Today 20 Oct 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ওয়াসফিয়া’র সপ্ত শৃঙ্গ জয় এবং সংবাদিকতার অবক্ষয়

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ২৮/১১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 15342বার পড়া হয়েছে।

oashfiya

 

ওয়াসফিয়া নাজরিন একজন সেলিব্রেটি। সপ্ত শৃঙ্গ বিজয়ী পর্বতারোহী।আমাদের গর্ব। ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি সম্প্রতি ওশেনিয়া-অস্ট্রেলেশিয়া অঞ্চলের কার্সটেনস পিরামিড পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছেন। আর এই জয়ের মধ্যদিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের অভিযান পূর্ণ করেছেন।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথাই বর্ণনা করেছিলেন এই পর্বতারোহী।ওয়াসফিয়ার কাছে মনে হয়েছে কার্সটেসন পিরামিড এভারেস্টের চেয়েও কঠিন ও দূর্গম পাহাড়।কঠিন ও দূর্গম পাহাড়ের চূড়া দিয়ে উঠতে গিয়ে তিনি যে বিপদের সম্মুখিন হয়েছেন তাঁরই ভয়ংকর বর্ণনা রয়েছে মূলত ওই সাক্ষাতকারে।আর এই সাক্ষাতকারের খবরটি বিবিসি বাংলা থেকে কাট-পেস্ট করে মেরে দেয় অন্যান্য বাংলা অনলাইন নিউস পোর্টালগুলো। শুধু পাল্টিয়ে ফেলে বিবিসির দেয়া শিরোনামটি।

খবরটি আমি প্রথম পড়ি নাসিমা খান মন্টি’র সম্পাদিত ‘আমাদেরসময় ডট কম’ নামের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টালে।এর চিফ এডিটর নাইমুল ইসলাম খান। নিউজটি লিখেছেন জনাব নোমান। চলুন দেখি ‘আমাদেরসময় ডট কম’ খবরটির শিরোনাম কী করেছে? আমাদেরসময় ডট কম এর শিরোনাম – “বৃদ্ধ হত্যা’র পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ওয়াসফিয়া”!! প্রকাশিত এই সংবাদ শিরোনামের ভাবার্থ খুঁজতে গিয়ে প্রথমে একটু খটকা লাগে। ভাবতে থাকি ওয়াসফিয়া একজন নরহত্যাকারী? কাউকে নিশ্চয়ই হত্যা করেছেন। এবং হত্যার পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্তি নিয়েছেন।

এই সংবাদ শিরোনাম থেকে আমি তাত্ক্ষণিক যে ভাবার্থ খুঁজে পেয়েছি তা হলো,পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া একজন বৃদ্ধকে হত্যা করে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ! ক্ষনিকের জন্যে হলেও আমার মতো হয়তো অগনিত শুভাকাঙ্খীরা এমনটি ভেবে আহত হয়েছেন।যদিও সংবাদ বিবরণীতে দেখা যায় হত্যা/খুন সংক্রান্ত কোনো কাজেই সম্পৃক্ত নয় ওয়াসফিয়া।

সত্যিই কী পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া কাউকে হত্যা করেছিল? আর সেই খুনের দায়ে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্ত হতে হয়েছিল? আসলে কী ঘটেছিল ওই পর্বত শৃঙ্গের পাশে? চলুন দেখে নেই ওয়াসফিয়া বিবিসি বাংলাকে তাঁর সাক্ষাতকারে কী বলেছিলেন।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ওয়াসফিয়া বলেছেন পাহাড়ের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির সাথে দেখা হয়। তিনি দেখেছেন ওই জাতি গোষ্ঠির মধ্যে নানা ধরনের কুসংস্কার এবং হিংস্রতা রয়েছে।পর্বত আরোহণ শেষ করে ওয়াসফিয়া যখন ফিরছিলেন তখন একটি গ্রামে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি মারা যায়। সেই জন্য দায়ী করা হয় ওয়াসফিয়া ও তার সহযোগিদের! কারণ সেই গ্রামের লোকজন বিশ্বাস করে বিদেশীদের আগমনের কারণেই সেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে! সেই গ্রামের লোকজনের ধারণা, বিদেশিরা এলেই, কেউ না কেউ মারা যায়। এ বার ওয়াসফিয়ারা এসেছেন। তাই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে৷

তিনি আরো বলেন এমন কুসংস্কারই প্রচলিত আছে পর্বতের পাদদেশের ওই গ্রামগুলোতে। সেই জন্য তাদের ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। বিবিসি-কে দেয়া ওই সাক্ষাতকারে ওয়াসফিয়া আরো বলেছেন, ‘‘এরপর আমাদের ধরে নিয়ে যায়৷ চার ঘণ্টা সালিশ হয়৷ শেষ পর্যন্ত ওদের চার হাজার ডলার দিয়ে আমরা সেখান থেকে ফিরে আসি৷”

হত্যা এবং একজন বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যু দুটোর তর্জমা ভিন্ন বৈকি।এই বোধটুকু সংবাদ কর্মীদের থাকতেই হবে। ‘হত্যা’ যার ইংরেজি শব্দ হলো ‘murder’ – বাংলায় আমরা খুন শব্দটিও ব্যবহার করি।কিন্তু কারো যদি স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যু হয় ওই মৃত্যুকে কী কোনো ভাবেই হত্যা বলা যায়? নরহত্যা শব্দটির ইংরেজি হলো ‘homicide’। যদি হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাউকে মেরে ফেলা হয় তাহলে উহা সর্বদাই হত্যা । নরহত্যা শব্দটিকে অভিধানে সন্জ্ঞায়ীত করা হয়েছে এইভাবে- ‘The killing of one human being by another human being’ অথবা “Homicide occurs when one human being causes the death of another human being”(সূত্র: ইন্টারনেট)।

ওয়াসফিয়া কাউকে খুন করেননি। খুনের সাথে তিনি সম্পৃক্তও নন।হত্যা একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। আর যিনি হত্যা করেননি তাকে হত্যাকারী বলে চালিয়ে দেয়ার প্রবণতা এবং সংবাদ শিরোনাম লেখা কী অপরাধ নয়? ওই নিউস পোর্টালটি এমন একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ শিরোনাম তৈরী করার নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে? যার সাফল্যে গোটা জাতি গর্বিত তাঁকে নিয়ে এমন প্রচারণার রহস্য কি? কোনো শুভাকাঙ্খী যদি সংক্ষুব্দ হয়ে মানহানির আশ্রয় নেয় তাতে কী খুব অবাক হওয়ার কিছু থাকবে? যে সোর্স থেকে আমাদেরসময় ডট কম ওই সংবাদটি কাট-পেস্ট করেছেন তাঁদের শিরোনাম হলো “পর্বত জয়ের পথে ওয়াসফিয়ার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা”।

পাহাড়ি জাতি গোষ্ঠির মধ্যে কুসংস্কার ও হিংস্রতা থাকতেই পারে।তাঁদের অন্ধ বিশ্বাস ও মূল্যবোধ দিয়ে যা করেছে এটাই তাঁদের সংস্কৃতি।আর তাইতো কুসংস্কারের নিকষ থাবা থেকে রেহাই পায়নি আমাদের সাহসী কন্যা ওয়াসফিয়া। আমাদের বিদ্যমান সংবাদিকতা কী ওই পাহাড়ি জনগোষ্ঠির কুসংস্কার ও হিংস্রতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে?

প্রকাশিত সংবাদ শিরোনামটি পড়ে যে কোনো পাঠক শুরুতেই ভ্যাবাচেকা খাবে। যেমনটি আমার হয়েছে। এটা কী ধরনের সাংবাদিকতা? এটা কী আহাম্মকি সাংবাদিকতা? নাকি অন্যকিছু? নাকি সাংবাদিকতার নামে নিছক রসিকতা? নাকি ‘সাম্বাদিক’ সাহেবের বিষয় ভিত্তিক জ্ঞানের অপরিপক্কতা? যদি বলি বেহাল সাংবাদিকদের খপ্পরে পড়ে আছে আমাদের অনলাইন নিউসপোর্টাল গুলো ?

আমি বলবো উদ্দেশ্যমূলকভাবে একজন খ্যাতিমান সেলিব্রেটিকে নিয়ে অযাচিত সংবাদ শিরোনাম পরিবেশন করার নোংরা মানসিকতা। এক ধরনের দুষ্টামি ও অশুভ চক্রান্ত। একজন সেলিব্রেটিকে কলমের দুষ্টু খোঁচায় ‘খুনি’ তকমা বসিয়ে দেয়ার প্রবণতা সাংবাদিক নামের মহৎ পেশাকে কলঙ্কিত করা। এরা সাংবাদিক নয়। ‘সাম্বাদিক’ ।এই সাম্বাদিক উপাধি ধারণের তকমা নিজেদের গায়ে না মাখলেই কী নয়?

 

১৫,২৯৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. রুবাইয়া নাসরীন মিলি মন্তব্যে বলেছেন:

    সস্তা চটক তৈরি করার জন্য এরা এমন ফালতু শিরোনাম দেয় ।

  2. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    ঠিক বলেছেন । অনেক ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top