Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

একজন হুমায়ূন আহমেদ ও অসংখ্য হিমু

লিখেছেন: tum | তারিখ: ১৯/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 859বার পড়া হয়েছে।

আরও অনেকের মতোই আমি তার কলমের জাদুতে মুগ্ধ ছিলাম এবং থাকবো । শুধু তার কলম বলি কেন? তার কথার ধরন সহজ-সরল উক্তিও আমাকে তার কাছে টেনে এনেছে। বহু বছর পর তিনিই এদেশের সাহিত্য প্রিয় মানুষকে দিয়েছেন এক নতুন ধারার সাহিত্য উপহার। পাঠক তার লেখা পড়েছে এক নিঃশ্বাসে। আবার নাটক বা চলচ্চিত্র যাই বলেন না কেন মানুষ অবাক হয়ে দেখেছে সহজ অথচ কত সুন্দর উপস্থাপনা হতে পারে মানুষের এই জীবনের সুখ দুঃখ। এদেশের মানুষের কাছে তিনি একজন শুধুমাত্র সাহিত্যিক ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন নাটক ও চলচিত্রের অন্যতম সফল নির্মাতা। তার হাতে সোনা ফলতো। তিনি যে কাজই হাত দেন না কেন সফলতা এক প্রকার নিশ্চিত ছিল। তিনি প্রথম বাংলা সাহিত্যকে নতুন ধারা উপহার দেন। মধ্যবিত্তের কাহিনীগুলোকে সহজ আর সাবলীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। এছাড়া অসামান্য রচনাশৈলী, রসবোধ যা পাঠককে ধরে রাখে এসবে ছিল তার অসামান্য দক্ষতা। বলা যায় কথাসাহিত্যিক শরত্চন্দ্রের পর তারুণ্যে সাড়া জাগানো কোন লেখকের জন্ম হয়নি। তবে ওই একটা কথা ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর সে কোথা কবে’। সেই ধারাতেই তিনি গত ১৯ জুলাই ২০১২ আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। আমাদের মাঝে তাকে আর কখনোই পাবো না। তার সরলতা ভরা মুখ আমরা আর কখনো দেখবো না। স্পষ্ট কথা বলা একজন মানুষকে হারিয়েছি। কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন আমাদের মাঝে তার সৃষ্টির সাথে সকলের মণি হয়ে।
অনেক দিন আগে আমি যখন দেবী পরা শুরু করি তখনো এই ধরনের ভৌতিক কাহিনী তেমন পড়িনি। দেবী পরার প্রথম দিকে ভয় পেতে লাগলাম। এবং মনে আছে এই বইটার প্রথম দিকে নাম ছিল মিসির আলীর অমনিবাস। আমি এই বইয়ের সব উপন্যাস পরে শেষ করে ফেললাম। শেষের দিকে ভয় কমতে লাগলো। তার কারন এই মিসির আলী চরিত্রটি। প্রতিবারই একটা সমাধান দিয়েছেন এইসব ভয়গুলির পেছনে। আমি বলতে গেলে এই লজিকাল ব্যক্তির কার্যকলাপে মুগ্ধ। এর পর অবশ্য এর আলাদা আলাদা পার্ট বের হয়েছে। এরপর একদিন হিমু পড়ে ফেললাম। হিমু সিরিজের বইয়ের প্রায় সবগুলোই আমি পড়েছি। সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যাস করা এই বইগুলির সবচাইতে ভাল লাগে হিমুর বাবার উপদেশবানী। একেকটা উপদেশ আমার কাছে মনে হয় ধ্রুব সত্যি। হুমায়ূন আহমেদ আজ নেই কিন্তু সেই উপদেশ আমার মনে গেঁথে আছে। অনেক ছেলের মাথার মধ্য ততদিনে হিমু হবার বাসনা চেপে বসেছে। অনেকে রাস্তায় হলুদ পাঞ্জাবী পরে চলাফেরা করা শুরু করে দিয়েছে। সেই পাঞ্জাবীর আবার পকেট নেই । পা বেশীরভাগ সময়ই খালি। সেই খালি পায়ে তপ্ত দুপুরের পিচ ঢালা পথে হিমু হেঁটে বেরিয়েছে। কে ছিল এই হিমু? এই অ্যান্টি লজিক  চরিত্রটি? দুটি চরিত্রকে সম্পূর্ণ বিপরীত দিক থেকে দাঁড় করিয়েছেন এবং সমান জনপ্রিয় করে তুলেছেন। অনেকের মুখেই শুনে থাকি মিসির আলী আসলে লেখক নিজেই। এরপর আসি শুভ্র র কাছে। অত্যন্ত বিনয়ী এবং ভারী চশমা পরা একটি ছেলে। কত লেখা এই শুভ্রকে নিয়ে। পাঠকে আজো মনে করিয়ে দেয় ‘ এই শুভ্র এই!”। কতবার হুমায়ূন আহমেদের বই পরতে গিয়ে রুপা চরিত্রটি খুঁজে পেয়েছি। তবে আমি সব কিছুর মধ্য এই হিমু হতে চেয়েছি। বোধকরি আমি নই আমার মত অনেকেই যারা একটু বোহেমিয়ান জীবন পছন্দ করেন তারাই একবার হলেও হিমু হতে চাইবে। হিমুরা সত্য বলে। সরল আকর্ষণের একটা ক্ষমতা হিমুদের মধ্য আছে। যে ক্ষমতা স্বয়ং লেখকের মধ্যই ছিল। উনি ছিলেন সদা হাস্য একজন। প্রখর অন্তর্দৃষ্টি সম্পূর্ণ একজন যে কিনা মানুষকে ভাল চিনতে পারে , ভালবাসতে পারে এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা তার ছিল। তার একটা কথা আমার আজো মনে পড়ে ‘ পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই। “ পাঠকে ধরে রেখেছেন কথার জাদুতে। যে কথাগুলো আমাদেরই মনের মধ্য ঘোরপাক খেয়েছে কিন্তু বোধশক্তির অভাবে প্রকাশ পায়নি। হুমায়ূন আহমেদ সেই কথাগুলোকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

 

৯৭০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৭৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৭ ১৬:০২:৫৮ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    আসলে হুমায়ুন আহমেদের তুলনা তিনি নিজেই ।

  2. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    আমিও আপনাদের সাথে একমত।

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    আমিও সহমত ।

  4. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো হইছে

    দারুন লিখা
    পড়ে ভালো লাগলো

    শুভ কামনা জানাচ্ছি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top