Today 24 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমার দেখা পৃথিবী

লিখেছেন: আযাহা সুলতান | তারিখ: ১১/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 345বার পড়া হয়েছে।

॥৮॥

আল-আইন শহরে ঢুকে এক অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা পেলাম। এনগরীর প্রায়ই রাস্তার দুপাশে এবং মধ্যিখানে গাছগাছালির সারি। মরুভূমির দেশে অন্য কোথাও অমন দেখা যাবে বলে মনে হয় না। গাছগুলো এমন সৌন্দর্য ধারণ করে আছে যা সহজেই একজন পর্যটককে মুগ্ধ করে। এজন্যে বোধহয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশহরকে ‘সবুজের শহর’ বলা হয়। এদেশের শহরগুলো যেমন সুন্দর তেমন রাস্তাঘাট ফ্লাইওভার বিল্ডিংবাড়ি মার্কেট দোকানপার্ট সবকিছুরই এক-একধরণের সৌন্দর্য বিদ্যমান। আরবের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে বাগানবাড়ি। যেতে যেতে এরকম অনেক বাগানবাড়ি চোখে পড়েছে। এখানের এক-একটি বাগান একচক্ষুর পথ। বাগানগুলোর প্রধান আকর্ষণ খেজুরগাছ এবং মধ্যপ্রাচ্যে খেজুরের যে একটা সমারোহ সেকথা কারও অজানা নয়, তাই অনর্থক বক্তব্য দৈর্ঘ্য না করে একথা বাদ দিলাম। তবে তার সঙ্গে নানান ফলাদির গাছের মধ্যে ডুমুরের গাছটির কথা বাদ দিলে বাগানের সৌন্দর্যের কথা অপূর্ণ রয়ে যায়। মাটির সঙ্গে কথা বলে এমন আকৃতির গাছগুলো শুধু আমারই নয় অনেকেরই প্রাণ কাড়ে। বড় কুলাকৃতির বেগুনিরঙের এমন সুস্বাদু ডুমুরফল আগে কোথাও নজরে পড়ে নি আমার।

 

চিড়িয়াখানায় ঢুকতেই এক আরবি যুবতীর চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে ফেলি। কারণ এসব দেশে নারীদেরকে দেখা দূরের কথা, নারীসম্পর্কীয় কথা বলাও অপরাধ! ঘুরেঘুরে দেখছি, হাতী-সিংহ-বাঘ-ভাল্লুক হতে খরগোশ পর্যন্ত কি নেই এ চিড়িয়াখানায়। শিম্পাঞ্জি আর বানরের লাফালাফি দেখতে কখনো কখনো ভিড় জমে যাচ্ছে। তবে আমাকে মুগ্ধ করছে কয়েকপ্রজাতির হরিণের পাল আর মেয়েটি। তার রূপের তুলনা করতে পারি এমন রূপসী আমার চোখে নেই। মা-বাবা ও একঝাঁক ভাইবোনের মধ্যে সে অনন্যা। এদেশে তুলনামূলক হারে জনসংখ্যা খুব কম, তাই যার যতবেশি সন্তান তার ততবেশি নাম। কোনো কোনো ঘরে বিশ-চল্লিশ কিবা তার উপরেও সন্তানসন্ততির নজির আছে। চিড়িয়াখানার অপূর্বতা যতই উপভোগ করছি তারচেয়ে অনেকবেশি ভোগ হয়েছে মেয়েটির হৃদয়কাড়া হাসি এবং নয়নকাড়া চাহনি। আমরা যেখানে যেখানে যাচ্ছি আগেপিছে-আশেপাশে তাকেও দেখতে পাচ্ছি। বেশ কয়েকবার চোখাচোখিও আড়ালে আড়ালে হয়েছে। একসময় জামিলকে চোখের ইশারায় বললাম, মেয়েটি বারবার অমন করে তাকায় কেন জানি না।

জামিল বলল, হয়েছে কাম, তোর ফাঁসির দড়িতে ঝুলার ইচ্ছে হয় কি? অন্যান্য সাথিদেরকে ডেকে বলল, অরে দেখা হয়েছে অনেক আর দেখে কাজ নেই, এবার বের হ, বের হ তাড়াতাড়ি। হাঁ, এদেশের (বিশেষ করে গ্লাফের) মেয়েরা যদি কোনো পুরুষের নামে অভিযোগ করে তা হলে তার রক্ষা নেই–অন্যথায় মৃত্যুদণ্ড আর শিরোচ্ছেদ অনিবার্য।

 

চিড়িয়াখানা (হাদিকাতুল্‌‌ হায়ওয়ানাত্‌‌) থেকে বের হয়ে ফানসিটি আর যাদুঘর দেখার কথা থাকলেও সময়ের অভাবে তা আর দেখা হল না। আরবের কিছু প্রাচীনতম নিদর্শন এখানের বিভিন্ন যাদুঘরে দেখা যায় : বলা যায়–দেখার মতো। আর আল-আইনের ফানসিটিকে বলা যায় স্বর্গোদ্যান। এটি একটি পার্ক। উপমায় ব্যবলিনের ঝুলন্ত উদ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সেই আরেক দর্শনীয় জায়গা–এক কথায় অপূর্ব!

 

আল-আইন শহরের প্রাণকেন্দ্রে বাংলাবাজার, বাঙালিদের বেশ দোকানপার্ট। এখানে এলে মনে হবে না এটা কোনো আরবের শহর। ভরপুর আড্ডায় প্রতি সন্ধ্যায় কিবা প্রতি শুক্রবারে জমে উঠছে বাঙালিদের হাট। এখানের বাঙালি-রেষ্টুরেন্টগুলোতে তেমন শৌখিন খাবার না থাকলেও বাঙালিদের সন্তোষজনক খাদ্য অবশ্য পাওয়া যায়। তাই বিভিন্ন পেশার শ্রমিক হতে ব্যবসায়ীদের অনেকে কমপক্ষে সপ্তাহে একবার এখানে এসে আড্ডা জমায়। সম্ভবত তাই বাংলাবাজার নামকরণ।

 

গ্লাফে প্রায়ই ভিনদেশিরাই ব্যবসায়ী, তন্মধ্যে বেশির ভাগ ইন্ডিয়ান। তাই আমাদের চেয়ে ইন্ডিয়ানদের সুবিধা একটু বেশি। সুবিধা বলতে, তারা প্রায়ই সপরিবারে বাস করছে। তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় ও যাতায়াতে কোনো দুর্ভোগ নেই। যেখানে-সেখানে ইন্ডিয়ানস্কুল। এদুর্ভোগ বাংলাদেশি আর পাকিস্তানিদের একটু ভোগ করতে হয়। কেননা সারা আমিরাতে দুয়েকটি বাংলাদেশিস্কুল পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। পাকিস্তানিদের বেলায়ও মনে হয় তাই। এবার গ্লাফজুড়ে বাংলা আর উর্দুস্কুল কত হবে অনুমান করা যায়। এখানে প্রশ্ন জাগে, তবে বাংলাদেশিরা কি পড়ালিখা করছে না? অবশ্য করছে, প্রায়ই বাঙালি-ছেলেমেয়েরা ইন্ডিয়ানস্কুলে পড়ে। পাকিস্তানিরাও প্রায় তাই। বলতে গেলে, আমাদের সাহিত্যসংস্কৃতি থেকে তারা বঞ্চিত। এখানের ব্যবসায়ীরাও যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় না একথা নয়, সর্বপ্রথম কফিল নামের দুর্ভোগ তারপর অন্যান্য। নদীর এপার আর ওপারের কথার মতো : ব্যবসায়ীরা মনে করছে চাকরিজীবীরা সুখে আছে–চাকরিজীবীরা মনে করছে ব্যবসায়ীরা সুখী। গৃহপরিচারিকাদের আরেক করুণদশা…

 

এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব গৃহপরিচারিকা আসছে তারা মুহূর্তে-মুহূর্তে যৌননির্যাতনের শিকার ত হচ্ছেই; এর পরেও শারীরিক নির্যাতন থেকে যে রেহাই পাচ্ছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে বলে মনে হয় না। বকেয়া মাইনে চাওয়ার কারণে কিংবা যৌননিপীড়নের অমতে অনেক অমানবিক অত্যাচারের কথাও আমরা শোনেছি। তন্মধ্যে দু-একের হাতেপায়ে ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পেরেক ঠুকানোর মতো ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে! আর তারাই যৌনহয়রানির নামে কানুন বাঁধে মৃত্যুদণ্ড কিবা শিরোচ্ছেদ।

 

ধর্ষণের ঘটনা আজও পৃথিবীর কোথাও-না-কোথাও ঘটছে না একথা নয়; ঘরে হোক অথবা বাইরে জরিপ চালালে দেখা যাবে, প্রতিমিনিটে একজন অবলা ধর্ষিত হচ্ছে। তা হলে বলতে হয়, পৃথিবী এখনো সভ্য নয়! হয়েছে, তবে কিছু মানুষ এখনো পশুর চেয়ে অধম রয়ে গেছে; তাদেরকে মুক্ত হায়ওয়ান বলা যায়। তাদের চেয়ে এসব বন্দিপশুরা উত্তম। কেননা এই পশুদের দেখে মানুষ আনন্দ পায়, ঐ পশুরা ঘৃণার যোগ্যও নয়।

চলবে…

৪৩২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৯ ২২:০৪:১৮ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল । তবে মেয়েটিকে দেখতে মনে চায় ।

  2. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার চোখে আমরা দেখে যাব
    খুব ভাল লেগেছে………..

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভ্রমণকাহিনী ভাল লাগল। অনেক অজানা কিছু জানলাম।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top