Today 16 Oct 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এই বসন্তই শেষ বসন্ত নয়

লিখেছেন: দ্বীপ সরকার | তারিখ: ১৮/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 658বার পড়া হয়েছে।

এই বসন্তই শেষ বসন্ত নয়
কালে ভদ্রে আরো বসন্ত আসবে…।

কিভাবে পাল্টে গিয়েছে তোমার হাঁটা চলা,
ডানা মেলায়ে দলছুট বাতাসে;
জেনে গেছি এবারের বসন্ত তোমার হয়েছে।
আজকের এই বসন্ত
শুধু তোমার ঠোঁটেই জমিয়ে
তুলছে অহংকারের মেঘ, রাশি রাশি;
অহংকারের মেঘগুলো
ঘুঙুর সরায়ে অঝরে ঝড়াচ্ছে নীল,
আকাশে থেকে আকাশে, খুব যথার্থেই।
পরিচিত অপরিচিত গোপনে প্রেমনদীরা
ধুয়ে ধুয়ে ছেঁকে উঠছে চোখের কিনারে। 
জেগে উঠবেই যে ওরা,
নদীরা জাগবে, অনুভবেরা জাগবে,
প্রতিটি চাহনীর ভাঁজ খুললেই,
জেগে উঠবেই বেহুলার বাঁশির টান
এই বসন্তের হাওয়ারা দুললেই।

অনেক দেখছি , এই বসন্ত
একান্তই তোমাতে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে,
তোমাতেই বুনো জঙলিপনা
বাউলা বাতাস এসে ছুঁইয়ে দিচ্ছে প্রেম,
কপোলের খাঁজে খাঁজে
পরম সাধ আর আহলাদ,
বাতাসের মৌ মৌ ঘ্রাণ,
একান্তে জিতে নিচ্ছে নিখাদ আঁচল।
আজকের এই বসন্ত প্রকৃতির গাছ পালা ছেড়ে
তোমার ভেতরেই নেচে উঠছে ,
তোমার সিঁথির পথ ধরে
এই লোকালয়ে, এই গাঁও গেরামে,
ধূসর রোদে সটান হয়ে বিবস্ত্র হচ্ছে যেনো।

নিদেন পক্ষে আমার এই তল্লাটে,
আমার এই চৈত্রের পরন্ত ঠোঁটে,
এবারের মতো আপাতত কোন বসন্ত নেই,
নেই কোন আহলাদ, নেই কোলাহল দু চোখের, আমার ;
আমার প্রকৃতিতে এবারের বসন্ত শুধুই
ধুলোবালির ইতিহাস,
আম লিচুর মূকুলেরা মানুষ চিনে চিনে
বসন্ত ছড়াচ্ছে, ছড়াক।
এই বসন্তই শেষ বসন্ত নয়
কালে ভদ্রে আরো বসন্ত  আসবেই।

লেখাঃ ১৬/৩/১৫ইং

৬৫২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
জন্মঃ প্রকৃত নাম সরকার শহিদুর রহমান। ছদ্ম নাম দ্বীপ সরকার। জন্ম ১৯৮১ইং, ১লা মার্চ। মুসলিম পরিবারে। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন গয়নাকুড়ি গ্রামে। পিতা,মৃত হাবিবুর রহমান। দশ/বারো বৎসরে পিতাকে হারাই।  মাতা মোছাঃ আছিয়া বেওয়া। চার ভাই। পাঁচ বোন। ভাইদের মধ্যে ৩য়। শিক্ষাঃ গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষায় হাতে খড়ি। তারপর ওখান থেকে একই এলাকার দাড়িগাছা দারুসসালাম দাখিল মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয় । এখানেই শিক্ষার মুল ধারা শুরু।  ৪র্থ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বরাবরই ক্লাস ফার্স্ট এবং গোটা স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নাম্বার অর্জন করি। দিন রাত সমান করে পড়ার টান ছিলো। পড়া থেকে উঠিনি কোন সময়।স্কুল থেকে এসেই বই হাতে।শতবার ডেকে ডেকে ভাত খাওয়ানো। সেজন্য অনেকের বকা খেয়েছি। মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত একটানা রাত জেগে পড়েছি। এরকম কত রাত কাটিয়েছি বইয়ের ওপরে  তার গননা করা মুশকিল। তকে খেলাধুলার প্রতি কোন আকর্ষন ছিলোনা এখনো নেই। স্কুলের সকল ছাত্র ছাত্রী,শিক্ষক,এলাকার সকলেই মেধাবি ছাত্র ভাবতো, এবং সম্মান করতো। একবার ৯৯% ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত  হয়েছিলাম। এদিকে গান গজল হামদ নাত গাইতাম, কবিতা লিখতাম বলে সকলে শিল্পী এবং কবি বলে ডাকতো। গান গেয়ে মন জয় করতাম সকলের । বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে দিয়ে গান,হামদ নাত গেয়ে নিতো স্যারেরা। ৬ষ্ট/ ৭ম শ্রেণী থেকে কবিতা, গান, গজল রচনা করে অনুষ্ঠানে বলতাম। এখান থেকেই ১৯৯৫ ইং সালে ১ম বিভাগে দাখিল ( মেট্রিক) পাশ করি। আশানুরুপ রেজাল্ট হয়নি বলে স্কুলের শিক্ষকগন মন ভিজাতে পারেনি। আরো বড় স্বপ্ন ছিলো তাদের। প্রতি বৎসরে আমাকে চারটি করে পুরস্কার দিতো। ক্লাসের প্রথম,সমগ্র স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর, গান গাওয়া, রেগুলার স্কুলের জন্য। এর পর নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৭ইং সালে জেনারেল সেকশনে ৩য় বিভাগে এইচ এস সি পাশ করি। কিন্ত কাঙ্খিত ফলাফল না হওয়ায় চলমান স্বপ্নের ছন্দপতন ঘটলো। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে গেলো। তারপর সংসারে কিছুটা অর্থের দ্বৈন্যতা দেখা দিলো সংসারের ঝামেলা মাথা নিয়ে গাইবান্ধা জেলার কামদিয়া নুরুল হক ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই এবং ১৯৯৯ইং সালে এখান থেকে ২য় বিভাগে গ্রাজুয়েশন সম্পুন্ন করি। এর পর আর পড়াশোনার দিকে যেতে পারিনি। অদম্য সাহস এবং মেধা থাকার পরেও অর্থ দ্বৈন্যতা আর সামনের দিকে এগুতে দেয়নি। তার পর ২০০১ ইং সালে একই গ্রামের তহমিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই । বর্তমানে এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে,শান্তা মারিয়া শানু এবং ছেলে, মেশকাত। সাহিত্যে আগমনঃ ছোটবেলা থেকে একটু একটু করে লিখলেও তা বড়সড়ো করে রুপ নেয় বগুড়া লেখক চক্রের সাথে যোগ দিয়ে। মুলত এখানেই অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখা বের হতে থাকে। এসময় " কুয়াশা" নামে এক লিটিল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছিলাম। কবিতার ফোল্ডারও বের করেছিলাম দুটি। এর পর ধীরে ধীরে ব্লগ ফেসবুক,অনলাইন অনেক সাইটে পদচারনা। অভিজ্ঞতাঃ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০০৫ ইং সালে একটি বেসরকারী সংস্থায় মনিটরিং এবং অডিট অফিসার পদে চাকুরিতে যোগদান করি। এখানে প্রায় আট বৎসর চাকুরি করার পর শারিরিক অসুস্থতার কারনে আর চাকুরিতে যেতে পারিনি। এই দীর্ঘ আট বৎসর চাকুরির চাপে সাহিত্য থেকে দুরে ছিলাম। কিন্ত সয়নে স্বপনে জাগরনে তিলে তিলে কবিতাকে ভালবেসেছি এবং মাথা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনি একেবারে। প্রকট ইচ্ছা শক্তি আমাকে দীর্ঘ আট বৎসর পর হলেও কবিতার কাছে নিয়ে এসেছে। চাকুরির সুবাদে দেশের প্রায় ৬০টি জেলাসহ অনেক থানা,গ্রাম,ঐতিহাসিক স্থান,পর্যটন এলাকা ভ্রমন করার সুযোগ হয়েছে।
সর্বমোট পোস্ট: ১৪৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৭১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৯-৩০ ১৫:১৩:৩৮ মিনিটে
Visit দ্বীপ সরকার Website.
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ কাব্য দারুন কাব্যতা ………..মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম

  2. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর একটা বক্তব্য তুলে ধরেছেন কবিতার মাধ্যমে৷ ভাল লাগা রেখে গেলাম কবিতার কথা-ভাব-ভাবনায়….

  3. সুমন সাহা মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর কবিতা।

    শুভেচ্ছা প্রিয়।

  4. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভালো লাগলো… বার বার মনের মতো বসন্ত আসুক আর কবি হৃদয়কে ছুঁইয়ে যাক পবিত্রতায়…শুভকামনা…!

  5. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ কাব্যময়তা ফুটেছে, ভাল লাগল। শুভেচ্ছা কবি।

  6. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    //এই বসন্তই শেষ বসন্ত নয়
    কালে ভদ্রে আরো বসন্ত আসবে…।//

    এমন চমৎকার লিখতে থাকলে বারবার বসন্ত না এসে পারেই না ।
    চমৎকার লাগলো কবিতা ও কবিতার ভাবার্থ !
    শুভ কামনা কবিকে !

  7. জসিম উদ্দিন জয় মন্তব্যে বলেছেন:

    এই বসন্তই শেষ বসন্ত নয়
    কালে ভদ্রে আরো বসন্ত আসবেই।

    আপনার গদ্য কবিতাটি সুন্দর হয়েছে । কবিতার লাইনদুটির মতো আমাদের জীবন ।

  8. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সকলকে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top