Today 26 May 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

কোরবানী ঈদ পরবর্তী প্রবাসী স্বামীর পত্রের জবাবে গ্রামীণ স্ত্রীর পত্র

লিখেছেন: মুহাম্মদ দিদারুল আলম | তারিখ: ২২/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 698বার পড়া হয়েছে।

প্রিয় চুমকির আব্বা,
পত্রের পহেলা তুমি আমার ভালোবাসা ও চুমকির সালাম লইও। আর তোমার বন্ধু রমজান মিয়ার শুভেচ্ছা লইও।
আশা করিতেছি বৈদেশে লাল লাল মেম সাহেবগো শরীলের দিকে তাকাইয়া তাকাইয়া দিনকাল তোমার ভালোই কাটিতেছে। কেননা আমার ও ইদানীং দিনকাল তোমারে বিহনে ভালোই কাটিতেছে। গতকাল তোমার চিঠি পাইয়াছি, আজ জবাবখান লিখিতে বসিয়া পড়িলাম।
তুমি লিখিয়াছো আমাগো এবারে কোরবানীর ঈদ কেমন কইরা কাটিলো। আশা কইরা ভালোই কাটিয়াছি। তোমার বন্ধু রমজান মিয়াকে আমাগো জইন্য একখান ছাগল কিনতে বাজারে পাঠাইয়াছিলাম, সে আইসা কইলো এইবার বাজারে গরু-ছাগলের দর নাকি পানির মত। ছাগলের দাম দিয়া হে একখান বড় গরু পাইয়া গেছে আর তাই নিয়া আমার সামনে তার ফর্সা লোমওয়ালা বুক ফুলাইয়া দাঁড়ালো। দেইখা আমিতো অবাক। তোমার মনে প্রশ্ন আসিতে পারে- কি দেইখা আমি অবাক হইলাম? আসলে গরুটা দেইখা আমি অবাক হইলাম, আর রমজান মিয়ার ওই বুকখানতো আমার নতুন করইয়া দেখনের কিছু নাই,তাই ওইখান দেইখা আমি অবাক হইলাম না।
চুমকির আব্বা তুমি কি জানো রমজান মিয়া ঈদের দিন আমারে সালামি দিয়াছে। তারে আমি যখন সালাম করিলাম হে কোলাকুলি করিতে চাহিলো আমিও না করিনি,কেমনে  না করি বলো হাজার হইলেও হে তোমার বন্ধু মানুষ তারে কি না কইরাদন যায়। সাথে সাথে আমি তারে রাতের খাওয়ার দাওয়াত ও দিয়া দিলাম। তোমার বন্ধু মানুষ ভাবিলাম অনেক দিন পর তারে আমি ভালো কইরা খাওয়াইবো। কি বলো আমি ভালো করিলাম না?
ওহ্ চুমকির আব্বা তোমারে তো আরেকখান কথা কনই হইলো না,পাশের বাড়ীর মফিজের সাথে ফ্রি টকটাইমে প্রতিরাইতে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা কইতে গিয়া হেইদিন কথায় কথায় মফিজ কইলো- সিটিসেলের মতো একজন কিন্তু আগইয়া। আমি জাইনতে চাইলাম কে হে? হে কইলো- তুমি,পন্ডস পাউডারের মতো-আমারে নাকি আগে চেনা মানুষরা চিনতো না এখন নাকি অচেনারাও চেনে। আমি তারে কইলাম- বাংলা লিংকের মতো-এখন কি আর আগের হেদিন আছে,দিন বদলাইছেনা। আমি ঠিক কইনি চুমকির আব্বা তুমিই কও?
চুমকির আব্বা শেষে আর কি কইবো শুধু মনে কষ্ট লাগিলো তোমারে এইবারের কোরবানীর ঠাসা গরুর গোশতো খাওইতে পারিলাম না বইলা। আমি এতজনকে খাওয়ালাম শুধু তোমাকে কতদিন খাওয়াতে পারিনি। আর কোরবানী করইয়া আমার হাত দুইখান এক্কেবারে খালি হইয়া গেছে পারিলে কিছু টাকা পাঠাইয়া দিও। হে দিন রাইতে ব্যাংকের সাহেবটা কল কইরাছিলো কইলো কতদিন আপনার টাকা আসে না আর আপনার সাথেও কতদিন…।
পরিশেষে আবারও ভালোবাসা লইও। আমার পত্রখানের উত্তর দিও।
—- ইতি তোমার চুমকির আম্মা।

৮১০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৭৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১০১ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৮ ১১:৫৮:৪৮ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. মিলন বনিক মন্তব্যে বলেছেন:

    এক্কেবারে পারফেক্ট..চমৎকার পত্রালাপ…যা বুঝনের চুমকির আব্বা বুইঝা লইছে…

  2. খাদিজাতুল কোবরা লুবনা মন্তব্যে বলেছেন:

    হা.হা..হা…
    সুন্দর লিখেছেন মুহাম্মদ দিদারুল আলম ভাই

  3. রোদের ছায়া মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর রসবোধ আছে লেখাটায় । ভালো লাগলো।

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    রসাত্মক চিঠি। কিন্তু বর্তমান ফোনের যুগে কেউ এমন চিঠি লিখে বলে মনে হয় না।

  5. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর

  6. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ঝুমুর বাবা কে
    আপনি না তো?

    অনেক ভাল লাগা।

  7. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    দুখিত,
    আপনার পত্রখানা ভালো লাগে নাই
    রস রচনা ভালো লাগে তা বলে অবাস্তব স্থুল
    রস রচনা গ্রহণ যোগ্য নয়
    একজন স্ত্রীর বাজে চরিত্র দেখিয়ে এটা থেকে রস নেওয়া টা ও স্থুল
    আপনি নরমালি ভালো লিখেন তবে এটা ভালো লাগেনি আমার

  8. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালই রস দিলেন!

  9. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    এটা আমার নিকট একটা কৌতুক মনে হয়েছে, লেখার মধ্যে অনেক সাধু এবং চলতি ভাষার মিস্রন হয়েছে।

  10. মুহাম্মদ দিদারুল আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    হ্যাঁ, শ্রদ্ধেয় সহিদুল ভাই ইহা একখানা কৌতুক বা রম‌্য চিঠি…

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top