Today 14 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এই ক্ষণে

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১০/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 842বার পড়া হয়েছে।

অনেকক্ষণ ধরে শ্বেতা সাব্বিরের সেল এ ট্রাই করে যাচ্ছে।

বার বার এই মেসেজ শোনা যাচ্ছে।

মোবাইল ক্যান নট বি রিচড এট ডি মোমেন্ট। চেষ্টা করতে করতে সে ক্লান্ত। সে বসে আছে কাজী অফিসে। আজ তাদের রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা। কথা আছে সাব্বির দুইজন ফ্রেন্ড সহ এখানে বিকাল ছয়টায় পৌছবে। ছয়টার জায়গায় এখন বাজে সাড়ে সাত টা। টেনশন এ শ্বেতার মাথা ঘুরাচ্ছে।

ওর কোন বিপদ হয়নি তো ? ঠিক আছে তো ? এরকম কখন ই করেনা সাব্বির। পরিচয় হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন কম করে আট থেকে দশবার লং টাইম তারা ফোন এ কথা বলেছে। আজ চারটা থেকে পাচটা একঘন্টা কথা বলেছে তারা। ভবিষ্যতের স্বপ্ন তে বুদ হয়েছিল দুজন।
সাব্বির এর সাথে পরিচয় ফেস বুক এর মাধ্যমে। আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠতা একপর্যায়ে প্রেম ভালবাসা পর্যন্ত গড়ায়। সাব্বির বাবা মারা গিয়েছে অনেক আগে। বিধবা মা আরেক ভাই। বড়ভাই এর সংসারে সে থাকে। থাকতে থাকতে ভাবীর বাজার সরকার এখন সে। হওয়া স্বাভাবিক। সে এখন ও ছাত্র। পড়াশোনা করছে খুব সাধারণ সাবজেক্ট এ যাতে কোন ও ভাল চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই অবস্থায় ভাবীর দয়ার উপরে ই থাকা। মা এবং সে অনেক কুন্ঠিত অবস্থায় থাকে। যখন ভাবীর সাথে মার ঝগড়া হয় তখন বেচারী মা খুব অসহায় ভাবে তার রুম এ এসে জিজ্ঞাসা করে

হ্যারে তোর পড়াশোনা কবে শেষ হবে ? কোন চাকরি বাকরি করবিনা ? ভাইয়ের সংসারে কত দিন থাকবি ?

মায়ের অসহায় প্রশ্নের উত্তরে সেও অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকে উত্তর না দিয়ে। সে এখন শেষ বর্ষের ছাত্র। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করার তেমন আগ্রহ খুঁজে পায়না। তেমন কোন জব পাওয়ার ও সম্ভাবনা নাই এই পড়ালেখা বা এই বিষয়ে পড়ে। ভাল রেসাল্ট করলে যদি অধ্যাপনার সুযোগ পায় কোন কলেজ এ। তাও হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কোন রকমে হয়ত পাশ করে যাবে। হিস্ট্রি তে মাস্টার্স করছে সে।

শ্বেতার ব্যাকগ্রাউনড সেই তুলনায় বেশ উজ্জল। সে ফার্মাসী তে অনার্স পড়ছে। তার বাবা একজন নামকরা সি এ। সে চার ভাই এর এক বোন। এরকম এক মেয়ের সাথে সাধারণ নিয়মে বিয়ে হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। শ্বেতা ভাইদের যেমন আদরের তেমনি কড়া শাসনে আছে। তার ফ্যামিলিতে বাবা ভাই এর সাব্বির এর মত এরকম অনুপযুক্ত পাত্র কখন ও মেনে নিবেনা সে বলা বাহুল্য। তাই দুজনে ঠিক করেছে আপাতত রেজিস্ট্রি সেরে রাখবে। পরে আস্তে আস্তে দুইপক্ষকে জানাবে।

সেই রেজিস্ট্রি করতে আসা। এখন ও সাব্বির এর কোন খবর নাই। ফোন বন্দ করে রাখা। আর ও আধাঘন্টা অপেক্ষা করে চোখের জল ফেলতে ফেলতে সে রিক্সায় উঠে বসল যখন দেখল রাত হয়ে যাচ্ছে ,সাব্বিরের ও আসার সম্ভাবনা নাই।

চোখের জলে সাজ মুছে গেছে। হাতের ফুল ফেলে দিয়েছে। দূর থেকে দৃশ্য টি দেখছে সাব্বির। তার বুক বেদনায় ভেঙ্গে যাচ্ছে। তবু ও সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শ্বেতাকে এইভাবে বিয়ে করবেনা। আজ বিয়ে করলে কোথায় এনে রাখবে সে ? সে নিজে যেখানে আছে আরেকজনের দয়ায়। পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক সে ইচ্ছে করে যায়নি শ্বেতার কাছে। শুধু দূর থেকে একবার প্রিয়তমাকে দেখে নিল।

শ্বেতার অজান্তে আজ সকালে তার ব্যাগে রেখে দিয়েছে চিঠি ,যাতে লিখেছে সে অপারগতা র কথা।
তবে বিশেষ নোট ও দিয়েছে তার সাথে। যদিও কোন ভদ্র মানসম্পন্ন কাজ পায় সে অবশ্যই শ্বেতার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে। তাছাড়া সে চায় তাদের বিয়ে হবে গুরুজনের আশীর্বাদে। যদি গুরুজনের মত না থাকে সে এই বিয়ে করবেনা। এই ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সে।

একবছর নয় দুইবছর নয়। আর ও সাত বছর পরের কথা। শ্বেতা এসেছে এক বড় মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানী সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এর ইন্টারভিউ দিতে। দেখা হয় মার্কেটিং ম্যানেজার এর সাথে। চমকে হাত থেকে ব্যাগ পড়ে যায়। যখন এতদিন পরে সাব্বির কে এখানে দেখে। প্রথমে অভিমান ভরে শ্বেতা জবাব না দিয়ে চলে যাচ্ছিল। জোর করে হাত ধরে টেনে থামায় সাব্বির।

আগের মত দুজন আবার কলকাকলিতে আনন্দে মুখর হয়ে উঠল কিছুক্ষণে।

পরিশিস্ট : অবশেষে শ্বেতা সাব্বিরের বিয়ে হল পারিবারিক ভাবে সবার অনুমতিতে অনেক ধূমধাম করে। বাসর রাত আজ তাদের। সাব্বির  শ্বেতার গালে টোকা দিয়ে বলল ” কি বুঝতে পেরেছ কেন ওইদিন কাজী অফিসে যাইনি। ওইদিন যদি আমরা বিয়ে করে ফেলতাম গুরুজনদের সাথে অন্যায় করে আজকের এই আনন্দ টা কি পেতাম বল।

শ্বেতার এই বিষয়ে কোন সন্দেহ রইলনা।

দুইজনে আনন্দজ্জল চোখে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল ভালবাসায় , পরম নির্ভরতায়।

(সমাপ্ত )

৯১৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    এমনটাই হওয়া চায় বাস্তব জীবনে।

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Ekdom thik kotha
    e vabe jibon gorhe uthuk

  3. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    চোখের জলে সাজ মুছে গেছে। ——– এই লাইনের গভীরতা যে কি বিশাল তা আপনাকে বলে বুঝাতে পারব না আপু ! এ ছাড়া পুরো কাহিনী চমৎকার —— ! অশেষ শুভ কামনা রইল —— ।।

  4. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    এই লাইনের গভীরতা যে কি বিশাল তা আপনাকে বলে বুঝাতে পারব না

    আমি ও জসিম ভাই আপনাকে বলে বোঝাতে পারবনা কত খুশি হই আপনার মন্তব্যে। গভীর ভাবে আপনি পড়েন সবার লেখা এবং কমেন্টস করেন হৃদয় দিয়ে যা সবসময় আমাকে টাচ করে। বলা যায় আমি আপনার কথা মনে করে চলন্তিকায় সময় দেওয়ার চেষ্টা করি বেশি বেশি অনেক ব্যস্ততার মধ্যে ও।

  5. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ভাই মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  6. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর গল্প–নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সময় ও সুযোগ পাওয়াতে গল্পটা মিলনান্ত হয়েছে।শ্বেতার ইতি মধ্যে বিয়ে হয়ে যায় নি এতাও বড় কথা–আর ওই দীর্ঘ সাত বছরে অদের মধ্যে কি আর কোন যোগাযোগ ছিল না? না থাকে তবে মিলনে বিভ্রাট হবার সম্ভাবনা ছিল প্রচুর। তবে গল্প যা ঘটমান তাই আপনি দেখিয়েছেন–কাজেই বলতে হবে সুন্দর ধারাবহ লেখা।ধন্যবাদ আপনাকে।

  7. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    সবই লিখতে পারেন আপা। ভাল, খুবই ভাল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top