Today 19 Feb 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কাব্যগল্প: বৃষ্টি ঝরা সন্ধ্যা

লিখেছেন: এস কে দোয়েল | তারিখ: ১৪/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 808বার পড়া হয়েছে।

কবি হাটছে এক নিবির ঘন মেঘলা সন্ধ্যায়,
কিছুক্ষণ আগেও আকাশে কোন মেঘ ছিলনা,
সূর্যটা পশ্চিম প্রান্তে ডুবতে দেখা গেছে,
কিন্তু এখন পুরো আকাশ জুড়ে কালো মেঘের
বিবর্ণ ছাপ;
কবি হাটছে দ্রুত পায়ে এই নির্জন নগরীর অদূরেই,
জেমকনের কমলা বাগানটা,
রাস্তার পাশেই ছনের ছাউনি গোলাকার চাল,
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এক আড্ডার বিলাস,
তার সামনেই আরেকটি চতুর্ভুজ ছাউনি,
বলা যায় টাওয়ারের ন্যায়, মই বেয়ে উপরে উঠতে হয়,
আছে তিনটি স্তর।
এই জৈষ্ঠ মাসের গ্রীষ্মের ঋতুতে প্রকৃতির কত রুপ বদলই না হয়,
বদল হয় মানুষেরও রুপ-যৌবন-অবয়ব আর মনের ভিতরটাও,
কবি দেখছে প্রকৃতির সাথে মানুষের কি নিবির মিল!
প্রকৃতি যেভাবে চলে প্রাণিকুলকেও সেভাবে চালিত করে।

কবি হাটছে দ্রুত এই বুঝ বৃষ্টি ছটা,
আকাশ থেকে খসে পড়তে শুরু করলো-
মেঘের বিবর্ণ ভয়াল কালো রুপ, প্রকৃতির বুকে নামছে কৃষ্ণ আধাঁর,
হয়তো হতে পারতো এই গোধুলী সময়টা একটা রঙিন সন্ধ্যা
কিন্তু প্রকৃতির বিষন্নতায় আধাঁরের কালো ছায়ায়,
জগতকে এখন খুবই ছোট্ট মনে হচ্ছে!
এই বুঝি বর্ষার জলে মেঘফাটা তর্জন-গর্জন নিনাদের বিচ্ছুরনে
জীবনের শেষ মুহুর্ত মৃত্যুর সংস্পর্শে এনে, করে তুলছে ভীতিগ্রস্ত!

কবি হাটতে থাকে যান্ত্রিকের মতো পথ যেন ফুরাতেই চায় না,
মাথার উপর এক একটি মেঘের খন্ডগুলো যেন ডুমাডুম পড়ছে মেঘলাকাশ থেকে,
কবির পথ চলা রাস্তাটা বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে যাবে।
কবির পায়ের স্যান্ডেলটার ফিতে, পটাশ করে যায় ছিঁড়ে,
এই বিবর্ণ সময় ভীতিপন্ন মুহুর্তে মানুষের জীবনটা কি এমনি হয়!

নির্জন এ পথের পাশেই বিস্তৃত জায়গা জুড়ে মুসলমানদের শায়িত গোরস্থান ময়দান
তার পাশেই খ্রিস্টান-শাওতালদের চাপা মাটির কবর,
কবি হাটছে আর ২০-২৫ হাত দুরেই জেমকনের গোল ছাউনিটা,
বৃষ্টির শাণিত প্রস্তরাঘাত কবির শরীরে পড়ছে টপাটপ,
এই নির্জন পথচলা রাস্তায় কোন পথিকও অদৃশ্য,
কিছুদিন আগে কে বা কাহারা গোরস্থানে ফেলে রেখেছিল একজনকে হত্যা করে,
সেই থেকে ভয়াচ্ছন্ন এই পথ সন্ধ্যার ঘন মুহুর্ত হয়ে পড়ে নি:সঙ্গ,
কবি ফিরছিল গৃহালয়ের দিকে, পড়ন্ত বিকেলে ঘুরতে বেরিয়েছেল এট্টু,
এই ফেরার পথেই মেঘ ঝরা বৃষ্টির সাথে ভেঁজার সম্পর্ক,
কবি ভিজঁছে শর্ট পাঞ্জাবিটা বৃষ্টির জলে শিহরিত তনু,
ছিঁড়া স্যান্ডলটা হাতে নিয়ে এগিয়ে যায় ধীর গতিতে,
পিছন থেকে কোমল গা ঘেঁষা অনুভবে কম্পিত হয় কবি,
মাথার উপর কিসের বৃষ্টির বাঁধা কিউটের ছাতাটা!
কবি পিছনে তাকায় দেখে সেই বাবু প্রশান্তের মেয়ে চন্দ্রমল্লিকা!
আরে আপনি? প্রশ্ন করে কবি।
হ্যাঁ আমি, কবি সাহেব, বিকেলটা উপভোগ করতে চলে এসেছিলাম,
কি ভাগ্য! বৃষ্টিটা আটকিয়ে দিয়ে তোমার সান্নিধ্য মিলিয়ে দিলো আমায়,
ভগবানকে কিভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা;
এসো ওই ছাউনিটায়, ওখানে আমার বান্ধবীরা বসে আছে,
আপনারা শুধু মেয়ে! এই সন্ধ্যায়—
না তিনজন পুরুষও আছে,আমার আংকেলসহ ছোটভাই পীযুষ,
খুব ভালো হলো তোমাকে পেযে, আজ সন্ধ্যাটা—
কি বললেন? কবির প্রশ্ন।
আজ বৃষ্টি ঝরা সন্ধ্যা তোমার পাশে বসেই উপভোগ করবো,
কবি নিশ্চুপ থেকে এগিয়ে যায় জেমকনের ছাউনিটার দিকে,
কথা বলছো না কেন কবি সাহেব?
আপনি আমাকে তুমি বলছেন কেন?
বারে তোমার সাথে আমার তো বিয়ে হবে কয়দিন পরেই;
তখন তো তুমি বলতেই হবে তাই না?
আচ্ছা আপনার বাবা হিন্দু হয়ে মুসলমানের সাথে——
আব্বু তো ঘোষনাই দিয়েছেন মেয়ের সুখের জন্য
প্রয়োজন হলে মুসলমান হয়ে যাবেন।
কবি হাটতে থাকে এই বৃষ্টি ঝরা সন্ধ্যায়,
পাশে হিন্দু সুন্দরী ললনা চন্দ্রমল্লিকা মাধবী বালা,
হটাৎ অদূরেই পড়লো মেঘফাটাঁ কান ছিঁড়ে যাওয়ার বাজের বিকট শব্দ,
কবিকে জড়িয়ে ধরে চন্দ্রমল্লিকা, ভয়ে সে ভীষণ আতংকগ্রস্ত,
দাঁড়িয়ে থাকে কবি; চল্দ্রমল্লিকা বুকে চেপে আছে ভেঁজা জামার মতো,
কিছু যৌবনের উষ্ণ শিহরন শিরশির করে তুলে দু’দেহের ২২-২৮ শের বয়স উত্তাল বসন্ত,
নির্জন সন্ধ্যা, কৃষ্ণকালো মেঘের ঘনঘটায় নেমে আসছে পৃথিবীতে আঁধারি রাত,
এই বৃষ্টি স্নাত জলধারায় বিজলি চমকানো টিপটাপ সাজবাতির চোখ ঝলসানো আলোয়,
পূবানী দমকা হাওয়ায়, কিউট ছাতাটা উড়ে গিয়ে পড়ে আছে চা-বাগানের গর্তটায়-
অসহায়ের মত,
বৃষ্টি থেমে গেছে আকাশ জুড়ে মেঘেরা দিক-বেদিক ছুটে চলেছে কোথাও,
মেঘের বুক চিরে নবমী চাঁদের জোছনা রাঙা বিমুগ্ধ হাসিঝরা মুখ,
পৃথিবীর বুকে পথ প্রান্তের জলের ঢেউয়ের সাথে আনন্দে দোল খেয়ে যায়,
কবি দাঁড়িয়ে সবুজ বৃক্ষের মত, চন্দ্রমল্লিকা বুকে চেপে লেপ্টে আছে জোঁকের মতোই,
চাঁদ-জোস্না মেঘের মিতালীতে কি বিচিত্রের প্রেম খেলা প্রকৃতি ঘটিয়ে থাকে,
জেমকনের ছাউনি থেকে বের হয়ে আসে চন্দ্রমল্লিকার সঙ্গিরা——-।

[কবিতাটির আগের পর্ব: ওই যে ছেলেটি কবিতা লিখে….এর অংশ। যারা কবিতাটি পড়েছেন তারা কিছূটা বুঝতে পারবেন বাবু প্রশান্ত ও তার মেয়ে চন্দ্রমল্লিকার বিষয়টা। আজকেও কিন্তু কবিতাটা শেষ করা গেল লা। চন্দ্রমল্লিকার সঙ্গিরা এসে কি কবির বুকে চন্দ্রমল্লিকাকে লেপ্টে থাকতে দেখেছিল? আর চন্দ্র মল্লিকার আংকেলের চোখে কোন কিছু ধরা পড়েছিল?]

৭৯৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
এস.কে.দোয়েল সম্পাদক ও প্রকাশক আলোর ভূবন সাহিত্য ম্যাগাজিন এবং জাতীয় পত্রিকার ফিচার ও কলাম লেখক। তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
সর্বমোট পোস্ট: ১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১৮ ১৮:১২:২৬ মিনিটে
Visit এস কে দোয়েল Website.
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Bhalo laglo
    sundar
    dekhi ager ta porhar

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগা রইল

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    লিখে যান সাথেই আছি

  4. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লিখা
    বেশ ভাল লাগলো
    ভাব ভাবনার প্রকাশ দেখলাম
    শুভ কামনা রইল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top