Today 19 Sep 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ক্ষুদ্রাকার তেলাপোকা ও পন্ডিতমশাইয়ের পাটিগনিত ।

লিখেছেন: নিঃশব্দ নাগরিক | তারিখ: ২৭/০৫/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 781বার পড়া হয়েছে।

জগতে অতিকায় হস্তি লোপ পায়, ক্ষুদ্রাকার তেলাপোকা ঠিকই থাকে । পন্ডিতমশাই’রাও কালে কালে ক্ষুদ্রাকার তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকে এবং সহজ পাটিগনিতকে দু’চোখের জল দিয়ে গুলিয়ে ফেলে । অমানুষ হওয়ার সবক’টা ধাপ পেরিয়ে পন্ডিতমশাইরা কালে কালে আমাদের জ্ঞান দীক্ষা দিয়ে যান । আমরাও অমূল্য শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দন্ড নিয়ে খগড়হস্তে নেমে পড়ি । বিদ্যার উপযুক্ত দাম মেটাতে বিদেশ থেকে আনা পিপার স্প্রে দিয়ে অমূল্য শিক্ষকদের বরন করি । তারপর প্রিয় ব্যক্তিত্বের জায়গায় কোন এক শিক্ষকের নাম বসিয়ে ভাব আবেগী দু’চার পৃষ্ঠা লিখে পুরষ্কার উঁচিয়ে ধরে শিক্ষকের শ্রাদ্ধ সারি ।

 

আজকাল মাঝে মাঝে নিজেকে অমানুষ মনে হয় । বাবা গত হয়েছেন বেশ কিছুদিন আগে । বাবার মৃত্যেুর পর বাবার চাকুরীকালীন অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে গিয়ে উনার বেতনের ব্যাংক বিবরনী দেখে আমি আমার মনুষ্যত্ব নিয়ে টানাটানিতে পড়ে গেছি । যে ভদ্রলোক ঈদ বোনাস হিসেবে দুই হাজার সাতশত পঞ্চাশ টাকা (সর্বশেষ) পেত আমি তার কাছ থেকে স্বভাব গোঁড়ামি দিয়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেছি । অথচ আমাদের পরিবারের সদস্য পাঁচজন । আমার এরপরেও মানুষ হওয়ার কোন অধিকার থাকে কিনা না জানি না ।

 

বেসরকালী স্কুল শিক্ষকদের সর্বশেষ বেতন সাকুল্যে ১১০০০ টাকার মতো (কিছু কম)। ঘর ভাড়া কথা জানতে চেয়ে লজ্জা দিবেন না । চিকিৎসা ভাতায় মহামান্য ডাক্তারবর্গের একবারের ভিজিট দিতে গিয়েও এই সমাজ লজ্জায় কাচুমাচুতে পড়ে যাবেন । অতটা লজ্জা না দিয়ে আমরা বরং অন্য একটি সংবাদ জানি । কিছুদিন আগে কোন এক সংবাদে দেখেছিলাম এদেশে বর্তমানে প্রায় চল্লিশটি বিদেশী কুকুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে । যাদের পেছনে গড়ে মাসিক ব্যয় পঁচিশ হাজার টাকা । এখন আপনি যদি চারপেয়ে কুকুর আর পাঁচ সদস্যের শিক্ষক পরিবারের পারিবারিক মাসিক আয় ব্যয়ের সহজ পাটিগনিত টানতে যান সে আপনার বিষয় । আমি অন্যদিক থেকে ঘুরে আসি ।

 

আমাদের মহামান্য শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় শিক্ষাব্যবস্হাকে একেবারে হাওয়ার গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন । আর কিছুদিন থাকলে তিনি শতভাগ বিজয়ের কেতন উড়াবেন । পরবর্তী যেকোন শিক্ষামন্ত্রীর জন্য এমন দূর্ভ্যেদ্য এক সীমারেখা টেনে যাচ্ছেন যে ভবিষৎতে উনাকে ডিঙ্গাতে হলে ১০১% পাস দেখাতে হবে । সোয়া এক লক্ষ মেধাবীর কলকাকলিতে উনি যখন মুচে তা দিচ্ছেন তখন একদিকে ডাবল এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় গন্ডায় গন্ডায় ফেল মারিতেছেন অন্যদিকে চারিদিকে আকাশপাতাল বিশ্ববিদ্যালয় (প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়) গজিয়ে উঠিতেছে । ওদিকে যেসব শিক্ষকের বোকামীর র্স্পধা একটু বেশী তারা দু’চার জনকে ফেল করিয়ে নিজের বেতন ভাতার উপর কারফিউ ডেকেছেন । হলমার্ক দুর্নীতি আমাদের গতরে হুল ফুঁটালেও জাতির এমন অন্তঃসারশূন্য পাসফেল রেকর্ড আমাদের জাগ্রত করে না । বরং আনন্দের অতি আতিশায্যে আমরা লম্ফঝম্ফ মারি । কিন্তু জাতির কোন ক্ষতটা সারবার নয় এই সহজ উপলব্ধিটা আমাদের অনুপস্হিত ।

 

বেশ কিছুদিন আগে কিছু শিক্ষক চাকুরী স্হায়ীকরনের দাবীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিলেন । উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একখানা স্মারকলিপি দিবেন । শাহবাগ পর্যন্ত যেতেই এদেশের সর্বক্ষমতাময় পুলিশ সম্প্রদায় এইসকল শিক্ষকদের পিপার স্প্রে দিয়ে বরন করে নেয় । সাথে লাঠি গুঁতার কথা নাই বললাম ।

 

একদিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে । জিডিপি, মাথাপিছু আয় ফুলে ফেঁপে উঠছে অন্যদিকে পন্ডিত মশাইরা পাটিগনিতকে কঠিন করে তুলছে । এমন বেমক্কা পন্ডিত মশাইদের উপযুক্ত শিক্ষা না দিলে জাতির অবনমন কিছুতেই আটকানো যাবে না । এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে শেষ করছি ।

 

……………..নিঃশব্দ নাগরিক ।

 

 

৮৫২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
an impossible one with the maximum possibility to be a possible one.
সর্বমোট পোস্ট: ১২৬ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩১৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-৩১ ১৭:৪৬:৩৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    জগতে অতিকায় হস্তি লোপ পায়, ক্ষুদ্রাকার তেলাপোকা ঠিকই থাকে । পন্ডিতমশাই’রাও কালে কালে ক্ষুদ্রাকার তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকে এবং সহজ পাটিগনিতকে দু’চোখের জল দিয়ে গুলিয়ে ফেলে । অমানুষ হওয়ার সবক’টা ধাপ পেরিয়ে পন্ডিতমশাইরা কালে কালে আমাদের জ্ঞান দীক্ষা দিয়ে যান । আমরাও অমূল্য শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে দন্ড নিয়ে খগড়হস্তে নেমে পড়ি । বিদ্যার উপযুক্ত দাম মেটাতে বিদেশ থেকে আনা পিপার স্প্রে দিয়ে অমূল্য শিক্ষকদের বরন করি । তারপর প্রিয় ব্যক্তিত্বের জায়গায় কোন এক শিক্ষকের নাম বসিয়ে ভাব আবেগী দু’চার পৃষ্ঠা লিখে পুরষ্কার উঁচিয়ে ধরে শিক্ষকের শ্রাদ্ধ সারি ।
    নিঃশব্দ নাগরিক কেন কখনও অন্যের লিখায় কমেন্টস করেনা জানতে চাই। শুধু নিজে লিখলে হবে ?আরেকজন সহ ব্লগার কে জানতে হবেনা ?

    আপনার লিখা খুব খুটিয়ে পড়ি। রস আস্বাদন করি। কিন্তু আপনি মনে হয় জানেন না এই ব্লগ এর অন্যরা কেমন লিখছে। অনুরোধ (বিজি আমরা সবাই কম বেশি ) কিছু সময় আট দশ মিনিট অন্যের জন্য বিজি হই…দুই একজনের লিখা পড়ুন বেছে বেছে যদি সবার টা না পড়তে পারেন এবং কমেন্টস করে দেখুন তো কেমন লাগে। আমার ধারণা ভালো লাগার কথা।
    অনেক কথা বলে ফেললাম। সহজ ভাবে নিবেন এবং ভালো থাকবেন।

    • নিঃশব্দ নাগরিক মন্তব্যে বলেছেন:

      আমার সীমাব্ধতা আমার নিজের কাছেই লজ্জার । সত্যকে অস্বীকার করার সহজ বোকামী আমার জন্য বিব্রতকর । ভবিষৎতে চেষ্টা থাকবে । অবশ্য ব্যর্থ মানুষ হিসেবে আমার সফলতা অনেক ।

      ধন্যবাদ । ভালো থাকবেন ।

  2. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব ভাল পোস্ট ! সালাম রইল ।

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    অসংখ্য ভাল লাগা জানালাম । চালিয়ে যান ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top