললেন : দেখ্‌ বাবা, তোকে যে মন্দ বলে মনে করিস সে তোর উপকার করছে, পারিস তো তাকে সমাদর করিস। তুই যদি পাল্টা তাকে মন্দ বলিস, মনে রাখিস উপকার পাওয়া তো দূরের কথা, অপকার পাওয়ার যোগ্য মনেও করিস না তখন। এ আদশের সুত্র ধরে আমি জীবনযাত্রার প্রায়ই শেষপ্রান্তে চলে এসেছি। দুঃখ যা জীবনে পেয়েছি নিজেই বহন করে চলেছি কিন্তু কাকে ভাগিদার করার চেষ্টা করি নি। সুতরাং ভাল কতটুকু করতে পারলাম জানি না কিন্তু আমার জানামতে মন্দটা ডিঙিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। একজন মানুষ তো আর সবার কাছে ভাল হয় না। বোধহয় আমার বেলায়ও এর বিচিত্র হবে না। আমি কখনো কাঁদতে জানি না, সব সময় হাসিখুশি জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি কিন্তু কান্নায় আমাকে সব সময় ঘেরাও করে রাখে!

 

আমিরাতের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমার পায়ের ছোঁয়া লাগে নি। হোক মরুভূমির দেশ তবু এক-একটি জায়গার এক-একরকম সৌন্দর্য বিদ্যমান। এখানে–রাস-আল-খাইমা প্রদেশে খত্‌ নামক একটা দর্শনীয় জায়গা আছে, যেখানে শীতকালে ট্যুরিস্টদের বেশ আনাগোনা নজর কাড়ে। এটি একটি কূপ। একূপে অনর্গল উষ্ণকুসুম পানি উঠছে! যা একটা মানবদেহের সহ্যপ্রযোজ্য। একূপে গোছলে নামার সঙ্গে সঙ্গে মনে হবে গা পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে তবে একটুপর সারা দিন ডুবে থাকার মন চাইবে। এ এক অপূর্ব নিদর্শন। কথিত আছে, কোনেকসময় রসুলেকরিম হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স) সাহাবিদের নিয়ে এখানে এসেছিলেন এবং শিবির গেড়ে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তখন ছিল শীতকাল আছরের ওয়াক্ত। এসময় রসুলেপাক (স) অজু করার নিয়তে বসলে বালিময় ভুঁইফোড়ে ফুরফুর করে সহনযোগ্য গরম জল উঠতে থাকে! আর তা প্রবাহিত হতে দেখে সাহাবিগণকে তিনি পাথর দিয়ে চতুর্দিকে বাঁধ দিতে বলেন। সেথেকে এ জায়গার নামকরণ হয় ‘রাস-আল-খাইমা’। প্রতিবছর শৈত্যমৌসুমে প্রচুর পর্যটক আসছে একূপে গোছলের উদ্দেশ্যে।

 

এখানকার বড় বড় শপিংমল হতে শুরু করে (বর্জুল আরব) বর্তমানে বরুজ খলিফা পর্যন্ত এক আশ্চর্য সৌন্দর্য ধারণ করে আছে। ধরতে গেলে এসব ভিনদেশিদেরই শ্রমের ফলন। বিনিময়ে তাদের যে পারিশ্রমিক মিলে নি একথা নয়। এককালে বলতে গেলে এসব দেশে কিছুই ছিল না। আজ পৃথিবীসেরা ইমারতের সমাহার। একমাত্র আজনবিদের শ্রমের গুণে এদেশগুলো আজ অনেক অগ্রসর বলা যায়। কিন্তু আজনবিদের জন্যে কোনো সুযোগসুবিধা তারা রাখছে বলে বলা যাবে না। আজনবিরা ব্যবসাবাণিজ্য করতে গেলে কফিল। অন্য কোথাও শ্রম করতে গেলে বাধা এবং চিরনিষিদ্ধ! আইনের এমন সব খসরা নিত্যনতুন তৈরি হচ্ছে যা একজন ভিনদেশি মানুষের জন্যে সুখবর বয়ে আনে না। আর এসব কানুনের প্রতিবন্ধকতা শুধু ভিনদেশিদেরই জন্যে। তা নিয়ে আমার একটি প্রবন্ধও আছে ‘আমিরাতে দুই হাজার বছর’। এখানে কোনো আজনবি চিরদিনের বসবাসে আসে নি। এবং এটা কোনো ইউরোপ আমেরিকার দেশ নয় যে কখনো-না-কখনো আলোর মুখ দেখতে পাবে। কিন্তু উন্নতির দিকে তাকালে ইউরোপ আমেরিকা থেকে তাদেরকেও কোনো অংশে কম দেখা যাবে না। এ কথাও বলতে পারব না, কিছু মানুষ গ্লাফ এসে আজ সচ্ছল হয় নি, দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পায় নি। এখানে তাদের উপকারিত্ব স্বীকার করব কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সচ্ছল হওয়া ত দূরের কথা, জায়গাজমি ভিটেবাড়ি শেষসম্বল যা বিক্রি করে এসেছে তা পূরণ করাও আদৌ সম্ভব হয় নি! তাই এমন ধনীদেরকে ধনী বলা যায় না। কারণ, যেই ধনী গরিবের উপকারে আসে না সেই ধনী নামের কলঙ্ক।

চলবে…

৩২৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৯ ২২:০৪:১৮ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    সাধ আছে ভাই সাধ্য নেই আমিরাতে যাওয়ার। আপনার ভ্রমণ কাহিনীটি পড়ে কিছুটা সাধ মিটালাম।

  2. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    আরব দেশগুলোতে আসলেই দেখার মতো অনেক কিছু আছে। আমাদের দেশের মানুষের পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি অগাধ টান থাকলেও আরবদের প্রতি এক ধরনের এলার্জি আছে । কিন্তু কেন ? এই ব্যাপারটি আমার ঠিক বোধগম্য হয় না। মুসলমান হিসেবে পরত্যেকের জন্য আরব দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

  3. সিকদার মন্তব্যে বলেছেন:

    আমিও ছিলাম ১৯৯২ -১৯৯৬ পর্যন্ত । প্রথমে ছিলাম বদাজায়েদ পরে আবুধাবি লাল বিল্ডিং এ ছিলাম । এখন হয়ত নাই ।

  4. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল ভ্রমন কাহিনী। শুভকামনা রইল।

  5. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগা
    সাথে আছি……………।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top