Today 15 Aug 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কালের গর্ভে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী তালগাছ

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ০৭/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 714বার পড়া হয়েছে।

কয়েকবছর পূর্বেও ছিল চোখে পড়ার মত উল্লেখ যোগ্য কিছু তাল বাগান। প্রকৃতগত ভাবেই বাগান গুলো জন্মেছিল। বর্তমানে বেপরোয়াভাবে গাছ কাটার ফলে তাল বাগান বিলীন হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিটি জমির মালিকেরই ছিল তাল বাগান। এসব বাগানে তাল পাকার সময় (ভাদ্র মাস) থাকত পাড়ার দামাল ছেলেদের উৎপাত। তাল পড়ার ধুম-ধাম শব্দে বাগান থাকত মুখরিত। দূর-দূরান্ত থেকে এসব বাগানে রাতে আসতো তাল কুড়ানোর দল। রাত শেষে থলেবস্তা ভর্তি করে বাড়ি ফিরতো তাল কুড়ানো অভিযাত্রীর দল। তা দেখে বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আনান্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠত। গৃহিনীদের মাঝে চলতো তাল পিঠা বানানোর ধুম। এ সব তাল রস দিয়ে তৈরী হত বিভিন্ন মজার মজার পিঠা-কান মুচড়ি, তেল পিঠা, পাতা পিঠা,তাল মোঠা প্রকৃতি। এসব পিঠা বানিয়ে পাঠানো হতো আত্বীয় স্বজনসহ জামাই-মেয়ের বাড়িতে। এটা ছিল অলিখিত একটি রেওয়াজ। এর ব্যতিক্রম হলেই অভিমানে ফেটে পড়তো জামাই-মেয়ে। এছাড়াও তাল বাগানের পুরুষ গাছ থেকে সংগ্রহ করা  হতো তালের রস। আর এসব তালের রস গরম করে সংরক্ষণ করতো গৃহিনীরা এবং তা পরে বিভিন্ন খাবারে পরিবেশন করত মেহমান দারিতে। এছাড়া কচি তালের শাঁস, তাল পানি ও তালের আঁটির তালকুর ছিল শিশুসহ বিভিন্ন মানুষের লোভনীয় খাবার। সেই সাথে গরমের দিনে বৈদ্যুতিক লোড শেডিংয়ে তাল পাখার জুড়ি নেই। ভ্যাপসা গরমে হাঁপিয়ে ওঠা জীবনে একটু হলেও প্রশান্তি দেয় হাতের তৈরী তাল পাতার পাখা। এছাড়া মাটির ঘর নির্মাণ কাজে তাল গাছের কাঠের জুড়ি নেই। এ সব ঘর তৈরীতে প্রয়োজন পড়ে ছাদ পেটানোর জন্য তীর, ছাউনিতে লাগে কোড়া, বরংগা, পাইড় ও খুঁটি। এজন্য প্রয়োজন পড়ে পরিপক্ক তাল গাছ। পরিপক্ক তাল গাছের অভাবে গৃহ নির্মাণসহ কৃষি কাজে লাঙলের রীস ও গরুর গাড়ির ধূরির সংকট দেখা দিয়েছে। পরিপক্ক তাল গাছের অভাবে অনেকেই মাটির ঘর তৈরী বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যন্য কাঠ দ্বারা ঘর তৈরী করা গেলেও তা টিকসই কম হয়। বিধায় মাটির গৃহ নির্মানের উপর মানুষের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা,যে ভাবে গাছ নিধন হচ্ছে,সে অনুপাতে রোপিত হচ্ছে না। ফলে আগামী এক যুগ পরেই পড়বে তার বৈরী প্রভাব। মানুষ মাটির ঘর নির্মান কাজে যেমনি হচ্ছে দিশেহারা, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে তাল পিঠা বানানোর মতো পুরোনো ঐতিহ্য।

৭৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    গ্রামে এখন আর সেইভাবে দেখিনা তালগাছ

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর একটি পোষ্ট
    দাড়োয়ান গাছ আমার চোখেও পড়ে না ।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় তাল গাছের অভাব নেই। যেদিকে তাকাই শুধু তাল গাছ আর তাল গাছ দেখি। এতে বুঝা যাচ্ছে কিছু কিছু এলাকায় এখনও তালগাছ এক পায়ে দাাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।

  4. আবদুল্লাহ আল নোমান দোলন মন্তব্যে বলেছেন:

    বিশেষ করে ব্রিক ফিল্ড তাল গাছের বারোটা বাজিয়েছে।আমাদের গ্রামের বাড়ীতে ব্রিক ফিল্ড হওয়ার পর থেকে তার ধোঁয়ায় আস্তে আস্তে তাল গাছ মরে গেছে।শুধু তাল গাছ না।আম,কাঁঠাল,নারিকেল সব গাছের ক্ষেত্রেই ব্রিক ফিল্ডের ধোঁয়া মারত্মক প্রভাব ফেলেছে।

  5. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    হা তাল গাছ কে কেটে ফালা হচ্ছে। তবে আমাদের নওগাঁ এলাকায় প্রচুর দেখতে পাবেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top