Today 17 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কাব্য: আমার মা আমার স্বর্গ

লিখেছেন: এস কে দোয়েল | তারিখ: ২৪/০৬/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 528বার পড়া হয়েছে।

[উৎসর্গ আমার মা আলেয়া খাতুনকে। যার গর্ভে জন্মের পর এই পৃথিবীকে দেখা]

পৃথিবীর ওয়ার্ল্ড স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোতে চলছে হরদম প্রচার
পত্রিকার পাতায় পাতায় শিল্পকার্য্যে মাতৃত্ব মানবীর ফুটে উঠেছে ছবি
বিশ্ব মা দিবস
চমৎকার আয়োজন,পৃথিবীর শ্রেষ্ট মমতাজয়ী মিষ্টি মিশ্রিত শব্দ-‘মা’
প্রত্যেক প্রাণীই তার মাকে বেশি ভালোবাসে,
শৈশবে বুকের দুগ্ধ পানের ভিতর আরেক অদ্ভূত সম্পর্ক গডে় উঠে
আত্মার সাথে আত্মা,রক্তের সাথে রক্ত,নাড়ীর সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
মা আমার পৃথিবী,
মা আমার গৃহের ছাদ,গৃহের আয়না
মা আমার স্বর্গের ফুর বাগিচা
মা আমার দু’চোখের প্রশান্তির আয়না,এরকম কত অগণিত শব্দ-বাক্য
বাতাসের গুঞ্জনে,সাগরের কল্লোল সূরে ভেসে বেড়াচ্ছে আজ পৃথিবী জুড়ে।

সেদিন আঁধারি সন্ধ্যায় দেখেছিলাম ৮ বছরের শিশুটির মা হারানো আর্তনাত কান্না
সামনেই গোরস্থান,সদ্য নতুন কবরে শুয়ে আছে তার মা আয়েশা বিবি,
তার অদূরে হিন্দুদের শশ্মান ঘাট,অরুণ মিত্র ধূতি পরে আর্তনাতে সেও জর্জিত
গৃহকোণে এক পাশে বসে গোঙায়ে কাঁদছে ১১ বছরের মেয়েটি,দুই দিন আগে-
মেঘনায় ট্রলার ডুবিতে হারিয়েছে তার প্রিয় আপনজন মাকে
কম্পিউটারের সামনে নির্ঝরে চোখের জল ফেলে কাঁদছে শিশু মেঘ
কযে়ক মাস হলো সাগর-রুনি তার বাবা-মাকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেছে
এরকম অগণিত মানুষ হারানো মায়ের শোকে চোখের কিনারে স্রোতে ভাসাচ্ছে জল
খোদার আরশ কেঁপে উঠে ভেজা আকাশে মেঘের বৃষ্টির ঝরা দেখে,
আর্তনাতে কেঁপে উঠে পৃথিবী,দুলুনিতে সংকেত দিযে় যায় মৃদু ভূমিকম্প,
কেঁপে উঠে স্থল মৃত্তিকার সবুজ প্রান্তর বুক,
নি:শব্ধে কেঁদে যাচ্ছে যৌবনহীন পাতা ঝরা বৃক্ষ গাছগুলোও।

নির্জন সন্ধ্যা কম্পিউটারের স্কিনের দিকে চোখ রেখে অনলাইনে খবরগুলো
মনের আয়নায় প্রামাণ্য চিত্রের মত খন্ড খন্ড বহু ঘটনা বাস্তব হয়ে উঠে
দেখতে উদগ্রীব হই,চোখ বন্ধ করে দেখতে থাকি এইসব ঘটনা চিত্র গুলো-
মা,মাগো তুমি কোথায়? কিভাবে ঘুমাস রে ওই অন্ধকার মাটি চাপা ঘরে
গোরস্থান ময়দানে,ভয় করে না!
জানিস রাতে আমার ঘুম হয় না,বারবার চোখের সামনে হাজির হোস তুই
ডাকিস খোকা ঘুমাচ্ছিস? দেখ কে এসেছে?
চোখ খুলে তাকায় খোকা,মায়ের চোখে মুখে মৃদু প্রানবন্ত হাসি,
মা বলে চিন্তা করিস না তো,আমি তোর আত্মার সাথেই মিশে আছি,
আমি শান্ত¦না পাই, আচ্ছা মা আমাকে ঘুম পারিয়ে দিয়ে যাওনা,
কতদিন তোমার হাতের পরশ না পেয়ে চোখের পাতা এক হয়না।

কোথায় চলেছ মা,আমাকে নিয়ে যাবে না বলে আঁচল টেনে ধরে শিশু
মা কথা বলে না, সাদা শাড়ী পরিহিতা মা চলতে থাকে শুন্য মাঠের দিকে
এই মা শোনো না,নইলে তোমার আঁচল কিছুতেই ছাড়বো না,
জানিস না মা,এই আঁচলে কত দিন মুছেছি ক্লান্ত-ঘামাশ্রিত মুখ।
মা আমাকে ১৫ টাকা দিবে? স্কুলে টিফিন খেতে হবে, ঠিক দুপুর দুইটায়
আর পাঁচ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করবো,
জানো মা,স্কুল ছুটির সময় আমার বন্ধুর মায়েরা ওদের নিতে আসে,
কাছে টেনে নিয়ে দু’গালে আদর করে চুমু দেয়,আমি দাঁড়িয়ে অপলক তাকিয়ে থাকি
মনের আফছোসে প্রলাপ বকি-ইস; ওই সময়ে যদি তুমি এসে আমাকে চুমু দিতে!
তুমি তো যেতে পার না, দিবে মা পনেরটা টাকা,এই মা..মা..
মাগো ঈদ এসেছে নতুন কাঁপড় কিনে দিবে না,
নতুন একটি সেট কিনে দিতে হবে কিন্তু
জানো মা বন্ধুদের গর্ব করে বলতে পারি পৃথিবীতে
আমার মায়ের মত আপন আর হতে পারে না।

পৃথিবীর সন্ধ্যায় আঁধার ঘনিয়ে আসে,নির্জনে ভাবছি মানুষ জন্মের ইতিবৃত্তের কথা
অদ্ভূত এক ত্রিমাত্রিক আঁধারে আমার স্থান-কাল-অবস্থান বসবাস
দশ মাস রক্তে-মাংসের আশ্চর্য্য এক গহবরের ভিতর বেড়ে উঠা
কয়েক ফোঁটা নোংড়া বীর্য্যরে তরল পদার্থের সমন্বয়ে পরিণত আমার দেহ-পিন্ডব
চমৎকার ভাবেই রুপ নেই মানুষে
মহান সৃষ্টিকর্তা গৌরব করে পাক কালাম কোরআন শরীফে বলেন-
আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির নির্যাস থেকে,
তারপর তাকে শুক্ররুপে এক সুরক্ষিত স্থানে (মাতৃগর্ভে) স্থাপন করি,
এরপর শুক্র বিন্দুকে পরিণত করি এমন আলাকে যা লেগে থাকে,
তারপর সে আলাকে পরিণত করি মাংস পিন্ডবে,অত:পর-
মাংসপিন্ড থেকে সৃষ্টি করি অস্থি, পরে অস্থিকে ঢেকে দেই গোস্ত দিযে়,
তারপর তাকে গডে় তুলি এক নতুন সৃষ্টিরুপে।
এক অদ্ভূত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দশ মাসের অবস্থান শেষে বের হয়ে আসি,
পৃথিবীর অভ্যন্তরে,মায়ের প্রসব বেদনা দুর হয়ে যায়,আমাকে দেখেই,
এরপর আঠার বছর পর্যন্ত মায়ের কোলেই বড় হই শিশু হয়েই
হঠাৎ করেই মায়ের মত ভিন্ন কোন নারীর জৈব আকর্ষণে ভুলে যাই,
মায়ের কথা,লালন-পালনের কথা,
সময় গড়ায়,আমরা কেউ মাকে ফেলে আসি কোন বৃদ্ধাশ্রমে,
নয়তো কারও মা রাস্তায় রাস্তায়,বাডি় বাডি় ঘুরে ভিক্ষা করে শেষ বয়স পারি দেয়,
চিন্তা করি আমরা কিছু পাপাসক্ত সন্তানরা,যে মাযে়র গর্ভে জন্ম হযে়ছিল আমাদের।
১৪.০৫.২০১২ খ্রি. সোমবার।

৫২০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
এস.কে.দোয়েল সম্পাদক ও প্রকাশক আলোর ভূবন সাহিত্য ম্যাগাজিন এবং জাতীয় পত্রিকার ফিচার ও কলাম লেখক। তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
সর্বমোট পোস্ট: ১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৬-১৮ ১৮:১২:২৬ মিনিটে
Visit এস কে দোয়েল Website.
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার চমৎকার লেখায় নিজের মায়ের অস্তিত্ব খুজেঁ পেয়েছি। ধন্যবাদ।

  2. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রিয় মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই ।

  3. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই ।মাকে নিয়ে সব লেখাই খুব ভাল লাগে আমার।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top