Today 12 Nov 2019
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খানভবন হরর (দ্বিতীয় পরিচ্ছদ)

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৮/০৭/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 838বার পড়া হয়েছে।

(দ্বিতীয় পর্ব )

দোতলায় অর্ণব এর রুম এ ঢুকতে আতকে উঠে নীলিমা। চিত্কার দিয়ে ছেলেকে ডেকে উঠল। এক ভয়ংকর দর্শন অতিকায় কুকুর জানালায় থাবা মেলে বসে আছে। অর্ণব তার সাথে মুখোমুখি গল্পের ভঙ্গিতে কথা বলছে ।

তুমি জান আমি স্কুল এ প্রথম হই। কুকুরটি বিশাল জিহ্বা বের করে মাথা নাড়ানোর ভঙ্গিতে যেন অর্ণব এর গল্প শুনছে। যে কোন মায়ের জন্য এই দৃশ্য ভীতিপ্রদ। দৌড়ে এসে ছৌ মেরে বলা যায় অর্ণব কে জানালা থেকে সরিয়ে নিল। জানালা দ্রুত বন্ধ করে দিল।

বন্ধ করার সময় কুকুর টি বিশাল রক্ত চক্ষু মেলে ঘেউ ঘেউ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। বুকে থু থু দিয়ে ভগবান এর নাম নিচ্ছিল সে। এমনিতে তার ভীষণ কুকুর ভীতি সেই শৈশব থেকে। তার শৈশব এ একবার পাগলা কুকুরের পাল্লায় পড়েছিল। সেই থেকে এই প্রাণীটাকে ভীষণ ভয়। কি এক অলুক্ষুণে জায়গায় আসলাম। কোন মানুষ জন প্রাণী নাই।

আজ নয়ন আবার বের হয়েছে। কিছু গ্রসারি কিনতে। দুধ , ফল চিনি শেষ। অফিস এর কাজ শেষে বাসায় তাদের রেখে বের হয়েছে। সে নিজে ও দুশ্চিন্তা গ্রস্থ। ভয় পাবেনা তো ? নাকি চল আবার আমার সঙ্গে। ঘরে অনেক কাজ পড়ে আছে। সারাদিন দুজন অফিস করার জন্য এই দুইদিন এ ঘরে ময়লা জমেছে অনেক। দুজনের ই এখন মন টা বিষন্ন। কি যেন আছে ভবন টাতে। সহজ হয়ে ছোটাছুটি করতে পারছেনা তারা।

হয়তবা কোন মানুষ জন নেই বলে এমন লাগছে নাকি ? কি বল ? নীরবতা ভেঙ্গে নয়ন বলে উঠে।

নীলিমা এই ধারণার সাথে একমত না।তারপর ও স্বামীকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চায়না। এত খুশি হয়েছিল সে বাড়ি টা কিনে।

সেও বলে আমরা নুতুন তো এইজায়গায়। আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাব দেখ। আর না পারলে আমরা বাসা ছেড়ে দিয়ে ভাড়া দিব। আমরা চলে বাবুর স্কুল এর কাছে কোন ছোট এপার্টমেন্ট এ। স্বামীকে সান্তনা দিতে সে বলে উঠে।

রাত আটটা বাজে। নয়ন এখন এসে পৌছায়নি। এই ঘরে একা থাকা আতঙ্কের। নীলিমা র বুক  ধক ধক করে কাপতে থাকে আতঙ্কে। ভয়ে থাকলে যা হয় সাধারণ শব্দ কে অতিপ্রাকৃত মনে হয়। কোন পাখির ডাকা কে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। আম্মি কি হয়েছে তোমার ? দরজা জানালা বন্ধ করে বসে আছ কেন ? অর্নব অভিযোগ করে। আমি বারান্দায় যাব। দরজা খুলে দাও। ছেলের জবরদস্তিতে বারান্দার দরজা টি খুলল।তাছাড়া চিন্তা করে দেখল এখানে থাকলে ভয় কাটিয়ে সাহসী হতে হবে। ছেলের মানসিক স্বাস্থের জন্য ভাল না এইভাবে ঘরে বন্দী করে রাখা।

বারান্দা টি অনেক সুন্দর গ্রিল দিয়ে ঘেরা। একেবারে বিদেশী বাড়ির ডিজাইন এ। বারান্দায় এসে লাইট জালিয়ে দিল। অর্ণব তার ছোট বল নিয়ে খেলছে। সে নিচের দিকে তাকিয়ে বারান্দায় পায়চারী করছে আর নয়ন এর জন্য অপেক্ষা করছে। আবার লাপ দিয়ে উঠল আতঙ্কে। ওই কুকুর টি সরাসরি নিচ থেকে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে জিহ্বা বের করে। ঘেউ ঘেউ করে কিছু বলছে যেন। ভয় পেয়ে বারান্দা থেকে চলে এল দৌড়ে অর্ণব সহ। এবার ছেলে হেসে ফেলল।

মাম্মি ইউ সিলি। ডগ কেও ভয় পায় ? ও আমার বন্ধু । মনে হয় হাংরি। কিছু খেতে দাও মাম্মি।

ভয়ে আতঙ্কে নীলিমার বুক ধক ধক করতে লাগল।

নয়ন বাজার নিয়ে জোরে গাড়ি চালিয়ে দিল। এত লম্বা লাইন এ সে পড়েছে যে দেরী হয়ে গেল। ভূল হয়ে গেল। বাজার কালকে করা উচিত ছিল নীলিমা সহ। বেচারী মনে হয় একা ঘরে ভয় পাচ্ছে। ফোন করল দুইবার নীলিমার সেল এ। ব্যাপার কি? ফোন ধরছেনা কেন? টেনশন এ হাই স্পিড এ গাড়ি চালিয়ে দিল। বাসার কাছে পৌছতে বেজে গেল রাত নয়টা। গাড়ি নামিয়ে দরজা খুলতে যাবে বিশাল কুকুর জিহ্বা বের করে তার গাড়ির সামনে বসে আছে। কুকুর টার চেহারা হোক বা ঘন কাল অন্ধকার পরিবেশের কারণে নয়ন থমকে দাড়াল।

হাতের ছোট লাঠি নিয়ে সর সর বলে কুকুর টাকে সরানো চেষ্টা করছে। কুকুরটা বসে আছে দরজা ঘেষে। নড়া চড়া র লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা এখন ও। সাহস করে দরজা দিয়ে কুকুরটির গায়ে বাড়ি দিয়ে দরজা খুলে ধরল। ঘেউ ঘেউ করে দুরে সরে গেল এখন কুকুরটি। বারান্দার পর্চে দাড়িয়ে ডোর বেল বাজাবে এক অস্বাভাবিক শব্দে আতকে দাড়িয়ে পড়ল।

ঠিক এই সময় কুকুর টি তার দিকে দৌড়ে আসতে থাকল পুনরায়।

(পরবর্তীতে )

৯৩৩ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    প্রথম পর্ব পড়ি নাই। তবে এ পর্ব ভাল লাগল। কুকুর মাঝে মাঝে আমিও ডরাই

  2. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি প্রচন্ড ভয় পাই কুকুর। কুকুর বিড়াল দেখলে অশুভ মনে হয়। হরর মুভির কথা মনে হয়। ওমেন মুভি টা দেখেছেন ? ওখানে ডেভিল শয়তান এর ক্যারিয়ার থাকে কাল বড় কুকুর। সেই থেকে আমার অনেক ভয়। আর এই যে গল্পে বলেছি নীলিমা পাগলা কুকুরের তাড়া খেয়েছে শৈশব এ। এ আমার শৈশব এর অভিজ্ঞতা।

  3. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ এই মেঘ এই রৌদ্দুর কমেন্টসের জন্য। শুভেচ্ছা রইল। আপনার আইডি নেম আমার অনেক পছন্দ

  4. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ লিখিয়াছেন আপনি প্রিয়।চলুক লেখা।

  5. জসীম উদ্দীন মুহম্মদ মন্তব্যে বলেছেন:

    মাম্মি ইউ সিলি। ডগ কেও ভয় পায় ? ও আমার বন্ধু । মনে হয় হাংরি। কিছু খেতে দাও মাম্মি।—- এই একটি লাইনে অনেক কিছু আছে আপি ! শিক্ষা, দর্শন সব সব —– ।।
    অসাধারন লিখেছেন ।
    আর গল্পে আমি নই; আপনিই সেরা ———— হাজারবার এটাই সত্যি !!
    অভিনন্দন —- আপু ।।

  6. সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন হচ্ছে গল্প। আরো রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি। চালিয়ে যান আপা।

  7. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি। চালিয়ে যাব আপা

  8. আরজু মূন মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সাখওয়াত ভাই মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top