Today 23 Aug 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কে বলে ভূত নেই

লিখেছেন: সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ | তারিখ: ২০/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 543বার পড়া হয়েছে।

দাদা বইটা বন্ধ করতে করতে বললেন, এগুলো তোমাদের বানানো ভূত। এ বইতে তুমি ভূত নিয়ে যা লিখেছ -এর কিছুই আমি বিশ্বাস করি না। ভূত থাকলে এ জীবনে আমার সামনে একটা না একটা ভূত পড়তো। এতদিনে বহুবার ভূতের সাথে মানুষের কিলাকিলি হতো। ভূতের ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারতো না। কই, জীবনে তো একটা ভূতও দেখলাম না। খালি গল্পে পড়েছি ভূতের কথা। আসলে ভূত বলতে কিচ্ছু নেই।

আমি বললাম, এখন যদি এ নিয়ে আমি তর্ক করি আর যুক্তি দিয়ে বোঝাই যে, অবশ্যই ভূত আছে, তখনই তুমি বলবে, সুমাইয়া তুমি এতো পাকামো করো না, বয়স আমার কম হয়নি। বেয়াদবির একটা সীমা আছে, ফাজিল মেয়ে কোথাকার। কী দাদা, আমাকে এসব বলে ধমকে তাড়িয়ে দিতে না তুমি?
দাদা বললেন, যেই জিনিস নেই, যার দেখা কোনদিন পেলাম না এমন একটা বিষয় নিয়ে তর্ক করলে তো বলবই।
আমি বললাম, দাদা এ বিষয়টি নিয়ে আমি তোমার সঙ্গে মোটেও তর্ক করবো না। এর প্রমাণ দেবো হাতে-নাতে।
দাদা কপালে চোখ তুলে বললেন, হাতে-নাতে প্রমাণ দেবে মানে? তুমি কি ভূতকে ঘাড়ে ধরে এনে আমার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলবে যে, দাদা এই দেখো ভূত, কত ভয়ংকর ভূত।
আমি বললাম, আজ সূর্য়টা ডোবা পর্যন্ত অপো করবো। তারপরই দেবো ভূতের প্রমাণ। দাদা বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, আমিও এ পর্যন্ত অপো করবো ভূতের প্রমাণের জন্য।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলো। গেলাম দাদার ঘরে। দাদা চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। আমি গিয়ে গলা খাকারি দিতেই দাদা চমকে উঠে বললেন, কে? কে?
দাদা আমি সুমাইয়া। দাদা বললেন, ভূত নিয়ে এসেছ নাকি? বললাম, নাহ্। প্রমাণ দিতে এসেছি।
দাদা বললেন, প্রমাণ? দেখাও দিখি প্রমাণ।
দাদার ঘরে টেবিলে পানিভর্তি জগ আছে, পাশেই আছে গ্লাস। আমি গ্লাসে পানি ভরলাম। তারপর পানিভর্তি গ্লাসটা দাদার হাতে দিয়ে বললাম, দাদা এই ধরো গ্লাস। দাদা হাত বাড়িয়ে ধরলেন। তারপর বললাম, এই পানিভর্তি গ্লাসটা এভাবে ধরে এখন তুমি যাবে ওই মাঠের গোরস্থানে। সেখানে একটা কদম গাছ আছে না? ওই গাছ থেকে একটা কদমফুল ছিঁড়ে নিয়ে আসবে। আর গ্লাসের পানি যেন গ্লাসেই থাকে। বুঝেছ এবার?
দাদা হা করে বললেন, এগুলো কী বলছ তুমি? মাথা খারাপ হয়েছে নাকি তোমার। বললাম, ভূতের প্রমাণ দিতেই এসব করছি, আর কিছু না। আর কোন কথা নেই এখন রেডি হ্ও তুমি।
একহাতে পানিভর্তি গ্লাস আরেক হাতে একটা লাঠি নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন দাদা। এসব দেখে বাড়ির ছোট-বড়ো সবাই উঠোনে জড়ো হয়েছে। কেউ বলছে, দাদা লাঠিখানা শক্ত করে ধরো, সামনে কিছু দেখলে দিবা জোরে বাড়ি। সবার হাসি হাসি ভাব।
দাদি এসে বললেন, ওনি যে কতো বড়ো বীরবাহাদুর তাতো আমি জানি। রাত হলেই আঁচল ধরে ঘরে-বাইরে যায় আর এই রাতে ওনি যাবেন গোরস্থানে। এখনই তো কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেছে। আচ্ছা যাও যাও দেখি কেমন বেটা তুমি।
দাদা বিড়বিড় করে কি সব পড়ে সারাগায়ে ফু দিয়ে, আল্লাহ্ ভরসা বলে রওনা হলেন।
দাদা উঠোন পেরিয়ে গোরস্থানের পথ ধরে পঞ্চাশ গজের মতো গিয়ে ডেকে ডেকে বলছেন, কইরে তোরা কি আমার পেছনে আছিস নাকি? আমার তো পা চলছে নারে। আমরা চুপ করে বসে রইলাম। কোন জবাব দিলাম না। চুপচাপ! কোন রা-শব্দ নেই। হঠাৎ করে বাড়ির আওতা-বেড়া ভেঙ্গে হুমড়িখেয়ে উঠোনে এসে পড়লো দাদা। হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, আমাকে ধর।
আমি বললাম, দাদা কদমফুল কই, গ্লাস কই?
দাদা একটা ভেংচি মেরে বললেন, আরে রাখো তোমার কদমাফুল আর গেলাস। আমি তো গোরস্থানে যেতেই পারিনি। একটু যেতেই সামনে একটা ভয়ংকর ভূত এসে দাঁড়াল। ভূতটি বলল, তর হাতে এইডা কি? কইলাম, গেলাস। গেলাসে কলের পানি আছে। ভূতটা বলল, দে আগে পানি খাইয়া লই। তারপরে তোর ব্যবস্থা। আমার হাত থেকে ছো মেরে গ্লাসটা নিয়ে গেল। পরেই না দিলাম দৌড়। পায়ের জোরে কোনমতে ফিরে এলাম। ভয়ে আমার কলজে শুকিয়ে গেছে। পানি দে, পানি খাব।
আমি পানি দিতে দিতে বললাম, ভূতটা কেমন দেখলে একটু বল না শুনি।
দাদা পানি খেয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললেন, আরে বাপরে বাপ! অল্পের জন্য রক্ষা। মেলা কাহিনী। বলব নে। আগে সিধা হইয়া লই। পানি দে আরেক গেলাস।

৬৯০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্। ছাত্রী। লেখালেখি করা আমার ভীষণ পছন্দ। আমি ছড়া, গল্প লিখি। পত্রিকায় নিয়মিত লিখি। ব্লগ আমার কাছে একটা বিশাল লাইব্রেরির মতো। অনেক কিছুই শেখা যায় এখান থেকে। ব্লগ পড়তে আমার খুব ভাল লাগে। আমি পড়ালেখার ফাঁকে ব্লগ পড়ি আর মাঝেমধ্যে লিখি। আমি আশা করি যারা ব্লগে লিখেন তাঁদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পারবো। আমার প্রকাশিত বইঃ ৩টি। নামঃ ১) ছোট আপুর বিয়ে। সাহিত্যকাল প্রকাশনী থেকে ২০১২ সালে প্রকাশিত। ২) দুই বন্ধু ও মেকাও পাখির গল্প এবং ৩) ভূতের পেটে টুনির বাসা। এ দুটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ সালে সাহস পাবলিকেশান্স থেকে। শিশু অধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ (প্রিণ্ট মিডিয়া) ৪ বার জাতিসংঘ-ইউনিসেফ-এর মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ডসহ আরো কিছু পুরষ্কার পেয়েছি। প্রাপ্ত পুরস্কার ১. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ ২০১৩ (১ম পুরস্কার) ২. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০০৮ (২য় পুরস্কার) ৩. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০০৯ (২য় পুরস্কার) ৪. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০১০ (২য় পুরস্কার) ৫. ’ডানো ভাইটা-কিডস’ মাসিক সাতরং’-ব্র্যাকগল্পলেখা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার (২০০৯) ৬. ঐতিহ্য গোল্লাছুট প্রথম আলো গল্প লেখা প্রতিযোগিতা ২০০৭-এ অন্যতম সেরা গল্পকার পুরস্কার। ৭. প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৭) অন্যতম সেরা লেখক পুরস্কার ৮. প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৮) অন্যতম সেরা লেখক পুরস্কার ৯. ’চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি-বগুড়া’ এর গল্পলেখা প্রতিযোগিতায় ২য় পুরস্কার (২০০৯) ১০. প্রথম আলোর ‘বদলের বয়ান’-এ লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৯) ২য় পুরস্কার ১১. আন্তর্জাতিক শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০-এ গল্পলেখা পর্বে ‘অন্যতম সেরা গল্পকার’ পুরস্কার। ১২. কথাসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার ২০১১ ঢাকা। ২য় পুরস্কার। ১৩. ঐতিহ্য গোল্লাছুট গল্পলেখা প্রতিযোগিতা-২০১২ অন্যতম সেরা গল্পকার পুরষ্কার
সর্বমোট পোস্ট: ১৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪১৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-৩০ ০৮:০৯:০৬ মিনিটে
banner

১৩ টি মন্তব্য

  1. সম্পাদক মন্তব্যে বলেছেন:

    চলন্তিকাতে প্রথম ভূতের গল্প লেখার জন্য অভিনন্দন!

  2. আজিম হোসেন আকাশ মন্তব্যে বলেছেন:

    ভূতের গল্প লেখার জন্য অভিনন্দন!

  3. সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    Aroo Likhbo Vooter Golpo. Thanks.

  4. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    বাহঃ চমৎকার ভূতের গল্প।

  5. সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    Onek Valo laglo. Thank u vaea.

  6. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভূত বলতে কিছু আছে সেটা আমি মনে করি না।

  7. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখেছেন তো !
    অসংখ্য অসংখ্য ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

  8. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    যেই ভূত জিনিস নেই, যার দেখা কোনদিন পেলাম না এমন একটা বিষয় নিয়ে তর্ক করলে বা গল্প করলে সুমাইয়াকে তো বলবই।দাদা সিদা হয়ে গেছে আপনা আপনি।এখন সুমাইয়াকে সিধে করতে হবে।

  9. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    অতি সুন্দর মন ভরানো লেখা
    ভাল লাগল

  10. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার একটা ভৌতিক গল।প
    ভাবনা ভাল
    দারুণ মুগ্ধ হলেম পড়ে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top