Today 17 Dec 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কবি শামুক: রাগ, অনুরাগ ও প্রেমের অপ্রাপ্তিই তাঁর অধিকাংশ কাব্যের বিষয়বস্তু

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ১০/০১/২০১৬

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 216বার পড়া হয়েছে।

image shamuk

 

কবি শামুক তাঁর কবিতায় প্রেম ও রোমান্টিকতার অনুসঙ্গ এনেছেন বারবার।ফুটে উঠেছে অপূর্ণতার কষ্ট। না পাওয়ার প্রখর বেদনা। বারংবার উচ্চারিত হয়েছে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা। কখনো মনে হয়েছে পেয়ে হারানোর হৃদয় নিংড়ানো ক্রুদ্ধ চিত্কার। কবি হয়তো বিশেষ কোনো পুরুষের কাছে মানসিক কষ্টের শিকার হয়েছিলেন। আর তাইতো ভালোবাসার অগ্নিকুণ্ডে কবিকে জ্বলতে দেখি দাউদাউ করে।

কবি শামুক ভার্চুয়াল জগৎ এ আমার পরিচিতদের একজন। আমরা যারা ব্লগে লেখা-লেখি করি তাঁদের অনেকের কাছেই একজন অতি প্রিয় মানুষ। বিশেষ করে মুক্তচিন্তাব্লগের সাথে যারা জড়িয়ে আছেন, পাঠক ও ব্লগার তাঁদের সকলের কাছেই অতি প্রিয় একজন মানুষ কবি শামুক।প্রিয় এই মানুষটির সাথে আমার এখনো সাক্ষাৎ হয়নি। কথাও হয়নি। যা পরিচয় ভার্চুয়াল জগৎ থেকেই।বলা চলে অদৃশ্য থেকেও মূর্তমান হয়ে আছেন আমার মতো অনেক পাঠকের হৃদয়ের কোণে।

কবিকে নিয়ে আমার এ লেখাটি স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ। কারণ কবি শামুককে আমি ভীষণ ঈর্ষা করি। স্বপ্ন দেখি আমিও যদি শামুক হতে পারতাম ! মুক্তচিন্তা ব্লগে আমার মতো আরো অনেককেই দেখেছি শামুক হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

শামুক এর কবিতার সাথে আমার প্রথম ভার্চুয়াল পরিচয় ঘটে প্রায় বছর দুই পূর্বে। মুক্তচিন্তা ব্লগের সূত্র ধরেই এর আগমন। এর আগে কবি শামুকের কাব্য প্রতিভার সাথে আমার কোনো যোগসূত্র ছিল না বললেই চলে।

কবে থেকে কবি পথ হাঁটা শুরু করেছেন? এর উত্তর আমার জানা নেই। ব্লগের ‘নিক’ শামুক নামেই আমি চিনি ও জানি। আসল পরিচয়টুকু গোপন রেখেছেন ফেসবুকেও। তাই কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। শুধু ব্লগে নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও খুঁজে পাওয়া যায় ‘আমি শামুক’ ও ‘শামুকের কবিতা’ নামে দুটো পাতা। সেখানেও রয়েছে কাব্য প্রেমিকদের আনাগোনা।

আমরা ধারণা তিনি মোটেই প্রচারমূখী নন। তবে তিনি যে একজন কাব্যযোদ্ধা সেটি অনুধাবন করতে পারি সহজেই।যা টের পাওয়া যায় ব্লগে প্রকাশিত তাঁর কাব্য থেকেই।বলা যায় শামুক হলেও তিনি শম্বুক গতি পরিহার করে লিখে যাচ্ছেন অদম্য স্পৃহা নিয়ে। দু’হাত ভরে। মুক্তচিন্তা ব্লগে তিনি আকাশ ছুঁয়েছেন ইতিমধ্যেই।

এ আলোচনা শুধুই মুক্তচিন্তা ব্লগ ও ফেসবুকে প্রকাশিত কাব্য ধারণা থেকে।কবি শামুক এর কাব্যে রয়েছে মানুষ, প্রকৃতি ও প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রসঙ্গ-অনুসঙ্গ। নানা বেদনাবোধ তাঁর কবিতায় মূর্ত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে।কখনো মনে হয়েছে জীবনের জটিলতাই তাঁর অধিকাংশ কাব্যের বিষয়বস্তু।আবার কখনো কখনো মনে হয়েছে অধিকাংশ কবিতার বিষয়বস্তু একই গণ্ডির ভিতরেই ঘুরাফেরা করছে। তাঁর কবিতার অনেক পংক্তিতে লুকিয়ে আছে কষ্ট ও দীর্ঘশ্বাস।যা কবির মতো পাঠককেও বেদনার্ত করে তোলে।

কবি শামুক তাঁর কবিতায় প্রেম ও রোমান্টিকতার অনুসঙ্গ এনেছেন বারবার।ফুটে উঠেছে অপূর্ণতার কষ্ট। না পাওয়ার প্রখর বেদনা। বারংবার উচ্চারিত হয়েছে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা। কখনো মনে হয়েছে পেয়ে হারানোর হৃদয় নিংড়ানো ক্রুদ্ধ চিত্কার। কবি হয়তো বিশেষ কোনো পুরুষের কাছে মানসিক কষ্টের শিকার হয়েছিলেন। আর তাইতো ভালোবাসার অগ্নিকুণ্ডে কবিকে জ্বলতে দেখি দাউদাউ করে। তাই হয়তো দেখি, তিনি পুরুষদের ছেড়ে কথা বলেননি।পুরুষদের তিনি খাদক বলেছেন স্পষ্ট ভঙ্গিমায়। ‘বিশ্বভরা শুধু পুরুষ’ কবিতায় তেমনি রুষ্ট ক্ষোভ উচ্চারিত হয়েছে এভাবে- ‘যেথায় খুশি যাও/পঞ্চইন্দ্রিয় তৃপ্ত করে যা ইচ্ছা তা খাও/তোমরা হলে খাদক/যন্ত্র পেলে বাদক/মন্দিরেতে গেলে আবার পুরোদুস্তর সাধক’।

কবি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন অনেক কষ্ট ও যন্ত্রণার কথা।অনেক ক্ষেত্রেই হতাশা এবং ব্যর্থতার চিত্র খুঁজে পাই তাঁর সাজানো পঙ্তি থেকে। না পাওয়ার ব্যথা তাঁকে স্পর্শ করতে দেখিছি বারবার। রাগ, অনুরাগ, বিরাগ, প্রেমের অপ্রাপ্তি সব কিছুই ছুঁয়েছে তাঁকে গভীর ভাবে তাঁর অগনিত কাব্যে।

আমার মনে হয়েছে তিনি বড্ড অভিমানী। আত্মাভিমান যে তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়ে যাচ্ছে এর প্রমান রেখেছেন অসংখ্য কাব্যে। রহস্যাবৃত জীবনের মতো তিনিও রহস্যময়ী থেকে গেছেন।কবি মনের অভিমানী নির্যাস তুলে ধরেছেন ‘শূন্য শূন্যালয়’ কবিতায় এই ভাবে- ‘চেনা পথে এক যাযাবর কবি/ হেঁটে যায় উদ্দেশ্যবিহীন পৃথিবীর পথ ধরে/পেছনে পড়ে থাকে ঘর-মন/ রাশি রাশি স্বপ্ন কবিতার খামার’

কবি যেন কষ্ট নিয়েই বেঁচে আছেন।ভালবাসার টানে ফিরে যেতে চেয়েও কোথায় যেন হোচট খান। প্রেমিকের বিশুদ্ধ ভালবাসার প্রতি কবি বরাবরই রয়েছেন অন্ধ। তিনি ছল-চাতুরী ঘৃনা করেন প্রাণ ভরে। তবে প্রেমের এই আকুতি কী কোনো বিশেষ পুরুষের জন্য? নাকি প্রকৃতির টানে দেশমাতৃকার কাছে ফিরে যাওয়ার আহাজারি। এই অন্ধ টান কবিকে ফিরেয়ে দেয় আপন ঠিকানায়। ‘তবুও ফিরবো’ কবিতায় সেই ইচ্ছে ব্যক্ত হতে দেখি এভাবে- ‘কোন এক বরষায় প্রমত্তা নদী হয়ে/ ফিরে আসব দুকূল ভেঙ্গে/ তোমার নগ্ন পায়ের কাছে ঢেউ হয়ে/ জানি প্রয়োজন থাকবে না/ তবুও ফিরবো।

কবি শামুক এর কবিতায় যেমন আবেদন রয়েছে। রয়েছে কুসংস্কারের প্রতি ধিক্কার। কবি বরাবরই রাজনৈতিক সচেতন।দেশের প্রতি অসীম শ্রদ্বাবোধ নিয়ে রচনা করেছেন অসংখ্য কবিতা। সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধেও কলম ধরেছেন তিনি। সহজ শব্দের গাঁথুনিতে যে সব পঙ্তি রচনা করেছেন তা অক্ষয় হয়ে থাকবে হয়তো আমাদের মাঝে।কবির দরদী মনের পরিচয় খুঁজে পাই ‘মানবতার এ কোন অবক্ষয়’ কবিতায় তাঁর উচ্চারণ থেকে – ‘তার কী নেই দুঃখ-কষ্ট,অনুভূতি-ব্যাথা?/ পান থেকে চুন খসলেই লাথি জুতাপেটা!/ টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া সে কী ক্রীতদাস?/ ইচ্ছে মতো পিটিয়ে ঝাড়া মনের যতো আশ।’

ছন্দ মিলের কবিতায় তিনি রেখেছেন অসাধারণ সাফল্য।আবার ছন্দের দোলা থেকে ছুটে গিয়ে গদ্যে সৃষ্টি করেছেন যুতসই কাব্য। ‘চন্দ্রবান’ নামে ধারাবাহিক কবিতা লিখেছেন ব্লগে। সাতাশ পর্বে লিখিত এই কাব্যটাও বেশ পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়াও মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র মহাবীর কর্ণ এবং পৌরানিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত ‘কর্ণগাথা’ নামে আর একটি ধারাবাহিক কবিতা কাব্য-প্রেমিকদের জন্যে ছিল অসাধারণ উপহার।

কাব্যগুণ বিচারে ব্লগে প্রকাশিত কবি শামুক এর সকল কবিতাই মানউত্তীর্ণ বিশুদ্ধ কবিতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে কিনা এমনটি বলার সাহস ও যোগ্যতা আমার নেই।কারণ কবি শামুক এর কাব্য প্রতিভা বিচার করা পাঠকের কাজ নয়।একজন একনিষ্ট ক্ষুদে পাঠক হিসেবে যা পড়েছি সেই লব্ধ ধারণা থেকেই খানিকটা আলোচনা করেছি মাত্র।

আমার এই লেখাটি একটি আংশিক আলোচনা মাত্র। বোধ হয় সামগ্রিক বিচারে ব্লগে প্রকাশিত কবিতার সিকি শতাংশও আমার এই আলোচনায় স্থান পায়নি।

ফেসবুকে আলাপচারিতায় জানতে পেরেছি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জলের চোখে জল’ আসছে একুশে বই মেলায়। প্রথম প্রকাশিতব্য কাব্য গ্রন্থ ‘জলের চোখে জল’ এর শুভ প্রকাশনা ও পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি।

কবির প্রতি রইলো আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

২১২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top