Today 27 Apr 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কভেন্ট্রি ভ্রমন: কন্যার সাথে কিছুক্ষণ (পর্ব-৩ এবং শেষ)

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৮/০৪/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 368বার পড়া হয়েছে।

মিনিট পাঁচের মধ্যেই ড্রাইভার ক্যাম্পাসের মূল গেইটে নামিয়ে দিলো আমাদের।স্টেশন থেকে পাবলিক বাসেও আসার সু-ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। মূল গেইটে দেখছি জনা কয়েক তরুণ-তরুণী। চোখে পড়ছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি মোড়ে স্বেচ্ছাসেবী ছাত্র-ছাত্রীরা অভ্যর্থনা জানিয়ে লোকেশন দেখিয়ে দিচ্ছে নবাগতদের। দিকনির্দেশনা পেয়ে অনেকের মতো আমরাও নির্বিঘ্নে পৌঁছে গেলাম ক্যাম্পাসের ভিতরে ‘ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কম্পিউটিং’ ভবনে যেখানে অপেক্ষা করছে আরও একদল স্বেচ্ছাসেবী কর্মী।

চমত্কার ভঙ্গিমায় আবারও এগিয়ে আসলেন একজন।পরিচয় জানতে চেয়ে সঙ্গী হলেন আমাদের। নিয়ে গেলেন সিঁড়ি বেঁয়ে দোতলায় যেখানে রয়েছে ‘এপ্লিক্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স ডে’ অনুষ্ঠানের আজকের ভ্যেনু।ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কম্পিউটিং ভবনটি কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির একটি নজরকাড়া আকর্ষণীয় বিল্ডিং।এই ভবনটির বাহ্যিক ডিজাইন অসাধারণ।

কভেন্ট্রি বিভিন্ন কারণে পরিচিত।পঞ্চদশ শতাব্দিতে এক সময় এইটি ব্রিটেনের রাজধানীও ছিল। ব্রিটিশ সাইকেল ও মোটর শিল্পের জন্মভূমি খ্যাত ‘কভেন্ট্রি সিটি সেন্টারে’ রয়েছে কভেন্ট্রি ট্রান্সপোর্ট মিউজিয়াম। রয়েছে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়। এদের একটি কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি এবং অন্যটি সিটি সেন্টার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিনে ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটি। আরও রয়েছে ঐতিহাসিক কভেন্ট্রি ক্যাথিড্রাল, আধুনিক শপিং মল সহ অনেক আকর্ষণীয় আস্তানা ।

নির্ধারিত সময়ের একটু আগেই আমরা পৌঁছে গিয়েছি।সময়মতো রেজিস্ট্রেশনও হলো।ইতিমধ্যে একজন এসে দেখিয়ে দিলেন পাশেই রয়েছে খাবারের সুব্যবস্থা। সাথে চা-কফি। আমরাও যেন এতে অংশগ্রহণ করি এই আমন্ত্রণ জানিয়ে চলে গেলেন।একটু এগোতেই দেখি আহা (!!) কীসব বাহারি খারার-দাবার।কেক, সেন্ডুইচ, বার্গার, সমুচা সহ আরো হরেক-রকম আইটেম। খুঁজতে গিয়ে পেয়ে গেলাম আমার প্রিয় টুনা সেন্ডুইচ। আজ প্রাতরাশ করার তেমন একটা সুযোগ পাইনি বলে খালি উদর পূর্তি করে নিলাম ! সাথে এক মগ কফি।

আপ্যায়ন পর্ব সমাপ্ত হলেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক আয়োজন। শুধু শিক্ষার্থী নয়,শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অবিভাবকদের জন্যও রয়েছে পৃথক বিশেষ ব্যবস্থা।

শুরুতেই বলেছিলাম ‘এপ্লিক্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স ডে’ এর কথা। ভর্তির পূর্বে শিক্ষকদের সাথে মুখোমুখি আলাপচারিতায় ডিপার্টমেন্ট এবং কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়ার একটি অবারিত সুযোগ এই ‘এপ্লিক্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স ডে’।অবিভাবকদের যে গ্রুপে আমি রয়েছি এর গাইড হিসেবে আছেন হেড অফ দ্যা ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটিং। প্রথমেই ধারণা দিলেন সারা দিনের সামগ্রিক পরিকল্পনাটি কিভাবে সাজিয়েছেন।এতে রয়েছে ক্যাম্পাস ট্যুর, আবাসিক হল ট্যুর, স্টুডেন্ট ফান্ডিং নিয়ে আলোচনা,ফিজিক্যাল ফেসিলিটিজ তথা ল্যাব, যন্ত্রপাতি এবং ক্লাসরুম পরিদর্শন। সবশেষে রয়েছে অবিভাবকদের জন্যে মিনি প্রেজেন্টেশন।

নয় জনের একটি গ্রুপ।যারা সাথে আছেন এদের একজন চাইনিজ।বাকিরা সবাই মনে হলো ব্রিটেনের কিংবা ইউরোপিয়ান। শুরু হয় ঘুরে দেখার পালা।প্রথমেই শ্রেণীকক্ষ পরিদর্শন।নিয়ে গেলেন একটি কক্ষে। ওই মুহূর্তে শ্রেণীকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। দেখে মনে হলো শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা সত্যি ঈর্ষণীয়। দুই ধরনের চেয়ার-টেবিল চোখে পড়ল। গ্রুপ স্টাডির জন্যে বিশেষভাবে নির্মিত এই চেয়ার-টেবিলের ছবিটি ক্যামেরায় বন্দী করি।

ডিপার্টমেন্ট অফ কম্পিউটিং এ রয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক ল্যাব। ৩০-৩৫ টি কম্পিউটার নিয়ে এক একটি ল্যাব। হাতে-কলমে শিক্ষা নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

দেখতে পেলাম তৈরী করছে রোবট।একই ল্যাবে দেখছি নতুন যারা ভর্তি হবেন তাঁদেরকেও দেখিয়ে দিচ্ছে ল্যাবে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি।আমাদেরকেও এগিয়ে নিয়ে গেলেন গাইড।কন্যা সিফাত কে দেখছি কিছু একটা করতে।এই সুযোগে একটা ছবি ক্যামেরায় বন্দী করি।

এমন একটি রোবট আমাদেরকেও দেখালেন।তৈরিকৃত রোবটটি নির্ধারিত সীমানায় কীভাবে কাজ করছে এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন শিক্ষক। এরপর আরও দুইটি ল্যাব এ নিয়ে গেলেন আমাদের গাইড।

দোতলার সিঁড়ি দিয়ে নামতেই চোখে পড়লো এরোস্পেস ল্যাবে ব্যবহৃত একটি উড়োজাহাজ। একদল শিক্ষার্থী ককপিট আর ইঞ্জিন ঘিরে কী যেন করছে। আবারও ক্লিক।ক্যামরায় বন্দী ড্যামি উড়োজাহাজ।

ল্যাব আর ক্লাসরুম পরিদর্শন শেষে আবারও আলাপচারিতা। কথা হলো স্টুডেন্ট ফিনান্স আর আবাসিক ব্যবস্থা নিয়ে।দেখিয়ে দিলেন আবাসিক হল গুলো। সবশেষে অবিভাবকদের জন্যে মিনি প্রেজেন্টেশন এন্ড ফিডব্যাক।এইভাবেই শেষ হলো আজকের সাজানো আয়োজন।ঘনিয়ে এলো বিকেল।

দিনের শেষে আমরাও ক্লান্ত।ফিরে আসি কভেন্ট্রি স্টেশন। আবারও কু ঝিক ঝিক রেলগাড়ি, আমরা ফিরছি মোদের বাড়ি।

৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ছবির সাথে চোখে দেখা ভাবনার বেশ দারুন মিল
    সুন্দর
    লিখনী

  2. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    পর্ব শেষ হয়ে গেলেও ভালোবাসা কিন্তু শেষ হয়নি !
    অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা নিবেন ।
    ধারাবাহিক ভ্রমণ কথা ভালোই তো লাগছিল !

  3. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার লেখাগুলো পড়ি আর স্বপ্নে মত মন হয়।
    আর কেবল বুক ভেঙ্গে একটা দীর্ঘশ্বাস নেমে আসে।
    সুন্দর অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল বাবা মেয়ের ভ্রমণ কাহিনি আর ছবি

  5. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লেখা আর ছবি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top