Today 18 Jan 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

উপন্যাস ” অমর প্রেম ” পর্বঃ ১৫

লিখেছেন: শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত | তারিখ: ২৮/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 636বার পড়া হয়েছে।

সাথী বলল ,
তুমি কেঁদনা , আমি সহ্য করতে পারিনা ।
আরে পাগল আমি আন্টির বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে চলে আসব । কিছুই নিবনা আমার জামা কাপড় চশমা ব্রাশ ঘড়ি সব কিছু রেখে যাচ্ছি । তুমি কথা দাও আমি মরে গেলেও তুমি দ্বিতীয় বিয়ে করবে না ।
কথা দিলাম ।
তুমি আবার ফিরে আসবে তো ?
আসব ।
আমার মাথায় হাত দিয়ে বলো ।
সাথী তাই করল ।

সাথী যাওয়ার পর ওদের নাম্বারে কল দিল কিন্তু মোবাইল থেকে চিকন কন্ঠে দুঃখিত ধ্বনি ভেসে উঠল । তারপর বাদশার মোবাইলে দিল ঐ একই সংকেত । ওদের ফ্যামিলির কারও মোবাইল অন পেলনা । স্বয়নের বুকটা ধুকধুক করছে শুরু হলো মাথা ব্যথা । দুঃখের এক মানচিত্র চোখে ভাসতে লাগল ।

পরের দিন সকালে বাদশা কল দিয়ে বলল , দশটায় বাড়িতে থাকতে । ঠিক দশটায় বাদশা এবং ওর বন্ধু হাফিজুর এসে স্বয়নকে ডেকে নিল একটি স্কুলে নির্জন কক্ষে । স্বয়নকে বুঝিয়ে বলল ,
তুমি যে বিয়ে করছো , সাথীর ভরণ পোষণ দিতে পারবে ?
এ চিন্তা আপনাকে করতে হবে না ।
তোমার ভালোর জন্য বলছি ।
সাথী এখনো নাবালিকা যদি তোমার নামে অপহরণের মামলা দেয় তোমাকে জেলে পঁচতে হবে । তার চেয়ে ভাল তালাক দাও এটাই বেস্ট হবে ।
শুধু জেলখানায় কেন ? কবরস্থানেও যেতে কোন ভয় নেই ।
স্বয়ন সাথীর প্রেমে কোন খাদ নেই তাই বাদশার কৌশল কাজে লাগল না ,মন খারাপ করে চলে গেল ।

পরের দিন সন্ধ্যায় স্বয়ন পড়ছে হঠাত্‍ মোবাইলে রিং বাজল । মনে আশার সঞ্চার হলো সাথী বুঝি কল দিয়েছে , অধির আগ্রহে রিসিভ করে সালাম দিল । প্রতি উত্তরে শুয়োরের বাচ্চা নামে একটি গালি উপহার পেল কেরাণী সাহেবের কন্ঠ থেকে ।
পরে আরো শোনাল বিয়ের কাগজ পত্র চিঠি ছবি ফেরত না দিলে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থা নেব । এ কথা শুনে স্বয়ন ভাষা হারিয়ে ফেলল । কোন রকম উত্তর মুখ থেকে বেরোবার সাহস পেল না । যে মানুষটা দু একদিন আগেই মধুর মধুর কথা বলেছিল সেই লোকের মুখে বিশ্রী গালি । এনি কি শিক্ষিত লোক না কি শয়তান ? একটি পাকা মাকাল ফল বিশিষ্ট লোক । এখন স্বয়নদের সবার ধারণা ভুল হয়ে গেল ।

আটই মার্চ সব পরীক্ষার্থীরা যাচ্ছে বুক ভরা বিদ্যা নিয়ে আর স্বয়ন যাচ্ছে বুক ভরা যন্ত্রণা নিয়ে । সাথে গেল বাবা , মামা , খালু ও খালাত ভাই সিদ্দিক । স্বয়ন বুকে যন্ত্রণা চেপে পরীক্ষা দিল । পরিক্ষা শেষে স্বয়ন ক্লীপ বোর্ড হাতে নিয়ে গেটে আসা মাত্র বাদশা জিজ্ঞাসা করল ,
পরীক্ষা কেমন হলো ?
এ কথা বলেই বোর্ড থেকে এডমিট কার্ডটি ছিনিয়ে নিল । স্বয়ন ফেরত চাইলে বলল ,
আমার সাথে আসো কিছু কথা আছে ।

স্বয়ন হাত তুললো না ও যে ক্যারাতে জানে ইচ্ছে করলে বাদশার তিন বন্ধুকে তেনা বানাতে পারত । কিন্তু ওর মনে সততা , মানবতাবোধ আছে বলেই ….. । তুই মিথ্যে লোভ দেখিয়ে আমার শালির ইজ্জত হরণ করেছিস । আপনি এ কি বলছেন ? আমার বিবাহিত সাথী আমার বিবাহিত স্ত্রী ।
চুপ কর , এখন থেকে সাথীর জীবন থেকে তোকে সরে যেতে হবে ।
অসম্ভব , আমি পারব না । আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকতে আমি ওকে ভুলতে পারব না ।
ঠিক আছে , ওর ছবি আর চিঠিগুলো ফেরত দে ।
না , না , না দিব না ।
সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়নকে ওয়ালের সাথে স্বজোরে ধাক্কা দিল । কপালের ডান অংশ ফেটে টপটপ করে রক্ত ঝরতে লাগল । বাদশার বন্ধুরা বলল ,
আর মারিস না মরে গেল ফাঁসির দড়ি গলায় ঝুলবে ।
পরে রিক্সায় করে বাড়ি পাঠিয়ে দিল । স্বয়ন সরাসরি থানায় গিয়ে একটা জিডি করল । বাড়িতে গেলে স্বয়নের অবস্থা দেখে মায়ের বুক ফেটে কাঁদতে লাগল । মা অসুস্থ হয়ে গেল জলদি ডাক্তারের ব্যবস্থা করল ।

এদিকে পুলিশ বাদশার বাড়িতে ধাওয়া করল । পরে বাদশা ওর বন্ধু রিপনের মাধ্যমে এডমিট বাড়িতে পৌছায়ে দেয় । স্বয়নের বাবা স্কুলের হেড স্যারকে ডেকে বিস্তারিত বলল ।
হেড স্যার বলল ,
কাল থেকে আমার সাথে পরীক্ষা দিতে যাবে আমার সাথে আসবে । আমি কেরাণী কে ফোন করে দেব কোন রকম সমস্যা যেন না করে ।
স্বয়ন বুকে অনেক সাহস পেল । স্বয়ন এখনো সুস্থ হয়নি এ অবস্থায় পরীক্ষা দিতে গেল । বাদশা ও মুকুল স্বয়নকে ডেকে বলল ,
সাথী ওর সবকিছু ফেরত দিতে বলেছে । এই নাও চিরকুট ও নিজের হাতে লিখেছে । স্বয়ন চিরকুট পড়েও দেখল না সবার সামনে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে বলল ,
আমি জীবন দিতে পারব তবু কোন কিছু ফেরত দিতে পারব না । বাদশা ক্ষেপে স্বয়নকে ধরতে গেল ঠিক তখনি হেড স্যার উপস্থিত হয়ে বলল ,
বাদশা মিয়া বড় ক্যাডার হয়েছ না ? পরীক্ষা যতদিন না শেষ হবে এর মধ্যে স্বয়নের কিছু হলে তোমার পুরো ফ্যামিলিকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়ব । সেদিন আর তেমন কিছু হলো না । পঞ্চম পরীক্ষার দিন আবার স্বয়নকে ভয় দেখাল জীবন নাশের ওর চোখের সামনে পিস্তল দেখায়ে বলল ,
শেষ পরীক্ষার দিন তোকে লাশ বানায়ে হলেও তালাক নামায় সই নেব । ভাল চাস তো এক্ষুনি সই দে ।
স্বয়ন কোন উত্তয় না দিয়ে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করল ।
পরীক্ষা শেষে হেড স্যারকে বলল আজকের ঘটনা ।

৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
01912657988 অথবা 01853861342
সর্বমোট পোস্ট: ১৮৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৩৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৩ ১১:৪২:৪১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। কেমন আছেন ভাই।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top