Today 07 Mar 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

এই সময়ে

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১২/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1502বার পড়া হয়েছে।

আজ  সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল অনেকদিন পর। জানালা র পর্দা সরাতে ঘরটা আলোতে ভরে গেল। সকালের আলো টা মনে দেহে আলোর পরশ বুলিয়ে দিল যুথী র। পাশে স্বামী আর মেয়ে গভীর ঘুমে অচেতন। ঘুমের মধ্যে দুজনে হাসছে। কি সপ্ন দেখছে কে জানে। তার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। বাবা মেয়ে দুজনের ঘুমের ধরন এক।

সকালে এই সময় টা তার দিনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। যখন কাজ করত তখন ও খুব কম ই সূর্যের আলো প্রকৃতি উপভোগ করার সময়  পেত। এখন ও একই অবস্থা। এখানে কিছুক্ষণ গা ছাড়া দিয়ে থাকা মেয়ের স্কুল এ দেরী হওয়া হাসান এর সাথে ঝগড়া ওর কাজে দেরী হওয়া।তিন চুলা য় একটায় চায়ের পানি একটায় ডিম সিদ্ব দিয়ে আরেক চুলায় আটার পানি দিয়ে দিল। কিচেন এ কিছু বসালে স্মোক হওয়াতে জানালা পুরা খুলে রাখে। এখনো এখানে বেশ ঠান্ডা। এবার শীত টা সবাইকে ভোগাচ্ছে। ঘরে ঘরে সবার সর্দি কাশি লেগে আছে। যুথী আর মেয়ে একমাস ভুগলো।জানালা খুলতে গিয়ে চমকে লাফ দিয়ে সরে আসলো জানালা থেকে। সেই একই লোক তার বাসার সামনে কি করছে। একদৃষ্টিতে তার ঘরের দিকে তাকিয়ে আছে। গত পাচ দিন ধরে স্কুল এ প্রতিদিন তার যাওয়ার পথে এই লোক টিকে দেখছে। অস্বাভাবিক ভাবে তাকে দেখে। কি যেন বলতে চায়। স্কুল থেকে তাকে অনুসরণ করে বাসা পর্যন্ত চলে এসেছে দেখি। নাকি সে অতিরঞ্জিত করে সব ভাবছে ?হয়তবা লোকটা এই এলাকায় থাকে। এক এলাকায় থাকলে স্বাভাবিক ভাবে তার ছেলে মেয়ে হয়তবা এক ই স্কুল এ পড়ছে।এই জন্য হয়তবা কাকতালীয় ভাবে দেখা হয়ে গিয়েছে কয়দিন ?আবার তাকাতে লোক টি হাত নাড়ালো তার উদ্যেশ্যে। এবার সত্যি সে চমকে গেল। কিছুটা ভয় পেল। একটু পরে মেয়ে কে নিয়ে স্কুল এ যাবে .মনে তো হচ্ছে লোকটি তার উদ্যেশ্যে দাড়িয়ে আছে। স্বামী কে জানাবে নাকি ভাবছে। আজকে না হয় ঘর থেকে বের হবেনা। স্বামী না হয় মেয়ে কে পৌছে দিয়ে আসল।

নাস্তা বানানো খাওয়া চা দেওয়া হাসান এর লাঞ্চ বক্স রেডি করা মেয়ের লাঞ্চ বক্স রেডি করা পরের দুইঘন্টা নিশ্বাস বন্দ করে কাজ করতে করতে একপর্যায়ে লোকটির কথা বেমালুম ভুলে গেল সে। হাসান কে বিদায় দিয়ে মেয়ে কে ঘুম থেকে উঠালো। মেয়ে কে নাস্তা খাইয়ে রেডি করিয়ে তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হতে এবার একেবারে লোকটির মুখোমুখি।

লোকটির চেহারা একেবারে উলুঝুলো উদ্ভ্রান্তের মত । দেখে মনে হয় ঘুম খাওয়া দাওয়া এসব মানবিক ব্যাপার থেকে সে বঞ্চিত। চেহারা দেখে চমকে যেতে হয়।

প্লিস প্লিস বলে কিছু বলার চেষ্টা করলো লোকটি। যুথী তাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে বসলো।স্কুল এ যেতে যেতে সে স্বামীকে ফোন করলো। আর সে পারলনা টেনশন ধরে রাখতে।

শিগ্রী পুলিশ এ ইনফর্ম কর। অনেক দ্বিধা দ্বন্ধ এ শেষ পর্যন্ত পুলিশ এ ইনফর্ম করলো। দুপুরে স্কুল এ থেকে আসার পর পুলিশ স্টেশন থেকে অসংখ ফোন । তাড়াতাড়ি কাছের স্টেশন এ পৌছল স্বামী সহ .

সেই লোকটি বসে আছে। তাকে দেখিয়ে বলল

পুলিশ এর জিজ্ঞাসা এই কি সেই ব্যক্তি যে অনুসরণ করছে আপনাকে ?

যুথী মাথা নাড়াতে লোকটি বলল আমি আসলে ওনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে গত কয়েক দিন অনুসরণ করছি। আমি একজন ব্লাইন্ড মানুষ।

যুথী সহ পুলিশ এর লোক ও চমকে গেল অন্ধ শুনে।

আমার পরিচিত স্মৃতি জড়িত একটা জিনিস স্মেল পাওয়া তে অনুসরণ করছি।

ওনার হাতে কি কোনো ব্রেসলেট আছে ?

যুথী অবাক হয়ে দেখায়। এটা একট বহুমূল্যের সংগ্রহ। এক স্প্যানিশ মহিলা তাকে দুইবছর আগে হোটেল কাজ করার সময় চেক আউট এর সময় গিফট দিয়েছিল।

ও আমার গার্ল ফ্রেন্ড ছিল। এই ব্রেসলেট ওর জন্মদিনে আমি ওকে । একটা ঘটনায় আমরা দুজনে বিছিন্ন হয়ে গিয়েছিলাম। আমি এখন ও ওকে খুজছি।

তুমি কি বলতে পার ও কোথায় আছে ? কিছু লজ্জায় বেদনায় সে বিবর্ণ হয়ে যায় লোকটির কথা না শুনে তাকে ভয়ংকর লোক মনে করাতে।

ওই ভদ্র মহিলা গেস্ট এর কথা সে প্রায় ভুলে গিয়েছে। ওই হোটেল এর জব ছেড়ে এসেছে দুবছর হলো।

লোকটিকে হোটেল ম্যানেজার এর ফোন নাম্বার দিয়ে কেস টা উইথড্র করে নিয়েছে।শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিয়ে আসল।

ছয় মাস পরের ঘটনা। এক দুপুর বেলা। দরজায় নক। দরজা খুলতে দেখা গেল পোস্ট অফিস এর লোক হাতে বিশাল পার্সেল। কোথা থেকে এলো বিশাল পার্সেল ভাবছে আর খুলছে প্রেরক এনরিচ ব্ল্যাক। কিছু মূল্যবান গিফট সামগ্রী এক গিফট সপ এর দলিল যা তার প্রিয়তমা জিনিস গচ্ছিত রাখতে চায়। চিঠিতে ছোট নোট সহ –

“যদি দয়া করে প্রাপক এর হাতে জিনিস গুলি পৌছাতে পার ” কৃতজ্ঞ থাকব।

এই ভদ্র মহিলার দেখা আর পায়নি। অনন্যোপায় হয়ে হোটেল এর মিউজিউম এ রেখে দিল সংগ্রহ হিসাবে ঠিকানা সহ। যদি কখনো ভদ্র মহিলা আসে সে যেন সংগ্রহ করে নিতে পারে।

মেয়েকে পিক করতে আজকে দেরী হয়ে গেল যুঁথীর।মেয়েকে পিক করে সামান্য রাস্তা মাঝে মাঝে হেটে আসে।তাদের মুখোমুখি এক কাপলকে যেতে দেখে চমকে উঠে।স্মৃতির পাতা হাতড়ে চিনতে পারে সেই ভদ্রমহিলা তার হোটেল গেষ্টকে।মহিলা টি অন্ধ তার সঙ্গী ও দেখা যাচ্ছে অন্ধ।দুইজনের হাতে ক্রাচ চোখে গ্লাস।

যুঁথী চমকে বলে উঠে হাউ আর ইউ মিস এমিলিয়া?ইউ রিকগনাইসড মি।

ওহ ইয়েস ইয়েস হাউ আই ফরগট ইয়োর লাভিং ভয়েস।আন্তরিকভাবে কর্মরদন করল যুঁথীর সামনে।যুঁথী ভদ্রমহিলাকে সব ঘটনার বিবরন সহ তার পার্সেল এর কথা বলল যেটা হোটেলে গচ্ছিত রাখা আছে।

সেই বছরে সামারে পিকনিকে তারা গিয়েছে ব্লাফারস পার্কে।তাদের সামনে এক কাপলকে দেখে চমকে উঠেছে যেমন আনন্দে মন ভরে গিয়েছে তেমনি।এই সেই দুই অন্ধ ভদ্রলোক ভদ্রমহিলা।পরস্পর পরস্পরকে খাইয়ে দিচ্ছে খুশী মুখে।দুজনের দৃষ্টি নাই কিন্তু মুখে তাদের স্বর্গীয় আনন্দ।যদিও ঠিক সে তেমন কিছু যে করেছে তাদের জন্য তা নয় তবু এই যে কোন না কোনভাবে এই দুজনের জীবনের সাথে একটা সংশ্লিষ্টতা হয়েছে তা ভাবতে ভাল লাগছিল যুঁথীর তাদের হাসিখুশী মাখা আনন্দিত মুখটা প্রানভরে দেখছিল এবং এইদুইজন যে পরস্পরের দেখা পেয়েছে তাতে আল্লাহর কাছে সে করজোরে কৃতজ্ঞতা জানায়।

১,৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২০ টি মন্তব্য

  1. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    পাশে স্বামী আর মেয়ে গভীর ঘুমে অচেতন। ঘুমের মধ্যে দুজনে হাসছে। কি সপ্ন দেখছে কে জানে। তার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। বাবা মেয়ে দুজনের ঘুমের ধরন এক ———— অসাধারন অনুভব !!
    গল্পের আইডিয়া দুর্দান্ত আপি —— ! আপনার মত লিখেতে ইচ্ছে করে ———– ।। শুভেচ্ছা নিরন্তর ।।

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    জসিম ভাই এমনভাবে দুর্দান্ত প্রশংসা করেন যে নড়ে চড়ে বসতে হয়। আমি চলন্তিকার জন্য আজকে অন্য গল্প লিখেছিলাম নুতুন। ভূল ক্রমে ওটা পোস্ট না করে এই গল্প টা এখানে পোস্ট করেছি। এই লিখা টা আগের কিছু ভুল ছিল। আজকে ইচ্ছে ছিল কিশোর সাহিত্য পোস্ট করব চলন্তিকায়। ঠিক আছে কালকে হয়তবা করব।

  3. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার ও আপনার মত কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে জসিম ভাই। দুর্দান্ত কবি আপনি। ধন্যবাদ আপনাকে কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  4. শাহানারা রশিদ ঝর্ণা মন্তব্যে বলেছেন:

    bah moon apu samotker anuvutir samahar tomar ai coto galpotir majhe ..seshtao sundor .. anek valo laga o antorikata roilo tomar jonno !

  5. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার গল্প খুবই চমৎকার হয়। মাঝে মাঝে হিংসে হয় গল্প লিখতে পারি না বলে। শুভকামনা রইলো।

  6. আলমগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    হুমম মন্দ নয়। তবে আপনি এর চেয়ে ভাল লেখেন।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    এই লেখা টা একটু কাচা হাতের হয়ে গেছে। আলমগীর ভাই ঠিক ই বুঝেছেন।

  8. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ভাই কমেন্টসের জন্য
    শুভকামনা রইলো।

  9. শাহ্‌ আলম বাদশা মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনিতো দেখি সব্যসাচী; এতো লেখেন যে, কোনটা রাখি কোনটা পড়ি অবস্থা

  10. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    লজ্জা পেয়ে গেলাম আপনার প্রশংসায় । সব্যসাচী আপনি আমি না. সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ আপনার অবাধ। আমার এখন অনেক শিখার আছে। কমেন্টস করে খুশি করে দিয়েছেন। আপনি শ্রদ্ধাভাজন। ভাল থাকবেন। কমেন্টসের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top