Today 31 Mar 2020
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খানভবন হরর (চতুর্থ পর্ব )

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৯/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1368বার পড়া হয়েছে।

এইসময়ে রাতে এই এলাকায় কোন জনমানব দেখেনি গত কয়েকদিন নয়নরা।তাই বেশ ভয় পেয়ে গেল দরজায় বাড়ি দেওয়ার আওয়াজে।পরক্ষনে লজ্জা পেয়ে গেল নয়ন নিজের অস্বাভাবিক ভীত আতংকিত হওয়াকে।স্বাভাবিক বাস্তবসম্মতভাবে সে কেন দেখছেনা সব ব্যাপারকে।ছোট বেলায় ভয় কি আবার ফিরে এসেছে।নাহলে তার খুশী হওয়ার কথা নির্জন ভুতূড়ে এলাকায় কে একজনের দরজার ধাক্কানোর আওয়াজ শুনছে।অন্ততপক্ষ্যে প্রাকৃতিক নৈশব্দতা কাটছে।প্রকৃতি জানান দিচ্ছে কেও একজন এসেছে তোমার পাশে।আসলে এখানকার পরিবেশ এত ভুতুড়ে ।

কি হল তোমার কোথায় হারিয়ে গেলে? স্বামীকে ঝাকুনি দিল। যদিও ভীষণ ভয় পাচ্ছে সে স্বামীকে দুর্বলতা দেখতে দিলনা।

দুজন হাতে বড় দুই লাঠি সহ হাতে গনেশ এর মূর্তি হাতে দরজা খুলতে এল। দরজা খুলে যাদের দেখল তার জন্য প্রস্তুত ছিলনা তারা। অল্প বয়সী দম্পতি বৃষ্টিতে ভিজে চুরমার হয়ে আছে। দুজনের শরীরের একবিন্দু অংশ নাই যে শুকনা আছে। ঠান্ডায় দুইজনে কাপছে।

দুইজনকে জড়িয়ে ধরে ঘরে নিয়ে আসল নয়ন নীলিমা।

জানা গেল তারা রাস্তা হারিয়ে একঘন্টা ধরে এক ই রাস্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আশেপাশে কোন বাড়ি ঘর দেখেনি। অনেকক্ষণ গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত ছিল। একপর্যায়ে গাড়ির তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্ধকার রাত। ভয়ে অনুমানে হাটতে হাটতে এখানে এই বাড়িটা পেয়ে নক করে দরজায়।

আমরা মরে পরে থাকতাম আজ রাস্তায়। স্ত্রী ভয়ে কাপতে কাপতে বলে।

আপাতত নয়ন নীলিমার একটু আগের আতঙ্ক টা কেটেছে। উঠে টিভি অন করে দিল। বয়স্ক ধরনের একজন করুন গলায় রবীন্দ্র সঙ্গীত করছে।

.দাড়াও আমার আখির আগে
এইযে ধরণী চেয়ে বসে আছে
ইহার মাধুরী জাগাও হে

প্রতি দিন আমি
হে জীবন স্বামী
দাড়াব তোমার সম্মুখে।

সবাই এখন বেশ স্বাভাবিক হয়ে গেল। ক্ষিদে পেয়ে গেল সবার ভয় সরে গিয়ে নিশ্চিত ভাব ফিরে আসাতে।

খাওয়ার গরম করতে শুরু করল নীলিমা।

রাত দশটা বাজে। খাওয়ার পর অতিথিদের তিনতলার রুম গুছিয়ে দিল। দুজনের নাম পারভেজ ,এবং শিরিন।

আপনার গাড়ি টা নিয়ে আমি একটু আমার গাড়ি দেখে আসি ঠিক আছে কিনা? যদি তেল বেশি থাকে  আমাকে একটু দিলে গাড়িটা চালিয়ে নিয়ে আসলাম কি বলেন ভদ্রলোক বলে বসলেন।

নয়ন নীলিমা চোখাচোখি করল। ইশারায় সে নিষেধ করল স্বামীকে।

এখন এত বৃষ্টি। এই দুর্যোগে বের না হয়ে কাল অফিস যাওয়ার পথে নিয়ে নিব। এখানে আশেপাশে কোন মানুষ নেই । গাড়িটা আশা করছি ঠিক ই থাকবে। আপনি শান্ত থাকুন। সান্তনার ভঙ্গিতে বলে উঠে নয়ন।

দরজা টা একবার খুলে বাহিরের অবস্থা দেখানোর চেষ্টা করে ভদ্রলোক কে। বাতাসে ঝড়ে ঘরের পর্দা উড়ে যাওয়ার উপক্রম করল যেন।

ঠিক হল পরে খুব ভোরে তারা মেইন ঢাকার পথে রওয়ানা করবে। আজকে রাতটা কোন রকমে কাটান যাক।

চারজন এ বসে আছে লিভিং রুম এ। কেও কার ও সাথে কথা বলছেনা। অস্বস্তিকর এক নীরবতা সবার মধ্যে। ভিতরে সবার মধ্যে এক অজানা শংকা কাজ করছে।

এই চা খাওয়াতে পার অবশেষে নীরবতা ভেঙ্গে স্ত্রীকে বলে বসল নয়ন।

আমি ই বানাই ভাবী আমাকে দেখিয়ে দিন সবকিছু বলে উঠে নুতুন মেয়েটি। দুইজন মিলে চা বানাতে আসল।

বিজলীর শব্দে র সাথে দুইজনে চিত্কার দিয়ে উঠল সমান বেগে। একজনের হাতে ছিল চায়ের কেতলি। হাত থেকে পড়ে গেল। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দুইজনে দৌড়ে এসে লিভিং রুম এ বসে হাপাতে লাগল।

কিচেন এর জানলায় ভয়ংকর এক মুখ দেখেছে দুজনের বক্তব্য।

চলুন দেখি কি যে বল না তোমরা। দুইজনকে সাহস দেওয়ার মত করে নয়ন ভদ্রলোক সহ কিচেন এ ঢুকল। কোন দিকে না তাকিয়ে জানালা বন্ধ করে শক্ত করে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল।

আর কার ও চা খাওয়ার কথা মনে ও রইলনা। সবাই বিরস মুখে বসে রইল।

দোতলা থেকে জোরে মিউজিক এর আওয়াজ শুনে সিড়ি ভেঙ্গে দৌড়ে উপরে উঠে এল সবাই।

যা দেখল দোতলার জানালায় সবার ভয়ে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এল।

সেই ভয়কর কুকুর টা জানালায় থাবা গেড়ে বসে আছে। জিহ্বা বের করে আছে। মুখের কোন দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। অর্ণব মুখোমুখি বসে কাদছে।

দৃশ্য দেখে ভয়ে অচেতন হয়ে পড়ল নীলিমা মাটিতে।

খাটের স্ট্যান্ডের লাঠি নিয়ে সর সর বলে জানালার ফাক দিয়ে কুকুরের মাথায় বাড়ি বসিয়ে দিল নয়ন।

ঘেউ করে রক্ত চক্ষু মেলে কুকুর টি মিলিয়ে গেল এবার।

তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে ছেলেকে কোলে করে শুইয়ে দিল বিছানায়।

নাহ ছেলের গায়ে কোন ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন নাই। ভালমত দেখার পর নয়ন হাপ ছেড়ে বাচল। কিন্তু তাহলে কুকুরের মুখে রক্ত কেন ?

অর্ণব বা কাদছে কেন ?

কি হয়েছে বাবা বারবার জিজ্ঞাসা করছে নয়ন।

মনস্টার বাবা। ছেলে শুধু কাদছে আর বলছে

সারারাত আর কেও ঘুমাতে পারলনা।

(পরবর্তীতে )

১,৩৪১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

২৮ টি মন্তব্য

  1. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    নামটা দেখে ভাল লাগল।এই নামেই চিনুক সবাই।

  2. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখাটি পড়েছি আগেই আপু । ভালো লাগলো ।

  3. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    আগে কখন পড়েছেন ?কালকে ? কাল রাত বারটায় লিখা এই পর্ব। আগের লেখা না।

  4. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সাইদ ভাই কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  5. হামি্দ মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লেখা।

    লিখতে থাকুন সাথেই আছি ………………..

  6. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    মুন, আজ আমার একটি ছোট খাট অপারেশন হয়েছে; তোমার লেখাটি আজ পড়তে পারছি না। কিছু মনে করো না।

  7. সারমিন মুক্তা মন্তব্যে বলেছেন:

    hmm voy korce.kmon acen api

  8. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর লিখেছেন আপু, সম্পূর্ণ জীবনভিত্তিক কাহিনী । গল্পের পটভুমি আগে পড়া হয়নি । আসলে আমি একটু অসুস্থ্য, লেখা-লেখি কিম্বা অনলাইনে রেগুলার হতে পারছিনা । দোয়া রাখবেন আপু । ভাল থাকবেন ।

  9. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    কমেন্টসের জন্য অনেক ধন্যবাদ । ভাল থাকুন …

  10. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    অবশ্য দোয়া করব সবসময়। কি হয়েছে আপনার ?

  11. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি পাইনা তাহারে। ….শরীরের দিকে আগে খেয়াল করবেন। ব্লগ লিখা পরে সুস্থ হয়ে করবেন কেমন। ভাল থাকবেন। কমেন্টসের জন্য অনেক ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা জানবেন।

  12. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল দিদি…………।।

  13. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    বরাবরের মতই ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

  14. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল । শুভ কামনা ।

  15. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

  16. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Valo lekha
    mugdho hoye porhlam

  17. আরজু মূন জারিন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ রেবা দা কমেন্টসের জন্য । শুভেচ্ছা রইল।

  18. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল ভয়ংকর কাহিনী বাপরে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top