Today 27 May 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আলাপন-১

লিখেছেন: গৌতমমূসা মোহাম্মদ কৃষ্ণঈসা | তারিখ: ২৮/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1106বার পড়া হয়েছে।

এক ভদ্রলোক রাতে শুয়ে আছে। ঘুম আসছে না। সে সাধারণত একা এক ঘরে ঘুমায় না। একা থাকলে রাতে ঘুম আসতে চায় না। অশরীরী কিছু একটা এসে কথা বলে।
আজ একা থাকতে হচ্ছে কারণ তার পরিবার বাপের বাড়ি গিয়েছে। ভুত-পেত্নী সে বিশ্বাস করে না কিন্তু জিন বিশ্বাস করে।
তার জিন হাসিলের খুব ইচ্ছা ছিল। অনেক হুজুরের কাছে গিয়েছে। একেক জন একেক রকম পরামর্শ দেয়। সে আমল করে কিন্তু জিন দ্যাখে না।
একবার দবির হুজুর বলল, এশার নামাজের পর মসজিদে বসে সুরা জিন চল্লিশবার চল্লিশ দিন পড়লে একটা জিন এসে হাজির হবে। কিন্তু সব সময় পাকসাফ থাকতে হবে। আর জিন দেখে ভয় পাওয়া যাবে না।
সে চল্লিশ দিন চল্লিশ বার করে সুরা জিন এশার নামাহের পর পড়ল কিন্তু জিন আসল না।
কিন্তু তার মনে প্রশ্ন জাগে, এই যে রাতে একা থাকলে অশরীরী কিছু একটা এসে তার সাথে কথা বলে এটা কি জিনিস? এই জিনিসটা আসার আগে সে টের পায়।
সেদিন ঘুম আসবে না। এপাশ ওপাশ করতে করতে অনেক রাত হবে। তারপর খালি পায়ে হাটার শব্দ শোনা যাবে। শরীর নাই কিন্তু হাটার শব্দ করে। আশ্চর্য জিনিস।
খালি পায়ে হাটার শব্দটা যখন তার ঘরের দিকে আসে তখন সে বোঝে জিনিসটা এখন ঘরে ঢুকেছে। কিন্তু হাটার শব্দটা কোথায় এসে শেষ হয় এটা বোঝা যায় না।
ওটা কি মাথার দিকে থামে নাকি পায়ের দিকে নাকি বিছানায় উঠে বসে কে জানে।
লাইট জ্বালানো থাকলে এই জিনিসটা আসে না। তাই একা থাকার প্রয়োজন হলে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমায়। আজ লাইট অফ করা আছে। এখন উঠে আর জ্বালাতে ইচ্ছে করছে না।
ভদ্রলোকের ঘুম আসছে না। এপাশ ওপাশ করছে। অনেক রাত হয়ে গেল।
হঠাত পায়ের শব্দ শোনা গেল। ভদ্রলোকের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। ওটার সাথে কথা বলতে ভাল লাগে না। হুদাই প্যাঁচাল পারে।
একটা মোলায়েম কন্ঠ ভেসে এলো।

কি ভাবছ হে মানুষ?

ভদ্র লোক কোনও কথা বলল না।
হঠাত খাটটা নড়ে উঠল।
এ তো সমস্যা দেখছি! তার চেয়ে বরং কথা বলে একে বিদায় করাই ভাল।
আবার কন্ঠটি ভেসে আসল।

কন্ঠ: আমার কাছে একটি গাছ আছে
ভদ্রলোক: থাকলে থাক, আমার কি এসে যায়
কন্ঠ: সে গাছটা অনেক বড়
ভদ্রলোক: হোক বড় তাতে আমার কি
কন্ঠ: অনেক পাতা
ভদ্রলোক: গাছ নিয়ে আমার আগ্রহ নেই, চুপ করতে পারো?
কন্ঠ: তোমার বয়স চল্লিশ না?
ভদ্রলোক: এই, তুমি কে? তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?
কন্ঠ: দেখতে পাবে
ভদ্রলোক: তোমার কথা শুনি অথচ দেখি না, সমস্যা না এটা?
কন্ঠ: আমি দেখা দেবো সঠিক সময়ে
ভদ্রলোক: আমার বয়স জানো কীভাবে?
কন্ঠ: সেটা পরে বলবো। আমার সেই গাছের প্রতিটি পাতায় নাম লেখা আছে
ভদ্রলোক: কিসের নাম?
কন্ঠ: সবার নাম। যে পাতাটা হলুদ হয় আমার নজর সেটার দিকে
ভদ্রলোক: তারপর?
কন্ঠ: পাতাটা যখন শুকিয়ে ঝরে পড়ে যায়, আমি যাই তার কাছে
ভদ্রলোক: যেয়ে কি কর?
কন্ঠ: তাকে নিয়ে আসি
ভদ্রলোক: কে তুমি?
কন্ঠ: মুসলমানরা আমাকে আজরাইল নামে চেনে
ভদ্রলোক: তোমার সাথে আমার দেখা হওয়ার দরকার নেই, তুমি এখনি চলে যাও
কন্ঠ: তোমার নাম যে পাতায় লেখা আছে সেটা হলুদ হয়ে এসেছে
ভদ্রলোক: হলুদ না হলে কি কোনও পাতা ঝরে পড়ে?
কন্ঠ: না, তবে অনেক পাতা বড় হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়ে
ভদ্রলোক: তোমার ঐ গাছের কোনও পাতায় কি তোমার নিজের নাম লেখা আছে?
কন্ঠ: আছে
ভদ্রলোক: ঐ পাতাটার রঙ কি?
কন্ঠ: সবুজ
ভদ্রলোক: ওটা কি কখনো হলুদ হবে?
কন্ঠ: হবে
ভদ্রলোক: কখন?
কন্ঠ: ওটা সবার শেষে হলুদ হবে
ভদ্রলোক: ওটা কি ঝরে পড়বে?
কন্ঠ: পড়বে
ভদ্রলোক: তখন ঐ পাতাটা কে নিতে আসবে?
কন্ঠ: সেটা কি তোমার জানা প্রয়োজন?
ভদ্রলোক: হ্যাঁ, আমি জানতে চাই
কন্ঠ: ঐ পাতাটাও আমিই নিতে আসব
ভদ্রলোক: আচ্ছা বলো তো, তুমি একসাথে কতগুলো পাতা নিতে পারো?
কন্ঠ: ইসরাফিল শিঙায় ফুক দেওয়ার সময় যতগুলো পাতা থাকবে ততগুলো
ভদ্রলোক: কত হতে পারে?
কন্ঠ: পৃথিবীর ধারণ ক্ষমতা যত
ভদ্রলোক: পৃথিবীর ধারণ ক্ষমতা কত?
কন্ঠ: উনিশ-শত কোটি
ভদ্রলোক: তুমি যাও তো এখন, বকবক করো না
কন্ঠ: খোদা হাফেজ, ঠিক সময়ে দেখা হবে।

 

 

 

 

 

 

১,২৮০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমিঃ সাধারণ হতে চেষ্টা করি। ভালবাসিঃ মানুষ। শখঃ ব্লগিং এবং বই পড়া। অবাক করেঃ পৃথিবী। মনের গভীরে জমে থাকা কিছু আজগুবি প্রশ্ন আমাকে স্থির থাকতে দেয় না। তাই সামান্য কিছু লেখালিখির মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে চেষ্টা করি মাত্র। কর্ম জীবনে এপারেল এন্ড ফ্যাশান ট্রেডে কাজ করছি। আমার এই নাম করণের পেছনে কাউকে হেয় করার প্রবণতা নেই বরং সকল ধর্ম-গুরুর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৭৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-০৬ ০৩:৩০:৩৮ মিনিটে
banner

১৭ টি মন্তব্য

  1. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    শুরুটা পড়ে মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত পড়তেই হেব। ভাল হয়েছে তবে শেষটা আর একটু ভাল হলে আরও ভাল লাগত।। আপনাকে ধন্যবাদ।

    • গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

      ধন্যবাদ কবির ভাই। একটু ব্যাস্ততার মাঝে আছি। প্রত্যেকের মন্তব্যের প্রতি উত্তর অবশ্যই দেব। একটু উপস্থিত জানিয়ে গেলাম। শুভকামনা সবার জন্য।

  2. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ লেগেছে। চালিয়ে যান।

  3. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    চালিয়ে যান। আপনাকে ধন্যবাদ।

  4. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি। নিয়মিত লিখবেন।

  5. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    অলোকিক গল্প ভালো লাগল । পা নেই হাটে, মুখ নেই কথা বলে,, আশ্চার্য জিনিস ।

  6. সাফাত মোসাফি মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল ভাই।

  7. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    সত্যিই ‘অলোকিক গল্প ‘।

    প্রথম থেকে পাঠককে আটকে রাখার সচেতন প্রয়াস আছে গল্পটিতে।

    শেষটিও অনবদ্য।
    শেষ হয়েও মনে হয় হইল না শেষ।

    অশেষ ভাল লাগা।

  8. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    সালাম ও শুভেচ্ছা জানবেন তুষার ভাই। মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  9. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আগে পড়তে পারিনি এখন পড়লাম। ভাল লাগল।

  10. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প ভালো লাগল,

  11. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    খারাপ হয়নি ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top