Today 23 Apr 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মেয়েটি ফিরে এসেছে (কাল্পনিক কাহিনী )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১৪/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1401বার পড়া হয়েছে।

ভূমিকা :এই গল্প টি লিখতে গিয়ে নামে প্রথমে এবং ঘটনায় কিছুটা প্রেরণা নিয়েছি হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর “রিটার্ন অফ শি ” অনুবাদ গল্পটি র। আমার কৈশোর এ পড়া গল্পটি র আদলে প্রথমে লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে মনে হল আয়েশা নাম্নী চরিত্র আমার দেশের পারিপাশ্বিকতা য় লিখলে ততটা মানানসই হবেনা। আমি শুধু অনুপ্রেরণা নিয়েছি বা (ছায়া অবলম্বনে বলা যেতে পারে ) ..তবে মূল গল্প টি আমি লিখব আমার নিজস্ব দর্শনের আলোকে আমাদের দেশের পারিপাশ্বিকতায় একই পটভূমিতে। আলিশিয়ার প্রত্যাবর্তন নাম না দিয়ে নাটকীয়তার জন্য ই এই নাম টি বেছে নেওয়া। আলিশিয়া মেয়েটি অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী , অনেকটা হুমায়ুন আহমেদ এর দেবী গল্পের রানুর মত। মেয়েটির কিভাবে এই অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা হয়েছে তার ব্যাখ্যা বর্ণনা দেওয়া হবে গল্পে।সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ জানান হল।

==============================================================================
মূল গল্প : (পর্ব -এক )
রবীন্দ্রনাথ এর কাদম্বরী এর মত অলৌকিক ভাবে সে ফিরে এসেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে কিছুক্ষণ আগে । শেষ ডাক্তার এসে তার পালস পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করে ফেলেছে। তার বাবা , মা অসহায়ের মত কাদছে চিৎকার করে। সে শুনছে সব কথা। মা বাবার কান্না, ডাক্তার দের কথা।

তার সারা শরীর এইমুহুর্তে অসাড় হয়ে আছে যদিও চিন্তা চেতনা বেশ ক্রিয়াশীল , বেগে চলছে।

মা বাবা আমি বেচে আছি।

তাকে নিয়ে যাওয়া হল মর্গে। কাটা ছেড়া করা হবে বলে। পোস্ট মর্টেম এর জন্য যখন তার শরীর কাপড়ের বাধন খোলা হল। চুরি কাচি নেওয়া হল তখন সে বিছানায় উঠে বসেছে। ডাক্তার ডোম সবার হাতের জিনিস পড়ে গেল। দুইজন পালিয়ে গেল রুম থেকে ভয়ে আতঙ্কে।

ডাক্তার শুধু বলতে পারল এই কথা টি

তুমি কি বেচে আছ ? অবিশ্বাস্য।

হ্যা বেচে আছি।

পরের দিন দেশের সব বড় বড় সংবাদ পত্রে হেডলাইন এ এই খবর

মেয়েটি ফিরে এসেছে আবার পৃথিবীতে ?

মেয়েটির নাম আলিশিয়া। বয়স আঠার। যদি কাওকে জিজ্ঞাসা করা হয় আলিশিয়ার রূপের বর্ণনা কর তো সে স্বাভাবিক ভাবে হতভম্ব হয়ে পড়বে। তার রূপের বর্ণনা দেওয়া সে এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। সে অনিন্দ্য সুন্দরী। সেরকম অনেক সুন্দরী সবাই কখন ও রাস্তা ঘাটে বা সিনেমায় দেখে থাকে। কিন্তু এ আলিশিয়া সব বর্ণনাকে যেন অতিক্রম করে যায়। দুধে আলতা গায়ের রং , কাজল কাল চোখ , বা ঘন নিবিড় একরাশ চুল , দীর্ঘাঙ্গী সব বলার পর ও মনে হবে এ যেন কোন বর্ণনা ই নয় এই মেয়ের রূপ সৌন্দর্য্যের কাছে। সে যখন তার কাজল কাল চোখে কার ও দিকে তাকিয়ে থাকে সে ব্যক্তির মনে হবে প্রবল আলোড়নে পৃথিবী বুঝি আজ ধ্বসে যাবে। তার হাসি ঝরনার আওয়াজের সাথে মিষ্টি নুপুরের নিক্কনের আওয়াজের মত লাগে শ্রোতার কানে। সে যখন হেটে চলে মাটি সম্ভ্রমে নুয়ে থাকে তার এত মর্যাদা এত ব্যক্তিত্ব। তার সামনে এসে বক্তার কথা থেমে যায় ,চতুরের চতুরতা মার খায়। চালাক হয়ে যায় কৌশল বর্জিত জ্ঞানী হয়ে পড়ে নির্বোধ।

এই হেন আলিশিয়া মাত্র দুইদিনের জ্বরে এভাবে মারা যাবে সবার কল্পনার অতীত। সবাই বলছিল তাকে বিষ খাওয়ান হয়েছে। তার কোন অসুখ বিসুখ নাই। .কিভাবে সে মারা যায়।

তাদের ঘরের বিশাল লিভিং রুম এ বসে আছে সে নিঃশব্দ। তার আশেপাশে প্রচুর সাংবাদিক। বিভিনভাবে তার ছবি তুলছে ,প্রশ্ন করছে। সে নির্বাক।

হটাৎ সবাইকে সচকিত করে একজন পুলিস কে ধমক দিয়ে উঠল

তুমি তোমার কাজের মেয়েকে যে রেপ করে মেরে ফেলেছ তা আমি জানি , তার কোন বিচার হয়নি। পুলিসের কাছে গিয়ে দোষ স্বীকার কর।

পুরা ঘরে যেন বাজ পড়েছে সবাই এমনভাবে চমকে উঠেছে। ক্রিমিনাল পুলিশ টির অবস্থা সহজে অনুমানযোগ্য। কিছুক্ষণ থতমত খেয়ে স্বাভাবিক বাচার তাড়নায় অস্বীকার করার চেষ্টা করল।

মিথ্যে বলে লাভ নেই সে আবার বলে বসল। আমি সব তোমার জানি। তোমরা সাত ভাইবোন ,তুমি পাচ নম্বর।

সবাই একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ী করতে লাগল।

পুলিস টিকে এরেস্ট করা হল। সে সব দোষ কবুল করল।

তার ক্লিনিকাল মৃত্যুর সপ্তাহ আগের ঘটনা। এরপরে তার মৃত্যু তাই কেও স্বাভাবিক ভাবে সহজ ভাবে নিলনা। সবার ধারণা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।

তার সৌভাগ্য সে ফিরে এসেছে।

অন্যায়কারীদের জন্য দুর্ভাগ্য সে ফিরে এসেছে।

 

আপাতত আমি এক পর্বে সীমাবদ্ধ রেখেছি গল্পটি। সবার রেসপন্স এর উপর ভিত্তি করে এ ধারাবাহিক বা বড় ক্লাসিক এ রূপ দিতে চেষ্টা করব।

 

১,৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. সারমিন মুক্তা মন্তব্যে বলেছেন:

    বাকি টুকু পোস্ট করুন আকর্ষন রেখে দিলেন ।

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      আকর্ষণ না রাখলে তো পরের পর্ব পড়বেনা। আমি তো ভেবেছিলাম দুই পর্বে শেষ করে দিব। এখন তোমার জন্য লেখাটি বাড়াতে হবে। আমার প্রিয় একজন মানুষের জন্য গল্পটি লেখা। তার প্রিয় গল্প “হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর শী এবং রিটার্ন অব শী। এ লেখা টা তাকে খুশি করতে লেখা যদিও লেখা টা আর ও শুদ্ধ পরিমার্জন করার বাকি আছে।

  2. সারমিন মুক্তা মন্তব্যে বলেছেন:

    কেমন আছেন আপি?

    • আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

      ভাল আছি এই মুহুর্তে অনেক অনেক। আমি যখন কিছু লিখি তখন আমি অনেক আনন্দে থাকি। তুমি ও তাই থাকবে।
      অনেক ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা/ভালবাসা রইল তোমার জন্য অনেক অনেক।

  3. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার কল্পকাহিনী মুগ্ধ হয়ে পড়লাম ———- !! আশা করছি এই কাহিনীর সুবাদে ঘুরে আসব অনেক কল্প লোক !! অশেষ ভাল লাগা লেখায় ——— ।।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Choluk lekha
    besh besh bhaloi to lagchhe

  5. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ রেবা দা কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল

  6. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী মেয়েটি কেমন করে হল, জানার অপেক্ষায় রইলাম আপা।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    উফ অসম্ভব মজা পেলাম বাকিটা পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে খুঁজে দেখি ত পাই কিনা। থ্যাংকু আপু

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top