Today 24 Sep 2018
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

খানভবন হরর

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২১/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 362বার পড়া হয়েছে।

horor

তৃতীয় পর্ব

একতলা দোতলা তিনতলার প্রতিটি রুম বাথরুম কিচেন সব দেখা হল।কোথাও সামিয়াকে পাওয়া গেলনা। শ্ত্রী শাহানা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

জ্ঞান ফিরলে মেয়ের খোজ করেন যখন শোনেন এখন পাওয়া যায়নি তখন ই আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

কি পুলিশ তো এখন ও এসে পৌছলনা ।তোকে কি বলেছে ওরা জিজ্ঞাসা করলেন রহমান সাহেবের বড় ভাই।

এখন ও পুলিশ ফোর্স এসে পৌছাচ্ছে কেন কে জানে।আমিতো ফোন করে যাচ্ছি ।জিজ্ঞাসা করলে বলে রওয়ানা করেছে।আমাদের দেশের পুলিশ ।এদের কি আর মানুষ নিয়ে কোন মাথাব্যাথা আছে? ফোন করছি সাতটা এখন বাজে দশটা।

রহমান সাহেব এবার আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলেন না।কান্না মিশ্রিত চিৎকারের সাথে বকাবকি শুরু করলেন পুলিশের যে কর্মী ফোন ধরেছে।

সেই তিনঘন্টা থেকে শুনছি আপনারা আসছেন আসছেন এটা কি অন্য ডিষ্টির্ট নাকি? এত সময় কেন লাগছে।আমার মেয়ে মিসিং।আমাদের ইম্মেডিয়েট প্রটেকশান দরকার।হয়তবা ভয়ন্কর কোন ক্রিমিনাল দের মাঝখানে পড়ে আছি ডুকরে উঠলেন তিনি।

পুলিশের এক কর্মী ফোন হাতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করছে স্যার আপনার অ্যাড্রেস আবার বলেন।আমাদের ফোর্স একঘন্টা ধরে আপনার বাড়ী খুজতেছে ।তারা বলতেছে কোন বাড়ী খুজে পাচ্ছেনা।আপনাদের ফোন দিয়ে যাচ্ছে ফোন শো করতেছে ডিসকানেক্ট।

আমার ফোন তো ঠিক আছে।অস্থির জবাব রহমান সাহেবের।তিনি কিছুই বুঝতে পাচ্ছেনা এইসব কি হচ্ছে।

শুনুন মনোযোগ দিয়ে কথা আমাদের ফোর্স খুব দ্রত চলে আসবে কিছুক্ষনের মধ্যে।তারা পুরা জায়গা দেখে শুনে আসছে।আপনারা সব দরজা জানালা শক্ত করে বন্ধ করে সবাই একরুমে বসে থাকুন।ছেলেরা হাতে লাঠি বটি এসব নিয়ে হামলার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে থাকুন।

ভয়ে ওনার হাত থেকে ফোন পড়ে গেল।পুলিশটির কথা এখন শোনা যাচ্ছে।আমরা ট্রেস করেছি কম্পিউটারে আপনাদের জায়গা।ফোর্স খুজে পাচ্ছেনা কেননা আপনার ওখানে কোন ষ্ট্রীট লাইট নাই। এত অন্ধকার তারা কিছুই দেখছেনা ফোন দিয়ে ও পাচ্ছেনা আপনাদের।

এই সময় উপরের ছাদ থেকে কারও চিৎকার ভেসে আসল।সবাই আতকে মাটিতে বসে পড়ল।

চিৎকার করে উঠলেন রহমান সাহেব কেও উপরে যাবেনা।সবাই একজায়গায় বসে থাক নির্দেশ করলেন সামিয়ার বন্ধু দের।

একবন্ধু বলল চাচা কন্ঠ্স্বরে মনে হল সামিয়া।আমরা তো ছাদে খুজিনি সামিয়াকে। যে এই কথা শোনা সবাই লাফিয়ে লাফিয়ে ছাদের দিকে রওয়ানা করল।সামিয়াকে সবাই অত্যন্ত ভালবাসে।তার নিরুদ্দেশে সবাই বিষন্ন হয়েছিল এতক্ষন।

ছাদের দরজা খুলে সবাই দেখল দরজার পাশে বসে সে কাদছে।

সবাই তাকে জড়িয়ে ধরল চিৎকার করে।বন্ধুরা বলল এখানে এলি কিভাবে?

আমি জানিনা কিভাবে এলাম।সে অনবরত কেদে ই যাচ্ছে।আমি দাড়াতে পারছিনা।ভীষন দূর্বল লাগছে বলে সে বসে পড়ল মাটিতে। রহমান সাহেব শাহানা জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে পরম আবেগে সব ঠিক হয়ে যাবে মা ।আল্লাহর নাম কর।

ছাদের ছিটকানী লাগিয়ে তাতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হল।

ভিতরে এদিকে হুজুরকে বাগে আনানো মুশকিল হয়ে গিয়েছে।সারা ঘর চরকির মত দৌড়ে যাচ্ছে হুজুর এবং অদৃশ্য কাকে তার ছাতার ডাট দিয়ে মারার চেষ্টা করছে আর বলছে সর খবিশের বাচ্ছা পিশাচের বাচ্চা সর সর তোরা।

ভাইজান আমি চইলা যামু ভাইজান।দরজা খোলেন।হুজুর কাদতে কাদতে বলে।

বাহিরে আরও বিপদ হইবার পারে হুজুর ।একটু ধৈর্য ধরেন আপনারে পুলিশের সাথে করে পৌছায় দেওয়া হবে।বলল বাসের ড্রাইভার।

প্রতিটি দরজা জানালা শক্ত করে ছিটকিনি লাগিয়ে তাতে তালা লাগিয়ে সবাই বসে রইল।পুলিশের কোয়ার্টার থেকে আবার ফোন আসল ।তারা নাকি অনেক চেষ্টা করা স্বত্বেও বাসার কাছাকাছি পৌছতে পারছেনা।প্রচন্ড বাতাস গাড়ী উল্টে পড়ে যাচ্ছে।

আমাদের এখানে তো কোন বাতাস নাই।অবাক রহমান সাহেব বলেন।

এখানে অনেক বাতাস ঘূর্নিঝড়ের মত। একজন পুলিশ বলছে ফোনে।তারা অভয়ের ভঙ্গিতে বলছে আপনারা চিন্তা করবেন না কিছুক্ষনের মধ্যে গাড়ী সরানো সম্ভব না হলে আমরা হেটে আসতেছি সবাই আপনাদের কাছে।দশজনের এক গ্রপ রওনা করে দিছে আপনার বাসার দিকে।শুধু পুলিশ দেখলে দরজা খুলবেন।অন্য কাওকে দরজা খুলে দিবেন না।

বাহিরে বাতাসের শো শো আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।ভিতরে আতন্কে কম্পমান কিছু মানুষ যারা এখন ও জানেনা কিছুক্ষনের মধ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে।

এই সময়ে প্রচন্ড জোরে বাহির থেকে দরজার কড়া নড়ে উঠল।সবাই লাফ দিয়ে উঠল চমকে।কিন্তু দরজার বাহিরে দেখার বা দরজা খোলার সাহস কার ও হলনা।

(চলবে)

৪৬৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. আহসান হাবীব সুমন মন্তব্যে বলেছেন:

    কি ঘটতে চলেছে কম্পমান বক্ষে জানার অপেক্ষায় রইলাম ।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আজকে খুব চুপচাপ মনে হচ্ছে চলন্তিকা।ধন্যবাদ কমেন্টসের জন্য।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভয় লাগে আপনার গল্প পড়তে।

  4. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ভয়ের গল্প যদি ভয় না লাগে তবে তো ব্যার্থ হয়ে গেলাম।ভয় পাওয়ানোর জন্য ই লেখা।ধন্যবাদ।

  5. ওয়াহিদ উদ্দিন মন্তব্যে বলেছেন:

    এক নিঃশ্বাসে যেন পড়ে ফেললাম পুরোটা। কি হয় কি হয় এ রকম একটা ভয় আচ্ছন্ন করে রাখলো। খুব ভাল লিখছেন।

  6. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প পাঠককে পড়ানোর মত কলমে জোর আছে লেখিকার । ভাল লাগছে গল্পটি । শুভ কামনা ।

  7. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    লেখিকা খুব খুশী হয়ে গিয়েছে উচ্চাঙ্গের প্রশংসায়।ধন্যবাদ রহমান ভাই।ভাল থাকবেন।

  8. সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

    এর আগেও বলেছি এখনও বলছি কঠিন সুন্দর হচ্ছে গল্পটি । আশা করি দরজা খুললে….। ধণ্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য ।

  9. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সাঈদ ভাই সুন্দর মন্তব্যের জন্য।ভাল থাকবেন।

  10. কে এইচ মাহবুব মন্তব্যে বলেছেন:

    আরজু আপু কেমন আছো ? আমি তোমার ইমেইল পেয়েছি । তোমার লেখা ভালো লাগলো ।

  11. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগলে তো আমি ও ভাল থাকি।ধন্যবাদ ভাই সুখে থাক।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top