Today 13 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্য নয়,প্রয়োজন সম অধিকার সাঈদুল আরেফীন

লিখেছেন: সাঈদুল আরেফীন | তারিখ: ০৬/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 699বার পড়া হয়েছে।

কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্য নয়,প্রয়োজন সম অধিকার
সাঈদুল আরেফীন

সমাজ ব্যবস্থার কারণে পরিবার থেকেই কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। আবহমান কাল ধরে কন্যা সন্তানরা নানাভাবে ছেলে সন্তানদের চাইতে অবহেলা ও বঞ্চণার শিকার হয়ে থাকে। সমাজ কাঠামোতে কিছু ভ্রান্ত ধারণার কারণে পরিবার থেকেই কন্যাসন্তানরা এখনো নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। একুশ শতকে ও আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্যের নানা রূপ প্রতিফলিত হয়।পৃথিবীতে একটি শিশু ভূমিষ্ট হয় তার শারীরিক গঠনটাই পার্থক্য হতে পারে বটে জেন্ডার বিশ্লেষকদের দাবী, শিশু কাজে ও কর্মে নারী ও পুরুষ এই প্রকারভেদে গড়েওঠে না। কিন্তু প্রচলিত সমাজ ও পরিবার কন্যা ও ছেলে সন্তান পরিচয় ধারণ করিয়ে কন্যা সন্তানের প্রতি চলাফেরা ,খাওয়া দাওয়া ,ওঠা , বসা,পোশাক পরিচ্ছদ ,বিনোদন সবক্ষেত্রে নানারূপ বৈষম্য ও বঞ্চণা দেখায়। প্রচলিত ধারণায় দেখা যায়, কন্যা-শিশু নম্্র হয়, ছেলে-শিশু চঞ্চল হয়। মেয়ে শিশু খেলাধুলা করতে পারে না। লাজুক ও নম্র স্বভাবের হয় । ছেলে সন্তান আয় রোজগার করবে। কন্যাসন্তান বিয়ের পর পরের বাড়ি চলে যাবে। এধরণের নানামুখী সমাজ সৃষ্ট নেতিবাচক ধারণার কারণে আমাদের সমাজে পরিবারে নানাভাবে কন্যাসন্তানরা এখনো বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির শিকার। কেবল আমাদের দেশেই নয় আজো বিশ্বের নানা জায়গায় কন্যাশিশুরা বৈষম্যের কষাঘাতে জর্জরিত। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিশ্বে বর্তমানে প্রতি তিনজনে একজন মেয়ে শিশু শিক্ষা বঞ্চিত। যাদের মধ্যে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৩ কোটি ৯০ লাখ কন্যাশিশু স্কুলে যায় না।এখনো আমাদের দেশে কন্যা সন্তান হবার অপরাধে কেবল শিক্ষাই নয় পারিপার্শ্বিক ও মানসিক সবক্ষেত্রে পরিবার কর্তৃক নানা ভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনা পেয়ে থাকে। যদিও সরকারের অনুসৃত নীতির ফলে নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে অকালেই শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে দেয়ার প্রবণতা ও কম নয়। যার ফলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অসময়ে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে বাল্য বিবাহ দেয়ার প্রবণতা ও বিদ্যামন। এই বিষয়গুলো সমাজ বিজ্ঞানী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সহ নীতি নির্ধারণে পর্যায়ে ভাবা উচিত। এখনো সমাজসৃষ্ট ভ্রান্ত ধারণার কারণে পারিবারিক পর্যায় থেকে কন্যাসন্তানের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চণা একটা নিয়মিত বিষয় হিসেবে পরিগণিত। এখনো এদেশে প্রচলিত ধ্রাণা আছে, ছেলে সন্তান জন্ম হলে বলা হয় সাত রাজার ধন। আর কন্যা সন্তান জন্ম হলে যেন মা বাবার জন্য বোঝাস্বরূপ মনে করা হয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগের এই অমুলক ও কু-সংস্কারাচ্ছন্ন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের পরিবার সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সর্বত্র সচেতনতা জোরদার করতে হবে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হলে কন্যাসন্তানরাও জ্ঞানী গুণী
জজ ব্যারিষ্টার ডাক্তার প্রকৌশলী বৈমানিক সামরিক আধা সামরিক বাহিনীতে যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে অবদান রাখতে পারে তা আজ সর্বজন স্বীকৃত। ফলে পরিবার থেকেই আমাদের এ শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে ,কন্যা সন্তানের প্রতি আর অবহেলা নয় ,নয় কোন শোষণ বঞ্চণা। কন্যা সন্তানকেও ছেলে সন্তানের মতো দিতে হবে সুসম অধিকার। তাহলে জাতি যেমন উপকৃত হবে সমাজ ও পরিবার পর্যায় থেকে কন্যা সন্তানের প্রতি ধীরে ধীরে শোষণ বৈষম্য মুছে গিয়ে জাতির উন্নয়নে নারীর প্রতিনিধিত্বশীল ভূমিকা জোরদার হবে। মূলত, পরিবার থেকেই সন্তান হিসেবেই কন্যা ও ছেলে সন্তান কারো প্রতি কোন বিদ্বেষ বা বৈষম্য তৈরী না করে সম সুযোগ প্রদান করতে হবে। তবে বিদ্যমান কন্যা সন্তানের প্রতি সমাজসৃস্ট ধারণায় প্রচলিত বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করে মা বাবাকেই এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। সচেতনতা তৈরি করতে হবে পরিবার থেকেই। তাহলেই আমরা কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্যের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি। নির্ধারণ করতে পারি কন্যা সন্তানের প্রতি সম অধিকার।

৬৬০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সাঈদুল আরেফীন ১৯৬৮ সালের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর কোরবানীগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বাঁশখালি উপজেলার জলদি গ্রামের নেয়াজর পাড়ায়। পিতার নাম মুহাম্মদ ফৌজুল কবীর এবং মায়ের নাম মরহুমা মোসলেমা খাতুন। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকেই সরকারি মহসিন কলেজে পড়াকালীন সময় সাঈদুল আরেফীন সাহিত্য চর্চায় নিবেদিত হন। সেই থেকে কবিতা ,গল্প,প্রবন্ধ,নিয়ে নিরন্তর কলম চালান তিনি। আশির দশকের শেষভাগে সংবাদপত্রে যোগ দেন। চট্টগ্রাম প্রতিবেদক হিসেবে সাপ্তাহিক চিত্রালী,সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর,সন্দীপ সহ বিভিন্ন সময়ে অধুনালুপ্ত সমতা অপরূপ বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। মূলত সংবাদপত্রে হাতে খড়ি হয় দৈনিক পূর্বতারাতে ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে। বর্তমানে তিনি রাজনীতি,শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি,শিশু অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রবন্ধ কলাম এবং লিখে চলেছেন নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও লিটলম্যাগ গুলোতে। চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণামূলক স্বরচিত প্রবন্ধ ও কথিকা পাঠ ছাড়াও মাঝে মাঝে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে থাকেন। সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তারই ধারাবাহিকতায় দশ বছরের পরিক্রমায় অনুপম নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থেকে মানবসেবা শিক্ষা , সাহিত্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার একটি উজ্জ্বল সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশির দশকেই। এখন যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি বেসরকারি উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনারারী ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার হিসেবে কর্মরত থেকে প্রশিক্ষণ,উন্নয়ন নানা গবেষণাধর্মী কাজে জড়িত আছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্য হিসেবে জড়িত থেকে শিক্ষার প্রসারেও কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর লামাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কতি বিষয়ক পত্রিকা ঐতিহ্যের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি স্ত্রী ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। “মনে পড়ে জলকদর” তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এ গ্রন্থের মধ্য দিয়েই তিনি আমাদের জানান দিয়েছেন লেখালেখির মাঝখানে বিরতি দিলেও তিনি হারিয়ে যাননি। ইদানিং পত্র পত্রিকায় আবারো সক্রিয় হয়েছেন। এতে বেছে নেয়া তাঁর কবিতাগুলোর অধিকাংশই দৈনিক পূর্বকোণ,আজাদী ,মঞ্চ,সুপ্রভাত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন লিটল ম্যাগে প্রকাশিত কবিতার সংকলন। আমাদের কাব্যভুবনে তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই। তাঁর কবিতা আশাকরি পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। অচিরেই তাঁর শিশুতোষ প্রবন্ধ ও উন্নয়ন গবেষণামূলক দুটি প্রবন্ধের বই বেরোবে।
সর্বমোট পোস্ট: ২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১২ ১৩:৫৫:৪১ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. খন্দকার মোঃ আকতার-উজ-জামান সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    মেয়েরা বেশী শিক্ষিত হলে স্বামী,শশুর-শাশুরিকে পাত্তা দিতে চায়না।সম্মান করেনা কাউকে

    • সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

      দুঃখ পেলাম খন্দকার মোঃ আকতার উজ-জামান সুমন আপনার কথায়। সংখ্যার দিক থেকে নারীরা অনেক বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। আপনি যেটা বলেছেন সেটা সংখ্যায় শুণ্যের কোঠায়। নারীদের সম্মান করতে শিখুন । দেখবেন জাতি হিসেবে আমরা অনেক বেশি এগিয়ে যাবো। ওটাও ঠিক যে, ক্রমে ক্রমে নারীরা শিক্ষায় জ্ঞান বিজ্হানে আর থেমে নেই। সুতরাং জীবনকে বুঝেতে হলে নারীকে সমান গুরুত্ব দিতে শিখুন। ভালো থাকুন।

  2. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্য নয়,প্রয়োজন সম অধিকার
    সমাজ ব্যবস্থার কারণে পরিবার থেকেই কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। আবহমান কাল ধরে কন্যা সন্তানরা নানাভাবে ছেলে সন্তানদের চাইতে অবহেলা ও বঞ্চণার শিকার হয়ে থাকে। সমাজ কাঠামোতে কিছু ভ্রান্ত ধারণার কারণে পরিবার থেকেই কন্যাসন্তানরা এখনো নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। +++++++++++++++

    আমার নিজের ফ্যামিলী এবং বন্ধুদের ফ্যামিলীতে দেখেছি ছেলেদের চেয়ে বাবা মাকে দেখা শোনা করছে বেশী করছে মেয়েরা আজকাল। অনেক দায়িত্ব আমি। আমার বোন আমার ভাই এর চেয়ে বেশী বেশী করি সামর্থ্যের ও বাহিরে। তবু ও সমাজে এখন পশ্চাদপদ মনমানসিকতা সরেনি। এখন ও হয়তবা পুত্র সন্তান ই বেশী কাম্য বা কন্যা সন্তানকে কিছু টা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। অনেক নিয়মের বেড়াজালে বেধে দেওয়া হয়।

    অনেক বেশী কথা বলার দরকার নেই। আপনি চমত্কার ভাবে বর্ণনা করেছেন সব। অনেক যুক্তিযুক্ত ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন দেখে অনেক কৃতজ্ঞতা জানালাম।

    সামাজিক সচেতনতা মূলক পোস্ট টির জন্য অনেক ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা রইল।

  3. সাঈদুল আরেফীন মন্তব্যে বলেছেন:

    মন ছোঁয়া কথা গুলো সত্যিই ভালো লাগলো । পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বেড়াজাল আমাদের চিহ্ন করতেই হবে। এতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ধন্যবাদ আরজু মুন আপনাকে সুন্দর আলোচনার জন্য।

  4. ছাইফুল হুদা ছিদ্দিকী মন্তব্যে বলেছেন:

    ছেলে হোক মেয়ে হোক সমান অধিকারে লালন পালন,শিক্ষা , পোষাক প্রদান মা বাবা কর্তব্য। পরিবার সমাজ এই এই দিকটায় প্রধ্যন্য দিতে হবে। নারীদের ও মানসিক ভাবে শক্ত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আগের তুলনায় মেয়েরা বর্তমানে অনেক সুযূগ সুবিধা পাচ্ছে। এবং ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাও কম না তার প্রমাণ দেখাচ্ছে বার বার, নানা উন্নয়ন গবেষনা কাজে মেয়েরাও নিয়োজিত আছে।
    লেখা ভাল লাগল।

  6. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    হুম নাৱী বলিয়া অধম নয় নাৱীৱ পেটেই সন্তান হয়

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top