Today 10 Apr 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

উপন্যাস ” অমর প্রেম ” পর্বঃ ১৪

লিখেছেন: শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত | তারিখ: ২৭/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 761বার পড়া হয়েছে।

এখনও বিদায় অনুষ্ঠান হলো না , স্বয়ন ক্যাপ্টেইন হওয়ায় সবাই ভার দিয়েছে ওর ওপর । পরশু বিদায়ের দিন ধার্য করা হল । বিদায়ের দিন সকাল সাতটা থেকে অনুষ্ঠানের যাবতীয় কার্য শুরু হলো । বেশ আকর্ষণীয় রুপে সাজানো হয়েছে স্টেজ নজর কেড়ে নেয়ার মত । ঠিক দশটায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কর্মসূচী শুরু হল । পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মহাদয়গণ । এরপর বিদায় বাণী পাঠ সবশেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় ।
স্বয়ন সাথীকে বলল ,
আমাকে নিয়ে যাও , মাকে দেখতে ইচ্ছে করছে ।
স্বয়ন ওকে সাইকেলে নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে । পথে সাবুর সাথে দেখা হয় । সাবু গিয়ে মুন্নিকে বলেছে । সাবু সাথীকে পছন্দ করতো কিন্তু পাত্তা পায়নি । একদিন স্টুডিওতে গিয়েছিল সাথীর এক কপি ছবি নিতে । মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে বলেছিল ,
সাথী আমাকে ছবি নিতে পাঠিয়ে ।
স্টুডিওর মালিক সাথীর কাক্কুর বন্ধু তাই মোবাইল করে ডেকে এনে ইচ্ছা মত জুতা পিটা করেছিল । এর ফলেই সাথীর সঙ্গে ওর ঘোর শত্রুতা ।

এদিকে স্বয়ন সাথীকে নিয়ে বাড়িতে উপস্থিত । মা সাথীকে ভাল ভাল সুস্বাদু খাবার খাইতে দিল । স্বয়ন আজ কথার প্রসঙ্গে মাকে বলে ফেললেন ওদের বিয়ের কথা ।
শুনেই মা অবাক !
এখনো ওর বড় দুই ভাই বিয়ে করেনি । স্বয়ন বুঝিয়ে বলল তবুও মা সন্তুষ্ট নয় । কিন্তু কিছুই করার থাকল না । যদি বিয়ের আগে জানত তাহলে হয়তো রোধের ব্যবস্থা করা যেত । নিরুপায় হয়ে সাথীকে বলল ,
তোমরা যে কাজ করেছ তা মোটেও উচিত্‍ হয়নি ।
ওসব বলে আর লাভ নেই । এখন মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করো । প্রতিষ্ঠিত হতে হবে , দুজনে চাকরী করলে দুধে-ভাতে খেতে পারবে ।
চিন্তা করনা তোমার মা বাবা না পড়ালে আমরা পড়াব । আমার মেয়ে থাকলে পড়ালেখা শেখা লাগত না ?
এ সময় জাহিদ ক্যামেরা নিয়ে হাজির ।স্বয়ন বলল ,
মা , সাথীর সঙ্গে ছবি তোলেন ।
মা কোন আপত্তি করল না । সাথী কথনো মায়ের সঙ্গে কখনো স্বয়নের সহিত । আবার কখনো তিনজন এক সাথে ।
পূর্ণ এক রিল ছবি তোলা শেষে জাহিদ ক্যামেরা জমা দিয়ে এলো উলিপুর দীপ্তি স্টুডিওতে ।
মা বলল ,
তোমরা দুজন গল্প করো আমি তোর খালার বাড়ি থেকে আসি ।
সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া করলো না স্বয়ন । পরম শান্তি দৈহিক সম্পর্কের কার্য সম্পন্ন করল । বিকেলে মা এলে তার কাছ থেকে বিদায় নিলো সাথী ।
স্বয়ন সাইকেলে নিয়ে রহনা হলো ।পথি মধ্যে সাথী বলল , চার দিন আগে স্রাব হয়েছে সমস্যা হতে পারে ।
ফেমিকন খেলে ঠিক হবে ? স্বয়ন জিজ্ঞাসা করল ।
হু ।
চিন্তা করনা জুম্মাহাট থেকে কিনে দেব । গোধুলি লগ্নে সাথী বাড়িতে পৌছিল ।

পরের দিন সকালে স্বয়ন ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ হাতে নিয়ে দরজা খুলেই অবাক । সাথী দাঁড়িয়ে আছে । এটা যেন স্বপ্নের ন্যায় অকল্পনীয় ।
সাথীর কাছে গিয়ে বলল ,
কি ব্যাপার হঠাত্‍ ?
সাথী কাঁদতে লাগল । কোন কথা বলছে না । মা এসে ঘরে নিয়ে জিজ্ঞাসা করল ,
কি হয়েছে মা ?
সাথী কাঁন্নার স্বরে উত্তর দিল ,
আমি আর যাব না ।
আচ্ছা যেওনা । কিন্তু কি হয়েছে ?
গতকাল বাড়ি যাওয়ার পর মুন্নী আপু ও দুলা ভাই আমাকে খুব মারছে ।আমাকে রাতে খেতেও দেয়নি বলে স্বয়নের ভাত খেতে । আর আপনাদেরকে অনেক খারাপ ভাষায় গালি দিয়েছে আমার সহ্য হয়নি , তাই পালিয়ে এসেছি ।
মা ওর হাঁটুর নিচে কাচা কঞ্চির মারের দাগগুলো দেখল রক্তের ন্যায় লাল হয়ে আছে ।
কি অমানুষের মত মেয়েটিকে মারছে ।
তুমি কাঁদ না মা ।

স্বয়ন ওর মামা ও খালুকে ফোন করল । সল্প ক্ষণ পর ওরা চলে এলো । মা সাথীকে নাস্তা খেতে দিল । সাথী স্বয়নকে ডেকে নিল ।
দু জনেই নাস্তা খাচ্ছে এ সময় সাথীদের মোবাইল থেকে বার বার কল আসছে কিন্তু স্বয়ন রিসিভ করছে না । সাথী বলল ,
রিসিভ করে বলো তুমি বাড়িতে নাই । তাই হলো
তুমি কোথায় ? বাদশা জিজ্ঞাসা করল ।
বাড়িতে নাই ।
তাহলে কোথায় ?
আমি বকুল তলায় ।
তোমার খুবই দরকার একটু দেখা করো ।
এখন পারব না , তিন ঘণ্টা পর । এ বলেই স্বয়ন কেটে দিল ।
ঘণ্টা খানেক পর আবার কল এলো রিসিভ করে বুঝল সাথীর আব্বু । স্বয়ন সালাম দিল কিন্তু সালামের উত্তর না দিয়ে বলল ,
সাথী কি তোমার বাড়িতে ?
হ্যাঁ ।
আমার বাড়িতে ওর জায়গা নেই । তোমাদের কি বিয়ে হয়েছে ?
ক্ষমা করে দিবেন আমরা বিয়ে করেছি ।
সাথীকে একটু দাও । সাথীকে বলল ,
তুই আর এ বাড়িতে আসবি না ।
সাথী উত্তর দিল ,
আব্বু আমি যাবার জন্য আসি নাই ।
মাহফুজার রহমান আর কোন কথা না বলে সংযোগ কেটে দিলেন ।
ত্রিশ মিনিট পর বাদশা ও সাথীর কাক্কু মুকুল এসে হাজির । এ দুই ব্যক্তি ফেরেস্তার ন্যায় বাহ্যিক আচরণ করল । সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলল ,
যা হবার তা তো হয়েছে এখন সাথীকে নিয়ে যাই । স্বয়নের পরীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবো ।
তাছাড়া এক সাথে থাকলে স্বয়নের পরীক্ষা ভাল হবে না । কেউ কোন জবাব না দিয়ে বলল ,
সাথী যা বলবে তাই হবে ।
সাথী উত্তর দিল ,
আমি যাব না ।
সাথী যাবে না বাদশা ছাড়বে না কিন্তু কোন লাভ হচ্ছেনা ওর একই কথা আমি যাব না ।
এতে করে মুকুল রাগ করে চলে গেল কিন্তু সন্ত্রাস বাদশা গেলনা । কিছুক্ষণ পর কেরাণী ফোন করল , স্বয়ন রিসিভ করে ওর মামাকে দিল ।
কেরাণী বলল , বন্ধু সাথীকে ছেড়ে দেন স্বয়নের পরীক্ষা শেষ হলে অনুষ্ঠান করব । তাহলে কোন পক্ষের সম্মান হানি হবে না । আপনারা বিষয়টা গোপন রাখেন ।
সহজ সরল এই মামা প্রস্তাবে সায় দিল । সাথীকে বুঝিয়ে বলল ,
যাও মা , চিন্তা কর না পরীক্ষা শেষ হলে তোমাকে নিয়ে আসব ।
স্বয়নের জিজ্ঞাসা করল ,
ভাই আপনি যেতে বললেন পরে সমস্যা হবে নাতো ?
মাহফুজার আমার বন্ধু কোন ভেজাল হবে না ।
তবু সাথী রাজি হচ্ছে না স্বয়নের কক্ষে গিয়ে দেখে অঝোড় নয়নে কাঁদছে ।

৮৩৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
01912657988 অথবা 01853861342
সর্বমোট পোস্ট: ১৮৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৩৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৩ ১১:৪২:৪১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভাল হয়েছে এই পর্বটি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top