Today 25 Sep 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন: কল্পদেহী সুমন | তারিখ: ১৪/০৯/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 978বার পড়া হয়েছে।

বসুন্ধরা সিটির সামনে একটি মেয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে। মেয়েটির নাম ঈশা। আজ একজনের সাথে দেখা হবে তার। নানা কিছু ভাবছে সে দাড়িয়ে দাড়িয়ে। যার সাথে তার দেখা হবে সে কখনও দেখেনি ঈশাকে। ঈশা তার ছবি দেখছিল তাই তাকে দেখলে চিনতে পারবে। ঈশা চারিদিক দেখছে সে কোথায় আছে, না হয় কোন দিক দিয়ে হারিয়ে যায় সে তার ঠিক নেই। এমন সময় হঠাৎ কেউ একজন আচমকা ঈশাকে জড়িয়ে ধরল। ঈশা খুব ভয় পেয়ে গেল। সে ঈশাকে জড়িয়ে ধরে বারবার বলছিল তাকে ছেড়ে না যেতে। ঈশা প্রচন্ড বিপাকে পড়ে গেল। একটা অপরিচিত ছেলে এভাবে জড়িয়ে ধরে আছে আর ছাড়ছেই না, মহা ঝামেলায় পড়ল ঈশা। এদিকে চারিপাশের মানুষই কিইবা ভাবছে। ঈশা কোন রকমে তাকে ছাড়াল আর যখন ছেলেটির দিকে তাকালো তখন হতবাক হয়ে গেল। এটাই যে সেই ছেলেটি যার জন্য ঈশা অপেক্ষা করছিল এতক্ষণ। ঈশা কিছুই ভাবতে পারছে না। একজন আরেকজনের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।

-কি করলে অরুণ এটা তুমি!
-কি?
-সবার সামনে আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরলে যে!
-সরি!
-আর তুমি তো আমাকে চিনই না তাহলে এখন কি করে চিনলে
-আমি ভাবছিলাম তুমি এটা হবে।
-কি করে ভাবলে এটাই আমি
-তোমার আশেপাশে আর কোন মেয়ে নেই যে নীল শাড়ি আর নীল টিপে সেজে আছে, আর তোমাকে তো আমি এখানেই দাড়াতে বলছিলাম
-তাহলে এরকম পাগলের মতো করলে কেন?
-বললাম তো ভুল হয়ে গেছে
-এটা ভুল নাকি ইচ্ছে করে করছ
-জানিনা
-এখন কি ইচ্ছে করছে জান?
-কি?
-একটা কষে থাপ্পড় মারতে তোমাকে
-মার
অরুণ গাল বাড়িয়ে দিল।
-থাক এখন আর ঢং করতে হবে না। এখন হইছে আমি যাব?
-না, কোথায় যাবে?
-কোথায় আবার বাসায় যাব
-না
-আচ্ছা তুমি কি করছ কিছু বুঝতে পারছ না?
-না
-আমি তোমার কি হই?
-জানিনা
-আমার সাথে তোমার ব্যবহার কি রকম হওয়ার কথা?
-তাও জানিনা
-কিছুই যখন জানোনা তখন আর থেকে কি হবে, আমি যাই
-না…….
অরুণ ঈশারা হাত ধরে থাকে। এবার ঈশা খুব রাগ করে বসল।
-এই কি তুমি আবার আমার হাত ধরলে
অরুণ ভয় পেয়ে হাত ছেড়ে দিল। লজ্জা পেল অরুণ অনেক। কেন যেন বারবার ঈশার সাথে পাগলামী করছে নিজেই ঠিক বুঝতে পারছে না। আজই প্রথম ঈশার সাথে দেখা অরুণের আর কেন যেন ঈশাকে চোখের আড়ালে যেতে দিতেই চাচ্ছে না সে।
-কিছু বলবে?
-হুম, অনেক কিছু
-বল
-কেমন আছ?
-এত কিছু ঘটানোর পর বলছো কেমন আছি, তুমি জান তুমি কি করছ আমার সাথে।
-তোমাকে দেখে কেন যেন এরকম করছি নিজেও বুঝতে পারছি না। বিশ্বাস কর এর আগে আমি কোন মেয়েকে ভুলেও স্পর্শ করিনি।
-আমাকে এসব বলে কি হবে? আমি তো তোমার গার্লফ্রেন্ড না যে আমাকে বিশ্বাস করাতে হবে।
-তাহলে
-কি?
-তোমাকে যে জড়িয়ে ধরলাম এটার কি হবে?
-জানিনা ……তুমি কেন যে এরকম করলা!!
-আচ্ছা পরে চিন্তা করে বলো …..যা বলবে তাই করবো
-আমি যাই এখন
-আরেকটু থাক
-না …..গেলাম আমি
ঈশা চলে গেল। আর অরুণ শুধু তাকিয়ে দেখছিল ঈশার দিকে। অরুণ বুঝতে পারছে না কি হলো আজ তার। কেন যেন ঈশাকে ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না। তবুও ঈশাকে তো অরুণ সেরকম কোন বাঁধনে আজও বাঁধেনি যে ঈশাকে বেঁধে রাখবে।
ঈশা কয়দিন ধরে অরুণের সাথে কথা বলছে না বারবার শুধু সেইদিনের ঘটনাটি মনে পড়ছে তার। অনেক দিন পর-
-কি হলো? কই হারালে তুমি?
-হারিয়ে গেছি
-তুমি এমন কেন? একবারও খবর নেওনি আমার
-আমি এমনই
-আবার দেখা করতে ইচ্ছে করছে তোমার সাথে
-না মিস্টার ….আর না

এই কথা বলে ঈশা অনলাইন থেকে চলে গেল। ঈশা ঐদিনের ঘটনাটি কোনভাবেই ভুলতে পারছে না। আর কোনভাবেই অরুণকে কষ্ট দিতে সে চায়না। অন্যদিকে অরুণ ঈশার একটু আড়ালই সহ্য করতে পারেনা। খুব একাকী অনুভব করে অরুণ ঈশা যখন তার সাথে কথা কম বলে। হয়তো দুজনের মনে একটি কথা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু কেউ কাউকে বলছে না।

৯৬৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
খন্দকার মো: আকতার উজ জামান সুমন পিতা: মো: আবু সাদেক খন্দকার মাতা: ঝরনা বেগম বর্তমান ঠিকনা: মিরপুর, ঢাকা স্থায়ী ঠকানা: কুমিল্লা জন্ম তারিখ: ৩ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৪ ধর্ম: ইসলাম জাতীয়তা: বংলাদেশী বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত শিক্ষা: বাংলাদেশ নৌবাহিনা কলেজ, ঢাকা থেকে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি উভয়টিতে জি.পি.এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ন। বর্তমানে মানারত ইন্টার্ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নরত। আমি যে রকম : কথা বেশি একটা বলিনা চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি। সব সময় কল্পনা করি। কল্পনায় আমি সবসময় নিজের সাথে কথা বলি। আর সব সময় অন্যমনষ্ক থাকি। আমার আশেপাশে কে কি করছে না করছে তার দিকে আমার তেমন খেয়াল থাকে না। অনেক সময় কাউকে খুজতে যেয়ে নিজেই হারিয়ে যাই। আর একটা কথা হলো আমার পথ মনে থাকে না তাই আমি একা হাটতে গেলে প্রায়শই পথ ভুল করি। পথে হাটাহাটি করার সময় কত জনের সাথে ধাক্কা খেয়েছি এ পর্যন্ত, তার হিসাব নেই। আমার সমস্ত জীবনটাকে কল্পনা মনে হয় কারণ সব কিছুই যাই ঘটে আমার সাথে তাই আমার কাছে কল্পনা মনে হয়। যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে ভাবি কল্পনা ভেঙ্গে গেলাই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার এই অসম্ভব রকম কল্পনাসক্ত দিনকে দিন বেড়েই চলছে। নিজেকেই কখনও হারিয়ে ফেলি আমি। জানিনা জীবনের অনেক কিছুই হয়তো তবে যতটুকু আমি অর্জন করেছি তার সবটুকুই সত্য। মিথ্যা কিছু নিয়ে আমার বড়াই নেই। এক অদ্ভুত বিষয় সর্বদাই আমাকে ভাবিয়ে তুলে তাহল কেন যেন অন্য আট দশটা মানুষের মতো সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারিনা। কিছু বিষয় আমাকে বারবার স্পর্শ করে যাবেই। আমি যা বলি তার সবটাই গভীর অনুভূতি থেকে বলি তাই হয়তো আমার কথার জবাব অর্থপূর্ণ না হলে এক ধরনের অপমানবোধ কাজ করে। আমি ভাবনার অতলে প্রবেশ করে জটিল বিন্যাসে অনেক ছক আঁকি যার ফলে স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ হতে আমার বিষয়গুলো ভাবলে মানানসই হবে না। আমাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে এরকম খুব কম মানুষই আছে। আমিও নিজেকে কখনও কখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা, তাই হয়তো আমার মন খারাপের কারণ, রাগ করার কারণ অনেক সময় আমার অজানাই থাকে। আমি খুব বেশি একটা কথা বলা পছন্দ করিনা যদিও আমার ফেসবুকে পোস্ট দেখলে তা অনেকের বিশ্বাস হবেনা। বাস্তবে আমি বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের আলোচনায় কথা তেমন বলিনা বললেই চলে। আমি সব সময় বিভিন্ন ধরনের ভাবনায় নিমগ্ন থাকতে পছন্দ করি তাই হয়তো বাস্তব জীবনের সাথে আমার সম্পর্কটাও নড়বড়ে। আমি সহজেই মানুষকে অনুভব করে ফেলি যার ফলে খুব সহজেই কাউকে মনের গভীরতায় ঠাই দিয়ে বসি। আর এটাই কখনও কখনও আমার দুঃখের কারণ হয়ে বসে। আমি জানিনা আমার বর্তমান, জানিনা আমার ভবিষ্যৎ তবে এটুকুই বলতে পারি এক সময় সুখ আর দুঃখ দুটোই একই মনে হবে আমার কারণ আমার অনুভূতির জগতটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আর আমার অনুভূতি নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মানে আমার কবিতা, গল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে আমার সৃজনশীল কর্মের তালিকা হতে। তবে আমি থাকব একজন অবাধ্য বন্ধু হয়ে সবার মাঝেই। প্রকাশিত বইঃ (১)সমন্বয়(কাব্য গ্রন্থ-সম্মিলিত সংকলন)
সর্বমোট পোস্ট: ২৯২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪৯৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২৯ ১৬:৩০:৩০ মিনিটে
banner

৫ টি মন্তব্য

  1. নাজমুল হক পথিক মন্তব্যে বলেছেন:

    ঈশা নামের মেয়েটির জীবন চিএ ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ লেখককে।

  2. গোলাম মাওলা আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    এই করে ডিজিটাল প্রেম শুরু হচ্ছে কিন্তু শেষ কোথায় ——

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ অন্য ভাবনার লেখা
    ভাল লাগল

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প ভাল লাগল । ভালবাসার গল্প বরাবরই ভাল লাগে আমার । শুভকামনা

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন ভালোবাসার গল্প বেশ ভারো ভাবনা
    বেশ সুন্দর বেশ ভাল
    শুভ কামনা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top