Today 21 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ওয়ানওয়ে।। ১ম পর্ব

লিখেছেন: ডাঃ খোন্দকার পারভেজ আহমেদ | তারিখ: ০৪/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 584বার পড়া হয়েছে।

আজ মনে হয় ওয়ানওয়ের ফরম দাখিল করার শেষ দিন।সকাল থেকেই ভাবছিলাম ফরমটা দাখিল করে দেই।জানি ফর্ম দাখিল করলেও আমার ফর্ম কৃতকায হবে না। কারন ভাগ্য নামক একটা জিনিস আছে বলে আমারা বিশ্বাস করি। আর সেই যিনিষটা আমার খুব খারাপ , আর এর যথেষ্ট প্রমান এর মধ্যে আমি পেয়েও গেছি।

 

সৌন্দর্য, যৌবন আর সৌভাগ্য কখনো একসাথে সভা করে না… তাই এরা মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ভাবে আসে না ।

 

কারো কারো জীবনে তিন নাম্বার জিনিসটার উলটা বেশি আসে। উলটাটা মানে কি- দুর্ভাগ্য মাঝে মাঝে মনে হয় দুর্ভাগ্য হোল যমজ ভাই যখন আসে সব গুলো একসাথে আসে…।

 

 

কোন কোন দিক দিয়ে যদি ধরি আমার ভাগ্য একাবারে খারাপ বলা যায় না। তাই আবার ভাবছি শুধু শুধু টাকাই নষ্ট। মানে এইটার জন্য মানে ফরম জমা দিতে হবে এবং এর জন্য টাকাও লাগবে।আবার ভাবছি যদি সিলেকটেড হয়ে যাই তাহলে কি করবো। নানা রকম চিন্তা ভাবনা করার পর ওয়ান ওয়ের ফরম ডাউনলড করলাম। আমার ল্যাপটপে সেভ করলাম।এবার বলছি কিসের ফরম।আমারা সবাই জানি ২০২৩ সালের মধ্যে মঙ্গলে বসতি স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্স-ওয়ান নামক অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান। খবরটি এখন কম-বেশি সবারই জানা। শর্ত একটাই মঙ্গলে বসতি স্থাপনের এ মিশনের যাত্রা ওয়ানওয়ে। অর্থাৎ, মঙ্গল অভিযাত্রীর কেউই ফেরত আসবেন না পৃথিবীতে। এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি আবেদনপত্র জমাও পড়েছে প্রায় সব দেশ থেকেই আবেদন করেছে কেউ না কেউ।আবেদনের দিক থেকে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র। সেখান থেকে এ পর্যন্ত আবেদন ৩৭ হাজার ৮৫২ জনের। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন থেকে আবেদন পড়েছে ১৩ হাজার ১২৪টি। এরপর যথাক্রমে টপ টেনে রয়েছে ব্রাজিল (৮,৮৬০), ভারত (৮,১০৭), রাশিয়া (৭,১৩৮), ব্রিটেন (৬,৯৯৯), মেক্সিকো (৬,৭৭১), কানাডা (৬,৫৯৩), স্পেন (৩,৬২১) এবং ফিলিপাইন (৩,৫১৬ জন)। মাত্র ৪টি দেশ থেকে কোন আবেদন জমা পড়েনি। সেগুলো হলো- উত্তর কোরিয়া, গ্যাবন, ইকুয়েটরিয়াল গিনি এবং গ্রীনল্যান্ড।আমাদের অনেক ভাগ্য ভালো যে, ৯ জন আমার দেশ থেকে আবেদন করেছেন। মনে হয় আমাকে দিয়ে আরও একজন বারতে পারে।

 

আবেদনকারীর ৯ জন বাংলাদেশী। মার্স-ওয়ানের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে এবং মানসিকভাবে সুস্থ যে কেউই আবেদন করতেপারবেন।আবেদনের ফি ৭ ডলার। আবেদনপত্র জমা দেয়ার সর্বশেষ তারিখ ৩১শে আগস্ট। আবেদনের জন্য বিশেষ কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।

মার্স-ওয়ান ৩০০টি ভৌগোলিক অঞ্চল চিহ্নিত করেছে। ২য় রাউন্ড ইন্টারভিউয়ের জন্য সব মিলিয়ে ৫০-১০০ জন আবেদনকারীকে বাছাই করা হবে। ২ রাউন্ড ইন্টারভিউয়ের পর চূড়ান্তভাবে ২৮ থেকে ৪০ জনকে মিশনের জন্য নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২০১৫ সালে। মিশনের দু’টি রোভার যাত্রা করবে ২০১৮তে এবং কার্গো মিশন ২০২০ এ। মঙ্গলের উদ্দেশে প্রথম মানব-মানবীরা যাত্রা করবেন ২০২২ সালে।

 

ওয়ানওয়ে মানে একদিকে যাত্রা।এই ওয়ানওয়ে আবার একটু ভিন্ন।এর মানে আপনি জীবিত থাকবেন কিন্তু আপনি পৃথিবীর সাথে  কোন যোগাযোগ করতে পারবেন না, মানে আপনি প্পৃথিবীর ভালবাসা,প্পৃথিবীর গন্ধ, প্পৃথিবীর সুখ,কষ্ট,সকল আদল থেকে বঞ্ছিত হবেন। হঠা্৲ত করে আমার মনে হোল আচছা একটা মানুষ কখন এমন কঠিন একটা সিন্ধান্ত নিতে পারে। এমন সুন্দর প্পৃথিবীর সাথে কোন যোগাযোগ থাকবে না, তাড় দেহে প্রান থাকবে, তাড় অবাস্থান হবে প্পৃথিবীতে না, সেটা হবে মঙ্ঘল গ্রহে ।আমার মনে হয় দুটো কারনে মানুষ এই কঠিন সিন্ধান্তে উপনিত হতে পারে, ১ম কারন হতে পারে সে পৃথিবীতে থাকার ইচেছ হারিয়ে ফেলেছে,তাড় কোন কিছু ভালো লাগে না, কওকে ভালো লাগে না, প্পৃথিবীর কোন শুধা পান করতে আর মন চায়  না। ২য় কারন হতে পারে অজানাকে জানার  প্রবল ইচেছ।আমার ওয়ানওয়ে ফরম জমা দেওর কারন কোনটা হতে পারে আমি নিজেও বুজতে পারছি না। তাহলে কি পৃথিবীতে ১ লক্ষ মানুষ বসবাস করার ইসছে হারিয়ে ফেলছে। ক্যান এমন হবে কারন জানতে খুব ইচেছ হচেছ।

 

এইবার ফরম পূরণ করা শুরু করলাম।কোন ফরম পূরণ করা অনেক কঠিন একটা কাজ।কারন জন্মের পর থেকে কত যে ফরম পুরুন করেছি তাড় কোন হিশাব নাই।আমার মনে হয় পাঠক আপনারও আমার মতো   ফরম   পুরুন করেছেন। যেমন স্কুল এ যাবেন তাড় ফরম, কলেজে যাবেন তাড় ফরম, চাকরী করতে যাবেন তাড় ফরম, বিয়ে করতে জাবেন তাড় ফরম,আমার মনে আছে আমার শেষ শিক্ষা জীবন আরম্ভ করার জন্য আমি সবচে বেশি ফরম পুরুন করেছি। কাওকে দিয়ে এই ফরমটা পূরণ করালে ভালো হতো। এখনও ১০ ঘণ্টার মত হাতে সময় আছে। শুরু করা যাক। নিজের নাম, প্রথম পার্ট, শেষ পার্ট, মাতার নাম, পিতার নাম,জন্মের তারিক,সব বিত্তান্ত লিখতে হচেছ। হটাত করে যেন  ঘুমে দুচোখ জরিয়ে আসছে। মনে হোল একটু রেস্ট নিয়ে, পরে বাকিটা পুরুন করে ,ফরমটা দাখিল করে দিবো। বিছানাতে জাওয়ার সাথে সাথে গভীর নিদ্রায় চলে গেলাম, আর তখন শুরু হোল  মঙ্গলে যাত্রার স্বপ্নের গল্প।

 

সকাল ৯ টা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েছি। আজ ছুটি তাই ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে যাকরি তাহলো নিজের যোগাযোগের যে বাক্স আছে আমার ডেস্কে শেটা চালু করা মানে ল্যাপটপ অন করা। আজও তাড় বাতিক্রম হল না। আর অন করে পথমেই যা করি তাহলো মেইল চেক করা। কারন জীবনের কোন কোন মুহূরতে এই মেইল যেন জীবনের মড় ঘুরিয়ে দিতে পারে আমাদের দেশের মেয়েদের মতো। কেমন ধরুন খুব গরিব ঘরের কোন সুন্দরি যুবতী মেয়ে ।মেয়েটা লেখা পরাতেও তেমন ভালো না। কিন্তু সুন্দরী হওয়ার কারনে  তার গন্তব্য হতে পারে প্পৃথিবীর খুব ভালো কোনদেশে, তাড়  লাইফ পার্টনার হতে পারে কোন ডাঃ বা ইঞ্জিনিয়ার, বা কোন বড় ঘুষখোর সরকারি কর্মচারী। এইটার জন্য আমাদের দেশের সুন্দরী রমণীরা খুব কমই মেধাবী হয়। কারন তারা যানে তাড় জন্য প্পৃথিবীর কোন না কোন জায়গাতে কেও সারাদিন বই নিয়েয় বশে আছে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য।হ্যাম মাঝে মাঝে আমাদেরও যে এমন হয়না তানা। ধরুন আমার জীবনে  এমন ঘটনা ঘটেছে দুইবার, আমি দেশের বাইরে পরালেখা করতে গিয়ে একবার একটু টাকার সমস্যায় পরলাম।আমি খুব চিন্তিত ছিলাম হটা্্ কোন এক সকালে মেইল চেক করে দেখি আমার একটা শিক্ষাবৃত্তি হয়ে গেছে কারন ৩মাস আগে আমি ওইটার জন্য ফরম জমা দিয়ে ছিলাম। আমার বেলাতে এমন মনে হয়েছিল সেইদিন। ২য় হয় আমি যখন পিএইসডি ঙ্কলারশিপ জন্য পুরো শিক্ষাবৃত্তি পাই। সেইদিন আমি মেইল চেক করেছিলাম দুপুর বেলাতে আমিও আনন্দে আত্মহারা ছিলাম। মনে হয়েছিল প্পৃথিবীর সবসুখ আমাকে ঘিরে ছিল। আবার ধুরুন আপনি কোন লোভনিও চাকরির জন্য আবেদন করেছেন সকালে মেইল চেক করে দেখলেন আপনি চাকরিতে নিরবাচিত হয়েছেন।কাজেই কোন কোন ইমেইল কোন কোন সময় আপনার জীবনের চিত্র পালটে দিতে পারে। আর এই আশাতেই মনে হয় প্রতিদিন ইমেইল চেক করা হয় সবার আগে।আমার মনে হয় এইকাজটা অনেক পাঠক করে থাকেন।

 

আজ  মেইল অন করে যা দেখলাম তাহলো একটা মেইল আসছে মার্স-১ থেকে। মেইল যে করেছেন তাড় নাম জ্যাক ফোস্ট এবং সে বলছে আনন্দের সাথে বলছি আপনি প্রথম ইন্টারভিউ এর জন্য সিলেকটেড হয়ছেন। আপনি যথারীত পরের মাসের ১৫ তারিখ এর মধ্যে ছলে আসবেন।তারা এয়ার টিকিট অন্য আনুশাঙ্গিক জিনিস পাঠিয়েছে ।আমি যথারিত যাওয়ার জন্য সবকিছু রেডি করলাম। শেষ সময় মা প্রব্লেম করলো। দেখলাম আমার পাসপোর্ট ও অন্য জিনিষ পাত্র পাওয়া যাচেছ না। এটা আমার জন্য প্রথম না। এর শিকার আমি এর পূর্বেও হয়েছি।আমি যখন পড়াণ্ডনার জন্য দেশের বাইরে আসবো। সব কিছু ঠিক আমার বাবা বলছিল চল তর টিকিট ফিরিয়ে দিয়ে আসি। মা অবশ্য সেদিন কোন বাধা দেইনি পড়াশুনার জন্য মা সব কিছু মুকবুঝে সহ্য করতে পারে কিন্তু এমন করছে কেন আজ। আমি তাকে মার্চ ১ সম্বন্ধে সব বলছি অনেক আগে কারন আমি ভাবি নাই আমার হয়ে যাবে। সে এটাও যানে এইটা পৃথিবী থেকে একবারে যাত্রা । প্রিথিবের মানুষ এর সাথে কোন যোগাযোগ থাকবে না মঙ্গলের বশবাশের জন্য জওয়া কোন মানুষের আর তারা কোনদিন ফিরবেও না  প্রিথিবেতে আর এইটাই সে মেনে নিতে পারছে না। সে কোন মতাই আমাকে ইন্টারভিউ দিতে দিবে না। আমি তাকে বুঝালাম ইন্টারভিউ দিলেই তো ওরা আমাকে নিচেছ না, আমিিলেেটেড নাও হতে পারি। তুমি চিন্তা কর না। সে আশস্ত হল এবং আমার টিকেট এবং জিনিস দিল।আমি রওনা হলাম মার্চ ১ এর ইনটারভিউ দেওয়ার জন্য।

 

চলবে…

km_parvez@yahoo.com

 

৬৯২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৪ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০২ ২২:২২:৩২ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    “সৌন্দর্য, যৌবন আর সৌভাগ্য কখনো একসাথে সভা করে না”
    চরম বাস্তব।

    পরের পর্বের অপেক্ষায়।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  3. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভালো লাগলো পড়ে

    সুন্দর

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ঘটনা সত্যি নাকি

    লেখা ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top