Today 14 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমার দেখা পৃথিবী

লিখেছেন: আযাহা সুলতান | তারিখ: ২২/১০/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 395বার পড়া হয়েছে।

॥৯॥
একদিন আমার স্ত্রী বসে টিভি দেখছে। কোন্ একটা সেন্যালে দেখাচ্ছে আমিরাতের শেখ জায়িদ মসজিদটি। মসজিদটির স্থান বোধহয় পৃথিবীর চার-কি-পাঁচ নম্বারে। সে দেখে দেখে বলছে, এ মসজিদটা নাকি ইউএইতে, আপনি কখনো এমসজিদে নামাজ পড়েছেন? আমি অবাক! মনে মনে বলছি, ইউ এ ই-তে থাকলে কি আমাকে সব জায়গায় যেতে হবে? বা চিনতে হবে? হেসে বললাম, আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে আবুধাবি প্রায় তিনশ কি সাড়ে তিনশ কিলোমিটারের পথ। স্ত্রী ছাড়ার পাত্রী নন্–আপনি-না দুবাই থাকেন।
আমি বললাম, আরে বাবা, দুবাই থাকি ত কী হয়েছে, দুবাইটা ত আর তোমার ঘরের উঠোন না যে এক দৌড়ে গেলাম আর আইলাম। তিনশ কিলোমিটারের ব্যবধান মানে জান? সারা দিনের রাস্তা। সে মানতে রাজি নয়–স্পষ্টগলায় বলল, যতই দূরে হোক, এবার গেলে কিন্তু এমসজিদে একবার যাবেন। আশ্চর্য জিনিসের কাছে বাস করে যারা আশ্চর্য জিনিসটাকে দেখতে পারে না তাদের মতো দুর্ভাগা পৃথিবীতে আরেকটা হতে পারে না।
আমি মনে মনে বললাম, আমিরাতে এরচেয়েও আরও কত আশ্চর্য আশ্চর্য জিনিস আছে অনেকটাই ত আমি দেখি নি। আর আমি বা কেন, অনেক প্রবাসীই ত দেখে নি! তা হলে, সবাই কি দুর্ভাগা? হতে পারে। কারণ মানুষের জন্ম হয়েছে দেখার জন্যে। মানুষের সৃষ্টি যেখানে মানুষকে এত বিস্মিত করতে পারে এবং আনন্দ দিতে পারে! সেখানে আল্লাহর সৃষ্টি কত আশ্চর্য হতে পারে গভীরভাবে ভেবে দেখছি কি কেউ? ভাবলে তবে কিনার পাওয়া দায়।

ওর কথানুযায়ী দেশ থেকে এসেই কিছু দিনপর শেখ জায়িদ-মসজিদ দেখতে যাচ্ছি। দিনটা ছিল শুক্রবার। আমার সঙ্গী হল তিন বন্ধু। খুব ভোরে উঠে রওনা দিলাম। পৌনে বারটার দিকে এসে আমরা মসজিদপ্রাঙ্গণে হাজির হলাম। তবে পথে আমাদের কিছু দিকভ্রম ঘটে নি এমন কথাও নয়। আমিরাতের রাস্তাঘাট যেমন প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সংস্কার হচ্ছে সেরূপ তার শহরগুলোও দিনদিন অপরূপ সৌন্দর্যের দালানবাড়িতে ও পার্কে তুলনাহীন হয়ে উঠছে। আল-আইনের প্যারাডাইস উদ্যান এমনই এক আশ্চর্য নিদর্শন…

মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম সুন্দরের কমি নেই। তার অপূর্বতার কথা বর্ণনা করতে গেলে শেষ করা দায়। তাই শুরু না করে শেষের কথা চিন্তা করে এক কথায় বললাম, তুলনাহীন। আমাদের অযু করতে হবে। জিজ্ঞেস করে খোলা মস্ত ময়দানটা পার হয়ে ঈশানকোণে দেখি ভূগর্ভে নজরকাড়া বাথ এবং অযুখানা। অত্যাধুনিক ফিটিংসে মনকাড়াও বটে।

নামাজ আদায় করে আমার এক চাকমাপরিচিতা বন্ধুনীর আমন্ত্রণে রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাওয়া সেরে তাকে নিয়ে হ্যারিটেজ ভিল্যাজ নামক পার্কে ঢুকি। এখানে পুরাতত্ত্বের প্রদর্শনশালা যেমন দেখার মতো তেমন সমুদ্রসৈকতের বালুচরও দেখার মতো। সমুদ্রকিনারে গড়ে ওঠা এপার্কের বিরাট একটা আকর্ষণীয় দিক। মাছের মুখে নির্ঝর ঝরনা। সাজানো নানান গাছগাছালিতে মরুর বুকে সবুজের ঘটা। নৈঋর্তকোণে আরবিসংগীতের আসর। কেনাকাটার ছোট ছোট দোকানপাট। মরা খেজুরডালেঘেরা আরবি বৃদ্ধা-মধ্যমা মহিলাদের বিনেপয়সায় মজাদার পিঠাবিলি…এসব আমাকে এবং বন্ধুনীকে নয় সকল দর্শককে বোধহয় আকর্ষণ করে! আর করবে না বা কেন, স্বর্গের বর্ণনা শোনে যেখানে আমরা স্বর্গের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে পারি না সেখানে চোখের সামনের স্বর্গকে দেখে কে না মোহিত হয়।

বন্ধুনী ভদ্ররমণীর নাম প্রকাশ করা আর আবশ্যক নয়। তবু কেউ যদি কতূহলে ভোগে–তবে তার সুনামরক্ষার্থে সরাসরি প্রকাশ করা গেল না। সাংকেতিকভাষায় যার সামান্যতম অভিজ্ঞতা আছে তার জন্যে তিন অক্ষরের ‘স’ দিয়ে শুরু আর ‘ন’তে দাঁড়ালে শেষ এ ইঙ্গিত রেখে গেলাম। তবে এমন একজন সুদর্শনার ঘনিষ্ঠাপ্যায়নে কেউ যে সন্দেহের পিছলকাদায় আছাড় খাবে না একথা পরিষ্কার বলা যাবে না, কারণ ওইমুহূর্তে আমার সঙ্গের বন্ধুরা যে শুকনো বালুচরে আছাড় খান নি সেকথা যে স্পষ্ট বলা গেল না। ওর সঙ্গে আনন্দঘন কতক পল এবং স্মৃতিময় কিছু ফটোপ্রাফির কথা অই বন্ধুরা এখনো প্রসঙ্গে আনে।
চলবে…

৩৭৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৯ ২২:০৪:১৮ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আনন্দঘন কতক পল এবং স্মৃতিময় কিছু ফটোপ্রাফির কথা শুনে ভালো লাগলো।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ বেশ
    ভালই লেখা
    ভাল লাগল

  3. আযাহা সুলতান মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ধন্যবাদ দাদাদের……

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল ভাইয়া এত সুন্দর জায়গা দেখতে পেরেছেন শুকরিয়া আল্লাহর কাছে। আগামিতে কিছু ছবি আশা করছি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top