Today 24 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কেউ সাধারণ মানুষের কথা ভাবছে না..

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৬/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 454বার পড়া হয়েছে।

কেউ সাধারণ মানুষের কথা ভাবছে না। না সরকার না বিরোধীদল ! এখানে সরাসরি বিরোধীদল না বলে সরকার-বিরোধী রাজনৈতিক দল বলাই যথোপযুক্ত। কারণ যদিও সরকারী দলের সঙ্গে সরকারের ক্ষমতার ভাগীদার বিরোধী দল তথাপি গণতান্ত্রিক রীতি অনুসারে সংসদে জাতীয় পার্টি এখন বর্তমান বিরোধী দল। অন্যদিকে, যে বিরাট রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ (বিএনপি এবং তাঁদের জোট) সরকার-বিরোধী শক্তি হিসেবে আন্দোলন করে যাচ্ছে তাঁরা এখন সংসদের বাইরে থাকায় তাঁদেরকে বিরোধীদল না বলে সরকার-বিরোধী দল বলা-ই শ্রেয়।

বিএনপির সাথে জোটভুক্ত সরকারবিরোধী দলগুলো চায় যেকরেই হোক সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় যেতে। যে প্রচেষ্টা বিএনপি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় এর আগেও করেছে এবং চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে গত বারের সরকার বিরোধী আন্দোলনে। সেই ব্যর্থতার গ্লানি এখনো বয়ে চলছে তাঁদের।ওই ব্যর্থতার কারণ শুধু সরকারের একরোখা নির্যাতনই ছিল না। বিরোধীদলের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা তো ছিলই সাথে মূল কারণটা ছিল সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের সাথে সম্পৃত্ত করতে না পারার চরম ব্যর্থতা। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি তখন সাধারণ মানুষের আকাঙ্খাকে মূল্য না দিয়ে দল কানা নেতা কর্মী এবং ইসলামী দলগুলোর আতাঁতে রাজপথে মিছিল-মিটিং আর ভাংচুর করে আন্দোলনে মেতে ছিল।

বিএনপি এবারও একই পথ বেছে নিতে চাচ্ছে। আর এই সহিংস পথ বেছে নেয়ার জন্যে কিংবা সরকারী দলকে উস্কানি দিয়ে মাঠে নামিয়ে এনে ওই সহিংস পথটি সুগম করে এগোনের লক্ষ্যে সুকৌশলে বছরের প্রথমেই যাত্রা শুরু করছে। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতির পিতাকে রাজাকার বলে গালাগালি করাও সেই প্রকল্পেরই অংশবিশেষ। দেশনেত্রী খ্যাত খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র এই চিত্কারের কথক দ্রষ্টা। সাধারণ জনগণ কি তাঁদের এই চেঁচামেচি মেনে নিয়েছে? তাঁদের উদ্দেশ্য একটাই আন্দোলন জমাতে হলে এজাতীয় গাদ্দারী হুংকারের কোনো বিকল্প নেই। তাতে আওয়ামীলীগও উত্তপ্ত হবে। খেলাটাও জমবে ভালো। সেই জমানো খেলায় আওয়ামীলীগ এখন রাজপথে। সহিংস কর্মকাণ্ডে জনগণ লাশ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকুক এতে তাঁদের কিচ্ছু আসে যায় না।

এদিকে, আওয়ামিলীগ চাচ্ছে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ করে আর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল করতে হলে কিভাবে নিজেরা পুনরায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে সেই বন্দোবস্ত করে রাখা। যার গাত্রদাহে বিএনপি এখন পাগলপারা। যদিও আওয়ামিলীগ ৫ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ নির্বাচন বলে সুকৌশলে নির্বাচনটা সেরে নিয়েছিল কাউকে তোয়াক্কা না করেই।এক কথায় ওই নির্বাচনেও সাধারণ জনগনের সম্পৃত্ততা ছিল না। সেই সুযোগে বিএনপি এখন আওয়ামীলীগের সরকারকে অবৈধ সরকার বলতেও কুন্ঠাবোধ করে না।

সরকারী দল এবং সরকারবিরোধী পক্ষ উভয়ের মূল উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন। ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা একবার ক্ষমতায় গেলে পুনরায় কিভাবে টিকে থাকা যায় সেই ছক এঁকে বিরোধী দল গুলোকে রাজপথে দমন করা। তাঁরা সর্বত্রই একটা বুলি ফেরি করে বেড়ায় ক্ষমতার মূল উৎস দেশের সাধারণ মানুষ ! চেঁচিয়ে বেড়ায় ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। অথচ দেশের সাধারণ মানুষ কি চায় সেই বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মাথা ব্যথা নেই।আসলে দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নের কোনো দাম তাঁদের কাছে নেই। কিন্তু তাঁরাই আবার সাধারণ মানুষের কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এটাই বাস্তবতা।

আমি জানি আমার এই কথার পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই জড়িয়ে যাবেন। কেউ কেউ তেড়িয়ে আসবেন চ্যাংদোলা করার জন্যে। কারণ এই সমাজটা এমনই- সবই নিজেদের পক্ষে হওয়া চাই। এর বাইরে আমরা কেউ যেতে চাই না।আমরা হয় দেশনেত্রী নয়তো জননেত্রী। আমিও এর বাইরে নই। প্রশ্ন হলো এর পরেও দেশ ও মানুষের কথাও ভাবতে হবে। আর কত ! তৃতীয় পক্ষ বলে যারা চিত্কার করে তাঁরা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতই নিষ্ফল গুতোগুতি করে যাচ্ছে।তাঁদের দিয়ে যে কিছুই হবে না এটা দুই পক্ষও ভালো করেই বুঝে।মোটা মাথাওয়ালাদের যা হবার তাই হয় আর কী !

শেষ করবো লেখাটি। ভাবছি বর্তমানে কি কি কারণে সরকারের পতন হওয়া দরকার তাঁর সঠিক ব্যখ্যা যদি সরকার-বিরোধী দলগুলোর কাছে থাকে তাহলে জনগনকে সম্পৃত্ত করুন।সাধারন মানুষ যতদিন ঘর ছেড়ে রাস্তায় না বের হবে ততদিন কোন আন্দোলন সফলতার মুখ দেখবে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে বিএনপির হৃদয়ের মনিকোঠায় যে গুপ্তধন জড়িয়ে রেখেছে তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে হবে তাঁরাও যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতা বিরোধীদের বিচার চায়। ওদের পক্ষ অবলম্বন করলে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হতেই হবে। এই সত্যটি জানা প্রয়োজন। বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে বিএনপির এই জাতীয় অস্পষ্ট লোক দেখানো যুক্তি সাধারণ জনগণ মেনে নেয়নি এবং নিবে বলেও মনে হচ্ছে না।

আর বর্তমান সরকারও গণতন্ত্র রক্ষায় বালুর ট্রাক এবং জল কামানের ভূমিকা নিয়ে যে রহস্য করছেন তাও নিরর্থক। সরকার যদি সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে বিরোধীদের দমনে সময় ব্যয় করতে হবেনা। ভয়ও পেতে হবে না। সাধারণ মানুষই সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনে রাজপথ দখল করে নিবে।

আমাদের প্রয়োজন একটি শক্তিশালী বিরোধীদল নিয়ে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এবং অধিকতর উন্ননয়ন করে দেশ ও জনগনের পাশে দাঁড়ানো।

জয় হোক জনতার । গণতন্ত্র ফিরে আসুক।

৪৪১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    বলার কিছুই নাই

    মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

  2. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    খুবই সত্যি কথা, এই তথাকথিত গনতন্ত্রে জনগন সকল ক্ষমতার উৎস না হয়ে হয়ে পড়েছে রাজনৈতিক আগ্রাসনের জিম্মি …

  3. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    কে ভাবে কার কথা
    সবার চাই ক্ষমতা।

  4. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল থাকবেন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top