Today 11 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এইলোক অন্যলোক (ভৌতিক)

লিখেছেন: তাপসকিরণ রায় | তারিখ: ১০/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 882বার পড়া হয়েছে।

images

২য় অংশ…

–তারপর কি হল ? আমি মাস্টার মশাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলাম।

কেশব বলল, স্যার, পাঁচ মিনিট আমাকে সময় দিতে হবে, দোকানের কাজগুলি সেরে আসছি।ও আমার হাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিয়ে গেল।

অমরেশ বাবু বললেন, দাঁড়ান, শুরুটা আমি করে দিচ্ছি, বলে নিজের জীবনের ঘটনা বলতে শুরু করলেন তিনি :

অমরেশ তখন দণ্ডকারণ্যে নতুন এসেছেন।নতুন চাকরি নিয়ে, মিডল স্কুলের মাস্টার মশাই হয়ে। দণ্ডকারণ্যে তখন পুনর্বাসনের কাজ তৎপরতার সঙ্গে চলছে।অনেক পরিবারকে ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।পালা করে তাদের বসতি দেওয়া হবে।নতুন নতুন গ্রাম তৈরি হচ্ছে।বন কেটে বশত তৈরির কাজ চলছে।অমরেশ তখন মধ্যপ্রদেশের আওরাভাটা ক্যাম্পে পষ্টেড।ক্যাম্পের স্কুলেরই তিনি শিক্ষকতা করেন।

পঞ্চাশ ষাট পরিবারের ক্যাম্প।প্রাইমারি আর মিডিল স্কুল এক সঙ্গে চলছে।অমরেশ ওঁরা তিনজন শিক্ষক মিলে স্কুল চালাতেন।

এন.এচ.ফরটি থ্রি রাস্তার পাশেই ছিল ক্যাম্প।রাস্তায় গাড়িটাড়ির যাতায়াত কম ছিল।তবু দিনে রাতে বাস ট্রাকের যাওয়া আসা ছিল।বড় নির্জন জাগা।দিনের বেলায় লোক জনের আনাগোনা সাড়া শব্দে মুখর থাকত বটে, রাত আটটার পর সে জাগা আশ্চর্য ভাবে চুপচাপ হয়ে যেত।ক্যাম্পের চারিদিকে জঙ্গল, জঙ্গল আর জঙ্গল।জঙ্গলে সাল, সেগুন, মহুয়া, তেন্দু গাছের সমারোহ। সে সঙ্গে অনেক রকম জন্তু জানোয়ারেরও বাস।বাঘ, ভাল্লুক, বুনো শুয়োর–নিরীহ শ্রেণীর মধ্যে হরিণ, শেয়াল, খরগোশ, সজারু এসব ছিল।দিনে জঙ্গলে বন মুরগির দেখা পাওয়া যেত।

পাশেই ছিল নদী।নদীর নাম ধানচুর, স্থানীয় আদিবাসীদের দেওয়া নাম।পাহাড়ি নদী।খরার সময় শুকিয়ে বালুচর হয়ে থাকত।বর্ষায় ফুলে ফেঁপে বড় নদীর আকার ধারণ করত।এ নদীর ওপর দিয়েই পুল হয়ে বড় রাস্তা চলে এসেছে ক্যাম্পের পাশ দিয়ে।

অমরেশ মনে করলেন সে দিনটির কথা।

বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় শিক্ষক আর সিনিয়র স্টুডেন্টরা হাঁটতে যেতেন।ইভনিং ওয়াকে।সঙ্গে কেশব, মৈনাক, মাখন সিনিয়র ছাত্র হিসাবে থাকত।কেশব রাতে স্যারের ঘরেই সুতো।মাখন ও মৈনাক রাতে থাকত না, তবে স্যারের রান্না বান্নার দায়িত্ব তাদের ওপর ছিল।

প্রতিদিনের মত সে দিনও হাঁটতে বেরলেন তারা।সন্ধ্যে হয় হয় এমনি সময় ফিরছেন।আর একটু এগোলে ধানচুর নদীর পুল।পুল পেরিয়ে পাঁচ মিনিট হাঁটলে ওঁদের ক্যাম্প।নির্জন জাগা, সন্ধ্যের আগেই চারপাশের মাথা চাড়া দেওয়া গাছপালাগুলোর জন্যে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে।চারিদিকে যেন আলো আঁধারির খেলা চলতে থাকে।

অমরেশ দেখলেন, চারপাশে ছোপ ছোপ অন্ধকার।জঙ্গলে ঝিঁঝি পোকারা ঝিঁ ঝিঁ তান তুলছে।জোনাকির দল তাদের নেভা জ্বলা আলো নিয়ে সারা জঙ্গল ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ধানচুর নদীর পুলে পা রাখলেন অমরেশ। লম্বা পুল পার করতে হবে।সবাই অনেকটা আগে আগে, অমরেশ পঞ্চাশ ষাট হাত পেছনে চলছেন।হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল নদীর পারে আর কালো ছায়ার ভিড় নেই।অস্তগামী সূর্যের ম্লান আভা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে । আর, একি ! একি দৃশ্য তিনি চোখের সামনে দেখছেন ! নদীর ঘাট থেকে যেন তাঁর মা জল ভরা কলশি কাঁখে ওপরে উঠে আসছেন ! কিন্তু এটা কি করে সম্ভব ! তাঁর মা তো আজ পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন ! তবে আজ কেন এমন দৃশ্য তাঁর সামনে প্রতি-ফলিত হচ্ছে ?

থামলেন তিনি, দেখতে দেখতে অন্ধকার ছেয়ে গেল চারিধার।তাঁর মা ধীরে ধীরে নদীর পার ধরে ওপরে উঠছেন আর অল্প সময় পরই মার দেহটা অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ! অমরেশ তখন অন্যমনস্ক হয়ে আছেন।আচমকা তিনি ক্যাম্পের এক পরিচিত মেয়েকে তাঁর পাশ দিয়ে যেতে দেখলেন। মেয়েটার নাম মধুমতী।অমরেশ ভাবলেন ডাকবেন নাকি মেয়েটাকে ! তাঁরই তো ছাত্রী, কিন্তু একা অন্ধকারে এ খালি রাস্তায় ও কি করছে ? পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল তাঁর–আরে মেয়েটা তো ছ মাস আগে বিষ খেয়ে মারা গেছে ! সঙ্গে সঙ্গে শরীরে তিনি কেমন যেন শিহরণ অনুভব করলেন।সমস্ত দেহ তাঁর কাঁটা দিয়ে উঠলো ! আশ্চর্য, এত কিছু অলৌকিক ভৌতিক দর্শনের পরও তাঁর মধ্যে কেন যেন কোন রকম ভয়ডর নেই !

এবার তিনি আরও অবাক হলেন, দেখলেন সামনে থেকে কালো একটা ছায়া আসছে,  ধীরে ধীরে তাঁর দিকেই এগোচ্ছে।একি ! ছায়াটাকে এত পরিচিত লাগছে কেন ? হ্যাঁ, এত সেই মধুমতী যাকে একটু আগেই তিনি দেখলেন ! আবার সে ফিরে আসছে কেন!

হাওয়ায় ভাসা মত শব্দ শুনতে পেলেন তিনি, মধুমতী যেন বলছে, ফিসফিস বাতাসের সুর নিয়ে বলছে মেয়েটি, স্যার !

আরে, এ যে অমরেশকেই ডাকছে ! জবাব দেবেন কি না ভাবছেন তিনি।এমনি সময় আবার কথার আওয়াজ হল, আমাকে চিনতে পারলেন না? স্যার !..আপনাকে…ধরতে…সাবধান… বাকী শব্দগুলি বুঝতে পারলেন না তিনি।কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে এক পা, এক পা হাঁটতে লাগলেন।তখনও ধানচুর নদীর পুল পার হন নি।

ব্যাস, এরপর ধানচুর নদী পার হতে তাঁর মাত্র একটা স্টেপ বাকী।তাঁর শরীর আবার কেঁপে উঠলো, গরম হাওয়ার ঢেউ তোলপাড় হয়ে যেন তাঁর দেহে এসে মিশে গেল, তিনি আচমকা একটা ঝাঁকুনি খেলেন।

অমরেশ বাবু এ পর্যন্ত বলে থামলেন, বললেন, এ পর্যন্ত আমার অনুভব আপনাকে বললাম।বাকী আমি বলতে পারব না।

আমি বললাম, আপনিই বলুন না ! কেশব আবার কোন কাজে ভিড়ে গেছে হবে।

ক্রমশ…

৮৭০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নাম :তাপসকিরণ রায়। পিতার নাম : স্বর্গীয় শৈলেশ চন্দ্র রায়। জন্ম স্থান: ঢাকা , বাংলা দেশ। জন্ম তারিখ:১৫ই এপ্রিল,১৯৫০. অর্থশাস্ত্রে এম.এ.ও বি.এড. পাস করি। বর্তমানে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে নিয়মিত লিখছি। কোলকাতা থেকে আমার প্রকাশিত বইগুলির নামঃ (১) চৈত্রের নগ্নতায় বাঁশির আলাপ (কাব্যগ্রন্থ) (২) তবু বগলে তোমার বুনো ঘ্রাণ (কাব্যগ্রন্থ) (৩) গোপাল ও অন্য গোপালেরা (শিশু ও কিশোর গল্প সঙ্কলন) (৪) রাতের ভূত ও ভূতুড়ে গল্প (ভৌতিক গল্প সঙ্কলন) (৫) গুলাবী তার নাম (গল্প সঙ্কলন)
সর্বমোট পোস্ট: ১১২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬৬৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-১১ ১৫:৪৩:৫৪ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগতেছে

    পরের পর্বের অপেক্ষায়

  2. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    এই যা এ দেখি দ্বিতীয় পর্ব … আগে প্রথম পর্ব পড়ে আসি …

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top