Today 06 Dec 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কৈশোরের জাদুকর, মাসুদ রানার স্রষ্টা কাজীদার জন্মদিন আজ

লিখেছেন: মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক খান | তারিখ: ১৯/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 747বার পড়া হয়েছে।

kajida boi

হুমায়ূন আহমেদ এবং কাজী আনোয়ার হোসেন- দুজনের মাঝে মিল হলো- দুজনেই খুব সহজ সরল ভাষায় লিখেন। দুজনেই সিরিজ উপন্যাস লিখে সফলতা পেয়েছেন, নিজস্ব পাঠক গড়ে তুলেছেন। তবে কাজী আনোয়ার হোসেনের পরিচয় অন্যখানে, তিনি শুধু উপন্যাসিকই নন, একজন সফল অনুবাদক ও পাঠকের প্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘সেবা প্রকাশনী’র কর্ণধারও বটে। তিনি বাংলা রহস্য-সাহিত্যের প্রবক্তা, মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের সফল জনক। এর বাইরে আরো অনেক পরিচয়ই দেয়া যায় তার, তবে ভক্তকুলের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি পাঠকের প্রিয় ‘কাজীদা’। তার পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন।ডাক নাম ‘নবাব’। আজ ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার তার ৭৭-তম জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার সেগুনবাঁগিচায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেনের সাফল্য, আধুনিক এক পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করা, যারা বিশ্বসাহিত্যের জন্য ক্ষুধার্ত হতে শিখেছে, সবসময়ই সীমানা পেরিয়ে যেতে চেয়েছে, পাঠক হিসেবে নিজেকে ক্রমশ আরও উচ্চতায় তুলে নিতে আগ্রহী হয়েছে। চলন্তিকার পক্ষ থেকে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

kajida

তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও কথাসাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব সনজীদা খাতুন তার বোন, উপন্যাসিক কাজী মাহবুব হোসেন তার ভাই। মোট ৪ ভাই, ৭ বোন। সকলেই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু কাজী আনোয়ার হোসেন তথা সকলের প্রিয় কাজীদা’র পরিচয়টি স্বনামে। তিনি স্বমহিমায় নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন বাঙালি পাঠকমহলে।

 

কাজী আনোয়ার হোসেনের গায়ক পরিচয়টি অনেকেই জানেন না। ঢাকা বেতারের তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী ছিলেন তিনি। তিনি চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন। ‘আজ হলো শনিবার কাল কোনো কাজ নেই রাত জেগে তোমাকেই ভাবছি, নাগরিক আভাসে যান্ত্রিক পরিবেশে কল্পনা মায়াজাল বুনছি’ তার গাওয়া গানটি একসময় শ্রোতামহলে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। এছাড়া উর্দু ছবি তালাশে রবীন ঘোষের সুরে কাজী আনোয়ার হোসেন গেয়েছিলেন বিখ্যাত একটি গান, ‘ম্যায় রিকশাওয়ালা বেচারা’। ইউটিউবে তার কণ্ঠে গানটি শুনে চরম বিস্মিত হয়েছিলাম, নতুন করে শ্রদ্ধা জন্মেছিল এই সব্যসাচী মানুষটির প্রতি।

 

হাজার হাজার কিশোরের শৈশব রাঙিয়ে দিয়েছেন কাজীদা। তিনিই শিখিয়েছেন- কিভাবে সাহিত্যের যাদু দিয়ে পাঠককে বশে রাখা যায়। তার রহস্যের হাতছানিতে পাঠক কখনো থাকে অ্যালান কোয়াটারমেইনের সাথে আফ্রিকার গহীনে, কখনো যুদ্ধের ময়দানে, কখনওবা মত্ত থাকে প্রিয়তমার সাথে রোমান্সে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- কাজীদা কী লেখার সময়ও তার ওয়ালথার পিপিকে আর কমান্ডো নাইফ সাথে রাখেন!

 

জানিনা এ লেখাটি কখনো কাজীদা পড়বেন কিনা, তার প্রতি ভালোবাসা থাকলো হৃদয়ের গভীর থেকে। আমি সহ হাজার হাজার ছেলেমেয়ের শৈশব রাঙিয়ে দিয়েছেন আপনি, আপনি শিখিয়েছেন কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা বইয়ের মাঝে ডুবে থাকতে হয়, কিভাবে কল্পনার ডানা মেলতে হয়। কখনো অ্যালান কোয়াটারমেইনের সাথে আফ্রিকার গহীনে, কখনো অ্যাথোস-পর্থোস-আরামিসের সাথে রাজা লুইয়ের ক্যাসলে, কখনো বাউন্টিতে চেপে তাহিতি দ্বীপে, কখনো নিশ্চুপ পশ্চীম রণাঙ্গনে, কখনো হাইপেশিয়া, ক্লিওপেট্রা, আংকেল টমের সাথে কেটেছে সকাল-সন্ধ্যা-রাত। আপনার দীর্ঘ সুস্থ জীবন কামনা করছি।

 

তার অধিকাংশ উপন্যাস ও গল্প বিদেশি কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে রচিত। বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে অনেক বই লিখলেও সেগুলো কাজীদার হাতে পড়েছে বলেই এতটা অসাধারণ থ্রিলার হয়ে উঠেছে। তিনি সবসময়ই মনে করেছেন- পাঠকই হলো তার সম্পদ। তাই পাঠকের কাছেই তিনি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেন সবসময়ই। তিনি বড় মাপের মানুষ। তার সাহিত্যরচনা ও পাঠকের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরা আমার মত নাদান লেখকের পক্ষে কঠিন কাজ। মাসুদ রানা তার সৃষ্টি করা কাল্পনিক চরিত্র। তার প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা, কিশোর ক্লাসিক, রহস্য পত্রিকা ইত্যাদি কিশোরদের মনে জাদুর মত কাজ করে। তার ভাষাশৈলী অসাধারণ রকমের  সুস্বাদু। মৌলিক রচনাগুলোও চমকপ্রদ। বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি প্রধানত সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন, যদিও প্রকাশের ক্ষেত্রে তার নামে প্রকাশিত হয়। এই বিশিষ্ট লেখক ১৯৭৪ সালে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন । এছাড়া পেয়েছেন সিনেমা পত্রিকা ও জহির রায়হান চলচিত্র পুরস্কার।

 

এই লেখা তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।

 

শুভ জন্মদিন, প্রিয় কাজীদা। আপন আলোয় উদ্ভাসিত করুন পৃথিবীকে, ভালোবাসায় বেঁচে থাকুন হাজারো বসন্ত। আর লিখুন দুর্দান্ত সব রহস্যোপন্যাস। আপনার হাত ধরেই গড়ে উঠুক নতুন সেবা প্রজন্ম।

 

প্রিয় কাজীদা, অন্তত শতায়ু হন আপনি, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন রোমাঞ্চকর এবং সুখময় হয় আপনার, আপনার ভাল থাকা যে আমাদেরই ভালো থাকা।

৮৮৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমার জন্ম পিরোজপুরে নানা বাড়িতে। দাদা বাড়িও পিরোজপুরে। পিরোজপুর শহরের সার্কিট হাউজ – ফায়ার সার্ভিস এর মাঝখানে আমাদের বাড়ি। পিরোজপুর আমার কাছে স্বপ্নের শহর। যদিও ক্লাস থ্রী থেকে আমি ঢাকাতে মানুষ। এসএসসি ১৯৯৬ সালে। পড়াশুনা করেছি ফার্মেসিতে, পরে এমবিএ করেছি আন্তর্জাতিক বিপননে। জুলাই ১৫, ২০১১ থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা থেকে অবসর নিয়েছি। বিশেষ ব্যক্তিত্বঃ নবিজী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে ব্যক্তিত্ব আমাকে টানেঃ ডঃ মুহম্মদ ইউনুস প্রিয় লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমেদ, হেনরি রাইডার, জুল ভান প্রিয় টিভি সিরিয়ালঃ Spellbinder, Spellbinder 2: Land of the Dragon Lord, The girl from tomorrow, Tomorrows end, Time Trax, MacGyver, Alice in Wonderland, The Chronicles of Narnia প্রিয় টিভি নাটকঃ কোথাও কেউ নেই, অয়োময়, রুপনগর, বহুব্রিহী, বার রকম মানুষ প্রিয় টিভি শোঃ ইত্যাদি, সিসিমপুর, Pumpkin Patch Show লেখালেখি আমার শুধু শখই না, মনে হয় যেন রক্তের টান। বিশেষ করে বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি আমার কাছে রঙ্গিন ঘুড়ির মত। কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যে ছুটে চলে মহাজগতিক পরিমণ্ডলে। এ যেন সময়টাকে স্থির করে দিয়ে এর আদি-অন্ত দেখার মত। তারপরও এ ঘুড়ি যেমন ইচ্ছে তেমন উড়তে পারে না, সুতোয়ে টান পড়ে বলে। এ টান যুক্তির টান। যৌক্তিক কল্পনা বললে ভুল হয় না। তারপরও নিজ ইচ্ছেয়ে সুতোটাকে ছিঁড়ে দিতে ভাল লাগে মাঝে মাঝে। আমি যেমন নিজে স্বপ্ন দেখি তেমনি সবাইকে স্বপ্ন দেখাতে চাই। অঞ্জন দত্তের ভাষায় বলতে হয়, ‘মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যখন-তখন কান্না পায়, তবু স্বপ্ন দেখার এই প্রবল ইচ্ছাটা কিছুতেই মরবার নয়।’ কনফুসিয়াসের এই লাইন টা আমাকে খুব টানে … journey of a thousand miles begins with a single step। আমার প্রথম লেখা প্রকাশ হয় ১৯৯৬ সালে আধুনালুপ্ত বিজ্ঞান সাপ্তাহিক আহরহ তে। আমার নিজের একটা ব্লগ আছে, mahkbd.blogspot.com। আমার ইমেইল mahkbd@gmail.com।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৫৫ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-১১ ০৩:১৪:৫৫ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল লাগত যখন মাসুদ রানার গল্পগুলো পড়তাম নিজেকে গুয়েন্দা গুয়েন্দা মনে হত।

  2. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    কাজীদার জন্মদিনে হাজারো লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক অনেক শ্রদ্ধা

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    জন্মদিনে অনেক অনেক শ্রদ্ধা। হাজারো লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    জন্মদিনে শুভেচ্ছা রইল।

  6. সিকদার মন্তব্যে বলেছেন:

    কাজীদা শুধু একজন লেখক নন। তিনি কিশোর, তরুণ, ও যুবক পাঠকদের কাছে ছিলেন স্বপ্নের কারিগর। যিনি তার জাদুকরী সম্নোহনী লেখায় আমাদের নিয়ে যেতেন স্বপ্নের জগতে।
    তার জন্মদিনে দোয়া করি তিনি আমাদের মাঝে আরো বহুদিন থাকুন।

  7. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    কাজীদার জন্মদিনে রোমঞ্চকর শুভেচ্ছা.

  8. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক শ্রদ্ধা জানাই কাজীদাকে

  9. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    কাজী আনোয়ার হোসেনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন পূর্বক লেখার জন্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top