Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ওহাবি আন্দোলন

লিখেছেন: গোলাম মাওলা আকাশ | তারিখ: ২২/১২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 608বার পড়া হয়েছে।

>বইঃ ওহাবী আন্দোলন
>লেখকঃ আবদুল মওদুদ
>প্রকাশনীঃআহমদ পাবলিশিং হাউস/২০০৯
>মূল্যঃ১২০ টাকা/ পেজ১৩৬

**১৮৭০ সালে প্রথম Calcutta review নামাংকিত কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক পত্রিকায় এক সংখ্যায় Wahabis in India’ পর পর তিনটি সুবৃহৎ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধ লেখক ইংরেজ, কিন্তু ইচ্ছা করেই নিজের নাম গোপন রেখেছিলেন ‘Anonymous’ ছদ্মনামের আবরণে। বেনামা-লেখক যিনিই হোন,তিনি ওহাবী, ফারাজী ও তিতুমীরের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তিনি সম্যক ওয়াকিফহাল এবং সরকারী নথিপত্র থেকে তথ্য সংগ্রহেও ছিল তার অবাধ স্বাধীনতা । সম্ভবতঃ ভারতে ওহাবী আন্দোলন সম্পর্কে এটিই ছিল ইংরেজিতে লেখা সর্বপ্রথম তথ্যবহুল সুবিস্তৃত আলোচনা—যার দৃষ্টিভংগি ছিল সমকালীন শাসক সম্প্রদায় ইংরেজদের ও তাদের অনুগ্রহ-নির্ভর হিন্দুদের স্বার্থগন্ধী | এজন্যে প্রবন্ধগুলির আগাগোড়াই মুসলমান আজাদী যোদ্ধাদের কার্যকলাপ আশা-আকাঙ্ক্ষা এমন কি ধর্মীয় বিশ্বাসকেও বক্ৰদূষ্টিতে লক্ষ্য করা হয়েছে, স্বার্থ-প্রণোদিত হয়ে বিকৃত করা হয়েছে এবং সে সবের তীব্র নিন্দাও করা হয়েছে।
** ১৮৭০ খৃষ্টাব্দের ২রা আগষ্ট তারিখের হিন্দু পেট্রিয়ট নামক উগ্র মুসলমান-বিদ্বেষী ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় একটি বৃহৎ মন্তব্য প্রকাশিত হয় ফারাজী, ওহাবী প্রভৃতি মুসলমান মজহাবগুলির আন্দোলনকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে। সেগুলিকে বলা হয় বিপজ্জনক সংস্থা, এমনকি বর্বরতা ও ধর্মান্ধতাহেতু তৎকালীন ভারতের ও ‘ন্যায়পরায়ণ’ ‘স্বার্থশূন্য মহাত্মা ইংরেজ বাহাদুরের প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। অতএব তাদের যদি আমাদের বুকের উপর শক্তি সঞ্চয় করতে দেওয়া হয় তাহলে রাষ্ট্রের সমূহ বিপদ ঘটতে পারে। এজন্যে সরকারের উচিত হচ্ছে, ফারাজী ও ওহাবীদের সম্বন্ধে এবং আরও যেসব সম্প্রদায় ভারতের ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক উচ্চাশা পোষণ করে, সে সবের তন্নতন্নভাবে তদন্ত করা ।

আলোচ্য তিনটি প্রবন্ধে উপস্থাপিত এই প্রশ্নগুলির জওয়াব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে স্বার্থগন্ধ দৃষ্টি দিয়ে।
প্রথম প্রবন্ধটি ১৮৩১ সালে সৈয়দ আহমদের মৃত্যুকাল পর্যন্ত, প্রথম প্রবন্ধে প্রামাণ্য তথ্যাদি থেকে ওহাবী’-চিহ্নিত আন্দোলনের প্রকৃত রূপরেখা চিত্রণের প্রয়াস করা হয়েছে এবং প্রমাণ করতে চেষ্টা করা হয়েছে যে, পাক-ভারতীয় আন্দোলনটিকে ‘জেহাদী’ আন্দোলন বলাই প্রশস্ত, কিন্তু কিছুতেই ‘ওহাবী’ নামাংকিত করা চলে না।

দ্বিতীয়টিতে তিতুমীরের ভূমিকা ও সৈয়দ আহমদের পরবর্তী নেতাদের কার্যকলাপ ও ‘জেহাদী’ আন্দোলনের সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রথম নায়ক সৈয়দ আহমদ শহীদের তথ্যনির্ভর ।

তৃতীয় প্রবন্ধে বিলায়েত আলী ও ইনায়েত আলীর উদ্যম, কর্মপ্রবাহ ও তাদের মৃত্যু এবং সিত্তানার ঘাটি ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত মুজাহিদদের কর্মময় জীবনের আলোচনা আছে। বালাকোটের যুদ্ধের তথ্যনির্ভর ইতিহাস বিস্তৃতভাবে উন্মোচিত হয়েছে।

চতুর্থ প্রবন্ধে আহমদউল্লাহ’র বিপ্লব ভূমিকাটি বর্ণিত হয়েছে এই উদ্দেশ্যে যে, তার মতো দায়িত্বশীল উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিও কিরূপ অসংকোচে ‘জেহাদী’ আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন । জেহাদীদের বিচারকর্মের ধারাও এই প্রবন্ধ থেকে কিছুটা বোঝা যাবে।

৬০৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি খুব সাধারণ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৩৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৯৭৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২২ ১৬:৩০:৪৭ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top