Today 20 Oct 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কভেন্ট্রি ভ্রমন: কন্যার সাথে কিছুক্ষণ

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ৩১/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 350বার পড়া হয়েছে।

সাতই মার্চ। খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠতে হলো সেদিন। না উঠেও কোনো উপায় ছিলনা।গন্তব্যে পৌঁছতে ঘন্টা দুই লেগে যাবে।সকাল সাতটা পয়তাল্লিশ মিনিটে ধরতে হবে যাত্রাপথের মূল ট্রেন। দূর যাত্রার ওই ট্রেনটি চড়ার পূর্বে ঘর থেকে বের হয়ে প্রথমে লোকাল বাস। তারপর পাতাল রেলে কিছুক্ষণ। সবশেষে মূল ট্রেন দিয়ে গন্তব্যে।

গন্তব্য পথ কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি।সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।কভেন্ট্রি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এর একটি প্রসিদ্ধ শহর এবং একটি মেট্রোপলিটন বরা বা প্রশাসনিক অঞ্চল।জনসংখ্যা তিন লক্ষাধিক। জনসংখ্যার দিক থেকে এইটি যুক্তরাজ্যের বারোতম বৃহত্তম শহর।শহরটির আয়তন ৯৮ দশমিক ৬৪ বর্গ কিলোমিটার।

দিনটি ছিল কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির ‘এপ্লিক্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স ডে’।ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রোগ্রাম। যাত্রাপথের সঙ্গী-সাথী আমরা দুইজন।আমার একমাত্র কন্যা সিফাত তনিকা এবং আমি।কন্যা সিফাত তনিকা কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রিত অতিথি ‘এপ্লিক্যান্ট এক্সপেরিয়েন্স ডে’ তে অংশগ্রহণের জন্যে।কন্যার অনুরোধে আমিও সামিল হয়েছিলাম বেশ ফুরফুরে মেজাজে।

তখনও অন্ধকার কাটেনি।দিগন্তের লাল আভা উঁকি দিবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।সূর্যোদয় ছয়টা তেত্রিশ মিনিটে। পথ-ঘাট ফাঁকা।দুই একটা দোকানপাট সবেমাত্র খোলার চেষ্টা চলছে।ওই দিকে ঠমক মেরে বসে আছে আবহাওয়া। দেখে বোঝার সুযোগ নেই দিনটা কেমন যাবে। এটাই এখানকার চরিত্র। আকাশ দেখে কিছুই ঠাহর করা যায় না। তবে ওয়েদার নিউস বলে দিয়েছে কোনো বৃষ্টি-বাদল নেই আজ। সেই ভরসায় সকাল থেকেই মুড আমার তরতাজা।

বাড়ির সাথেই লোকাল বাসস্টপ। পায়ে হেঁটে মাত্র দেড় মিনিটের রাস্তা।খুব ভোরে লন্ডন শহরে বাসে চড়ার মজাটাই আলাদা।বাসস্টপে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না।সকাল নয়টা পর্যন্ত ‘পিক টাইম’।এই সময়টায় সব বাস রুটেই টাইমিং থাকে দিনের অন্য সময়ের চেয়ে একটু ভিন্ন।ব্যস্ততম স্থানগুলোতে প্রতি দুই-তিন মিনিট পর পরই কোনো না কোনো রুটের বাস ধরা যায়। প্রতিটি বাস রুটের আছে নির্ধারিত টাইম সিডিউল। বাসস্টপ গুলোতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে। প্রতি মুহূর্তে দেখে নেয়া যায় কোন রুটের বাস কত মিনিট পরপর আসছে।

El1

মিনিটের মধ্যেই বাসে উঠে গেলাম। প্রথম যেতে হবে বার্কিং রেলওয়ে স্টেশন। বার্কিং থেকে লন্ডন পাতাল রেলে ‘ডিস্ট্রিক’ এবং ‘সেন্ট্রাল লাইন’ দিয়ে ইউষ্টন স্টেশন।আমাদের মূল গন্তব্য ইউষ্টন স্টেশন থেকে ভার্জিন ট্রেনে কভেন্ট্রি।

শীতের প্রকোপ অতোটা নেই বললেই চলে। প্রাক-সকালের তাপমাত্রা এই সময়ে যা থাকার কথা তার চেয়ে একটু বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে আজ। বার্কিং থেকে চলছি ডিস্ট্রিক লাইনে। ‘ডিস্ট্রিক লাইন’ মানে লন্ডন আন্ডার গ্রাউন্ডের একটি ট্রেন লাইন। লন্ডন ভ্রমনের একটি অন্যতম আকর্ষণ এই আন্ডার গ্রাউন্ড বা পাতাল রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা যা গ্রেটার লন্ডন জুড়ে জড়িয়ে আছে একটি মাকড়সার জালের মতো। নিচের ছবিটি দেখলেই তা বোঝা যাবে। প্রথম যিনি দেখেন অনেকটা গোলক ধাঁধার মতোই মনে হয়। আমারও হয়েছিল একসময়।পাতালের গভীরে বড় স্টেশনগুলো চোঁখ ধাঁধানো। ট্রেনগুলো স্টেশনে থেমে এক মিনিটের মধ্যেই চলে যায়।দরজাগুলো ইলেকট্রিক হাইড্রলিক প্রসারে খোলে এবং বন্ধ হয়। চালক আসনে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

train map

আন্ডার গ্রাউন্ড হলেও ট্রেনগুলো কখনও মাটির নীচ দিয়ে আবার কখনও উপর দিয়ে চলে। অর্থাৎএকইসাথে আন্ডার গ্রাউন্ড এবং ওভার গ্রাউন্ডও রয়েছে। চলার পথে প্রথমে একটু জটিলই মনে হয়। তবে গন্তব্য পথ খুঁজে বের করতে খুব একটা সমস্যা হয় না নতুন যাত্রীদের ক্ষেত্রেও।দেয়ালে এবং স্টেশন এর প্রবেশ মুখে রয়েছে দিকনির্দেশনা। যাত্রীদের সহজ চলাচলের জন্য রয়েছে চমত্কারভাবে দিক নির্দেশিত চিহ্ন যা অনুসরণ করে গন্তব্যের সঠিক পথটি যে কেউ খুঁজে বের করে নিতে পারে অনায়াসে।

পাতাল রেল স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার।শুধু মাটির গভীরেই নয় নদীর নীচ দিয়েও চলছে।লন্ডন টেমস নদীর বুক চিরে সুড়ঙ্গ ব্রীজ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে ট্রেনগুলো।পাতাল রেলে আমার প্রথম উঠার অভিজ্ঞতা হয় ১৯৮৭ সালে কলিকাতায়। এরপর ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার মন্ট্রিলে।২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।তবে আধুনিক এই তিনটি সিটির পাতাল রেলপথের নাম ভিন্ন ভিন্ন।লন্ডনে ‘আন্ডার গ্রাউন্ড’ বা টিউব,নিউ ইয়র্ক শহরে ‘সাবওয়ে’ আর মন্ট্রিলে ‘মেট্রো’।

barking

দেড়শ বছরের আগের কথা। ১৮৬৩ সালে ১০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় লন্ডনে বিশ্বের প্রথম পাতাল রেল লাইন যা লন্ডনে ‘আন্ডার গ্রাউন্ড টিউব’ নামে পরিচিত। ১৫০ বছর পূর্ণ হলো বছর দুই আগে।লন্ডনের পাডিংটন ও ফারিংডনের মধ্যে প্রথম ‘মেট্রো রেল’ দিয়ে শুরু হয় এর যাত্রা। বর্তমানে ১১ টি ট্রেন লাইনের সমন্বিত এই ব্যবস্থার মোট দৈর্ঘ্য ৪০২ কিলোমিটার। সারা লন্ডনে ২৭০ টি আন্ডার গ্রাউন্ড স্টেশন রয়েছে। কোনো কোনো স্টেশন এতটাই গভীরে যেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক লিফট এবং চলমান সিড়ি।বড় বড় ষ্টেশন গুলোতে রয়েছে চার-পাঁচটি ট্রেন লাইনের সমন্বিত সংযোগ।

ক্রমশ…

৩৫০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. দ্বীপ সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    অসাধারন পোস্ট।

  2. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো দাদা… নিয়মিত লিখুন…সাথেই আছি আমরা…!

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার অনুভূতির অথচ তথ্যনির্ভর পোস্ট ।
    বেশ ভাল লেগেছে ।
    শুভেচ্ছা নিরন্তর ।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল পোষ্ট

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    অসাধারণ পোষ্ট বেশ ভারো লাগলো
    পড়ে ও দেখে বেশ ভাল লাগল

    শুভ কামনা থাকলো
    শুভ রাত্রি

  6. অনিরুদ্ধ বুলবুল মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা, নান্দনিক ছবি ও অসাধারণ বর্ণনা শৈলীতে মুগ্ধ হলাম কবি।
    অনেক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানবেন।

    • শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

      অনেক ধন্যবাদ অনিরুদ্ধ বুলবুল আপনাকে ।আপনি সব সময়ই সাথে আছেন পারছিনা শুধু আমি । এই আমার অলসতা নয়, সময়ের সাথে যুদ্ধ ।

  7. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভ্রমণ কাহিনি ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top