Today 18 Nov 2017
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কেমন কাটছে ব্রিটেনে প্রবাসী জীবন? (পর্ব-২)

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ১১/০২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 257বার পড়া হয়েছে।

বলছিলাম প্রবাসীদের নিঃসঙ্গতা আর একাকিত্বের কথা।একজন প্রবাসী কী সত্যিই নিঃসঙ্গ? প্রবাসীরা নিঃসঙ্গ নয় এমনটি বলা যাবে না।তবে এই নিঃসঙ্গ জীবনেও রয়েছে বৈচিত্রতা।প্রবাসী জীবনের এই বৈচিত্রতা কেটে যায় একেক ভঙ্গিমায়,একেক রঙে।সেটা কখনো আনন্দের।কখনো অতি স্বাধীনতায় হারিয়ে ফেলে জীবনের ছন্দ ও সুর।এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই খোদ প্রবাসীদের মধ্যেই।

একজন প্রবাসীর মানসিক অস্থিরতা,তার আবেগ, তার কষ্ট-ভালবাসা, ও নিরব কান্না এসব কিছুই দেশ ও স্বজনদের নিয়ে।হোকনা তা মা ও মাটির সান্নিধ্য থেকে অনেক দুরে।দেশে বাস করে দেশকে উপেক্ষা করা যায়।কিন্তু প্রবাসে এলে দেশকে নতুন ভাবে ভাবতে শিখায়,দেশ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে যায়।একজন প্রবাসী শুধু পরবাসী নয়, মননে, চিন্তায়, চেতনায় স্বদেশবাসীও বটে।দেশকে নিয়ে প্রবাসীদের অন্তহীন অন্তর্জালা কতটা যে গভীর ও বেদনাময় তা ভুক্তভোগী প্রবাসীরাই জানে।তবে অদৃশ্য এই অনুভূতির জায়গাটুকু প্রেরিত হাজার কোটি ডলার রেমিটেন্সের হিসাব দিয়ে অঙ্ক কষলে বের হবেনা যে! দূর থেকে দেশকে ভালোলাগা ও ভালবাসার এই হৃদয়স্পর্শী আবেগটুকু যে কতটা ‘ননস্টপ’ তা কাউকে বোঝানো যাবে কি?

যাবে না।কারণ, প্রবাসীদের ভালো থাকা, মন্দ থাকা অনেকটাই নির্ভর করে দেশের মানুষগুলো সুস্থ ও শান্তিতে থাকার উপর।প্রবাসীরা তো পরবাসী।তবু মন আর হৃদয়টা যে কখনই ‘পরবাসী’ হতে চায় না।ভালো লাগা, না লাগার পুরো আবেগটাই যেন জড়িয়ে থাকে দেশের জন্যে, দেশের স্বজনদের জন্যে।’প্রবাসী’ মানে বৃক্ষের শিকড় রেখে উপড়ে ফেলা এক গুচ্ছ ডালপালা, যে সর্বক্ষণ শিকড়ের সন্দ্বানে হাতছানি দিয়ে ডাকে।অন্তত ব্যক্তি প্রবাসী হিসাবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আমার কাছে তা-ই মনে হয়।

নিঃসঙ্গতা কি? নিঃসঙ্গতা মানে তো কারো অনুপস্থিতি ভীষণভাবে অনুভব করা। কাউকে গভীরভাবে মিস করা।আর একাকিত্ব? একাকিত্ব হলো ওই নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে নিজের মাঝে নিজকে সতেজ রাখা। ভালো রাখতে সচেষ্ট থাকা। শত কষ্টেও অন্যত্র নিজেকে ‘খাপ’ খাইয়ে নেয়া। নিঃসঙ্গতা যদি হয় কাউকে মিস করা,নিঃসঙ্গতা যদি হয় প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভব করা, তাহলে তো প্রবাসীরা নিঃসঙ্গই বটে।

এত নিঃসঙ্গতার মাঝেও প্রভাতে দোয়েল পাখির শীষে প্রবাসীদের ঘুম ভাঙ্গে।ঘু ঘু পাখিগুলোর রমরমা ডাকা-ডাকি মনকে উতলা করে।কী এক অদ্ভূত নষ্টালজিয়ায় আক্রন্ত হলেও ওই দৃশ্যমান পাখিগুলোকে কেন এত অচেনা মনে হয়? আচ্ছা, সীমান্ত পেরিয়ে গেলেও কী ওই ঘন নীল আকাশের রঙ কখনো ভিন্ন হয়? হয়না।তবু কেন মনে হয় ওই চিরচেনা আকাশটা এত অচেনা? এই সবই তো নিঃসঙ্গতা।প্রবাসীদের নিঃসঙ্গতা।

এই নিঃসঙ্গ প্রবাসীরাই একাকিত্ব জীবন নিয়ে দেশ আর স্বজনদের মাঝেই নিজকে লুকিয়ে রাখে।প্রবাসীরা দেশ ও স্বজনদের নিয়েই স্বপ্ন দেখে।কখনো আড়ালে।কখনো প্রকাশ্যে। ওই স্বপ্নগুলো কেবলই সাদাকালো নয়।রঙবে রঙেরও হয়।

অনেকেরই ধারণা প্রবাসে থাকা মানে না ‘বিদেশী’ না ‘বাঙালী’ হয়ে বেঁচে থাকা।প্রবাস মানে কী একগুয়েমি জীবন? প্রবাসী মানে কী সাংস্কৃতিক আত্নপরিচয় ভুলে যাওয়া? নাকি এই একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গ জীবনেও প্রবাসীরা আকড়ে ধরে থাকে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি?

একটি সময় হয়তো ছিল প্রবাস মানে না ‘বাঙালি’ না ‘বিদেশী’ হয়ে বেঁচে থাকা।কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। ওই ধারণার পুরোটাই পাল্টে গেছে।ব্রিটেনের প্রবাসীরা নিজকে ষোলআনা বাঙালীয়ানায় দেখতে না পেলেও বাঙালি জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও সাফল্য এখন অনেক ব্যপ্তি লাভ করছে। পিঠা উত্সব,একুশে ফেব্রুয়ারী পালন, বিজয় ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, বৈশাখী মেলার জমকালো আয়োজনসহ হরেকরকম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে প্রবাসী-অভিবাসী বাঙালীরা জাগিয়ে রাখছে নিজ দেশের শিল্প সংস্কৃতি এই প্রবাসেও। ব্রিটেন এখন বাঙালিদের নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র।উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাল্টে দিয়েছে ‘না বাঙালি’ হয়ে বেঁচে থাকার ওই সংকুচিত ধারণাটি।

এই তো, এখন থেকে দেড় যুগ আগেও কোনো বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল ইউরোপ কিনবা আমেরিকার ভূখন্ডে বসে দেখার কল্পনা ছিল কাল্পনিক বিলাসিতা।আর এখান? শুধু ইউরোপ তথা ব্রিটেনে বসেই প্রবাসীরা দেখছে অর্ধ ডজনেরও বেশি বাংলা টিভি চ্যানেল।যেগুলো প্রতিনিয়ত চব্বিশ ঘন্টাই প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাঙালিয়ানার স্বাদ।শুধু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াই নয় পুরো ইউরোপ জুড়ে অর্ধশতেরও বেশি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ভাষায়।আরো রয়েছে একটি কমিউনিটি রেডিও বেতার বাংলা।

এক সময় যা ছিল কল্পনিক বিলাসিতা তা এখন হয়ে উঠছে নিত্য দিনের সঙ্গী।ব্রিটেনে এখন বেশকিছু প্রতিনিধিত্বশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনও গড়ে উঠেছে।‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ ইংল্যান্ড শাখা তাদের একটি।‘চারণ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক চক্রও গড়ে উঠেছে মননশীল সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে।উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী,সত্যসেন স্কুল অফ পারফর্মিং আর্টস সহ আরো অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগীত ও নৃত্যের পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়ে প্রবাসীদের জন্যে কাজ করে যাচ্ছে।এই সব কিছুই ‘না বাঙালি’ হয়ে বেঁচে থাকার দৃঢ় অনুপ্রেরণা।

(চলবে..)

 

২৮৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top