Today 17 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমার স্বদেশ মাতৃকা প্রিয় জন্মভূমি তোমাকে সালাম

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৬/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 735বার পড়া হয়েছে।

স্বদেশ মাতৃকা প্রিয় জন্মভূমি তোমাকে সালাম

একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল
আমাকে তুই বাউল করে সঙ্গে নিয়ে চল
জীবন মরণ মাঝে তোর সুর যেন বাজে
একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল।

আমার স্বদেশ মাতৃকা প্রিয় জন্মভূমি তোমাকে সালাম। প্রিয় দেশ প্রিয় জন্মভূমি আজ তোমাকে লিখতে বসেছি। লিখতে গিয়ে চোখের জলে সব ঝাপসা দেখছি। কত দিন কত দিন তোমার মাটির সে চেনা ঘ্রান পাই না। কতদিন দেখা হয়না তোমার মাটিতে দাড়িয়ে সুনীল বিস্তীর্ণ আকাশ টাকে। কেও কেও বলে এখানে যারা সিটিজেন , বাংলাদেশ কেন এখন এই আমার দেশ। আমরা যারা কানাডিয়ান সিটিজেন অনেক কে দেখেছি দেশে কালে ভদ্রে যায়। কানাডাকে নিজের দেশ মনে করে। দেশের তোমার অনেক সমালোচনা বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা বলে। সময় সময় সবাই অকৃতজ্ঞ হয়ে যাই কেন বলত। জন্মেছি এই ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভূমিতে। সুকান্ত র অনুভব সময় সময় আমার ও ।

অবাক করলে তুমি
জন্মে দেখি ক্ষুব্দ স্বদেশ ভূমি।
আমরা যে পরাধীন
কি দ্রত জমে ক্রোধ দিন দিন ;

বলতে পার মা ,জননী জন্মভূমি এতে দোষ কোথায় তোমার ? কত কিছু হয়ে গেল তোমার উপর ,এই ভূমির উপর, সার্ভৌমত্তের উপর। বর্গীরা এসে বার বার হানা দিয়ে গেছে তোমার উপর , বার বার লুন্ঠন করেছে তোমার সব সম্পদ ঐসজ্য়। আপন মানুষ আমরা করেছি কত অপব্যবহার তোমার। দানে উদারতায় ,সহ্য শক্তিতে মা তুমি মহিউশি মায়ের মত। ক্ষমা করে বারবার তোমার বিশাল বক্ষে বারবার দাও আমাদের ঠাই।

তুমি জান যেদিন তোমাকে ছেড়ে এসেছি আজ থেকে দশ বছর আগে প্লেন আস্তে আস্তে ঢাকার ভূমি ছেড়ে যেতে শুরু করলো আমার কি যে বুক খালি করা দীর্ঘ নিশ্বাস বের হয়ে আসল। পাশে ছিলেন চাচি সম্পর্কের একজন। তিনি হাতে জড়িয়ে ধরলেন।

বললেন মার জন্য খারাপ লাগছে ? আমি বললাম হু উনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার মায়ের বয়স কত ? বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম তোমার জন্মদিন কত বলব। উনি অবশ্য আপন জন্মদাত্রী মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করেছেন। ওনাকে বলিনি আমি আমার দুইমাকে খুব মিস করছি। একসময়ে আস্তে আস্তে ঢাকা এয়ারপোর্ট তোমার সবুজ ঘাস আমার দৃষ্টিসীমা থেকে মিলিয়ে গেল। এসে পৌছলাম নুতুন ভূমি নুতুন গৃহে। একটা মাস ভীষণ কষ্ট হয়েছে মা তোমাকে ছেড়ে থাকতে। আপন মা বাবা সবাইকে অনেক মিস করছি তার সাথে মিস করছি চির চেনা জায়গা , প্রিয় দোকান হাট ঘাট প্রিয় মাটি তুমি জন্মভূমি। কষ্টকে ভুলতে কিছু জীবনের তাগিদে পরের মাসে ঢুকে গেলাম জবে। সে আরেক কঠিন জীবন। তোমার কাছে থাকা অবস্থায় কষ্ট জিনিস টা উপলব্ধি করতে পারিনি যেমন তেমন তোমাকে কত ভালবাসি সেটা যেন বোধের বাহিরে ছিল। আজ তোমাকে ছেড়ে প্রতি মুহুর্তে বুঝি তোমার মুল্য তোমার মহিমা। তুমি কি বা তোমার কি ত্রুটি সে এখন ভাবিনা। মায়ের কি দোষ দেখব। তুমি তো আমাকে দিয়েছ। আজ আমার দেওয়ার পালা। বুঝিনা কিভাবে তোমাকে ভালবাসা ফিরিয়ে দেই। একবার ভাবি তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখি , গান লিখি , তাতে ই বুঝি হবে ভালবাসা প্রকাশ। পরক্ষণে মনে হোল তোমার ভালবাসা তোমাকে ফিরিয়ে দিতে হলে দরকার আমাদের সব মানুষের মধ্যে একতা, ভাতৃত্ব বোধ আনতে হবে। বড় বড় লোক যারা এই ভূমির জন্য প্রাণ দিয়ে গেছে ত্রিশ লক্ষ্ কোটি শহীদ রক্ত দিয়েছে যে উদ্দেশ্যে সেই উদ্দেশ্য যেন পূরণ হয়। বৃথা না যায় শহীদ দের আত্মত্যাগ তাদের স্বপ্ন যদি আমরা পূরণ করতে পারি জানি তুমি হেসে কৃতজ্ঞ চোখে তাকাবে আজ আমাদের দিকে।

তোমার বর্তমান অবস্থা , করুন যন্ত্রনাকাতর চেহারা দেখে অস্থির হয়ে পড়ি মাঝে মাঝে। হতাশা গ্রস্ত হই । শুধু মনে এই বোধ টা কাজ করে কিভাবে তোমার দীন দুস্থ অবস্থা দূর করা যায়। কিভাবে তোমার মুখে হাসি ফোটানো যায়। আমি এক সামর্থ্যহীন সন্তান আমার শত ইচ্ছায় তোমার ঋণ শোধ করার সুযোগ পাচ্ছিনা। ক্ষমা কর মা আমার এই অক্ষমতা দুর্বলতা। জেনে রেখো মা তোমাকে অনেক ভালো বেসেছি অন্তর থেকে আপন জননীর পরে।

মন চায় বারবার চলে আসি তোমার কাছে চিরতরে। তোমার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে অনেক ভালবাসা।

প্রবাস থেকে তোমার এক সন্তান।

৭৯০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১৪ টি মন্তব্য

  1. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য………………….

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    হামিদ ভাই কি খবর ? কেমন আছেন ? আপনার লেখা কোথায় ? কমেন্টস করার জন্য ওয়েট করে আছি।
    অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা জানবেন।

  3. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার লেখার মন্তব্যে আমি জানিয়েছি যে আপনি এখন উন্নত লেখা লিখতে পারেন–এ লেখাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশ ও দশের প্রতি আপনার আহানুভুতি আমায় আপ্লুত করে।অনেক শুভেচ্ছা রইল।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      তাপসদা আপনার মন্তব্যে অভিভূত হয়ে গেলাম আনন্দে। তবে এ ঠিক না। আপনি অনেক বেশি উন্নত লিখেন আমার চেয়ে। সবসময় এইভাবে লিখুন আগের মত বন জঙ্গলের কাহিনী। উটন দাদুর কাহিনী কি শেষ তাপসদা। আমার কিন্তু আবার পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। লিখুন আবার কেমন। অনেক ধন্যবাদ জানাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  4. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লাগলো আপু। কোন কাঝে কিছুদিনের জন্য বিদেশে গেলেও দেশের জন্য এ অনুভূতি আমারো হয়। আপনিতো প্রবাসেই থাকেন। অথচ যারা দেশের ভেতর থাকেন তাদের কোন অনুভূতি কাজ করছে বলে টের পাইনা।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      আসলে মোস্তফা ভাই দেশের প্রতি টান দেশ থেকে বের হলে টের পাওয়া যায়। দেশে থাকা অবস্থায় খুব বিরক্ত থাকতাম দেশের প্রতি। এখন প্রতি মুহুর্তে অনুভব করি দেশের প্রতি আবেগ। আপনার চমত্কার কমেন্টস টি মনে আনন্দ এনে দিল। আপনার দেশপ্রেমের পরিচয় ও পেলাম।

      অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল। ভাল থাকবেন কেমন।

  5. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    মন চায় বারবার চলে আসি তোমার কাছে চিরতরে। তোমার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে অনেক ভালবাসা।

    প্রবাস থেকে তোমার এক সন্তান।

    বিরহ মনের আকুতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।চলে আসুন দ্রুত, দেশ আপনাকে চায়।

  6. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    বিরহ মনের আকুতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।চলে আসুন দ্রুত, দেশ আপনাকে চায়।+++++++++++++

    আসব শিগ্রী চিরজীবনের জন্য। অন্য দেশে পড়ে থাকব নাকি ? কখন ও না।

    অনেক ধন্যবাদ আহমেদ ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা জানবেন।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রিয় ভাই এর কাছে , দেশের কাছে ফিরে আসব শিগ্রই এ আমার ওয়াদা। অনেক ধন্যবাদ রব্বানী ভাই আবেগী মন্তব্যের জন্য। আমি ও টাচড।

  8. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    “আমরা যারা কানাডিয়ান সিটিজেন অনেক কে দেখেছি দেশে কালে ভদ্রে যায়। কানাডাকে নিজের দেশ মনে করে। দেশের তোমার অনেক সমালোচনা বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা বলে। সময় সময় সবাই অকৃতজ্ঞ হয়ে যাই কেন বলত।”
    শুধু কানাডিয়ান সীটিজেন কেন আমরা সবাই এই প্রিয় জন্মভূমির দায় এড়াতে চাচ্ছি। একটু ভালো লেখাপড়া করলেই বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছি।
    ভালো লাগলো আপনার চিঠি।শুভেচ্ছা অবিরত।

  9. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    ///////তোমার বর্তমান অবস্থা , করুন যন্ত্রনাকাতর চেহারা দেখে অস্থির হয়ে পড়ি মাঝে মাঝে। হতাশা গ্রস্ত হই । শুধু মনে এই বোধ টা কাজ করে কিভাবে তোমার দীন দুস্থ অবস্থা দূর করা যায়। কিভাবে তোমার মুখে হাসি ফোটানো যায়। আমি এক সামর্থ্যহীন সন্তান আমার শত ইচ্ছায় তোমার ঋণ শোধ করার সুযোগ পাচ্ছিনা। ক্ষমা কর মা আমার এই অক্ষমতা দুর্বলতা। জেনে রেখো মা তোমাকে অনেক ভালো বেসেছি অন্তর থেকে আপন জননীর পরে।///////

    জানি আসবে সুদিন।তবে আমাদের সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।প্রিয় দেশটাকে মনে প্রানে ভালোবাসতে হবে। ভালো কাজ করতে হবে ।

  10. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    জন্মভূমির জন্য মন এমনই হয়
    খুব ভাল লেখা

  11. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    দেশের জন্য ভালবাসার চিঠি ভাল লাগল আপি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top