Today 18 Feb 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কবি নয়ানচাঁদ ঘোষ রচিত – চন্দ্রাবতীর পালা, মৈমনসিংহ গীতিকা

লিখেছেন: শান্তা মারিয়া | তারিখ: ০২/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 704বার পড়া হয়েছে।

1

১৯১৬ সালে ময়মনসিংহের কবি চন্দ্রকুমার দে প্রথম সেই এলাকার প্রচলিত পালাগান বা গাথাগুলি সংগ্রহ করেছিলেন। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেনের উত্সাহে তা পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। এই সমস্ত পালা ময়মনসিংহ গীতিকা নামেই পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৬ নাগাদ ক্ষিতীশ মৌলিক (প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকা) এই ময়মনসিংহের পালাগুলির আরও একটি সম্পাদিত রূপ প্রকাশ করেন ।

 

প্রকাশিত হবার পরেই এই গাথাগুলি রসিক সমাজে প্রভূত সমাদর লাভ করে। কাব্যগুণ, সরলতা, বাংলার পল্লিজগতের সুর, রস, ও ঘ্রাণে সমৃদ্ধ এই সকল পালা, বাংলার লোক সাহিত্যের এক নতুন দিক খুলে দেয়। এর প্রাচীনতা নিয়ে পণ্ডিতেরা এখনও সহমত পোষণ করতে পারেন নি। লোক সাহিত্য বলা হলেও এই পালাগুলির বিশেষ বিশেষ কবিদের লিখিত রচনা। তাই এগুলি কোন সমাজের সাধারণ সম্পত্তি নয়। লোকমুখে ফিরে ফিরে, সংগ্রাহক, সম্পাদক এবং প্রকাশকদের হাত পড়ে যে এগুলি নিজের প্রাচীনতা ও স্বকীয় বিশিষ্টতা অনেকটাই হারিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই ।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন – “বাংলা প্রাচীন সাহিত্যে মঙ্গলকাব্য প্রভৃতি কাব্যগুলি ধনীদের ফরমাসে ও খরচে খনন করা পুষ্করিণী; কিন্তু ময়মনসিংহ গীতিকা পল্লী হৃদয়ের গভীর স্তর থেকে স্বত উচ্ছ্বসিত উত্স, অকৃত্রিম বেদনার স্বচ্ছ ধারা। বাংলা সাহিত্যে এমন আত্ম-বিস্মৃত রসসৃষ্টি আর কখনো হয়নি ।”

 

মৈমনসিংহ গীতিকা গুলিতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি সংস্কৃতিই দেখতে পাওয়া যায়। এদের বৈশিষ্ট হল এই যে প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে প্রধানত ধর্মাশ্রিত হলেও এদের উপর ধর্মের প্রভাব খুবই অল্প। এগুলি অধিকাংশই প্রণয়মূলক । এদের মধ্যে ফুটে উঠেছে পূর্ববঙ্গের পল্লী-জীবনের অপূর্ব আলেখ্য। এই পল্লী-জীবনের পটভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে নায়ক নায়ীকাদের প্রেম ভালবাসা। এই গীতিকাগুলির মধ্যেই আমরা পেয়েছি ষোড়শ শতকের প্রথম বাঙালী মহিলা কবি চন্দ্রাবতীকে যাঁর নিজের জীবনই কিংবদন্তী হয়ে “চন্দ্রাবতী” পালায় পর্যবসিত হয়েছে। তাঁর লেখা রামায়ণ কথা একটি এমন রচনা যেখানে রামের গুণগানের বদলে সীতাদেবীর দুঃখ দুর্দশাই তিনি বর্ণনা করেছেন। একজন নারীর দৃষ্টিতে এই মহাকাব্য রচণা স্বাভাবিকভাবেই পণ্ডিত সমাজে অবাঞ্ছিত বলেই তাকে দুর্ব্বল ও অসমাপ্ত সাহিত্য আখ্যা দিয়ে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।

 

বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী একদিন পূজার জন্য ফুল তুলতে গেলে সুন্ধ্যা গ্রামের জয়ানন্দের সাথে দেখা হয়। প্রথমদর্শনেই জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর প্রেমে পড়ে যান এবং প্রেম নিবেদন করে একটি বিদায় পত্র লেখেন। তাদের বাবা-মায়ের সম্মতিতে তাদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়। এরইমধ্যে এক মুসলমান তরুণী তাদের মধ্যে ঢুকে পরলে আসন্ন প্রণয়কাব্য করুণ উপাখ্যানে পরিণত হয়। গীতিকাব্যটি রচনা করেছেন নয়ানচাঁদ ঘোষ, আনুমানিক ২৫০ বছর আগে। নেয়া হয়েছে দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত মৈমনসিংহ গীতিকা থেকে। মোট ৩৫৪টি ছত্র আছে এতে, দীনেশচন্দ্র সেন এগুলোকে ১২টি অঙ্কে ভাগ করেছেন।

৬৯৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৮ ১০:৪৪:২০ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভালো ভাবনার প্রয়াস দেখলাম
    শুভ কামনা সবর্দা
    ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

  2. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর প্রয়াস। এ বিষয়ে আরো পড়তে চাই।
    শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানবেন।

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    মুগ্ধকর
    দারুন …

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    সুত্র উল্লেখ নাই???????

    পড়ে ভাল লাগল

  5. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    নিজেকে সমৃদ্ধ করতে আরো জানা প্রয়োজন মনে করছি ! আর তাই এমন লিখা আরো পাঠ করতে চাই ! লিখাটা একটু সংক্ষিপ্ত পরিসরের মনে হয়েছে ।
    তবুও অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য ।

  6. শাহানারা রশিদ ঝর্ণা মন্তব্যে বলেছেন:

    বিস্তারিত লিখলে আর ভাল লাগত ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top