Today 12 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এইলোক অন্যলোক (ভৌতিক গল্প)

লিখেছেন: তাপসকিরণ রায় | তারিখ: ১৯/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 579বার পড়া হয়েছে।

images

শেষ অংশ…

দুই ওঝা এবার এক সাথে তাদের তন্ত্রমন্ত্র সেধে উঠলেন,অমরেশ তখন প্রাণপণে চীৎকার করছেন,না আমি যাবো না,কিছুতেই যাবো না,আমায় মাছ দে,আমায় মাংস দে, বারবার বলে যেতে লাগলেন।

তুমুল মন্ত্রপাঠের ধুম উঠলো,তৃতীয় ওঝা তাদের ছত্তিসগরী ভাষায় উচ্চারণ করতে লাগলেন ভূত তাড়ানোর মন্ত্র। যজ্ঞের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে লাগল।এবার পেত্নীর কান্না শুরু হল,নানান সুরে সে কেঁদে চলল ! আমায় ছেড়ে দে,আমায় ছেড়ে দে,আমার খুব কষ্ট হচ্ছে !

দিনের শেষে সন্ধ্যে নেমে আসল।দিনভরের যজ্ঞ পূজার ধুমধাম বিশাল কর্মকাণ্ড চলছে তখনও। তখনও অনেক গ্রামের লোক অপেক্ষারত,  কর্মকাণ্ডের চমৎকারী পরিণাম দেখার জন্যে।অমরেশ তখন অনেক শান্ত।

হঠাৎ অমরেশ চীৎকার করলেন,মেয়েলী শব্দ বের হল তার কণ্ঠ থেকে উঃ,আঃ,কাতর শব্দ বেরোতে লাগল তাঁর গলা চিরে, তোরা আমায় থাকতে দিলি না রে,ব্যাস,এটুকু কথা বলার পর অমরেশ মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন।

ছাত্ররা ও সহকর্মীরা দেখলেন অমরেশ অজ্ঞান হয়ে গেছেন।ছত্তিস গড়ের ওঝা ইশারাতে তাঁকে বিরক্ত না করতে বললেন।

পুরো একটি ঘণ্টা এমনি ভাবে কেটে গেল।হঠাৎ দেখা গেল,ঘরের পাশের আম গাছ থেকে একটা কাঁচা ডাল হুড়মুড় করে ভেঙে মাটিতে এসে পড়ল !উপস্থিত লোকেরা সব কাণ্ড কারখানা দেখল।দেখল,অমরেশ বাবুর শরীর থেকে ওঝারা কি ভাবে ভূত তাড়ালেন !

সঙ্গে সঙ্গে ছত্তিসঘরী ওঝা বলে উঠলেন,দেখো,দেখো,ও চলী গয়ী ! দুষ্ট আত্মা ভাগ গয়ী !

বাঙালী ওঝা বললেন,আর ভয় নেই,ওনার জ্ঞান ফিরলে আবার আগের জীবন ফিরে পাবেন।

অমরেশ বাবু পূর্বের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেলেন।তবে এখনো যখন সন্ধ্যে নামে,যখন আশপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়,তাঁর মন উদাসীনতায় ভরে যায়—তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। তিনি নিজেই জানেন না যে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মাঝে কখন ঢুকে পড়ে পুরনো স্মৃতির ঢেউ !

সে অমরেশ বাবু এখন কলকাতা থাকেন।কেন্দ্রীয় সরকারের সারপ্লাস সেলের মাধ্যমে তিনি কলকাতা দূরদর্শনের অফিসার পদে পদস্থ হন।আজ ক বছর হল তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

আমার আজও মনে পড়ে আবছা আলো অন্ধকারে কখনো উদাসী, চিন্তা খিন্ন সেই মানুষটাকে।মনে হয় আজও যদি তাঁকে কোন কফি হাউজে দেখতে পাই, দেখব,তেমনি তিনি কোন চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছেন। দেখবো,দিনের সমস্ত স্বাভাবিকতার শেষে কর্ম ক্লান্তির ভাবনা ক্লিষ্টতায় ঝুঁকে থাকা তাঁর সেই মুখ !

সমাপ্ত

৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নাম :তাপসকিরণ রায়। পিতার নাম : স্বর্গীয় শৈলেশ চন্দ্র রায়। জন্ম স্থান: ঢাকা , বাংলা দেশ। জন্ম তারিখ:১৫ই এপ্রিল,১৯৫০. অর্থশাস্ত্রে এম.এ.ও বি.এড. পাস করি। বর্তমানে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে নিয়মিত লিখছি। কোলকাতা থেকে আমার প্রকাশিত বইগুলির নামঃ (১) চৈত্রের নগ্নতায় বাঁশির আলাপ (কাব্যগ্রন্থ) (২) তবু বগলে তোমার বুনো ঘ্রাণ (কাব্যগ্রন্থ) (৩) গোপাল ও অন্য গোপালেরা (শিশু ও কিশোর গল্প সঙ্কলন) (৪) রাতের ভূত ও ভূতুড়ে গল্প (ভৌতিক গল্প সঙ্কলন) (৫) গুলাবী তার নাম (গল্প সঙ্কলন)
সর্বমোট পোস্ট: ১১২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬৬৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-১১ ১৫:৪৩:৫৪ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর সমাপ্তি অনেক ভাল লাগল দাদা
    এমন আরো গল্প চাই

    • তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

      এ গল্পগুলি আমার চার পাঁচ বছর আগের লেখা। এ গ্লপে সত্যতা সম্পূর্ণ।অমরেশ বাবু এখনও কলকাতা আছেন।তাঁর মোবাইল নাম্বার আমার কাছে আছে।

  2. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পের ফিনিশিং ভালো , তবে আমি ভুতের গল্প বিশ্বাস করিনা।

  3. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    কারও ব্যক্তিগত বিশ্বাসে অবিশ্বাসে ভূতের সত্বা অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।
    ভূত না দেখলেই ভূত নেই এমন কথা মূল্যহীন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top