Today 12 Dec 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

একটা আতংকের মধ্যে আছি ।

লিখেছেন: নিঃশব্দ নাগরিক | তারিখ: ২৪/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 539বার পড়া হয়েছে।

ইদানীং একটা আতংকের মধ্যে আছি । যা দিনকাল পড়েছে আর চারিদিকে যা দেখি তাতে আতংকিত হওয়া দোষের কিছু দেখি না । মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়া যদি সচল থাকে তবে আতংকিত না হওয়াটাই বরং আতংকের । অবশ্য নিঃসংশয় ভালো থাকার যে অসম্ভব সহজ যোগ্যতা আমরা নির্ধিদ্বায় অর্জন করেছি তার বিচারে আমাদের আতংকিত হওয়া অবশ্যই

বিরাট অযোগ্যতা । এত এত অসম্ভব নিয়ে জন্ম গ্রহন অতঃপর অতি অসম্ভবের মধ্যেও বেড়ে ওঠেও  যার অস্বাভাবিক গ্রহনক্ষমতা সীমিত তার জন্যই বরং সমাজের আতংকিত হওয়ার কথা । কিন্তু ব্যক্তির মতো সমাজেরও বেড়ে ওঠার গল্প একই । তাই এ যাএায় সমাজের কাছে আমাদেরকে জবাবদিহিতা করতে হয় না । এমন উদারতার জন্য সমাজের কাছে কিছু কৃতজ্ঞবোধ আমাদের থাকা উচিত । শুধু সমাজ কেন পুরো রাষ্ট্রের কাছেই বরং আমাদের অসীম কৃতজ্ঞাবোধ থাকা উচিত । কেননা অসংখ্য অসম্ভব সমাজের সম্মিলিত অবিসম্ভব্যতাই আমাদের রাষ্ট্র । সুতরাং চূড়ান্ত কৃতজ্ঞতাবোধ রাষ্ট্রের কাছেই সমর্পন করা সমীচিন ।

পৃথিবীতে টিকে থাকতে গেলে প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই । আর আমরা জন্মই নেই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে । এই বিষয়ে রাষ্ট্রচিন্তা আমাদের আশ্বস্ত করলেও বাস্তবতা আমাদেরকে হতাশ করে । কারন-অকারন, সমস্যা-সমাধান সে এ লেখার উপলক্ষ নয় । জন্মের পর অতি অসম্ভব অবহেলাও আমাদের বেড়ে ওঠা রুদ্ধ করতে পারে না । প্রকৃতির খেয়ালে কিছু প্রান আমাদের সৎকার করতে হয় বটে । কিন্তু সে’তো যমদূত আর রাষ্ট্রের পারস্পরিক বিরোধের জের । এখানে রাষ্ট্রের আতংকিত স্বাস্হ্যসেবা যমদূতের নিত্য যাতায়ত নিশ্চিত করে । এ নিয়ে যমদূতেরও নিশ্চয়ই কম আপওি নেই । কেননা প্রান সংহারীর কাজটা’তো তাকেই করতে হয় । যমদূতের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আমরা উঠে পড়ে লাগি বিদ্যা অর্জনে । সে আর এক লন্কাকান্ড । কোন বিদ্যালয়ে বই দুই তিনটা’তো কোন বিদ্যালয়ে কুঁড়ি বিশেক । কোথাও বাংলার তরজমা কোথাও পাশ্চ্যত্য ইংরেজীর আস্ফালন । দেহের ওজন বইকে বহন করতে না পারলেও বিদ্যাকে বিসর্জন দিবে এমন হীন অভিভাবক আমরা নই । তাই সকাল হতেই স্কুলের সামনে আমরা লম্বা লাইন দিয়ে দেই । আর এক দল গোটা দু”য়েক বইয়ে বিদ্যাকে বন্দী করে তরতর গতিতে এগিয়ে যায় । এবং একসময়ে বিদ্যাকে বিষ ভেবে যাতনায় ছটফট করে । এছাড়াও রয়েছে এতিমের শিক্ষা নামক আর এক প্রকার শিক্ষা । যাদের শিক্ষার আর্থিক সামর্থ্য নেই, যাদের অভিভাবক যমদূতের কাছে জীবন দান করে নতুন প্রানকে ভাসমান রেখে গেছেন তাদের জন্য এই শিক্ষা । রাষ্ট্র এবং সমাজের দান এই এতিম শিক্ষা ব্যবস্হা । রাষ্ট্র এবং সমাজ তাদের জন্য প্রশ্নবোধক ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক রেখে মহানুভবতা প্রকাশ করে যায় এবং একসময়ে সে মহানুভবতার প্রতিদান হিসেবে সবস্তরে খড়গ হস্তে নেমে পড়ে । তারপর তড়িঘড়ি করে ডাক পড়ে যমদূতের ।

বিদ্যা অর্জনতো যথেষ্ঠ হলো । এবার নিজের পায়ে দাঁড়ানো যাক । নিজের পায়ে দাঁড়াতে গিয়ে অধিকাংশই ভীড় করে চাকুরীর দু”য়ারে । তারপর লড়াই । উপলড়াই । নিজ যোগ্যতা , বহিঃযোগ্যতা সবকিছুর মেলা এখানে । একবার পেয়ে গেলে আর রক্ষে নেই । সুদে-আসলে সকল কিছু আদায়ের জন্য একেবারে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে । না নেমেও বা উপায় কি ? রাষ্ট্রের যা বিবেক বোধ ! মাসে সব মিলে বেতন যদি হয় পনের হাজার তবে বাসা ভাড়া বিশ হাজার । মাসিক চিকিৎসার ব্যয় যদি হয় তিনশত টাকা তবে ডাক্তারের একবারের ভিজিট পাঁচশত টাকা । ঠেলা সামলাও ।

চাকুরীর মতো বন্দী পেশা আপনার অপছন্দ । আপনি ব্যবসা করবেন । কোন সমস্যা নেই । শুধুমাএ সরকারী বেসরকারী ট্যাক্স্ আর পাড়াতো চাঁদার কথা মনে রাখলেই হলো । তারপর চালের সাথে কন্কর মেশালেন না কন্করের সাথে চাল মেশালেন সে আপনার ইচ্ছে । রাষ্ট্র আপনার স্বাধীন ব্যবসায় হাত দিবে না । শুধুমাএ মাসিক মাসোহারা ঠিক থাকলেই হলো । নিশ্চিন্তে ব্যবসা করে যান ।

জগতে অনেক কাজ উদ্ধার করেছেন এবার একটু অসুস্হ টসুস্হ হবেন, কোন অসুবিধা নেই । শুধুমাএ আপনার চিন্তায় রাষ্ট্র  আপনার বাড়ীর পাশেই নানান রকম স্বাস্হ্রসেবা দিয়ে যাচ্ছে । আপনি ভুলেও মানিব্যগে করে টাকা নিয়ে যাবেন না । তাতে বড়জোর দু’চারটা প্যারাসিটামলের পয়সা হবে । কিন্তু আপনার’তো নানান ল্যাব পরীক্ষা লাগবে । তাই আগে থেকেই টাকার থলি ঠিক করে রাখুন । আর একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন । কোন চিকিৎসাই ভুল চিকিৎসা নয় । যদি আপনার ডানপাশের কিডনীর পরিবর্তে বামপাশের কিডনী কেটে ফেলে তবু গোৎসা করা যাবে না । বরং নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবুন । আপনি’তো নিদেনপক্ষে ডাক্তারের চুরির নিচে যেতে পেরেছেন । এ সৌভাগ্যই বা ক’জনার হয় ।

শুরু করেছিলাম নিজের আতংক থাকার কথা দিয়ে । তারপর বরাবর ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে এই

পর্যন্ত চলে এসেছি ।  এবার আতংকের কারন জানিয়ে শেষ করি । গতকালের (০৬.০৬.২০১৩) পেপারে দেখলাম কোন এক ব্যাংকের করিৎকর্মারা যেন  কয়েকজন নারীকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করেছেন । কারন তাদের স্বামীরা ঐ ব্যাংক থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যাংকে চাকুরী নিয়েছেন । সুতরাং তাদের চাকুরী করার কোন অধিকার থাকতে পারে না । ভাই আমিও’তো কোথাও না কোথাও চাকুরী করি । আমার কোন স্বজন কোথায় কি করে গেছেন কে জানে ? তাই আতংকের মধ্যে আছি ।

 

আমরা সতীদাহে’র যুগে ফিরে যাচ্ছি নাকি ?

 

…………..নিঃশব্দ নাগরিক ।

 

৫৮৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
an impossible one with the maximum possibility to be a possible one.
সর্বমোট পোস্ট: ১২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩১৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-৩১ ১৭:৪৬:৩৭ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    এবার আতংকের কারন জানিয়ে শেষ করি । গতকালের (০৬.০৬.২০১৩) পেপারে দেখলাম কোন এক ব্যাংকের করিৎকর্মারা যেন কয়েকজন নারীকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করেছেন । কারন তাদের স্বামীরা ঐ ব্যাংক থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যাংকে চাকুরী নিয়েছেন । সুতরাং তাদের চাকুরী করার কোন অধিকার থাকতে পারে না । ভাই আমিও’তো কোথাও না কোথাও চাকুরী করি । আমার কোন স্বজন কোথায় কি করে গেছেন কে জানে ? তাই আতংকের মধ্যে আছি ।

    আপনার লেখা পড়ে নড়েচড়ে বসি।লেখার বক্তব্য মেসেজ সবসময় ব্যতিক্রমী ভাবনা চিন্তার অবকাশ দেয়।চমৎকার লেখা পড়লাম আবার ও।অসংখ্য ধন্যবাদ এই লেখার জন্য।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ইয়া মাবুদ এইসব কি… চাকরী যাওয়া এত সহজ

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আতংকের মধ্যেই জীবন পার করতে হবে।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখা ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top