Today 22 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কেমন কাটছে ব্রিটেনে প্রবাসী জীবন? (পর্ব-১)

লিখেছেন: শওকত আলী বেনু | তারিখ: ০৬/০২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 436বার পড়া হয়েছে।

প্রবাসীদের জীবন কেমন কাটে? এ প্রশ্নটা অনেকেরই। কারো কারো রয়েছে বিশেষ কৌতুহল।অন্তত যারা প্রবাসী নয়।কৌতুহলটা তাদেরই বেশি যাদের স্বজনরা প্রবাসী।আমজনতার আগ্রহ যে নেই তা নয়।তা ক্ষেত্র বিশেষে।তাদেরও কৌতুহল হয়,যখন কোনো প্রবাসী হয়ে উঠে সেলিব্রেটি।ব্রিটেনে প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থেকেই আজকের এই লেখা।

প্রবাস মানেই কি নিঃসঙ্গতা? একাকিত্ব? নাকি প্রবাস মানেই হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম। কেমন কাটে প্রবাসী জীবন? কেউ বলে মলিন নয়তো ফ্যাকাশে।কেউ বলে পানসা।কারো কাছে রোমাঞ্চকর, অতি মাত্রায় স্বাধীনতা। কারো কাছে জীবনের সোনালী অধ্যায়ের যাত্রা শুরু।কেউ ভাবছে, এইত চলছি সোনার হরিণের পিছনে।আবার কেউ ফেলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস।যেন কোনো এক নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত। এই ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা গুলো তাদের, যারা প্রবাসী।তবে পুরো বিষয়টাই নির্ভর করছে ব্যক্তি বিশেষের উপর।ব্যক্তি জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার মানসিকতার উপর।যাপিত জীবনের স্টাইল, কাজকর্মের শ্রেণীভেদে, পারিবারিক ঐতিয্য ও রুচিবোধের উপর।

আর যারা প্রবাসী নয় তাদের ধারনাটা কেমন, প্রবাসীদের সম্পর্কে? এটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল হলেও কিছুটা তো উপলব্ধি করতে পারি।তাই বলছি।যতদুর উপলব্ধি করেছি, প্রবাসী সম্পর্কে নন প্রবাসীদের ধারণা পুরোটাই অর্থকেন্দ্রিক।অর্থাত,প্রবাসী মানে অঢেল অর্থ উপার্জনের কারিগর। স্বজনরা অন্তত ওই একটি বিষয়ে পরোপুরি সজাগ।প্রবাসী মানে, থাকবে অর্থিক স্বচ্ছলতা।এই ধারনাটা মোটেই ভুল নয়। কিনবা নতুন কিছু নয়।এটা তো ঠিক বাংলাদেশের সমৃদ্ব অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর চাবিকাঠি তো দীর্ঘকাল ধরেই প্রবাসীদের নিয়ন্ত্রণে।বাংলাদেশ ব্যাংক বছর ঘুরে গুনছে হাজার কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা! তাই বুজতে কারো কষ্ট হয় না প্রবাসী মানে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমী একদল খেটে খাওয়া মানুষ।

প্রবাসীদের রকমফের আছে।এই রকমফের অঞ্চল ভিত্তিক।বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এদের যাত্রা ভিন্ন ভিন্ন কারণে। কেউ আসছে অর্থ উপার্জনের জন্যে।এদের অনেকেই দক্ষ।কেউ অদক্ষ। কেউ আসছে উচ্চশিক্ষার্থে।এদের কেউ দীর্ঘমেয়াধি।আবার কেউ স্বল্প সময়ের জন্যে। উদ্দেশ্য যাই হোক এদের সবাই প্রবাসী।সবাই চলছে ওই সোনার হরিণের পিছনে।স্বজনদের নিয়ে যদি কিছুটা ভালো থাকা যায়। অথেন্টিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধরে নেয়া হয় সারা বিশ্বে ১ কোটিরও বেশী বাংলাদেশী বসবাস করছে দেশের বাইরে।মধ্যে প্রাচ্যের দেশগুলোতেই রয়েছে সিংহ ভাগ প্রবাসী।এদের মধ্যে অধিকাংশই অদক্ষ শ্রমিক।যারা নুন্যতম মুজরিতেও কাজ করছে।হালে আফ্রিকায়ও দক্ষ অদক্ষ মিলিয়ে প্রবাসীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

আর ওইদিকে উন্নত দেশগুলোতে? বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও বাংলাদেশীদের যাত্রা থেমে নেই। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের সংখ্যা মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় তুলনামূলক ভাবে কম হলেও ঐসব দেশগুলোতে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ বাংলাদেশী। ওই দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার্থে আসা অনেক মেধাবী বাংলাদেশী যাদের অনেকেই শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে পরিকল্পনা করে থাকে। অনেকে থেকেও যায়।যেমন ধরা যাক সাম্প্রতিক কালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা রয়েছে এমন অনেক বাংলাদেশী স্থায়ী ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ করে নিচ্ছে।একই সুযোগ যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াতেও রয়েছে।এদের অনেকেই ‘হাই স্কিল্ড’ মাইগ্রেশন আইনের আওতায় বসবাস করছে। উচ্চশিক্ষার্থে আসা যুক্তরাজ্যেও রয়েছে এমন অনেক মেধাবী বাংলাদেশী যারা শিক্ষাজীবন শেষে স্থায়ী ভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করে থেকে যাচ্ছে।এদের মধ্যে ডাক্তার, ব্যারিষ্টার সহ অনেক পেশাজীবির তরুণ তরুণীরাও আছে।

এছাড়াও রয়েছে অনেক প্রবাসী যারা তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে অভিবাসন আইনের আওতায় প্রতিনিয়ত তাদের সাথে যুক্ত করছে।বাড়ছে নিয়মিত প্রবাসীদের সংখ্যা।এরা শুরুতেই স্থায়ী ভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়ে যায়। পরবর্তিতে তারা ঐসব দেশের নাগরিকত্বও নিয়ে নেয়।এই সুযোগ অবশ্য অনেক দেশেই নেই।স্বল্প সংখ্যক উন্নত দেশগুলো তে এই সুযোগ সীমিত।মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সহ এশিয়ার চীন, জাপান সহ অনেক দেশেই স্থায়ীভাবে বসবাসের তেমন কোনো সুযোগ নেই।কারণ ওইসব দেশে দীর্ঘদিন থাকার পরেও স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনো অভিবাসন আইন নেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে অনেক প্রবাসীকেই ওইসব দেশ থেকে ফিরে যেতে হয়।

হোকনা দক্ষ কিনবা অদক্ষ।স্থায়ী কিনবা অস্থায়ী। অথবা কোনো বিশেষ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। আমরা প্রবাসীরা সবাইতো বাঙালি।বিদেশে আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাঙালি।

আমরা বাঙালি প্রবাসীরা কেমন আছি? ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বললে কিভাবে কাটছে আমাদের জীবন? দেশের অস্থিতিশীল ঘুমোট রাজনৈতিক পরিবেশের বাইরে থেকে আমরা কী খুব ভালো আছি? দেশ ও স্বজনদের দুরে রেখে আমাদের প্রবাস জীবন কী খুব স্বস্তিতে কাটছে? নাকি সোনার হরিনের পিছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমারও ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। এই প্রশ্নগুলো করার পিছনে অন্য কোনো অযাচিত উদ্দেশ্য নেই।সুখ, দুঃখ আর কষ্টের অনুভূতিগুলো বলবার প্রয়াস মাত্র।কারণ,কারো কাছে যাপিত জীবন বড্ড বেশি অহংকারী। কারো কাছে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।হোকনা সে প্রবাসী কিনবা অন্য কেউ?
(চলবে..)

৪৮৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
লেখালেখি করি।সংবাদিকতা ছেড়েছি আড়াই যুগ আগে।তারপর সরকারী চাকর! চলে যায় এক যুগ।টের পাইনি কী ভাবে কেটেছে।ভালই কাটছিল।দেশ বিদেশও অনেক ঘুরাফেরা হলো। জুটল একটি বৃত্তি। উচ্চ শিক্ষার আশায় দেশের বাইরে।শেষে আর বাড়ি ফিরা হয়নি। সেই থেকেই লন্ডন শহরে।সরকারের চাকর হওয়াতে লেখালেখির ছেদ ঘটে অনেক আগেই।বাইরে চলে আসায় ছন্দ পতন আরো বৃদ্বি পায়।ঝুমুরের নৃত্য তালে ডঙ্কা বাজলেও ময়ূর পেখম ধরেনি।বরফের দেশে সবই জমাট বেঁধে মস্ত আস্তরণ পরে।বছর খানেক হলো আস্তরণের ফাঁকে ফাঁকে কচি কাঁচা ঘাসেরা লুকোচুরি খেলছে।মাঝে মধ্যে ফিরে যেতে চাই পিছনের সময় গুলোতে।আর হয়ে উঠে না। লেখালেখির মধ্যে রাজনৈতিক লেখাই বেশি।ছড়া, কবিতা এক সময় হতো।সম্প্রতি প্রিয় ডট কম/বেঙ্গলিনিউস২৪ ডট কম/ আমাদেরসময় ডট কম সহ আরো কয়েকটি অনলাইন নিউস পোর্টালে লেখালেখি হয়।অনেক ভ্রমন করেছি।ভালো লাগে সৎ মানুষের সংস্পর্শ।কবিতা পড়তে। খারাপ লাগে কারো কুটচাল। যেমনটা থাকে ষ্টার জলসার বাংলা সিরিয়ালে। লেখাপড়া সংবাদিকতায়।সাথে আছে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
সর্বমোট পোস্ট: ২০৩ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৫১৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-১৭ ০৯:২৪:৩১ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    পুরো বিষয়টাই নির্ভর করছে ব্যক্তি বিশেষের উপর।ব্যক্তি জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার মানসিকতার উপর।যাপিত জীবনের স্টাইল, কাজকর্মের শ্রেণীভেদে, পারিবারিক ঐতিয্য ও রুচিবোধের উপর।
    প্রবাস মানেই নিঃসঙ্গতা? একাকিত্ব? নাকি প্রবাস মানেই হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম।এ কথা অতীব সত্যি।তার মধ্যে সবাই যে যার মত জীবনের অর্থ খুজে পেতে চেষ্টা করে।
    আমি মনে নিজের দেশের আনন্দ সেই জীবন পরবাসে বা প্রবাসে কখনও পাওয়া যায়না।যদিও বা কিছুটা বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য জীবনে আসে তার চেয়ে বেদনাদায়ক নিঃসঙ্গতার উপলব্দিটা বেশী।

    ভাল লাগল ব্যতিক্রমী লেখটি।ধন্যবাদ ।

  2. শওকত আলী বেনু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধ্যনবাদ আরজু আপনাকে বেরসিক লেখা পড়ার জন্যে।ধন্যবাদ আরেকবার মন্তব্যের জন্যে।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক কিছু জান্তে ও বুঝতে পারলাম

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top